| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা : জগদীশ নায়ারণ সরকার (১৭নং কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৪৪৭ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০২২

তৃতীয় অধ্যায়

বিদ্রোহী মীর জুমলা

৪। ইখলাস খান, শাহজী ভোঁসলে এবং রয়াল ত্রয়ীর সঙ্গে মীর জুমলার কূটনৈতিক সম্পর্ক

মীর জুমলার জোরদার কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করতে দুই সুলতান মুঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে নতুন ভাবে আলাপ আলোচনা শুরু করলেন। শাওয়াল ১০৬৪-তে (১৬ আগস্ট-১২ সেপ্ট ১৬৫৪) আওরঙ্গজেব, মুনিমকে নির্দেশ দিলেন যেহেতু কুতুব শাহ পুরোনো চুক্তি নবীকরণ করতে চাইছেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা শুরু করা যাক। বীজাপুরও এই ভাবে মুঘলদের সঙ্গে দরকষাকষি, গা ঘষাঘষি সুরু করল। পাদশাহ যাতে রয়ালকে নিরাপত্তা না দেন তাঁর জন্য তাকে প্রচুর পরিমানে উপঢৌকন, পেশকাশ দেওয়া হল। সম্রাট তার সুরক্ষার হাত রয়েলের মাথা থেকে তুলে নিলেন। সুলতানদের বিরুদ্ধে যত চক্রান্ত হবে, সেটা তাঁর বিপক্ষে যাবে এটা মীর জুমলা বুঝলেন। এই উদ্দেশ্যে বাধ্য হয়ে মীর জুমলা তাঁর কূটনৈতিক চক্রের জাল আরও বেশি এলাকায় বিছোনোর কাজ শুরু করলেন। আদিল শাহের বিরোধিতার ধার নষ্ট করতে বিজাপুরী কর্ণাটকের হাবসি প্রশাসক ইখলাস শাহের সঙ্গে দহরম মহরম শুরু করতে দুজনের মধ্যে আশ্চর্যজনক কিছু চিঠি চাপাটি আদান প্রদান শুরু হল। এছাড়াও তিনি আওরঙ্গজেবের পক্ষ থেকে আদিল শাহের বিরোধী মারাঠি নেতা শাহজী ভোঁসলার বন্ধুত্বও চেয়ে বসলেন। আওরঙ্গজেবের ইচ্ছে তাকে বীজাপুরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা, তাই তিনি মীর জুমলার এই পদক্ষেপকে জোরদার সমর্থন জানালেন এবং মীর জুমলার থেকে জানতে চাইলেন শাহজীর মনোভাব, যাতে তাকেও তিনি মুঘল শিবিরে নিয়ে আসতে পারেন। মীর জুমলা মুঘলদের সঙ্গে রয়ালের হয়ে দৌত্য আর বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলেন দীর্ঘদিনের বিজাপুর আর গোলকুণ্ডার বিরোধিতাকে ধুনো দিতে এবং নিজের অবস্থাকে আরও দৃঢ করতে। কিন্তু আমরা আগেই দেখেছি সম্রাট রয়ালকে নিরাপত্তা দিতে আস্বীকার করলেন। তাই মীর জুমলা তাঁর সুরক্ষার স্বিতীয় স্তর গড়ে তুলতে দ্বিতীয়বারের জন্য রয়ালের হৃদয় জিততে চেষ্টা চালালেন। তিনি আওরঙ্গজেবকে বললেন রয়াল কিন্তু তাঁর মতিতে স্থির রয়েছেন এবং তাকে রয়ালের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আওরঙ্গজেব উত্তর দিলেন যেহেতু মীর জুমলা এর আগে রয়ালের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন, তাই তাকে নতুন করে পাদশাহের সামনে বিষয়টা পেশ করতে হবে; ব্যাপারটা খুব সহজে সমাধান করা যাবে না।

