ঘুমের মধ্যেই সহকর্মীর গুলিতে নিহত হলেন দুই সেনা কর্মী। তাদের মধ্যে একজন আরামবাগের বাসিন্দা। তার নাম গৌরীশংকর হাটি (৩৬)। আরামবাগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্ভয়পুরে তাঁর বাড়ি। অন্যজন মহারাষ্ট্রের সূর্যকান্ত।

ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের পাঠানকোটের মিথরাল ক্যান্টনমেন্টে। সেখানেই ডিউটি করছিলেন গৌরীশংকর। রাতে মোট ৬ জন ডিউটিতে ছিলেন। তাদের মধ্যে ডিউটি শেষে গৌরীশংকর সহজ চারজন ঘুমোচ্ছিলেন এবং দুজন সেন্ট্রি পাহাড়ায় ছিলেন। সেই দুজনের মধ্যে লোকেশ নামে এক সেনা জওয়ান এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তাতেই দুজনের মৃত্যু হয় বাকিরা পালিয়ে যায়। খবর আসামাত্রই শোকস্তব্ধ আরামবাগ। দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব থেকে নিজেরই সহকর্মীর হাতে এইভাবে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

মৃত সেনা জওয়ান গৌরীশংকর
১৮ বছর আগে সেনা বিভাগের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন গৌরীশংকর। তার বাবা-মা আরামবাগে থাকতেন এবং তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা দেবী ১০ বছরের পুত্র ও ১ বছরের কন্যাকে নিয়ে পাঠানকোটে সরকারি আবাসনে থাকতেন। প্রথমেই তাদের পরিবারের কাছে খবর দেওয়া হয়েছিল পেট ব্যথার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে অবশ্য সোমবার বেলার দিকে ঘটনাটি পরিষ্কার হয়ে যায়।

মঙ্গলবার রাতে ফ্লাইটে এই সেনা জওয়ানের মরদেহ কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে আনা হয়। সেখান থেকে বুধবার সকালে আরামবাগে তাদের পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়। আরামবাগের বাড়িতে তখন প্রয়াত সেনা কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অগণিত মানুষ এসেছেন এবং চোখের জলে তাকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন।
কি কারনে এই খুন তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি তবে অভিযুক্ত লোকেশ কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।