| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

অষ্টবিনায়ক নমঃ নমহ (শেষ পর্ব) : রিঙ্কি সামন্ত

Reporter
রিঙ্কি সামন্ত / ৪৭১ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫

মহোদর অবতার : মুদ্গল পুরাণে মহোদরকে গণেশের তৃতীয় অবতার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গণেশ মহাসুর নামক অসুরকে পরাজিত করার জন্য এই রূপ ধারণ করেছিলেন। মহাসুর বস্তুগত সম্পদের প্রতি আসক্তি এবং আকর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভ্রম বা বিভ্রান্তির প্রতিনিধিত্ব করে।

ভগবান শিব প্রায়শই জড় জগৎ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে বনে ধ্যান করতেন। একবার তিনি বহুযুগ ধরে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। কেউ জানত না যে তিনি কখনও ভৌত জগতে ফিরে আসবেন। এদিকে দেবতাদের ভগবান শিবের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়েছিল। তাই তারা কৈলাস পর্বতে গিয়ে দেবী পার্বতীকে এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বললেন।

শিবকে আহ্বান করার জন্য, পার্বতী এক মোহনীয় রূপ ধারণ করেন। ফলস্বরূপ শিব সেই মোহনীয় রূপের প্রতি আকৃষ্ট হয় জড় জগতে ফিরে আসেন। যদিও পরে দেবী পার্বতী ‘মোহনীয়’ রূপটি ত্যাগ করেছিলেন। এই ত্যাগ করা শক্তি একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয় মহাসুরের। দেবী পার্বতীর দ্বারা পরিত্যাক্ত হয়ে তিনি শরণাপন্ন হন অসুরগুরু শুক্রাচার্যের। শুক্রাচার্য বরাবরের মতো মহাসুরকে তৈরি করলেন দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য।তিনি গণেশের ভাই কার্তিকেয় কর্তৃক নিহত তারকাসুরের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন।

শুক্রাচার্যের পরামর্শ অনুসারে, মহাসুর সূর্যদেবের আরাধনা শুরু করেন। তিনি সূর্যদেবকে সন্তুষ্ট করে তাঁর কাছ থেকে ত্রিলোক বিজয়ের বর লাভ করেন। ক্ষমতায়িত হয়ে তিনি তিন লোক জয় করে দেবতাদের নির্বাসিত করলে। পৃথিবী জুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হল। ধর্ম বুঝি লোভ পায় আর এদিকে মহাসুর তার পত্নী মদীরার সঙ্গে আত্মসুখে মগ্ন হয়ে রইলেন। দেবতারা দুঃখিত মনে হয় সূর্যের কাছে গেলেন।

সূর্যদেব দুঃখ করে দেবতাদের বললেন, ‘কি আর বলবো বল, এরা এমন শ্রদ্ধা ভক্তি দেখিয়ে পুজো করে তার ফল তখন তারা পেয়ে যায় কিন্তু পরে সমস্ত ভক্তি ত্যাগ করে। তবে উপায় আছে শিবনন্দন গণেশের কাছে প্রার্থনা করতে হবে। তোমাদের বিপদ থেকে তিনিই উদ্ধার করবেন’।

দেবতাদের প্রার্থনা শুনে, ভগবান গণেশ মহোদর রূপ ধারণ করলেন। তিনি মূলত একদন্ত এবং বক্রতুণ্ডের সম্মিলিত রূপ। তিনি তাদের আশ্বাস দিলেন যে তিনি তিন জগতের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করবেন। মূষিকের উপর বসে তিনি মহাসুরের সাথে যুদ্ধ করতে গেলেন। হাতির মাথাওয়ালা এক দেবতাকে তার সাথে যুদ্ধ করতে এসে দেখে দৈত্য কিছুটা অবাক হয়ে গেল।

মাতা পার্বতীর অংশ হওয়া দুজনেই ছিলেন বিপুল শক্তিশালী। কিন্তু মহোদর ব্রহ্মর প্রতিক এবং মহাসুর মোহের প্রতিনিধি হওয়ায় জ্ঞানের কাছে ধীরে ধীরে পরাজিত হতে শুরু করল মোহ। এক পর্যায়ে মহাসুর নিজের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে আত্মসমর্পণ করলেন মহোদরের কাছে।

মহোদর তাকে ক্ষমা করেন। তিনি মহাসুরকে তার বাকি জীবনের জন্য পাতাল লোকে থাকার জন্য শাস্তি দেন। গণেশ দেবতাদের স্বর্গ দান করেন। মহাসুরকে পরাজিত করে তিনি পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। এই গল্পটি আমাদের দেখায় যে কীভাবে বস্তুগত জিনিসের প্রতি আসক্তি আমাদের জীবনে বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