৫। আওরঙ্গজেবের গোলকুণ্ডা অভিযানের পরিকল্পনা

মুঘলদের সঙ্গে গোপনে চলতে থাকা তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক আলাপ আলোচনা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কিন্তু মীর জুমলা তার স্বপ্নের আকস্মিকতাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন না। মুঘল সম্রাটের সঙ্গে যে তিনি খুবই গোপনে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন, সেই খবরটা প্রকাশ হয়ে পড়ল (আমাদের ধারণা এটা দারার কাজ, কারন তিনি চান নি মীর জুমলার মত দক্ষ সেনানায়ক আওরঙ্গজেবের সঙ্গে যোগ দিক — অনুবাদক)। সুলতানেরা তাঁর বিরুদ্ধে যৌথ সেনাবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা ভাঁজতে লাগলেন। তাঁরা দুজনেই চাইছিলেন না যে মীর জুমলা তাঁর বিশাল সম্পদ এবং এই এলাকা সম্বন্ধে খুঁটিনাটি জ্ঞান নিয়ে যেন কোনভাবেই সম্রাটের সেনা বাহিনীতে যোগ দিন। মীর জুমলা-মুঘল সাম্রাজ্যের গোপন আলোচনা প্রকাশ্যে আসায় বেশি অস্থির হয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়ে ফেললেন সুলতান আবদাল্লা কুতুব শাহ। ২১ নভেম্বর ১৬৫৫-য় তিনি তাঁর অনুপস্থিতিতে আমীরের পুত্র মহম্মদ আমিন তাঁর মা আর বোনকে গ্রেফতার করে, তাদের সব সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে গোলকুণ্ডার অনতিদূরে কোভিলকোণ্ডা দুর্গে বন্দী করে রাখলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আওরঙ্গজেব সম্রাটের কর্ণগোচর করলেন এবং বললেন এই খবরে মীর জুমলা উত্তেজিত হয়ে পড়বেন এবং দুর্ভাগা কুতবুলমুলক মীর জুমলার পুত্রকে হত্যাও করতে পারে, তাই তাকে শীঘ্র নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করার অনুমতি দেওয়া হোক’।

তার পরিবারের সঙ্গে এই হঠকারী ঘটনা ঘটায় মুঘল সাম্রাজ্যে যোগ দেওয়া নিয়ে যে দ্বিধান্বিত অবস্থা মীর জুমলার ছিল সেটি চকিতে উধাও হয়ে গেল। মীর জুমলার ইচ্ছে গোলকুণ্ডার সুলতান তো পূরণ করেনই নি বরং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বন্দী করে রেখে তাঁর হতাশা আরও বাড়িয়ে তাঁর ফেলে রাখা সিদ্ধান্ত, মুঘল সাম্রাজ্যে যোগদানের দিকে দ্রুত ঠেলে দিলেন। পরিবার এবং নিজেকে বাঁচাতে সুলতানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন। তিনি জানেন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হলেও তাঁর সেনা বাহিনী দুই সুলতানের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে জুঝতে পারবে না, তাই তিনি সরাসরি আওরঙ্গজেবের শরণাপন্ন হয়ে তাকে একটি সাংকেতিক চিঠি লিখে বললেন ‘তিনি সাম্রাজ্যের অন্যতম একনিষ্ঠ সেবক। তিনি দুই সুলতানকে পরাজিত করতে মহান সম্রাটের আমীরদের কাছে সাহায্য ভিক্ষা করছেন’। স্বীকার করলেন তাঁর একার বাহিনী দিয়ে এই জরুরি অবস্থার সমাধান হবে না, সুলতানদের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্রাটের সাহায্য দরকার। তাঁর সাংকেতিক চিঠির অনুবাদ সম্রাটের কাছে পাঠিয়ে আওরঙ্গজেব সরাসরি তাঁর পিতাকে চাপ দিলেন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার। অযুত সম্পদে ধনী গোলকুণ্ডা দখলের যে পড়ে পাওয়া চৌদ্দা আনা অবস্থা আওরঙ্গজেবের সামনে উপস্থিত হয়েছে সেই অবস্থাটি তিলে তিলে পেকে উঠুক, সেই মনোভাব বহুকাল ধরে আওরঙ্গজেব পোষণ করছিলেন। এখন তাঁর সাম্রাজ্যবাদী সত্ত্বা শুধু গোলকুণ্ডা দখল পরিকল্পনায় শান্ত হল না, গোলকুণ্ডার সঙ্গে কর্ণাটকের দিকেও নজর পড়ল। পিতাকে তিনি লিখলেন এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না, কেননা ‘গোলকুণ্ডা এবং মীর জুমলার দখল করা কর্ণাটক — এই দুটি অঞ্চল সম্পদে অমিত ধনী, নানান ধরণের দুষ্প্রাপ্য পণ্য রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে, আরও যে কত কি লুকিয়ে আছে তা জানার বাইরে, আর রয়েছে বিশ্বশ্রুত খনি — এত কিছুর সঙ্গে সম্রাটের হাতে এসে পড়বে কর্মক্ষম কিছু অভিজাত যা সম্রাটের সাম্রাজ্যকে শুধু ঐহিক নয় পারমার্থিক বুদ্ধিবৃত্তিতেও ধনী করবে’।

১৬৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সম্রাট শাহজাহান মীর জুমলার আবেদন শুনলেন এবং আওরঙ্গজেবের অনুরোধক্রমে কাজি মহম্মদ আরিফ কাশ্মীরী (আহদির দ্বিতীয় বক্সী)-র মার্ফত মীর জুমলাকে মুঘল সেনাবাহিনীর ৫ হাজারি জাঠ এবং ৫ হাজার সওয়ার এবং তাঁর পুত্রকে ২ হাজার জাঠ এবং ২ হাজার সওয়ার পদে নিয়োগ করে অসাধারণ সুন্দর কারুকার্যময় একটি চিঠি এবং খিলাত পাঠিয়ে দরবারে হাজির হতে নির্দেশ দিলেন। একই সঙ্গে কুতুব শাহকে চিঠি লিখে মীর জুমলা আর তাঁর পুত্রকে দরবারে আসতে বাধা না দেওয়ার এবং তাদের সম্পত্তি দখল না নেওয়ার এবং পরিবারের কাউকে হেনস্থা না করারও নির্দেশ দিলেন। ১৬৫৫-র ১৮ ডিসেম্বর ফরমান দুটি আওরঙ্গজেবকে হস্তান্তর করলেন মহম্মদ শরিফ ইসাওয়াল। আওরঙ্গজেব কুতুব শাহকে চিঠি লিখে জানালেন উক্ত দিন থেকে মীর জুমলা এবং তাঁর পুত্র রাজকীয় সেবায় নিযুক্ত হয়েছেন, ফলে কুতুব শাহ হয় তাঁর পুত্রকে ছেড়ে দিন, না হয় যথোপযুক্ত অবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকুক। একই সঙ্গে আওরঙ্গজেব রাজস্ব বাকি পড়ার বাহানায় হায়দারাবাদ অভিযানেরও নির্দেশ দিলেন।

এই ঘটনায় দুই প্রধান পরিকল্পক, একজন দক্ষিণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মুঘল সুবাদার আওরঙ্গজেব অন্যজন বিশ্বাসঘাতকতার প্রেক্ষিতে প্রত্যাঘাত করতে চাওয়া গোলকুণ্ডার প্রাক্তন পারসিক উজির মীর জুমলা। দুজনে মিলে ব্যক্তিগত দূত মহম্মদ আরিফের মাধ্যমে মৌখিক আলাপ এবং গোপন চিঠি চাপাটি মার্ফত গোলকুণ্ডা দখলের পরিকল্পনা তৈরি করলেন। মীর জুমলার আন্তরিকতা এবং বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে আওরঙ্গজেব লিখলেন, ‘দুমুখোটি (কুতুব শাহ) উচিত শাস্তি পাবে… তাকে আমি যথাযথ সময়ে তোমার যথাযথ পরামর্শ নিয়ে সমূলে উচ্ছেদ করব’। মীর জুমলাকে বলা হল কুতুব শাহের সর-ই-লস্কর এবং অন্যান্য সেনাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভয় দেখাতে, কেননা যুদ্ধ হলে তাদের সঙ্গে জোট বাঁধতে হবে। মীর জুমলা যখন কর্ণাটক ছাড়বেন, তখন যেন তিনি রয়ালকে তাঁর পক্ষে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। ছোট করে আররঙ্গজেব লিখলেন, ‘যে কোন মূল্যে শত্রুর থেকে তোমার সব ক’টি পদক্ষেপ গোপন রাখ। বিভিন্ন অঞ্চলে যা সব সম্পদ ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে তা সংগ্রহ করতইন্মন দাও। তোমার যে কোন পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে ২/৩ মাস আগে থেকে আমায় সতর্ক কোরো এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে খুব বেশি দেরি কোর না।’ তিনি আরও লিখলেন, ‘আমি চাই লোকে দেখুক আমি তোমায় কতটা বিশ্বাস এবং পক্ষপাত করছি। প্রত্যেকটি মানুষ ঈর্ষায় জ্বলেপুড়ে মরুক।’ মীর জুমলা তাঁর পক্ষ থেকে আওরঙ্গজেবকে জানালেন তিনি যেন অবিলম্বে গোলকুণ্ডা আক্রমণ করেন, সেখানকার প্রধান অমাত্য বা দবীর তাঁর আত্মীয় এবং আক্রমণকারী সেনাকে দৈনিক ৫০,০০০ টাকা ভর্তুকি দিতে প্রস্তুত।

আক্রমণের যে পরিকল্পনা তৈরি হল

১) কুতুব শাহকে মীর জুমলার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, সে যদি অমান্য করে, ২) শাহজাদা মহম্মদ সুলতান হায়দ্রাবাদে গিয়ে বন্দীদের বল প্রয়োগ করে মুক্ত করবে, প্রয়োজনে মীর জুমলার জন্য সেখানে অপেক্ষা করবে, ৩) যদি আদিল শাহ, কুতুব শাহকে আমিনকে ছাড়ানোর বিরোধিতা করতে (সামরিক) সাহায্য করতে আসে তাহলে ব্যক্তিগতভাবে আওরঙ্গজেব সেখানে যাবেন, ৪) মীর জুমলা কর্ণাটকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁর সব বাকি কাজ শেষ করে ফেলবেন, তাঁর বিশ্বস্ত প্রশাসকেদের বাকি কাজের দায়িত্ব সম্পন্ন করার বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়ে তিনি গোলকুণ্ডার দিকে সাঁজোয়া সেনাসহ কাজ উদ্ধারে (আসল মকসদ), রাজ্য দখলে রওনা হবেন।

গোলকুণ্ডা দখলে মীর জুমলা এবং আওরঙ্গজেব শাঁড়াশি আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিলেন — মীর জুমলা আসবেন দক্ষিণ থেকে এবং আওরঙ্গজেব আক্রমন শানাবেন উত্তর থেকে। তিনি মীর জুমলাকে লিখলেন, ‘আমার মনে হয় রাজধানী ছিনিয়ে নেওয়ার এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।’ আওরঙ্গজেব পাদশাহকে লিখলেন, রণসাজে সুসজ্জিত হয়ে রণনিপুন পদাতিক, বিপুল হস্তি বাহিনী এবং সাঁজোয়া গোলান্দাজ সেনা নিয়ে মীর জুমলা যদি কর্ণাটক থেকে আক্রমণ করেন, সেটা বোধহয় হবে রাজ্য দখলের সোনালিতম সুযোগ হবে, এই কাণ্ড দ্বিতীয়বার আয়োজন করা সম্ভব নাও হতেও পারে। আর এই পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করছিল দুই বাহিনীর দু দিক থেকে মুহুর্মুহু দ্বিধাহীন আক্রমন করার ওপর, এবং সেই জন্য বার বার আওরঙ্গজেব মীর জুমলাকে বলেছেন যে, সময় এবং অবস্থার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে এবং কোন রকম দেরি ছাড়া এগিয়ে যেতে আর তাঁর সমস্ত পদক্ষেপ আওরঙ্গজেবকে জানাতে এমন কি কবে তিনি হায়দ্রাবাদের পৌঁছতে পারবেন তাও অগ্রিমভাবে জানাতে।

আক্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবে প্রযুক্ত করার দায় গিয়ে পড়ল আওরঙ্গজেবের ওপর। ১৬৫৫-র ২০ ডিসেম্বর তিনি, সমস্ত নীতি ও আনুগত্য বর্হিভূত হয়ে মহম্মদ আমিনকে গ্রেফতারের দায়ে দায়ি করে কুতুব শাহকে একটি হুঁশিয়ারি নিশান পাঠিয়ে মীর জুমলার পুত্র এবং তাঁর পরিবারকে মুক্তি দেওয়ার, বাজেয়াপ্ত সম্পদ তাঁর দূত মীর আবদুল কাশেম (সাজোঁয়া বাহিনীর পরিদর্শক) এবং নিশান বাহক সঈদ আলির হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সাবধান করে বললেন, আদেশ আমান্য করলে শাহজাদা মহম্মদ সুলতান গোলকুণ্ডা আক্রমন করতে বাধ্য হবেন। কুতুব শাহ, আদিল শাহের সঙ্গে চুক্তির বলে মদ্যপান জনিত মতিভ্রমের কারণে এবং প্রবল আত্মঅভিমানে সম্রাটের ৩ ডিসেম্বরের ফরমান এবং আওরঙ্গজেবের ২০ ডিসেম্বরের নিশান অগ্রাহ্য করলেন। এছাড়াও তিনি নিজের দুর্বুদ্ধিতায় হায়দারাবাদ এবং ইন্দৌরের সীমান্তে গন্ডগোল লাগিয়ে দিলেন। আওরঙ্গজেব ২৬ ডিসেম্বর মহম্মদ সুলতানকে পাঠালেন গোলকুণ্ডার অভিযানে। একই সঙ্গে তিনি তেলেঙ্গানার উপপ্রশাসক হাদিদাদ খাঁকে নান্দেরে ১০,০০০ পদাতিক নিয়ে তাঁর সঙ্গে জমায়েত হতে নির্দেশ দিলেন। মীর ফজলুল্লার সন্তান আসাদুল্লাকে চান্দার জমিদারের উদ্দেশ্যে ৫০০ ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে তাঁর সঙ্গে সীমান্তে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মীর জুমলা যদি সেই পথে আসেন তাহলে তাকে এসকর্ট করে রাজধানীতে নিয়ে যেতে বললেন। আদিল শাহ যদি গন্ডগোল না করেন, আওরঙ্গজেবের অঙ্ক হল গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটা খুব সহজেই মিটিয়ে নেবেন। চর মুখে খবর পাওয়া গেল আদিল শাহ, কুতুব শাহকে সাহায্য করার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন, ফলে আওরঙ্গজেব সম্রাটের কাছ থেকে নির্দেশ চাইলেন যাতে তিনি তাঁর গোলকুণ্ডা অভিযানের পরিকল্পনা অবিলম্বে মঞ্জুর করেন। তার অভিযোগ কুতুব শাহ সম্রাটের নির্দেশ হাতে পাওয়া সত্ত্বেও শাহী প্রশাসনে নিযুক্ত হওয়া মীর জুমলাপুত্র আমিনকে মুক্তি দেয় নি।

এ দিকে মহম্মদ আমিনের গ্রেফতারির খবর পেয়ে শাহজাহান কুতুব শাহকে একটি জরুরি চিঠি লিখে মহম্মদ আমিনকে ২/৩ দিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। ২৯ ডিসেম্বর সম্রাট আওরঙ্গজেবকে জানান তাঁর বিশ্বাস কুতুব শাহ আমিনকে ছেড়ে দেবেন, তবুও তিনি তার পুত্রকে সতর্ক করে বলেন সব ধরণের সিদ্ধান্তের পথ খোলা রাখতে। আওরঙ্গজেবকে শান্ত করতে তিনি বলেন যদি দেখা যায় গোলকুণ্ডা তাঁর নির্দেশ অমান্য করছে তাহলেই কেবল মাত্র তিনি যেন আক্রমণের পথ ধরেন। এদিকে কুতুব শাহ মীর জুমলাকে যে কোন মূল্যে গ্রেফতার করতে চাইলেন। মালওয়ার প্রশাসক শায়েস্তা খাঁকে তাঁর মনসবদারদের নিয়ে আওরঙ্গজেবের সঙ্গে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল। দুটো চিঠিই আওরঙ্গজেবের হাতে পৌঁছল ৭ জানুয়ারি, ১৬৫৬। ‘তিনি তুলির আঁচড়ের মত করে গোলকুণ্ডা ধ্বংস করতে উদ্যোগী হলেন। শাহজাহানের ২৪ তারিখের বন্দী মুক্তির চিঠি কুতুব শাহের হাতে পড়ার জন্য অপেক্ষা না করেই ৩ ডিসেম্বরের সম্রাটের চিঠি অমান্য করায় শাহেনশাহের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করে তাঁর আর গোলকুণ্ডা আক্রমণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই বলে কুতুব শাকে জানালেন’। মীর জুমলাকে বললেন, সুলতান যদি নিজের হাতে বন্দীদের মুক্ত না করেন, আওরঙ্গজেব নিজে গিয়ে বন্দীদের মুক্ত করানো ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা খোলা থাকবে না। তিনি নিজের অভিযান স্থগিত করে তাঁর পুত্রকে নির্দেশ দিলেন হায়দারাবাদের দিকে কুচ করার, এবং যদি বন্দীরা তখনও কারাগারে থাকেন তাহলে তাদের অবিলম্বে মুক্ত করার।

৬। মীর জুমলার পুত্র আর সম্পত্তির মুক্তি

৭ জানুয়ারি নান্দেরে শাহজাদা মহম্মদের সসৈন্যে উপস্থিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া সত্ত্বেও মহম্মদ আমীনকে মুক্তি দেননি গোলকুণ্ডা রাষ্ট্র প্রধান। ২৪ তারিখের সম্রাটের কঠোর শব্দে লেখা ফরমান এবং শাহজাদার হায়দারাবাদের দুই স্তর আগে পৌছোনোর সংবাদে গোলকুণ্ডার সুলতান ‘হঠাতই যেন ঘুমের ঘোর থেকে জেগে উঠলেন’। মহম্মদ আমীনকে এবং তাঁর পরিবারকে গোলকুণ্ডার মুঘল হাজিব, আবদুল লতিফ এবং আওরঙ্গজেবের দূত আবদুল কাশেম আর সঈদ আলির সামনে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে নিয়াজ বেগ আর আজিজ বেগ মার্ফত মুক্তিদানের দেরির জন্য সম্রাটকে কৈফিয়ত দিয়ে পাঠালেন। ২১ জানুয়ারি, হায়দারাবাদ থেকে ২১ ক্রোস দূরে মহম্মদ আমিন তাঁর ‘সাহায্যকারী’ শাহজাদার সঙ্গে দেখা করলেন, তিনি আমীনকে বললেন উপযুক্ত স্থানে যেন তিনি মীর জুমলার আসা অবদি অপেক্ষা করেন। যেহেতু কুতুব শাহ, মীর জুমলা পরিবারের দখল নেওয়া সম্পত্তি তখনও মীর জুমলার পুত্রের কাছে হস্তান্তর করেন নি, সেই অজুহাত দেখিয়ে শাহজাদা সেনা নিয়ে হায়দারাবাদের দিকে এগিয়ে চললেন। ২২ জানুয়ারি সেনা এগোনোর সংবাদে সুলতান তড়িঘড়ি নিরাপদ আশ্রয় নিলেন মহম্মদনগরের (গোলকুণ্ডার) প্রাসাদে। হায়দ্রাবাদের ৫ মাইল দূরে হুসেন শাহ হ্রদের পাশে উপস্থিত হয়ে শাহজাদা পরিখা খোঁড়ার এবং গোলকুণ্ডা দুর্গের সামনে মাইন পোঁতার নির্দেশ দিলেন। যদিও সেনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শহরের সাধারণ মানুষের ক্ষতি না করার, কিন্তু ২৪ তারিখে হায়দ্রাবাদ জুড়ে লুঠতরাজ চলল। বিজাপুরি সেনাপতি আফজল খাঁ হায়দ্রাবাদের ৪০ মাইল জুড়ে সেনা মোতায়েন করেছিলেন, তাই এর বেশি দেরি করা বিপজ্জনক হবে চিন্তা করে নান্দেদ থেকে অভিযান শুরু করে ১৮ জানুয়ারি গোলকুণ্ডায় পৌছলেন আওরঙ্গজেব। তিনিমীর জুমলার আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন । মতলব হল যদি সম্রাট শাহজাহান অনুমতি দেন তাহলে গোলকুণ্ডা দখল করবেন, না হলে মীর জুমলার দখল করা সম্পত্তি এখন যেটি গোলকুণ্ডা রাষ্ট্রের দখলে সেটি উদ্ধার করবেন এবং পরিশোধ না করা পেশকাশও উদ্ধার করবেন। প্রয়োজনে কুতুব শাহের থেকে দামি উপহারও বাগাবেন। হতবুদ্ধি, কিংকর্তব্যবিমূঢতায় ভোগা কুতুব শাহ এখন আওরঙ্গজেবকে যে কোন প্রকারে শান্ত করতে তীব্র উতসুক হয়ে মীর ফরাসের তত্ত্বাবধানে সোনায় মোড়া হাতি, ঘোড়া, চারটি পুঁটলি হিরে-জহরত-সহ গয়না পাঠালেন, এবং তাঁর মায়ের সঙ্গেও দেখা করার অনুরোধ জানালেন। কিন্তু আওরঙ্গজেব সেই পাঠানো প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন। সুলতান, তার মধ্যস্থ [উকিল] মোল্লা আব্বাস সাইহানকে দিয়ে তাড়াতাড়ি দিল্লির দরবারে দারা এবং জাহানারা মার্ফত শাহজাহানের কাছে রাহতের আবেদন করলেন। আওরঙ্গজেবের ধারণা হল সম্রাট তাঁর আবেদন মেনে নেবেন এবং প্রকারন্তরে সুলতানকে কর্ণাটক দখল করার অনুমতিও দেবেন। তিনি জানেন এই বিস্তৃত, সম্পদশালী, চোখে দেখা যায় না এমন সম্পদে ভরপুর, প্রচুর সুরক্ষিত দূর্গ এবং ধনী অধ্যুষিত অঞ্চলটি মীর জুমলা স্থানীয় জমিদারদের থেকে জয় করেছিলেন — এখন এই বিশাল সম্পদশালী এলাকা এই যুদ্ধের ফলে মুঘল তাঁবেতে আসা কেবল সময়ের অপেক্ষামাত্র। কিন্তু তাঁর আশংকা হল সম্রাট যদি কোন কারণে [অর্থাৎ দারার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে — অনুবাদক] সুলতানকে মাফ করে দেন, যেটা করার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তাহলে আওরঙ্গজেবের পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। মীর জুমলার বাহিনী নিয়ে আসা এবং মুঘল বাহিনীতে যোগ দেওয়ার গুরুত্বটাই হারিয়ে যাবে। তাঁর আশংকা হল, এই সাজিয়েগুজিয়ে তোলা ঘটনাপ্রবাহটি [সম্রাটের অবিমৃষ্যকারিতায়] হাতের বাইরে চলে যেতে পারে, যদি দরবারে দারা খামোখা যুদ্ধবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি পাদশাহের কাছে জরুরি প্রার্থনা পেশ করে জানালেন, যতক্ষণনা মীর জুমলার সন্তান পৌঁছচ্ছে, ততক্ষণ যেন পাদশাহ কুতুব শাহের কোন প্রার্থনারই উত্তর না দেন, বিশেষ করে কুতুব শাহের দূত রাজধানীতে পৌছনোর আগেই মীর জুমলা হায়দ্রাবাদের পৌঁছে যাবেন।

হায়দ্রাবাদের লুঠতরাজের সময় মীর জুমলার পুত্রকে শাহজাদা মহম্মদ সুলতান দায়িত্ব দিয়েছিলেন, কুতুব শাহের সম্পত্তি এবং আসবাবপত্র রক্ষার। কুতুব শাহের দূত হাকিম নিজামুদ্দিন আহমদকে মুঘল শিবিরের নজরদারিতে রাখা হল, এই অভিযোগে যে সুলতান মীর জুমলার সম্পত্তি হস্তান্তর করতে দেরি করেছেন। শেষ পর্যন্ত ২৯ জানুয়ারি ১৬৫৬ কুতুব শাহ মীর জুমলার ১১টি হাতি, ৬০টা ঘোড়া এবং অন্যান্য জব্দ করা সম্পত্তি মহম্মদ সুলতানের নজরদারিতে ফিরিয়ে দিলেন। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev