| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা : জগদীশ নায়ারণ সরকার (৩৬নং কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৫৫৯ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২

পঞ্চম পর্ব

মীর জুমলার বাঙলা প্রশাসন

প্রায় তিন বছর (৯ মে ১৬৬০-৩১ মার্চ ১৬৬৩) বাঙলার প্রশাসনিক ভার সামলেছিলেন মীর জুমলা। যেহেতু তিনি নভেম্বর ১৬৬১ থেকেই অসম আর কোচবিহারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, তাঁর বাঙলার প্রশাসনিক দায়িত্বের কার্যকরী মেয়াদকাল ছিল মোটামুটি দেড় বছর। দীর্ঘকাল নানান নীতি পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োগ এবং প্রত্যাহার করে যে প্রশাসনিক সংস্কারের সুফল প্রশাসনিক প্রধানেরা জনগনকে পেতে সাহায্য করেন, সে সময় সুযোগটুকু তিনি পান নি। আকবরের সময়ের তৈরি করা নীতিতে বাংলা সরকার, পরগণা এবং আমলাতান্ত্রিক পরিচালনা ব্যবস্থা নির্দিষ্ট হয়েগিয়েছিল। কার্যনির্বাহী শাসক (হুজুর), রাজস্ব (মাল), প্রশাসক এবং দেওয়ানের প্রশাসনিক ভাগটিও আকবরের সময় থেকে বাংলায় পূর্ণদ্যমে চলে আসছে। প্রশাসক, সদর এবং বিচারক, কাজির মধ্যেও যে প্রশাসনিক পার্থক্য সেটি তখনও বর্তমান ছিল। তবুও মীর জুমলার মত শক্তিশালী প্রশাসক খুব কম সময়ে বাংলায় থেকে, নিজের কর্মদক্ষতা প্রমান করেছেন।

প্রশাসনে বসেই বেশ কয়েকটি কারনে তিনি বাঙলার সুবার রাজধানী ঢাকায় তুলে নিয়ে যান, তার একটা সমস্যা ছিল রাজমহল থেকে পর্তুগিজ এবং আরাকানি দস্যুদের ওপর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণে কায়েম করা। তাছাড়া তিপেরা, ঘোড়াঘাটের মেথর আর হাজোর রাজা মীর জুমলাকে বকেয়া এবং রাজস্ব দিতে অস্বীকার করলেন। তিনি রশীদ খানের নেতৃত্বে হাজো, ফরহদ খানের নেতৃত্বে তিপেরা এবং সুজন সিংএর নেতৃত্বে ঘোড়াঘাটে সেনা পাঠানোর উদ্যম নিলেন।

রাজস্ব প্রশাসনে জমির পুরোনো সময়ের তিনটে ভাগ – খালসা, জায়গির বা জমিদারি এবং সায়ুরঘাল বজায় থাকল। ১৬৫৮এ কিছুটা সংস্কার হয়ে তোডরমল্লের রাজস্ব প্রস্তাব শাহ সুজার প্রশাসনে মান্য করেছে ১৬৫৯ পর্যন্ত। তোডরমল্লের আগে খালসায় আসল জমা হিসেব (৬৩,৪৪,২৬০ টাকা) আদায় ছিল। সেই পরিমানটি ২৪ লক্ষ টাকা বাড়ে (৮৭,৬৭,০১৬ টাকা)। কিন্তু জায়গির রাজস্বের বৃদ্ধি ঘটে নি (৪৩,৪৮,৮৯২ টাকা)। এই দুয়ে মিলিয়ে সুজার সময়ে বাঙলার মোট রাজস্ব ছিল ১,৩১,১৫,৯০৭ টাকা। এই হিসেব চলে আওরঙ্গজেবের প্রথম দস্তুর উল আমল (১০৬৯ অলহজ্ব এবং ১০৬৫ ফসলি পর্যন্ত) অর্থাৎ যখন মীর জুমলা বাঙলার সুবাদার বা নবাব হয়ে এলেন, সেই সময় পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে সংগ্রহ হল মাত্র ৮৬,১৯,২৪৭ টাকা, যা শাহ সুজার সময়ের আদায়ি মোট খালসা রাজস্বের কিছু কম। এই কম অর্থ আদায়ের বড় কারণ হিবে ধরা হয় সে সময়ে বাঙলার রাজনৈতিক আস্থিরতাকে। তবে রাজস্ব বিষয়ে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই নবাবকে কোচবিহার এবং অসম অভিযানে চলে যেতে হয়। সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকায় প্রশাসন চালানোর সময় খালসা জমিতে কৃষকদের থেকে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সামাজিক বাস্তবতা প্রয়োগ করে রাজস্ব আদায় করেছেন। অন্যদিকে মনসবদারদের থেকে জায়গিরগুলির আদায়ও খুব কিছু সন্তোষজনক ছিল না। যেহেতু সেগুলি দূরে দূরে ভিন্ন ভিন্ন পরগণায় অবস্থিত ছিল, এবং প্রাপকদের সঙ্গে জুড়ে ছিল প্রচুর অংশিদার, ফলে রাজস্ব দিতে কৃষকদের ওপর চাপ পড়ত। রাজস্ব আদায়ে কৃষকদের ওপর অত্যাচার হত এবং পরগণাগুলি শেষ পর্যন্ত জনশূন্য থেকে যেত।

সায়ুরঘাল জমি বিষয়ে বলা যায়, মীর জুমলা নিজের জায়গিরে প্রচুর আয়মাদার এবং জলপানি পাওয়া গুণী বসিয়েছিলেন। এছাড়াও বহু মানুষ যারা সম্রাটের থেকে শুল্কশূন্য জমি ভোগের ফরমান পেতেন তারাও এই সব জমিতে বসতেন। কিন্তু বহু সময় দেখা গিয়েছে জায়গিরদারের বদলি বা মৃত্যুর পর বহু সময়ে এই ভোগদখলকারীর উত্তরাধিকারীদের হাতে এই জমিগুলি ভোগের পাট্টা থাকত না। মীর জুমলার মৃত্যুর পর তার জায়গিরে এই ধরণের শুল্কমুক্ত জমির (মদদ-ই-মাশ, আয়মা, সয়ুরঘাল) দখলদারি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। ১৬৬০তে সদর, কাজি রিজভি এই ধরণের অধিকারগুলির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। যাদের হাতে সম্রাট বা জায়গিরদারের ফরমান ছিল না, তাদের তিনি জমির ভোগদখল থেকে উচ্ছেদ করেন। জমিগুলি জায়গিরদারদের এস্টেটে দখলিকৃত হয়। আয়মাদারদের জমি কর্ষণের অধিকার দেওয়া হল, এবং তাদের রাজস্বও দিতে হত। এই নির্দেশ আয়মাদারদের জীবনের ওপরে খুব গভীর প্রভাব ফেলল, কেননা আয়মাদারেরা নিজেরা জমি চাষ করতেন না, ফলে তাদের পক্ষে প্রত্যক্ষ্যভাবে রাজস্ব শোধ করার কোনও সুযোগ ছিল না। তারা সদর কাজি রিজভির রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী নবাব শায়েস্তা খাঁয়ের কাছে অভিযোগ করলেন। এই অভিযোগের প্রতিবিধান তারা উসুল করলেন শায়েস্তা খানের সময়।

জাকাত, আয়ের একের চল্লিশভাগের একভাগ রাজস্ব আদায় হত হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সওদাগর (মার্চেন্টস), ভ্রমণকারীদের থেকে এবং শুল্ক (কাস্টম — হাসিল) আদায় করা হতে থাকল কারিগর, ব্যবসায়ী (ট্রেডসমেন), খুসনশিনদের (নবাগত বা ধনী) থেকে। বহু পরগনায় খালসা দপ্তর বা জায়গিরদার বা জমিদারেরা নিঃসন্তান রায়ত, অপুত্রক নবাগতরা মরন্মুখ হত তাদের সম্পত্তি, এমন কি স্ত্রী, কন্যাকে দখল নিতে শুরু করে।

তাঁর সময়কালে মীর জুমলা দ্রুত এবং যথাযোগ্য বিচারের ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজে প্রশাসনিক কাজে আকবরের দেখানো রীতি নীতির অত্যন্ত অনুগামী ছিলেন। কোনও বাধা ছাড়াই বিচার প্রার্থীরা তাঁর কাছে বিচার চাইতে আসতে পারতেন, এবং তিনি তাদের সরাসরি বিচার দেওয়ারও ব্যবস্থা করতেন। নদীর মুখোমুখি আসনে বসে অস্ত্রহীন উচ্চনীচ ধনীনির্ধন ভেদাভেদ না করে যথাযোগ্য বিচার করতেন। ঢাকার নারায়ণগঞ্জের কাছে খিজিরপুরে থাকাকালীন দই বেচানী এক মহিলাকে ডেকে তাঁর এক চাকর অর্থ ছাড়াই দই নিয়েছিল। সেই মহিলা সঙ্গে সঙ্গে নবাবের কাছে বিচার চেয়ে বসলেন। স্বভাবত চাকরটি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। তাকে বমির ওষুধ দিয়ে বমি করানো হলে দেখা গেল সে খাবারের সঙ্গে দইও বমি করছে সুবাদার তখন তাঁর পেট কেটে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রেখেদিয়েছিলেন, যাতে এ ধরণের কাজ করতে গিয়ে অন্যেরা সতর্ক হয়। সে সময় জনশ্রুতি ছিল, মীর জুমলার এই বিচারের পদ্ধতি এমন ভীতিপ্রদভাবে কার্যকর হয় যে, তার রাজত্বে কেউ একটা খড়ও চুরি করত না।

তাঁর কাছে খবর ছিল ঢাকার কাজি মোল্লা মুস্তাফা ঘুষ নেন এবং মীর আদিল তাকে ঘুষ নেওয়ার কাজে সাহায্য করেন। তিনি উভয় ঘুষ খোরকে ঢাকা থেকে দূর করে করে দেন এবং ধর্মীয়, অন্যান্য বিষয়ে বিচারের দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন। তিনি যাকে ঠিক বলে বিশ্বাস করেন সেটি সবার আগে নিজে পালন করতেন। অসমের পথে অভিযান করার সময় নির্দেশ দিয়ে গেলেন কোরানীয় বিধিতে যে বিচার হবে সেটি করবেন শেখ আজম, কিন্তু কাগজ কলমে রায় লেখার সময় তিনি কাজির পাঞ্জা ব্যবহার করতে পারবেন না। ধার দেওয়া বা ধার শোধ চাইবার বা চুরি যাওয়া সম্পদ ফেরত পাওয়ার সময় রাষ্ট্র থানা মার্ফত একের চল্লিশাংশ কেটে রেখে দিত। বিচারকের সামনে অভিযোগ করা বাদী বিবাদী মমলার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের ধরে রাখা হত, এবং যিনি সমন বা নির্দেশ নিয়ে যেতেন তাকে প্রত্যেক দিন শুল্ক দিতে হত যা রাজস্ব হিসেবে জমা পড়।

নিজাম হিসেবে মীর জুমলা বাঙলা প্রশাসনে অবাধে একনায়কতন্ত্র চালাতেন। তার সময়ে বিহার আর ওডিসার প্রশাসন তিনি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছেন। বিহার বিষয়ে তিনি যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন — ১৬৬০-৬১তে পাটনার দেওয়ান লুতফুল্লা বেগ রাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়াবার জন্য সোরা ব্যবসা দখলের চেষ্টায় ডাচেদের সঙ্গে চুক্তি করা সব ধরণের মধ্যসত্ত্বভোগীকে বাজারে আসা সমস্ত সোরা তাঁর জিম্মায় জমা দিতে নির্দেশ দিলেন। হুগলীর ডাচ কুঠিয়াল ভ্যান্ডেনব্রোক, নবাব মীর জুমলা এবং ব্রিটিশ প্রধান কুঠিয়ালের প্রতি অভিযোগ জানিয়ে বলেন লুতফুল্লার নির্দেশটি পাটনার ব্রিটিশ কুঠিয়াল চেম্বারলেইন আর তার দালাল গঙ্গারামের ষড়যন্ত্রের ফসল। গঙ্গারাম দেওয়ানকে সমস্ত সোরা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ব্রিটিশেরা দেওয়ানের গুদামে থাকা সব সোরা কিনে নেবে (বলা দরকার সেই সময় পাটনার বিপুল পরিমাণ সোরা কিনত ডাচেরা — অনুবাদক)। এর উত্তরে ব্রিটিশ কুঠিয়াল ত্রেভিসা সরাসরি অভিযোগ স্বীকার করলেন না, কিন্তু বললেন সোরা কেনা ব্যবস্থায় তিনি ডাচেদের সঙ্গে রয়েছেন এবং বরাবরের মত ব্রিটিশেরা সরাসরি দালালদের থেকে সোরা কিনবে। মীর জুমলা পরওয়ানা জারি করে লুতফুল্লাকে ডাচেদের স্বার্থের বিরুদ্ধাচরণ করতে বারণ করলেন।

নিজাম হিসেবে মির জুমলার সাহায্যকারী সহ-নিজাম ছিল না, তাহলে হয়ত কিছু প্রশাসনিক দায়িত্ব তিনি ভাগ করে দিতে পারতেন। ১৬৫৯-এর বসন্তে মীর জুমলা বাঙলার পশ্চিমাঞ্চল দখল নিশ্চিন্ত করে ইস্তিয়াখ খানকে প্রশাসকহীন অরাজক অস্থির ওডিসা শাসনের দায়িত্ব দিলেন। মনে হয় এই সময়েই রাষ্ট্রীয় ফরমান বলে মীর জুমলা খালসার রাজস্ব না মিটিয়ে বকেয়া রাখার অভিযোগে ওডিসার রাজা নীলকান্ত দেবের তুয়ুল দখল নেন, কিন্তু কাশিজোড়া পরগণার মদদইমাশ গ্রাম জসড়া মহালের যে নিয়ন্ত্রণ সরকার গোয়ালপাড়ার কুতুবপুরের শেখ আবদুল খায়ের ভোগ করছিলেন, সে স্বত্ব তিনি বজায় রাখলেন। ওডিসার খানইদৌরান পদে আমলা নিযুক্ত করার পরেও, বাংলার প্রশাসক, নবাব মীর জুমলা কোনও না কোনওভাবে ওডিসার ওপর দখলদারি কায়েম করেন। অসম অভিযানের ঠিক আগে ওডিসা থেকে রাজমহল পর্যন্ত ডাকচৌকি বসালেন, কিন্তু কোন সময়ে ডাকচৌকিটা তৈরি করা হয় সেটা জানা যায় নি। বাঙলার রাজস্বের সঙ্গে রাজমহল হয়ে ওডিসারও রাজস্ব একযোগে দিল্লিতে পাঠানো হত। মীর জুমলার মৃত্যুর পর, ২৮ এপ্রিল ১৬৬৩ বালেশ্বরের কুঠিয়ালরা লিখছেন এই অঞ্চলের প্রশাসকেরা, দীর্ঘ সময়ে নবাবের অনুপস্থিতির কারনে এতই উদ্ধত হয়ে বেপরোয়া অর্থ আদায় করতে থাকে যে এই অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য সব বন্ধ হয়ে যায়; এবং তারা মনে করছিল খানইদৌরান যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে এই এই দুর্যোগের উপযুক্ত সমাধান করতেন। মহান খানইদৌরানের বিলয় হয়ে যাওয়ার পর এই দেশটা আওরঙ্গজেবের অধীনে চলে যাবে।

হিজলির বিদ্রোহী জমিদার বাহাদুর খানকে দমন করতে মীর জুমলা ওডিসার খানইদৌরানকে সাহায্য করেন। বাহাদুর খানকে সুজা কারাগারে নিক্ষেপ করলেও, তিনি নিজেকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে তার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেন। ইওরোপিয় কুঠির নথি বলছে মীর জুমলা হিজলি দখল করতে ডাচ, ব্রিটিশ, পর্তুগিজদের থেকে জাহাজ দাবি করলেন। ওডিসার প্রধান হিসেবে খানইদৌরানের পদপ্রাপ্তিতে এই অভিযানের পরিকল্পনা কিছু দিনের জন্য স্থগিত ছিল। শেষ পর্যন্ত মীর জুমলা সম্রাটকে প্রভাবিত করে ওডিসাকে বাঙলার প্রশাসনের অন্তর্ভূক্ত করে ব্রিটিশ স্লুপ আর ডাচ গ্যালিয়ট নিয়ে হিজলি দখল করেন। বাহাদুরের ভাই কমল খান নিহত হয়। ৬ মে বাহাদুর এবং তার ১১ জন সাথীকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আরাকানের রাজা শাহী বাহিনীর দখল করা তার রাজত্বের কিছু অংশ ফেরত চেয়ে দূত মার্ফৎ একটি উদ্ধত চিঠি বাংলার দরবারে পাঠালেন। মীর জুমলা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে একটি যুক্তিপূর্ণ চিঠি এবং কিছু সামান্য উপহার পাঠান। সুজাকে আরাকান থেকে নিয়ে আসার জন্য তিনি ডাচেদের ওপরে চাপ দিলেন। মগেদের অত্যাচার চরমে উঠলে মীর জুমলা সম্রাটকে জানান যে খিজিরপুরের সাবেক মুঘল প্রশাসক মগেদের আক্রমণের ভয়ে পালিয়ে থাকতেন। শীতের পরে যখন মগেদের অক্রমণের ঝাঁঝ কমত, তখন ঢাকার সুবাদার সেনা নিয়ে হেলতে দুলতে তার প্রশাসনিক এলাকায় যেতেন। মগদের অত্যাচার বন্ধ করার জন্য মীর জুমলা কিছু পরিকল্পনা করেন। আসাম কোচবিহার অভিযানের পরই সেটি রূপায়িত করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সে সুযোগ আর তিনি পেলেন না।

কোচবিহার-অসম আক্রমণে যাওয়ার আগে তিনি বাংলায় আরও কয়েকটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। রাজমহলের দেওয়ান হিসেবে থাকলেন মুখলিস খান, ওডিসার দায়িত্ব ছেড়ে আসার পর তিনি ইহতিশাম খানকে বাংলার প্রশাসন চালানোর দায়িত্ব দিয়ে ঢাকা সুরক্ষায় খিজিরপুরে থাকার নির্দেশ দিলেন। সাম্রাজ্যের দেওয়ান রায় ভগবতী দাস এবং খাজা ভগবান দাস সুজায়িকে শাহী আর্থ ব্যবস্থা দেখাশোনার পাশাপাশি বাংলায় মীর জুমলা সরকারেরও একই বিভাগ সামলানোর দায়িত্ব দিলেন। দক্ষ, চতুর এবং কর্মঠ হিসেবে খ্যাত ঢাকার প্রশাসক মহম্মদ মাকিমকে অতিরিক্র দায়িত্ব হিসেবে নাওয়ারার (নৌবাহিনী) ভার এবং মীর গাজিকে খাজাঞ্চি এবং আখবারনবিশের দায়িত্ব দিলেন।

মীর জুমলা যখন অসম অভিযানে তখন দুবছর ধরে বাংলায় চরম দুর্ভিক্ষ চলেছিল। জাকাত দানের সমান চালের দাম উঠেছিল। চৌকিদার, রাহদারের (শুল্ক আধিকারিক) অত্যাচারে এবং আভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য ব্যবসায়ীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তালিশ সে সময়ের মানুষের অবর্ণনীয় সমস্যার ওপর আলোকপাত করে লিখছেন, ‘মানুষের জীবন রুটির চেয়েও শস্তা, অথচ দেশে রুটি পাওয়া যায় না’। দুর্ভিক্ষের প্রভাব পড়েছিল অসমে মুঘল শিবির মথুরাপুরেও। লাখাউতে মুঘল নৌবাহিনীর জন্য ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হয় নি। অসমে বাহিনীর খাবার অভাব দূর করতে তিনি অসমের দিহিং নদীতে জবর দখল করা ১২,০০০ মণ চাল মুঘল শিবিরে পাঠাতে নির্দেশ দেন। মীর জুমলার প্রশাসক উত্তরসূরী দাউদ খান জাকাতের সম্পূর্ণ দান জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় কিছুটা দর্ভিক্ষের প্রকোপ প্রশমিত হয়।

সুজার সময়ের কিছু সমস্যা মীর জুমলার প্রকাশনেও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছিল। বাঙলায় প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন হলেও মীর জুমলা সময় পান নি। মীর জুমলার মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুবাদারের পক্ষে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয় নি। দুর্যোগ আরও গভীরতর হয়। শায়েস্তা খান বাঙলার নবাব (সুবাদার) হয়ে আসার পর বেশ কিছু যোগ্য প্রতিবিধান প্রণয়ণ করে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলতা মেটান। মীর জুমলার যে কটি অর্ধসমাপ্ত কাজ তিনি সমাধা করেন, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণটি ছিল নৌবাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলা। সুজার নবাবির সময়ে নবাবের গাছাড়া মনোভাবের জন্য, বাঙলা জুড়ে দুর্গতি চলার জন্য এবং রাজস্ব আদায়কারীদের অত্যাচারের জন্য নৌবাহিনীর জন্যে বরাদ্দ ১৪ লক্ষ টাকা রাজস্ব দায়িত্ব প্রাপ্ত পরগণাগুলো থেকে সম্পূর্ণভাবে আদায় করা সম্ভব হচ্ছিল না। মীর জুমলার পদপ্রাপ্তির ফারমানে আওরঙ্গজেব, ইব্রাহিম খানের নীতি অনুসরণ করে নৌবাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। নৌবাহিনীকে নতুন করে গড়ে তুলতে মীর জুমলা নৌবাহিনীর পুরোনো ধরণের ব্যবস্থাপনা বদলাবার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থা চালু করার আগেই তাকে কোচবিহার-অসম অভিযানে যেতে হয়। এই অভিযানে প্রচুর শাহী নৌসেনাপতি, সাধারণ সেনা নিহত হন এবং মুঘল সুবাদারের মৃত্যুতে মুঘল নৌ বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। নাওয়ারা প্রধান মীর বহর ইবন হুসেইন পদত্যাগ করলেন। মহম্মদ বেগকে দায়িত্ব দিয়ে নৌবাহিনীর গুণগত মান, নৌকার সংখ্যা পরীক্ষা এবং বর্তমান অবস্থা বিষয়ে সমীক্ষাপত্র দিল্লিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নৌ বাহিনীর পতনের ফলে বাংলায় মগ এবং পর্তুগিজ হার্মাদদের অত্যাচার বাড়ে যায়। ১৬৬৪-তে নৌবাহিনীর দায়িত্বে থাকা সদরইসৈরাব মুনাওয়ার খান ‘কয়েকটি ভাঙা ঝুরঝুরে নৌকো’ সম্বল করে মগ-হার্মাদদের জোটের মুখোমুখি হতে না পেরে পালিয়ে যান। পরে শায়েস্তা খান এসে নতুন করে প্রায় শূন্য ভূমিতল থেকে নতুন নৌবহরের কাঠামো গড়ে তোলেন।

বাংলায় মীর জুমলার আর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কাজকর্ম

কর্ণাটকের মতই বাংলাতেও মীর জুমলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল চরিত্র ছিল একচেটিয়া ব্যবসা। বাঙলার সুবাদারির সুবাদে তিনি নানান পণ্য নিজের শর্তে একচেটিয়া কারবারী রূপে কিনে তার শর্তেই সেগুলি বিক্রি করতেন। ১৬৬০-এ মীর জুমলা ব্রিটিশ কোম্পানিকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সোরা সরবরাহ করার প্রস্তাব দেন। মাদ্রাজের কুঠিয়ালের মন্তব্য তিনি এসব করেছেন ব্যক্তিগত লাভের জন্য। সেই সময়ে তিনি পাটনার ব্রিটিশ কুঠিকে ৩০,০০০ থলে (৬,০০০ মণ) ধারে সোরা সরবরাহ করেন।

নভেম্বর ১৬৬১-র ডাচ নথিতে মীর জুমলার দাম বাড়ানোর উদাহরণ পাই। ঢাকার এক শস্য কারবারির থেকে মীর জুমলা ৫০,০০০ টাকা দাবি করেন, আজকের অর্থনীতিতে এটিকে অতিরিক্ত লাভ্যাংশ কর হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। ডাচ সূত্রটি জানাচ্ছে মীর জুমলার দাবি কোচবিহার অসম অভিযানের আগে শাহী বাহিনীকে চাল সরবরাহ করে সেই ব্যবসায়ী দ্বিগুণ লাভ করেছেন। তারা ১০,০০০ টাকা দিতে চাইলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেন। তারা ২৫,০০০টাকা দিতে বাধ্য হয়। একই রকম অত্যাচারের ফলে ঢাকার জনৈক ব্যাঙ্কার তাঁকে ৩,০০,০০০ টাকা দিতে বাধ্য হয়।

১৬৫৮য় হুগলীর দেওয়ান মালিক বেগ ব্রিটিশদের থেকে কাস্টমস শুল্কের আদায় না করে একলপ্তে বার্ষিক ৩,০০০ টাকা (জুন ১৬৫৮) দাবি করেন। তার যুক্তি ছিল প্রাক্তন শাসক শাহজাহান আওরঙ্গজেবের হাতে বন্দী। ফলে শাহজাহানের কোনও ফরমানই প্রযুক্ত হবে না। পরের বছর বালেশ্বরের প্রশাসকও বন্দরে জাহাজ ভেড়ানোর জন্যে বিপুল শুল্ক দাবি করেন। ব্রিটিশ কুঠিয়ালেরা দুটি দাবিই মানতে অস্বীকার করায় দুপক্ষের মধ্য তিক্ততা বাড়তে থাকে। ১৬৬০-৬১-তে হুগলীর ব্রিটিশ এজেন্ট মীর জুমলার অত্যাচারে ‘অতিষ্ঠ’ হয়ে নবাবের বাণিজ্য নৌবহরের একটি নৌকো দখল ক’রে জানায় এতেই তার ধার শোধ হয়েছে। ক্ষিপ্ত মীর জুমলা কুঠি ধ্বংস করে মাটিতে মিশিয়ে ব্রিটিশদের দেশ ছাড়া করার হুমকি দেন। মাদ্রাজ কর্মকর্তাদের পরামর্শে ত্রেভিসা মীর জুমলার সামনে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইলেও বার্ষিক ৩,০০০ টাকার দাবি মীর জুমলা ছাড়েন নি।

প্রত্যেক বছর বিনা শুল্কে ব্রিটিশদের জাহাজে তার পণ্য (যেমন গালা) সম্ভার বিদেশে, বিশেষ করে পারস্যে পাঠানো অভ্যেস করে ফেলেছিলেন মীর জুমলা। গম্ব্রনে ব্রিটিশ কুঠিয়ালকে মাদ্রাজের কুঠিয়াল লিখলেন, যেহেতু মীর জুমলা বাংলায় ক্ষমতায় রয়েছেন, তার পণ্যের ওপরে দেয় কর/শুল্ক না নেওয়াই উচিত। তবে ১৬৬২-র মে মাসে ব্রিটিশ আভ্যন্তরীণ হিসেবে দেখা যায়, মীর জুমলা যা পণ্য পাঠিয়েছেন, তার কর/শুল্ক হিসেব করলে সেটা জাহাজ কাণ্ডে তার প্রাপ্ত অর্থের পরিমান ছাড়িয়ে যাবে বরং এখানে ব্রিটিশেরা মীর জুমলার থেকেই অর্থ পাবেন।

বিনিয়োগের ওপর ভাল সুদ পেয়ে ত্রেভিসা মার্ফত মীর জুমলা ব্রিটিশ আমলাদের ব্যক্তিগত ব্যবসায় অন্তত ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। সুরাতের কুঠিয়ালদের বিরক্তি সত্ত্বেও বাঙলার এজেন্ট ধার করে বাঙলার পণ্য কেনার নীতি চালিয়ে যায়। মাদ্রাজের কুঠিয়ালেরা এই ধরণের ব্যবসায় অভ্যস্ত ছিলেন, কিন্তু তারা ত্রেভিসার ব্যক্তিগতভাবে ঋণ নেওয়া মেনে নিতে পারে নি। তাদের আশঙ্কা ছিল এই ঝামেলা আবার তাদের ঘাড়ে এসে না পড়ে। মীর জুমলার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই ঋণের একটি অংশ ফেরত দেননি ত্রেভিসা। বাকি থাকা ৯,৭০০ টাকার মধ্যে ৫,৬৭২ টাকা কাশিমবাজারের কুঠিয়ালেরা ১৬৬৪-র জুন মাসে শায়েস্তা খানকে শোধ করে। ১৬৬৫-তে এই ধারের ঝামেলাটি শেষ হয়। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev