তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ, হরিয়ানা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি, এক সময়ের রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অশোক তানওয়ারের নেতৃত্বে হরিয়ানায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য শাখার প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হল। এই উপলক্ষ্যে একটি দলীয় কার্যালয়ও উদ্বোধন হয়। কয়েক দিন আগেই দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে যোগ দেওয়া অশোক তানওয়ারকে পাশে বসিয়ে বলেছিলেন ‘আমি হরিয়ানা যেতে চাই। অশোকজি আমায় যখনই ডাকবেন তখনই যাব। হরিয়ানা আমার রাজ্য থেকে খুব দূরে নয়। … এখন ওঁর গোটা পরিবারই আমাদের তৃণমূলের পরিবার। আপাতত সময় নষ্ট না করে কাজ শুরু করে দিন। একবার গোয়াতেও যেতে হবে ওঁকে।’ সে সময়েই তৃণমূল নেত্রী হরিয়ানা রাজ্যে তৃণমূল দল গড়ে তোলার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের অভিজ্ঞ কাঁধে।
সুখেন্দুশেখর রায় বললেন ‘হরিয়ানায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস দলের দায়িত্ব সামলাবেন অশোক তানওয়ার। তাঁর নেতৃত্বে আগামী দিনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে তৈরি’। নেত্রীর বার্তা মাথায় রেখেই হরিয়ানা রাজ্যে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস দলের গঠন কাঠামো সাজাচ্ছেন হরিয়ানায় দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণ তৃণমূল নেতা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সেই পরিকল্পনার অংশ প্রতিষ্ঠা দিবস পালন।

একদা রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ নেতা হরিয়ানার প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অশোক তানওয়ারের কয়েক দিন আগে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সরাসরি জোড়া-ফুল পতাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট হইচই ফেলে দিয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই হরিয়ানায় ভূপেন্দর সিং হুডা এবং কুমারী শৈলজার সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছিল অশোক তানওয়ারের। কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের বিমাতৃসুলভ মনোভাবের প্রতিবাদে কংগ্রেস দল ছাড়েন অশোক। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে তিনি স্বাধীন মঞ্চ ‘আপনা ভারত মোর্চা’ গঠন করেন। রাজ্যের উপনির্বাচনে অভয় চৌতালার আইএনএলডির প্রার্থীকেও তার মঞ্চ সমর্থন দেয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারাগেছে অশোক তানওয়ারের সমর্থকেরা মনেপ্রাণে চাইছিলেন অশোক নির্দিষ্ট কোনও জাতীয় দলে যোগ দিন। সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং দাবি মেনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সমর্থকদের মনোভাব আঁচ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকাকালীন তাঁর হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন অশোক।

উল্লেখ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অশোক তানওয়ারের স্ত্রী অবন্তিকা মাকেন তলওয়ার, বাল্যকাল থেকেই গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ। ১৯৮৫-তে শিখ দাঙ্গায় অবন্তিকার মা-বাবা গীতাঞ্জলী-ললিত মাকেন নিহত হন। ছ’বছর বয়স থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক মহল জানত অবন্তিকা গান্ধী পরিবারেরই সদস্য। মাকেন পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, এ হেন গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ প্রথম সারির রাজনীতিবিদ পরিবারকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হরিয়ানা রাজ্যে তৃণমূল দলের দায়িত্ব দেওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হরিয়ানার তৃণমূল দলের পর্যবেক্ষক সুখেন্দুশেখর রায় জানালেন— অশোক তানওয়ারকে নেতৃত্বে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় স্তরে সার্বিক বিজেপি বিরোধী জোট গড়ারও বার্তা দিলেন। অশোক তানওয়ার ছাড়াও পবন বার্মা, কীর্তি আজাদের মত এক ঝাঁক জাতীয় স্তরের নেতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় হিন্দিঅক্ষের দুটি প্রধান জাতীয় দলের আগামী দিনে যথেষ্ট সমস্যায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল।

কৃষক আন্দোলনের জেরে সামগ্রিক উত্তর ভারতে বিজেপি এখন যথেষ্ট ব্যাকফুটে। তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করে গেরুয়া শিবির সেই ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা চালালেও সার্বিকভাবে হিন্দি হৃদয় অক্ষের সঙ্গে হরিয়ানাতেও বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থা যে খুব একটা সুবিধের নয় সেটা সঙ্ঘপরিবার টেরপাচ্ছে। এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানালেন হরিয়ানায় অশোক তানওয়ার তৃণমূল কংগ্রেস দলের দায়িত্ব পাওয়ায় বিজেপির মাথা ব্যথা বাড়বে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তিনি বলেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ অশোককে নেতৃত্বে এনে আগামী দিনে হরিয়ানায় নির্বাচনগুলোতে সরাসরি দলীয় প্রার্থী দেওয়ার সমস্ত দরজা খুলে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।