মহোদরের প্রতীক : সংস্কৃত শব্দ “মহোদর” এর অর্থ “বড় পেট”। এটি গণেশের বৃহৎ পেটকে নির্দেশ করে। অনেক গ্রন্থ, ভাস্কর্য এবং ভক্তিমূলক সঙ্গীতে মহোদরের বিশাল দেহাবয়ব বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্ণ পেট মনের সন্তুষ্টি এবং স্বাচ্ছন্দ্যের ইঙ্গিত দেয়। বড়ো পেটযুক্ত ব্যক্তিরা সম্পদের মালিক হন এবং সুস্বাস্থ্যও উপভোগ করেন।

গজানন অবতার : মুদ্গল পুরাণে গজাননকে গণেশের চতুর্থ অবতার বলা হয়। রাবণের সৎভাই যক্ষরাজ কুবের শিবের মহানভক্ত। তিনি একদিন দুর্গম কৈলাসে পৌঁছলেন মহাদেবকে দর্শন করতে। সেখানে তাঁর পাশে বসে আছেন পার্বতী। তাঁর লাবণ্যের প্রভাবে কৈলাস আলোকিত। মায়ার খেলা এমনই যে বড় বড় মুনি ঋষিদের মনও দুর্বল হয়ে যায়। দেবী কুবেরের দৃষ্টিতে চঞ্চলতা লক্ষ্য করে ক্রোধান্বিত হয়ে উঠলেন। কুবেরের হুশ ফিরে যখন এলো তখন তিনি ভয় কাঁপতে শুরু করলেন। ভয়ার্ত কুবেরের শরীর থেকে এক ভয়ংকর অসুরের জন্ম নিল, তার নাম লোভাসুর।

লোভাসুর রাক্ষসগুরু শুক্রাচার্যের আশ্রয়ে গিয়ে তাঁর থেকে শিক্ষা নেন। শুক্রাচার্যের আদেশে লোভাসুর ভগবান শিবের বর পাওয়ার জন্য কঠোর সাধনা করেছিলেন। সাধনায় খুশি হয়ে তিনি লোভাসুরকে নির্ভীক হওয়ার বর দেন। আবারো পুরনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বর পেয়ে লোভাসুর সমস্ত জগতের অধিকারী হন। প্রচন্ড লোভের তাড়নায় তিনি দেবাদিদেব মহাদেবকে কৈলাস ছাড়া করেন। অবশেষে ঋষি রাইভ্যর পরামর্শে সবাই গণেশের কাছে প্রার্থনা করলেন এবং ভগবান গণেশ গজানন রূপে অবতীর্ণ হলেন। এরপর শুক্রাচার্যের পরামর্শে লোভাসুর যুদ্ধ না করেই পরাজয় মেনে নেন। গজানন তাকে পরিশুদ্ধ হওয়ার শর্তে ক্ষমা করে পাতালে প্রেরণ করেন। শাস্ত্র বলে গণেশের গজানন অবতার সাংখ্যব্রহ্মের ধারক, তিনি সাংখ্যযোগীদের সিদ্ধিদান করেন।

লম্বোদর অবতার : সমুদ্রমন্থনের ফলে উত্থিত অমৃত থেকে অসুরদের বঞ্চিত করার জন্য শ্রীবিষ্ণু ধারণ করেছিলেন তার মোহনীয় মোহিনী অবতার। বিষ্ণুর মোহিনী মূর্তি দেখে স্বয়ং মহাদেবও কামমোহিত হয়ে পরলেন।বিষ্ণু নিজের মোহনীয় রূপ ত্যাগ করে চতুর্ভুজ মূর্তিতে প্রকট হলে, শিবঠাকুর তার হুঁশ ফিরে পেলেন। বিষ্ণু যখন তার মোহিনী রূপ ত্যাগ করেছিলেন সেই সময় শিবের শরীরের ক্রোধ ভূমিতে স্খলিত হলো এবং তা থেকে জন্ম নিল এক প্রবল পরাক্রমী অসুরের।তার দুই চোখ উজ্জ্বল তাম্রবর্ণ, দেহ কৃষ্ণবর্ণ ভীষণ আকৃতির।

ক্রোধাসুর জন্মে গুরু হিসেবে বেছে নিলেন শুক্রাচার্যকে। শুক্রাচার্যের পরামর্শে তিনি এক হাজার বছর ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবকে প্রসন্ন করার জন্য ঘোর তপস্যা করলেন। তপস্যায় খুশি হয়ে সূর্যদেব ক্রোধাসুরকে বিশ্বজয় করার জন্য আশির্বাদ দেন। আবারো সেই ঘটনাপুনাবৃত্তি ঘটলো।

ক্রোধাসুরের অত্যাচারে দেবতাগণ রাজ্য হারালেন, সূর্যদেব লজ্জা পেয়ে সূর্যালোক ত্যাগ করলেন। জগৎ অন্ধকারে ডুবে গেল। পুনরায় দেবতাগণ গনেশের আরাধনা শুরু করলেন।

এবার গণেশ লম্বোদর রূপে দেবতাদের সামনে আবির্ভূত হলেন। সুবিশাল তার দুই হাতে ভয়ংকর অস্ত্র, এক হাতের মোদক, অপর হাতে অভয় মুদ্রা, মূষিক বাহন। লম্বোদর ও ক্রোধাসুর দুই শিবের পুত্র হওয়ায় এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ সংঘটিত হলো দুজনের মধ্যে। তবে এক পর্যায়ে লম্বোদরের হাতে পরাজিত হন ক্রোধাসুর। তার অত্যাচার থেকে মুক্ত হলো ত্রিলোক, সৃষ্টি ফিরে পায় তার স্বাভাবিক ছন্দ। গণপত্যদের কাছে ভগবান লম্বোদর সৎস্বরূপ তথা শক্তি ব্রহ্মের ধারক।

বিকট অবতার: মুদ্গল পুরাণে বর্ণিত আছে গণেশের ষষ্ঠ অবতার বিকটের কাহিনী। অসুর জলন্ধরকে বধ করার জন্য ভগবান বিষ্ণু বৃন্দাদেবীর সতীত্ব নাশ করার জন্য প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। তখন বিষ্ণুর তেজ থেকে এক তেজস্বী অসুরের জন্ম হয়, নাম কামাসুর। শুক্রাচার্যের নির্দেশে কামাসুর অন্ন জল ত্যাগ করে ভগবান শংকরের পঞ্চাক্ষর মন্ত্র জপের মাধ্যমে কঠোর তপস্যা শুরু করেন।

ফলস্বরূপ মহাদেব প্রসন্ন হয়ে তাকে ত্রিলোক জয়ের বর দিলেন। বর পেয়ে কামাসুর দৈত্যদের রাজা হয়ে বসলেন এবং মহিষাসুরের রূপবতী কন্যা তৃষ্ণার সঙ্গে কামাসুরের বিবাহ হল। যেখানে কামনা, সেখানেই তৃষ্ণা। কামাসুর রতিদ নগরীতে নিজের রাজধানী স্থাপন করলেন। কামাসুরের দুই পুত্র শোষণ এবং দুষ্পুরের সহায়তায় শুরু করলেন ত্রিলোকে প্রবল অত্যাচার।

অবশেষে মহর্ষি মুদগলের পরামর্শে দেবতাগণ ভগবান গণেশের ধ্যান করলেন এবং অসুর থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করলেন। দেবতাগনের ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে ভগবান গনেশ আবির্ভূত হলেন বিকটরূপে। এবার গণেশ মূষিকের পিঠে নয়, আরোহন হলেন ময়ূরের পৃষ্ঠে পরশু ও পাশধারী গণপতি রূপে।

দুই পক্ষের ভীষণ যুদ্ধ হলো। যুদ্ধে বিকট দেবের হাতে কামাসুরের দুই পুত্র নিহত হলো। কামাসুর এক বিকট গদা গণেশের দিকে ছুড়ে দিলেন, সেই গদা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। বিকট দেব তার অমিত শক্তি প্রয়োগ করে শুধুমাত্র দৃষ্টি দিয়ে কামাসুরের সর্বশক্তি শুষে নিলেন। বেগতিক বুঝে গণেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং গণেশ পূর্ববর্তী অসুরদের মত কামাসুরকে ক্ষমা করে দেয় এবং পাতাললোকে পাঠান। ত্রিলোক বিকট দেবের জয়গানে মুখরিত হল। মুদ্গল পুরাণ মতে, বিকটদেব সৌরব্রহ্মের ধারক।

বিঘ্নরাজ অবতার : একবার মাতা পার্বতী সখী পরিবৃতা হয়ে কৈলাসে হাঁটছিলেন, তখন তাদের কথোপকথনে তিনি হেসে উঠলেন। তার হাসি থেকে একজন বিশাল পুরুষের জন্ম হয় এবং দেবী তার নাম রাখে মম অর্থাৎ অহংকার সূচক আমি বা আমিত্ব। দেবীর নির্দেশে বিঘ্নরাজদেবের তপস্যা করতে বনে গেলেন, সেখানে তাঁর শাম্বাসুরের সাথে সাক্ষাৎ হলো। শাম্বাসুর মমকে বিভ্রান্ত করে অসুরপন্থায় চালিত করেন এবং অনেক দৈত্যশক্তি দেন। শাস্ত্র বলে অসুর পন্থা অবলম্বনের পর তার নাম হয়েছিল মমতাসুর। ঘোর তপস্যার পর মমতাসুর বিঘ্নরাজদেবের আশীর্বাদ পান। এরপর তিনি শাম্বাসুরের কন্যা মোহিনী কে বিবাহ করে ধর্ম-অধর্ম দুই পুত্রের পিতা হন।

কিছুকাল পড়ে তিনি এক প্রচন্ড অসুরবাহিনী গঠন করে ত্রিলোক জয় করে। স্বর্গলোকে ইন্দ্রের সঙ্গে ভয়ানক যুদ্ধের পর হেরে গিয়ে স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত হন দেবতারা। বিঘ্নরাজ খবর পেয়ে দেবর্ষি নারদকে পাঠান মমতাসুরের কাছে শান্ত হতে। কিন্তু গণেশের শরণাগত না হয়ে তার কথা হেসে উড়িয়ে দেন। মমতাসুরকে বধ করার জন্য বিঘ্নরাজ যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ করেন। বিঘ্নরাজ গণেশ তাঁর হস্তস্থিত কমল মমতাসুরের সৈন্যদের উপর নিক্ষেপ করেন। তাঁর কমলের দিব্য সুগন্ধে সমস্ত অসুর শক্তিহীন হয়ে মূর্ছিত হল। ব্যাপার দিকে মমতাসুর ভয় পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যিনি আইন করতে পারেন প্রয়োজনে তিনি আইনও বদলাতে পারেন। মমতাসুর শরণাগত হলেন। বিঘ্নরাজ তাঁকে ক্ষমা করে পাতালে প্রেরণ করলেন।

সুতরাং হে জীব শরণাগত হও।

ধূম্রবর্ণ অবতার : গণেশের অষ্টম অবতার ধূম্রবর্ণ। তাঁর গাত্রবর্ণ ধূম্র অর্থাৎ ধোঁয়ার মতো। মূষিক তার বাহন।ধুম্রবর্ণ গনেশমূর্তির আরাধনা বিরল নয়। ধুম্রবর্ণ দেবের শরণাগত হলে তিনি জীবের অভিমান নাশ করেন।

একদা সূর্যদেবের ব্রহ্মার কর্মাধ্যক্ষ পদে বহাল হন। এত উচ্চপদ পাওয়ায় সূর্যদেবের মনে অহংকার এলো। সেই সময় তিনি এক মোক্ষম হাঁচি ফেললেন। সেই হাঁচি থেকে জন্মনিলো এক দুর্ধর্ষ অসুরের। নাম অহংকারাসুর (কেউ বলেন অভিমানাসুর)।

অহংকারাসুর সূর্যদেবের অংশ হয় শুক্রাচার্য তাকে গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলেন। তারই পরামর্শে অহংকারাসুর গণেশের তপস্যা করেন এবং আশীর্বাদ পান। বর পেয়ে অহংকারাসুর দেবতাদের অত্যাচার করতে লাগল, পুনরায় দেবতারা ভগবান গণেশের শরণাপন্ন হলেন। দেবতাদের আহ্বানে গণেশ ধূম্রবর্ণ অবতার গ্রহণ করেন। ধূম্রবর্ণ পাশ অস্ত্র প্রয়োগ করে অসুরদের অহংকার, লোভ শেষ করেন। অবশেষে অহংকারাসুর ধূম্রবর্ণর স্মরণাগত হলেন। জগতে আবার শান্তি ফিরে এল।

লক্ষ্য করুন মুদ্গল পুরাণে বর্ণিত সকল অসুরগন কিন্তু আমাদের পূর্ব পরিচিত। গনেশ তাঁর আট অবতারে এই আটজন অসুরকে শুধু বধ করেননি, বধ করেছেন ক্রোধ কাম মমতা (আসক্তি) অহংকার লোভ মোহ মদ ও মাৎসর্যকে। এই অসুরগণ আজও রিপুরূপে পথভ্রষ্ট করে মনুষ্যকে। কথিত আছে, গণেশের এই আটটি রূপ নিত্য স্মরণ করলে স্মরণকারীর জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev