আষ্টম অধ্যায়
চরিত্র এবং কৃতিত্ব
সপ্তদশ শতকের ভারতবর্ষে মীর মহম্মদ সৈয়দ মীর জুমলা অন্যতম আকর্ষণীয় চরিত্র। কুতবনামা-ই-আলম-এর লেখক বলছেন, তিনি সময়ের পাতায় নিজের নাম লিখেছেন। উদ্যমী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং নিজেকে নিজের বলেই বলীয়ান করে তোলার মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি নিজের চওড়া কপালের জন্য উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়প্রাপ্ত হয়েছেন, কর্ণাটক থেকে দিল্লি, খণ্ডেশ থেকে অসমের রাজনীতি প্রভাবিত করেছিলেন, ভারতবর্ষের সমুদ্র বাণিজ্যে তার বড় অংশ ছিল। পারস্যের এক ভাগ্যান্বেষী অভিযাত্রীর সন্তান হয়ে গোলকুণ্ডায় ভাগ্যপরীক্ষায় এসে, নিজের দক্ষতায় ধাপে ধাপে নথি রক্ষক থেকে মছলিপত্তনমের প্রশাসক এবং তার পরে গোলকুণ্ডার উজির পদের সাফল্যের সিঁড়িতে ওঠেন। সুলতান তাকে কর্ণাটক বিজয়ের দায়িত্ব দিলে তিনি বিজয়ের পরে সেখানে মুক্ত রাজতন্ত্রের স্বাদ অর্জন করে কার্যত কর্ণাটকের প্রথম নবাব হয়ে বসেন। তার পরে তিনি শাহাজানের অনুগত হলে তাকে মুঘল সাম্রাজ্য দেওয়ানিকুল পদে অভিষিক্ত করে। আওরঙ্গজেবের সময় তিনি কিছুকাল খণ্ডেশের প্রদেশের প্রশাসক হয়ে বাংলার মত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সুবাদার নিযুক্ত হন।
মীর জুমলা বিজয়নগর রাজত্বের শেষ ৩০ বছর কর্মক্ষম ছিলেন। যদিও বিজয়নগর ১৫৬৫-র তালিকোটার যুদ্ধের আঘাত সামলে দিলেও সপ্তদশ শতেই সে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কেন্দ্রিয় শাসনের রাশ ক্রমশ কমতে কমতে সিংহাসন দখলের লড়াই ছড়িয়ে পড়ে মূলত মাদুরা, জিঞ্জি, এবং তাঞ্জোরের নায়েকদের মধ্যে। তামিল এবং কানাডিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিবাদের সুযোগ নেয় মুসলমান সাম্রাজ্য। তীব্র লড়াই করা সত্ত্বেও রয়াল দেখতে পায় যে তার হাত থেকে ক্ষমতার রাশ বেরিয়ে যাচ্ছে। রয়াল আর নায়েকদের মধ্যে যে জোট ছিল সেটা সেই মুহূর্তের চাহিদার দাবিতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দক্ষিণের রাজনীতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তার সঙ্গে জোড়ে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির উপসাম্রাজ্যবাদ।
মীর জুমলা বিজয়নগর রাজত্বের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। ১৬৩৬-এর মে-জুন মাসে মুঘলদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ফলে উত্তর দিকে রাজ্য বিজয়ের পথ দক্ষিণের দুটি প্রধান রাজ্য বিজাপুর আর গোলকুণ্ডা সামনে বন্ধ হয়ে যায়। বিজাপুর আর গোলকুণ্ডার সুলতানেরা ভেঙেপড়া বিজয়নগর সহ দিক্ষিণের নানান এলাকায় সাম্রাজ্য বিস্তারের কাজে মন দেয়। কুতুবশাহী সেনাপতি মীর জুমলা এই কাজে বড় ভূমিকা পালন করেন। দুটি সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ার মুহূর্তে দাক্ষিণের মোঘল সুবাদার আওরঙ্গজেব কর্ণাটককে গিলে খাবার অপেক্ষায় ছিলেন। মীর জুমলার বিদ্রোহের ফলে তার হাতে এই সুযোগ চলে এল। মীর জুলার বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়ায় গোলকুণ্ডার সুলতান যে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভাবছেন, সেই গনগনে রাগ থেকে বাঁচিয়ে মীর জুমলাকে শাহী সাম্রাজ্যের চাকরিতে নিয়োগ করে তিনি কৌশলে মীর জুমলার অধিকারে থাকা সম্পদশালী কর্ণাটক গিলে ফেললেন। মাথায় রাখতে হবে মীর জুমলা এবং সুলতানের মধ্যে মানসিক দূরত্ব বাড়ছিল এবং কর্ণাটক যেহেতু গোলকুণ্ডা থেকে বেশ কিছুটা দূরত্বে অবস্থিত বলেই এবং নিজের সম্পদ, বুদ্ধি আর রণদক্ষতার ওপর ভরসা করেই তিনি সুলতানের বিরুদ্ধাচরণ করার পরিকল্পনা করেন কর্ণাটকের ছোট রাজাদের একত্র করে। মীর জুমলার বিদ্রোহী পদক্ষেপ আগে থেকে আন্দাজ করে, আওরঙ্গজেব কৌশলী চালে মীর জুমলার অস্ফূট বিদ্রোহ পরিকল্পনাকে প্রকাশ্য করার জন্যে প্ররোচনা দিলেন এবং শাহী সম্পদ আর বাহিনী নিয়ে তার পাশে দাঁড়ালেন। এর ফলে দ্বিধাহীন চিত্তে মীর জুমলার পক্ষে গোলকুণ্ডার সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা সহজ হল।
মুঘল সাম্রাজ্যের দুই তৎকালীন ধারক শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেব, দারার বিরোধিতা সত্ত্বেও মীর জুমলার রণনেতৃত্ব, রণনীতি এবং দক্ষিণী রাজনীতি বিষয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞানকে সম্মান করে সাম্রাজ্য বিস্তৃতির কাজে অক্লেশে ব্যবহার করেছেন। ১৬৪৯-এর কান্দাহার হাতছাড়া হওয়া এবং পর পর তিন বছর ব্যর্থ কান্দাহার অভিযানে সামরিক বাহিনীতে হতাশার ছাপ ছড়িয়ে যায়। শাহজাহানের পরিকল্পনা ছিল মীর জুমলার নেতৃত্বে পারস্যে বাহিনী পাঠিয়ে সাম্রাজ্যের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করা এবং পারস্যের সেনাবাহিনীর শৌর্য দমন করা। আওরঙ্গজেব, দারা বা সাদুল্লা খান যে যুদ্ধে ব্যর্থ হয়েছেন সেই যুদ্ধ মীর জুমলা জিতবেন এমন একটা ধারনা ছিল সম্রাটের। কিন্তু মীর জুমলা শাহেনশাহের দৃষ্টি সাম্রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম থেকে অধরা দক্ষিণের পানে ঘুরিয়ে দেওয়ার কাজটি সফলভাবে করতে পেরেছিলেন। শাহজাহান, কান্দাহার জেতার পরিকল্পনা ত্যাগ করে বিজাপুর জিততে মরিয়া হয়ে ওঠেন। মীর জুমলার পরামর্শ শাহজাহানের মনে ধরেছিল কেননা তিনি জানতেন মীর জুমলা দক্ষিণের দরবারি রাজনীতিকে হাতের চেটোর মত চেনেন। ১৬৫৭-৫৮-র বিজাপুর অভিযানের মূল অনুঘটক মীর জুমলা। আওরঙ্গজেবের প্রধান পরামর্শদাতা এবং সেনানায়ক হওয়ায়, সুজার বিরুদ্ধে লড়াইতে মীর জুমলাই তাকে রাজসিংহাসনটির দখল নিশ্চিন্ত করান। কোচবিহার আর অসম দখলের অভিযানে মীর জুমলার সাফল্য মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত বহুদূর নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
মুঘল সাম্রাজ্য সুরক্ষা এবং বিস্তারের রণনীতি নির্ধারণে মীর জুমলার প্রভাব যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি, দরবারি রাজনীতি আর প্যাঁচকষাকষিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি বেশও প্রভাবশালী ছিল। দিল্লির রাজনীতির অন্যতম বড় ঘটক, দারা দাক্ষিণের শিয়া সুলতানি সাম্রাজ্যের স্বাতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন। সম্রাটের স্নেহধন্য শাহজাদা পুত্রের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে, আওরঙ্গজেবের দক্ষিণে শিয়া সুলতানিকে গ্রাস করার পরিকল্পনার সুদূর প্রসারী রাজনীতিতে সফলভাবে সম্রাটকে সামিল করতে পেরেছিলেন। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের বড় সময় কেটেছে উদারপন্থী দারা আর ধর্মপালক সাম্রাজ্যবাদী আওরঙ্গজেবের পরস্পর বিরোধী নীতির সামঞ্জস্য আনতে গিয়ে। শাহজাহানের নীতি প্রায়শই দুই শিবিরের নীতিকেই প্রতিপালন করত – যদিও তিনি স্পষ্টভাবে স্নেহান্ধ হয়ে দারার প্রতি খুঁজেছিলেন। দক্ষিণের দুটি শিয়া রাজ্য বিষয়ে শাহী নীতিমালায় দারার শান্তি প্রস্তাব সম্রাট গ্রহণ করেন। সাদুল্লা খানের মৃত্যুর পর, উজির পদে বৃত হন আওরঙ্গজেব ঘনিষ্ঠ সামরিকবাদী মীর জুমলা। মীর জুমলার প্রভাবে দরবারে আওরঙ্গজেবের আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী নীতি সাফল্য পেল, দারার শান্তি প্রস্তাব সম্রাট বাতিল করলেন। অথচ ১৬৫৭-৫৮-য় শাহজাহানের অনুমোদনে যে দক্ষিণে বিজাপুরী অভিযান শুরু হয়েও দারা সম্রাটকে যুদ্ধ বন্ধের ফরমান জারি করতে বাধ্য করেন করেন। শাহী হস্তক্ষেপে দক্ষিণের যুদ্ধ প্রচেষ্টা হঠাতই বন্ধ করে দিতে হয়।
মীর জুমলার জীবন শুধু যে রাজনীতি বা কূটনৈতিক ইতিহাসের ছাত্রদের পাঠযোগ্য তাই নয়, এটি ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে প্রবেশেরও দাবি রাখে। কর্ণাটকের খনির উদ্যম তাকে কুড়ি মন হিরের মালিক করেছিল। কর্ণাটক এবং বাংলায় তার ব্যবসার মূল ভিত্তিটাই ছিল দৈনন্দিনের খাদ্য বস্ত্রের একচেটিয়া উদ্যম। পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সমুদ্র বাণিজ্যের অন্যতম উদ্যমী ছিলেন তিনি। সেই যুগের অর্থনীতির ইতিহাসে তার ব্যবসা বিষয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ কেননা, তখন বিজয়নগর সাম্রাজ্য অস্তাচলে, পর্তুগিজ কোম্পানির উদ্যম ঢালের দিকে, আর এশিয় সমুদ্রগুলিতে ডাচ আর ব্রিটিশে কোম্পানি সবে ডানা মেলছে। দুই স্বজাতি, ব্রিটিশ আর ডাচেরা পর্তুগিজদের হাঠিয়ে দেওয়ার আগেই মীর জুমলা বিজয়নগরের সমুদ্র বাণিজ্যের বড় অংশ দখল করে প্রথমে ডাচ এবং পরে ব্রিটিশ কর্পোরেটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। ইওরোপিয়রা তার ক্ষমতাকে ভয় পেয়েও সাহায্য নিতে ভোলে নি। এদের সঙ্গে পূর্ব উপকূলের বাণিজ্য সম্বন্ধ তার শেষ দিন পর্যন্ত বজায় ছিল।
মানুষ মীর জুমলা
সে সময়ের সাহিত্যে এই মানুষটার বিশদ চরিত্র এবং ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ পাওয়া না গেলেও, কিন্তু তার কাজের ইতিহাস যেহেতু সে সময়ের বিভিন্ন লেখায় ছড়িয়ে রয়েছে, সেগুলি একত্র করে আমরা সে সম্বন্ধে একটা মোটামুটি ধারণা করতে পারি। ১৬৫৩-৫৪-য় মীর জুমলার দরবারে পাঠানো মুঘল দূত মহম্মদ মুমিন তার সম্বন্ধে বলছেন ‘সুশ্রী মুখাবয়ব’, ‘মাঝারি উচ্চতা’ এবং ‘সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী’। প্রায় একদশক পরে অসমিয়া সূত্রে তাকে বলা হচ্ছে, ‘মুয়াজ্জম খান ছোটকদের, শক্তপোক্ত, গোলদাড়িওয়ালা মানুষ’। সিংহাসন দখলের সময়ের বেলঘাটার লড়াই চলাকালীন তার সুরক্ষার পরিচ্ছদ বর্ণনা করা হচ্ছে, চিনা লোহার বর্ম আর শিরস্ত্রাণ পরা, কোমরে দুটি তরোয়াল একটি ঢাল, লম্বা তীর ধনুক (কামান কিয়ান) কাঁধে নেওয়া যোদ্ধা। ঘোড়ায় চড়ার সময় বলিরেখাসমৃদ্ধ কপাল আর পাকানো রাগী সাদা গোঁফ দাড়িতে তাকে আজহারের মত লাগত।
তিনি অভিযাত্রী (এ্যাডভেঞ্চারার) ছিলেন তো বটেই কিন্তু তিনি মার্জিত এবং স্বশিক্ষিতও ছিলেন। কোরাণ, হিদাত এবং পারসিক ভাষা সম্বন্ধে তার জ্ঞান অতুলনীয় ছিল। তাঁর চিঠিপত্র এবং যোগাযোগের নানান নথিপত্রে অধীত জ্ঞান আর যুক্তির ছাপ স্পষ্ট। গোলকুণ্ডায় তিনি নবাব আল্লামি ফাহিমি শেখ মহম্মদ পেশোয়াকে ঘিরে থাকা সাহিত্য সভার অন্যতম অংশিদার ছিলেন। শিহাবুদ্দিন তালিশ তার সম্বন্ধে বলছেন তরোয়াল এবং কলম চালনায় সমানভাবে দক্ষ ব্যক্তত্ব। অসাধারণ বক্তৃতা দিতেন। জনগণেশের মনস্তত্ত্ব ভালভাবে বুঝতেন এবং নিয়ন্ত্রণ করতেও পারতেন — যে দিন দেওগাছিতে শাহজাদা সাম্রাজ্যের বাহিনী ছেড়ে বিদ্রোহীর বাহিনীতে যোগ দিল, সে দিন তিনি বিমূঢ বাহিনীকে বক্তৃতাতেই চাঙ্গা করেছিলেন। বর্ষার আসামেও দুর্দশার দিনে তিনি শুধু ভোকাল টনিক দিয়ে বাহিনীকে এককাট্টা রেখেছিলেন। সময়ের প্রয়োজনে তিনি গলার স্বর চড়াতে কমাতে পারতেন। ওষুধের জ্ঞানও ছিল। অসুখের সময় তিনি নিজে জিউইশ বিটুমেন গ্রহণ করেন।
প্রতিকূলতার বিদ্যালয়ে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন। দৃঢ মানসিক ইচ্ছায়, আত্মনিয়ন্ত্রনের দক্ষতায়, উচ্চাশার শৃঙ্গ পৌঁছবার উদ্যমে, সঞ্চয়ী মনোভাবে, চকিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতায় এবং জীবনকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার দক্ষতায় তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনজুড়ে নিজেকে সফলভাবে গড়ে তোলেন। জুতো থেকে হিরে, যুদ্ধ থেকে সরকার পরিচালনা নানা বিষয়ে তার অপরিসীম আগ্রহ ছিল। তামিল বা তেলুগু, দক্ষিণী বা হিন্দুস্তানি, হিন্দু বা মুসলমান, মুঘল, ডাচ, ব্রিটিশ, পর্তুগিজ বা ডেনিস প্রত্যেকের সঙ্গে তিনি সুমধুর ব্যবহার করতেন। বাওরি বলছেন তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গ পছন্দ করতেন এবং তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতা করতে ভালবাসতেন। ব্রিটিশরা তার চরিত্র পছন্দ করত। তার পারফেকশন তাদের খুব পছন্দ ছিল। তাভার্নিয়ে তার সহৃদয়তা এবং সামাজিকতার কথা বলেছেন। তিনি তাভার্নিয়েকে মহফিলে ডেকে পান, একটি দুষ্প্রাপ্য স্পেনিয় এবং সিরাজি মদ্য দিয়েছিলেন। তাদের রাত খাবারে প্রায়শই ডাকতেন।
তিনি যে গভীরতর অর্থে ধার্মিক ছিলেন তার উদাহরণ পাচ্ছি গাণ্ডিকোটা দখলের পর তার মক্কা যাবার শেষ ইচ্ছে প্রকাশে। কবিতায় তাকে দিনপনাহ বা ধর্মের রক্ষক বলা হয়েছে। মির্জা দালালকে লেখা চিঠিতে তিনি নিজেকে তার ধর্মভাইরূপে বর্ণনা করে নির্দেশনা প্রত্যাশা করেছেন। অসমে মথুরাপুর থেকে গড়গাঁওতে ফেরার সময় তিনি নামাজ পড়তে একটি প্রাসাদে বহু সময় কাটিয়ে দেন। শর্বশক্তিমানের ওপর গভীর আস্থা ছিল। [শেষ]