এই তো কয়েকমাস আগে করোনাভাইরাস নিয়ে এক সেমিনারে সদ্য গ্রাজুয়েশন করা ছাত্রদের এক ভিডিয়ো বার্তায় দু-বছর আগের ওপেন হার্ট সার্জারির প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। ‘টার্মিনেটর সিক্স: ডার্ক ফেট শুটিং শুরুর মাত্র চার মাস বাকি তখন। অসুস্থ লাগছিল। ডাক্তারের কাছে গেলাম। পরীক্ষা করে জানালেন আমি ভালো আছি, শুধু হার্টের ভাল্বটা বদলাতে হবে। কারণ সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। আমি তাই সেই সময়ে অস্ত্রোপচার করাতে চাইনি কিন্তু ডাক্তার বললেন ঠিক আছে কোনও অসুবিধে নেই। শেষমেশ রাজি হলাম। ভাল্ব পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচার হলো। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরে জটিলতা দেখা দেয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ওপেন হার্ট সার্জারি করা হলো। চার ঘণ্টা পর জ্ঞান ফেরার কথা থাকলেও জ্ঞান ফিরে ১৬ ঘণ্টা পরে।’
আবার সেই অস্ত্রোপচার এবার বয়স ৭৩ বছর। সফল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। শুক্রবার অপারেশন হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি আর ফিরবেন না। কিন্তু না তিনি ফিরে এসেছেন। নিজের ইন্সটাগ্রামে তাঁর ছবি দিয়ে সব কথা জানিয়েছেন। গত শুক্রবার তাঁর হার্টে একটা জটিল সার্জারি শেষে সফলভাবে নতুন ‘অ্যাওর্টিক ভাল্ভ’ প্রতিস্থাপন করা হয়। ‘দারুণ লাগছে! আমি এরই মধ্যে বেশ সুস্থ। রাস্তা আর হাসপাতালের আশপাশটা ঘুরে দেখলাম। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের চিকিৎসক আর নার্সরা অসাধারণ। তাঁদের আমার অশেষ ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা।’ এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে জরুরি ভিত্তিতে ‘ওপেনহার্ট সার্জারি’র দরকার পড়েছিল এই অভিনেতার। ১৯৯৭ সালে প্রথম ভাল্ভ প্রতিস্থাপন করা হয় তাঁর।
ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে ‘টার্মিনেটর’ সিরিজ। অভিনেতার গুরুত্ব এখনো যে ফুরিয়ে যায়নি তার প্রমাণ সিরিজটির ‘টার্মিনেটর : ডার্ক ফেইট’-এ প্রধান চরিত্র হিসেবে অভিনয়। ১৯৮৪ সালে পরিচালক জেমস ক্যামেরনের হাত ধরে শুরু হয়েছিল বৈজ্ঞানিক-কল্পকাহিনিভিত্তিক অ্যাকশন মুভি ‘টার্মিনেটর’-এর যাত্রা। এরপর ছবিটি কাঁপিয়েছিল বক্স অফিস। এই ‘টার্মিনেটর’-এর মাধ্যমে চিত্রপরিচালনায় সুখ্যাতি অর্জন করেন ক্যামেরন। আর শোয়ার্জনেগার লাভ করেন মহাতারকার খ্যাতি। ১৯৯১ সালে এই সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তি তথা ‘টার্মিনেটর টু : জাজমেন্ট ডে’-ও দাপিয়ে বেড়ায় বিশ্ব চলচ্চিত্রাঙ্গন। পরিচালক ছিলেন ক্যামেরন। এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শোয়ার্জনেগার। অনবদ্য অভিনয়ের ফলে ‘টার্মিনেটর’-এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য হয়ে যায় শোয়ার্জনেগারের নাম। পরবর্তী সিরিজে ক্যামেরন না থাকলেও থেকে যান শোয়ার্জনেগার।
১৯৯৭ সালে ‘টাইটানিক’ নিয়ে ক্যামেরন বিশ্বমঞ্চে আসেন এক নতুন উচ্চতা নিয়ে। কিন্তু, শোয়ার্জনেগার অংশ নেন ‘টার্মিনেটর থ্রি : রাইজ অব দ্য মেশিন’-এ। কেননা, এই অভিনেতা ছাড়া সিরিজটি গুরুত্বহীন মনে হতে পারে দর্শকদের কাছে। ২০০৩ সালে সিরিজের তৃতীয় কিস্তিটি খরচের কয়েক গুণ বেশি অর্থ ঘরে তুলে আনলেও ক্যামেরন-যুগের ‘টার্মিনেটর’-এর তুলনায় দর্শকদের মনে এর প্রভাব একটু কমই দেখা যায়। এর কারণ হতে পারে, ক্যামেরন শুধু প্রথম কিস্তি দুটির পরিচালনাই করেননি, এর চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন তিনি। চিত্রনাট্য তৈরিতে এই ব্যক্তির হাতের জাদু তো দেখা গেছে ‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’-এও। যাই হোক, সিরিজটির চতুর্থ কিস্তি তৈরিতে যখন হাত দেওয়া হয় তখন দেখা যায় শোয়ার্জনেগার আর অভিনেতা নেই। তিনি ততদিনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর। তাই ২০০৯ সালে ‘টার্মিনেটর স্যালভেশন’-কে দর্শকদের সামনে আনতে হয় সিরিজটির আইকনিক অভিনেতা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারকে ছাড়াই। বক্স অফিস থেকে ভালো আয় হলেও ছবিটি খুব একটা সাড়া জাগাতে পারেনি। ২০১১ সালে গভর্নরের পদ ছাড়ার পর শোয়ার্জনেগার ফিরে আসেন ‘টার্মিনেটর’ সিরিজের পঞ্চম কিস্তি ‘টার্মিনেটর জেনেসিস’-এ। ২০১৫ সালের এই চলচ্চিত্রটি যেন জাদু দেখিয়েছিল দর্শকদের। তাই ১৫৫ মিলিয়ন ডলারের ছবিটি ঘরে তোলে ৪৪০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এরপর সিরিজের ষষ্ঠ কিস্তিতে অভিনয় করেন আর্নল্ড।
করোনা মহামারী মোকাবিলায় শুরু থেকেই বিভিন্ন ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষকে সচেতনতার বার্তা দিয়েছেন আর্নল্ড। করোনায় আক্রান্তদের জন্য যেসব চিকিৎসাকর্মী কাজ করছেন, তাদের সরঞ্জাম কিনতে ফ্রন্টলাইন রেসপন্ডার্স ফান্ড গঠন করেন। তিনি এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেন। টার্মিনেটর টু ছবিতে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের বিখ্যাত একটি ডায়ালগ আছে, ‘আই উইল বি ব্যাক’? ‘ডার্ক ফেইটে’র পর এই অ্যাকশন হিরোকে কি আবারও দেখা যাবে সিনেমায়? তবে ভক্তরা কিন্তু ঠিকই বলছেন, ‘কাম ব্যাক আর্নল্ড’।
ছবি অভিনেতার ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া