মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে শিক্ষক দিবসের প্রাকলগ্নে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষারত্ন ও সেরা বিদ্যালয় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হল। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, মন্ত্রী তাজমুল হোসেন, মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ, বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রধান সচিবসহ অন্যান্য বিভাগীয় সচিব ও আধিকারিকগণ এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, অধ্যাপকবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রীগণ এবং অন্যান্য অভ্যাগতগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শিক্ষারত্ন, রাজ্যের সেরা কৃতী ছাত্রছাত্রী ও সেরা বিদ্যালয়ের সম্মাননা প্রদান করা হয়। হুগলির আরামবাগ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়কে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ‘শিক্ষারত্ন’ প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারে আরামবাগবাসী গর্বিত। এছাড়া আরামবাগের তিন কৃতী ছাত্রকে সম্মাননা প্রদানকে কেন্দ্র করে আরামবাগে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আরামবাগ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় জানান, আমার এই শিক্ষারত্ন পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তাদের সকলের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। প্রথমেই সম্মানীয় শিক্ষক – শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীগণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।তার কারণ তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্কুলের স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীরা সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাচ্ছে। আমাদের আরামবাগ হাই স্কুলের তিন কৃতি ছাত্রকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উচ্চমাধ্যমিকে রাজর্ষি অধিকারী (৪৯৫) পেয়ে রাজ্য মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান, প্রান্তিক গাঙ্গুলি ( ৪৯৩) পঞ্চম স্থান ও সর্বজিত সাহা (৪৮৮) দশম স্থান অর্জন করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে বিগত কয়েক বছরে আমাদের বেশ কিছু কৃতি ছাত্র রাজ্য মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়ে স্কুলকে শুধু আরামবাগ মহকুমায় নয়, সারা বাংলা তথা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এছাড়াও এম. ডি সাহিদ, সোমশুভ্র কর্মকার রাজ্য মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে।

স্নেহের ছাত্রদের এই সাফল্য আমার শিক্ষারত্ন পাওয়ার অন্যতম কারণবলা যেতে পারে। বিকাশবাবু আরও বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ২৬৬৫ ।
চার বছরের প্রধান শিক্ষকতার সময়ে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ অতিরিক্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পঠন পাঠনের মানের উন্নয়ন, সম্মানীয় শিক্ষক শিক্ষিকাগণের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সহানুভূতি, আন্তরিকতা, নিয়ম শৃঙ্খলা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নয়নই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পড়াশোনা ছাড়াও বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি সব বিষয়ে স্কুলের ছাত্ররা পারদর্শী। তাদের এই সাফল্যও আমার পুরস্কার প্রাপ্তির পথ প্রশস্ত করেছে।
আগামি দিনেও আমাদের স্নেহের ছাত্র ছাত্রীদের সাফল্যের জয়যাত্রা অটুট থাকবে এই বিশ্বাস আমার আছে। এছাড়াও স্কুলের সামগ্রিক উন্নয়ন আমার শিক্ষারত্ন পুরস্কার প্রাপ্তির আর এক প্রধান কারণ। স্কুলের সৌন্দর্যায়ন, বৃক্ষরোপণ ও আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরিতে আমাকে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছেন সহ শিক্ষক ভবানীপ্রসাদ দাস।এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি প্রদীপ কুমার সিংহ রায় ও সকল সদস্যরা সব সময় স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সবশেষে আরামবাগ হাইস্কুলের সকল অভিভাবক — অভিভাবিকাগণকেও আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই ঐকান্তিক সহযোগিতার জন্য।