৯। এই পর্বে মীর জুমলার ভূমিকা
দিল্লির শাহী দরবারে তলব করে পাঠানোর পর্বকে সামলানো মীর জুমলার কূটনৈতিক জীবনের সব থেকে বড় পরীক্ষা ছিল। দিল্লির ডাক তার ক্ষেত্রে হয়ে উঠল দায়িত্ব পালন বনাম স্বার্থ রক্ষা চিরকালীন দ্বন্দ্ব। আরও গভীরভাবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বললে বন্ধু দক্ষিণের সুবাদার শাহজাদা আওরঙ্গজেব, হিন্দুস্তানের শাহেনশাহ শাহজাহানের মধ্যে যে কোন কাউকে বেছে নেওয়ার পালা এল। তিনি বুঝলেন দুনৌকায় পা দিয়ে এগোনো যাবে না। সমস্যা জটিল হল এইভাবে যে, তার তার জোট বন্ধু, তার প্রতিদ্বন্দ্বী (দারা), তাঁর চাকরিদাতা সম্রাটকে করায়ত্ত্ব করে রেখেছেন। এটা পরিষ্কার যে মীর জুমলার আনুগত্য এক দিকে ছিল তার চাকুরিদাতা সম্রাটের প্রতি, অন্য দিকে দক্ষিণের সুবাদারের প্রতি, আর ছিল তার পরিবারের নিরাপত্তার প্রতি। কোনও সম্পর্ক সমঝোতা করে বাঁচিয়ে রাখার নয়। আনুগত্য তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তিনি জানেন এই সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব নয়। আওরঙ্গজেবের বন্ধু-জোট পক্ষ হিসেবে মীর জুমলা দরবারে যেতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছুক ছিল না। আইনত মীর জুমলা তখনও সাম্রাজ্যের উচ্চতম প্রশাসনিক আধিকারিক। সম্ভাব্য যুক্তিপূর্ণ কারণ খাড়া না করলে তার পক্ষে দরবারের ডাকে দিল্লি না যাওয়াও সম্ভব নয়। দরবারে যোগ দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করার অর্থ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করা। এর ফলে দারার রোষে পড়বে দিল্লিতে বাস করা তার পরিবার। তার সামনে সমস্যা দেখা দিল পথ খোঁজার। সাম্রাজ্য আনুগত্য বজায় রেখে কী করে মীর জুমলা বন্ধুর সম্মান বজায় রাখতে পারবে আর তার পরিবারকেও সুরক্ষা দিতে পারবে — সেই পথ নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়ল।
কূটনীতির দক্ষতা মীর জুমলাকে এই মানসিক-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিল। মীর জুমলা ছাড়া এই ধরণের সমাধান অন্য কারোর পক্ষে করা সম্ভব ছিল কী না বলা মুশকিল। ১৬৫৮র ১ জানুয়ারি মীর জুমলা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, সম্রাটের নির্দেশনামা অনুসরণ করে তিনি আগ্রায় [না দিল্লি?] যাচ্ছেন। আওরঙ্গজেবের আগ্রাসী পরিকল্পনায় যেন ভীত হয়ে তিনি বললেন, ‘আমার পক্ষে দক্ষিণের সুবাদারের সঙ্গে দেখা করা অসম্ভব। সম্রাট আমায় আদেশ দিয়েছেন দরবারে উপস্থিত হওয়ার। তাঁর সেই অমোঘ নির্দেশ মান্য করা ছাড়া আমার সামনে অন্য কোন উপায় খোলা নেই’। আওরঙ্গজেব মহম্মদ সুলতানকে মীর জুমলার সঙ্গে থাকতে বলে বললেন, ‘আকাশে ওড়া সম্পদশালী বাজকে আমার কাছে ধরে নিয়ে এস’। তিনি শাহজাদা মার্ফত মীর জুমলাকে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়ে বললেন, তার প্রতি কোন রকম অবিশ্বাস না পোষণ করতে, তিনি তাকে আজও তার শুভচিন্তকই ভাবেন। আগ্রা যাওয়ার আগে তিনি যেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করতে তার সঙ্গে দেখা করেন। আওরঙ্গজেব মীর জুমলা মার্ফত সম্রাটকে একটা মৌখিক বার্তা পাঠাতে চান। শাহজাদা সুলতান মহম্মদ তথাকথিত শান্তিবার্তাটি মীর জুমলার কাছে পৌঁছে দিয়ে তাকে প্ররোচিত করলেন সুবাদারের সঙ্গে দেখা করতে। যেই মুহূর্তে মীর জুমলা আলোচনার জন্য আওরঙ্গজেবের খাস কামরায় (খিলাতগা) প্রবেশ করলেন, তাকে গ্রেফতার করা হল।
আলমগীরনামা সূত্রে জানতে পারছি, আওরঙ্গজেব রাজনৈতিক কারণে মীর জুমলাকে গ্রেফতার করেন। আলমগীরনামা বলছে, আওরঙ্গজেবের বিশ্বাস ছিল, মীর জুমলা যদি দরবারে যোগ দেন তা হলে তার সিংহাসন দখল এবং তৎসংক্রান্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্যম্ভাবী প্রশ্ন উঠবে। অন্যদিকে আওরঙ্গনামা, বলছে তিনি প্রথমে মীর জুমলাকে দারার বিরুদ্ধ-দল, তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মীর জুমলা বলেন আওরঙ্গজেবের পক্ষে তিনি যদি প্রকাশ্যে যোগ সেন, দিল্লিতে তার পরিবারের অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে তাকে গ্রেফতার করে তার সমস্ত সম্পত্তি, গোলাবারুদ সেনা বাহিনী যা কিছু রয়েছে সব দখল নিয়ে মুরাদের সহায়তায় দারার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার বিকল্প প্রস্তাব দিলেন মীর জুমলা। এই রাস্তায় আওরঙ্গজেবের আগ্রাসী মনোভাব এবং মীর জুমলার পরিবার রক্ষার মত দুকুলই বজায় থাকবে। আওরঙ্গজেব একজন সঈদকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্তে কিছুটা ইতস্তত করছিলেন বটে, কিন্তু মীর জুমলা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন তিনি স্বইচ্ছেতেই গ্রেফতার হচ্ছেন, এখানে আওরঙ্গজেবের কোন পাপ হবে না। এর পরেই তাঁকে সরকারিভাবে প্রকাশ্যে আওরঙ্গজেবের বাহিনী গ্রেফতার করে।
যতদূর সম্ভব অনেক আগে থেকেই এই গ্রেফতারির নাটকের খসড়া তৈরি করা হচ্ছিল। মুঘল রাজনীতিকে গুলে খাওয়া মীর জুমলা স্পষ্ট জানতেন তাকে দরবারে ডেকে পাঠানো সময়ের অপেক্ষামাত্র। তার প্রতি দারার প্রতিকূল মনোভাব আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন দিল্লিস্থ-পুত্র, তিনিও জানতেন না নয় — দক্ষিণে যাওয়ার আগে বেশ কয়েকবার দারার চাল তিনি নাকচ করেছেন সম্রাটকে প্রভাবিত করে। মীর জুমলার সঙ্গে আওরঙ্গজেবের পত্র বিনিময় এবং ডিসেম্বরে বীরএ আওরঙ্গজেবের সচিবের সঙ্গে তার তিনটে বৈঠক (১৬৫৭-র ডিসেম্বর) প্রমান করে দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বহু আগে থেকেই দারার পরিকল্পনা আঁচ করে সেই চাল বানচাল করতে ভেতরে ভেতরে পরিকল্পনা সাঁটছিলেন। মীর জুমলার উদ্দেশ্যে আসা কাবিল খানের দৌত্য আমরা দেখলাম, দু-পক্ষের গোপন আলোচনার বিষয় সচিব মহোদয় এতই গোপনীয়তায় মুড়ে রেখেছিলেন যে পাঠকের বুঝতে কষ্ট হয় না দুজনের মধ্যে এমন কিছু চরম গোপনীয় বিষয় আলোচনায় এসেছে, তা সেই মুহূর্তে সাদায়-কালোয় নথিবদ্ধ করা খতরনাক হত। যে মুঘল সাম্রাজ্যকে হাইডেন বেলেনয় কাগজের সাম্রাজ্য আখ্যা দিচ্ছেন, সেই মুঘল সম্রাজ্যের দুই উচ্চপদস্থ কর্মচারীর বৈঠকের সারাংশ কোনও মুনসিই লিপিবদ্ধ করেন নি — এটা আশ্চর্যের এবং ব্যতিক্রমী ঘটনা। সেই আলোচনার সারৎসার তিনি আওরঙ্গজেবকে মৌখিকভাবে জানান। পরিষ্কার যে মীর জুমলাকে আওরঙ্গজেব গ্রেফতার করেছিলেন আসামী মীর জুমলার সুপারিশেই, দুই পক্ষের স্বার্থ সিদ্ধির প্ররোচনায়। হয়ত গ্রেফতারির সময় বা স্থান নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু ঘটনাটা নিয়ে বিতর্কের কোনও সুযোগ নেই। দারার আশংকা ছিল পারস্পরিক স্বার্থবদ্ধ দুজনেই যৌথভাবে (বর সাজিশ ও ইত্তিফাক) এরকম কিছু একটা ঘটাবেন। তিনি এই ঘটনাটা সম্রাটকে জানিয়ে প্রতি পরিকল্পনায় মীর জুমলার পুত্র মহম্মদ আমিন খান বক্সীকে কোন একটা তুচ্ছ কিছু দায়িত্ব যথাযথভাবে না পালন করার ঝুটা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করার, সম্রাটের থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের বাড়িতে নজরবন্দী করে রাখেন। সম্রাট শাহজাহান মীর জুমলা পুত্রকে নির্দোষ জেনে তিন চার দিন বাদে তাকে মুক্ত করার আদেশ দেন। মীর জুমলার মাধ্যমে ভাইকে নিয়ন্ত্রণের এই চালটাও ব্যর্থ হল।
আমরা আজ পরিষ্কার বলতে পারি মীর জুমলার কূটনীতিক চাল এক্ষেত্রে অসাধারণ সফল হয়েছিল। তিনি গোটা ব্যাপারটা এমনই চতুরতায় ঘটিয়েছিলেন যে শাহজাহানের মনে হয়েছিল যে মীর জুমলার প্রতি আওরঙ্গজেব শুদ্ধ অবিচার করলেন। অপাপবিদ্ধ, সাম্রাজ্যের কাজে কর্তব্যপরায়ণ দুই সৈয়দীর (অন্যজন তাঁর শ্বশুর শাহ নওয়াজ খান — অনুবাদক) হয়ে শাহজাহান আওরঙ্গজেবকে একটি চিঠি লেখেন — ‘সে সম্রাটের নির্দেশেই দিল্লি যাচ্ছিল। কর্তব্যবোধে অবিচল মানুষটির অনৈতিকভাবে গ্রেফতারির এবং তাদের সম্পত্তি দখল নেওয়ার বিরুদ্ধে সম্রাট সোচ্চার হলেন। তিনি আওরঙ্গজেবকে অবিলম্বে দুই সৈয়দকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
১০। মীর জুমলার মুক্তি
সাম্রাজ্যের প্রতিবাদপত্র হাতে পাওয়ার আগেই আওরঙ্গজেব সম্রাটকে জানিয়ে দেন, উজিরের চালচলনে তার ধারণা হয়েছিল মীর জুমলা ভেতরে ভেতরে দক্ষিণী সেনানায়কদের সঙ্গে সাঁট করে সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ঘোঁট পাকাচ্ছেন। সাম্রাজ্যকে অনাবশ্যক ঝামেলা থেকে বাঁচাতে তিনি মীর জুমলাকে বাধ্য হয়ে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; না হলে মীর জুমলা বাগী দক্ষিণী সেনানায়কদের দলে যোগ দিতেন। স্তরে স্তরে যে যুক্তি সাজিয়ে চিঠিতে আওরঙ্গজেব গ্রেফতারির পক্ষে যে সাফাই গেয়েছেন, সেই ধারণাটি সে সময়ের দক্ষিণের জনগণের মুখে মুখে বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়াত। ২৬ জানুয়ারি ১৬৫৮-তে জনৈক ব্রিটিশ কুঠিয়াল মন্তব্য করেছিলেন যে নবাব, গোলকুণ্ডার রাজার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দিল্লির সিংহাসন দখল করার চেষ্টা করছিলেন। সেই জন্য তাকে গ্রেফতার করা হল।
দারার হারের পর যখন ‘মুঘল সাম্রাজ্য আর ধর্মের সংস্থাপন ঘটল’, সরকারি ঐতিহাসিক লিখছেন, তখন আর মীর জুমলাকে গ্রেফতার করে রাখা জরুরি ছিল না। বরং সুজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করলেন আওরঙ্গজেব। তিনি মীর জুমলাকে আপোষে তৈরি করা গ্রেফতারি থেকে মুক্তি দিলেন। এই উপলক্ষ্যে মুনসি কাবিল খানকে লিখিত কৈফিয়ত প্রকাশ করার দায়িত্ব দেওয়া হল। সেই বয়ান সূত্রে দেখি আওরঙ্গজেব লিখছেন, ‘কোন এক নির্দিষ্ট কারণে আমি তোমায় গ্রেফতার করেছিলাম, …ত্রুটি স্বীকারের সময় এসেছে, তবে তোমার মত বন্ধু, শুভচিন্তকের আমার দরবারে উপস্থিত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল’। অন্য একটি চিঠিতে আওরঙ্গজেব লিখলেন ‘বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তোমায় গ্রেফতার করি নি… তোমার চেহারায় বিপুল শ্রান্তি ফুটে উঠছিল …অথচ তুমি [সেই অবস্থাতেই] দরবারে যেতে বদ্ধ পরিকর ছিলে। ভুল সময় দিল্লি যাওয়া তোমার [স্বাস্থ্য আর রাজনীতির] পক্ষে ক্ষতিকর হত। আমি সেটা হতে দিই নি। আমি তোমায় বোঝাতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তুমি বুঝতে চাওনি। ফলে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে, বাধ্য হয়েই তোমায় গ্রেফতার করতে হয়েছিল। সর্বশক্তিমানের ইচ্ছেয় আমার চাওয়া পূর্ণ হয়েছে, নতুন রাজধানী এবং ধর্মের বাগানে নতুন জীবন যাপন কর। আমার শত্রুরা আজ পরাস্ত হয়েছে। তোমাকে এর বেশি সময় বন্দীরাখা অমানবিক কাজ হবে। আমি চাইনা তোমার মত বুদ্ধিমান মানুষ বেকার জীবনযাপন করুক’। আমরা এখন জানি এই প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা দুটি মানুষের চক্রান্তের ওপর রঙ্গিন পর্দা ফেলার তাগিদ ছাড়া আর কিছু নয় [আমার, আওরঙ্গজেবের এই কৈফিয়ত দিয়ে মীর জুমলাকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া নয় বরং তার জন্য কৈফিয়ত দেওয়ার চেষ্টাকে আজ ইন্টারেস্টিং বলে মনে হয়। আওরঙ্গজেব যখন এই কৈফিয়ত দিচ্ছেন, তখন তিনি মোটামুটি মুঘল রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন — সিংহাসন নিয়ে যুদ্ধ শেষ হতে অনেক বাকি। তখন তার প্রয়োজন ছিল না ট্যাকটিক্যালি বিপক্ষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্যে দুজনে সমঝোতা করে যে গ্রেফতার কাণ্ডটি ঘটয়েছেন, তার পক্ষে সাফাই গাওয়ার। এর আগেও সময়ে মুঘল একচ্ছত্র অধিপতিরাও জনগণের কাছে এই ধরণের সাফাই গেয়ে নিজেদের সাম্রাজ্য পরিচালনার বৈধতা স্বীকৃতি নিতেন। মুঘল সাম্রাজ্য, বার বার তার আপাত দুষ্কৃতকর্মের জন্যে সাফাই গেয়ে বৈধতা চেয়েছে। ঠিক যে জন্যে ১৭৩৯এ নাদির শাহ মুঘল সাম্রাজ্যের সম্মান ধুয়ে মুছে দিলেও, ১৮৫৭-য় স্বাধীনতাকামীরা এক ন্যালাখ্যাপা মুঘল সম্রাটকে সামনে রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। মুঘল সাম্রাজ্যের এই সম্মানটুকু প্রাপ্য। — অনুবাদক]। মহম্মদ মুয়াজ্জম হাত দিয়ে ফরমান তৈরি করে দৌলতাবাদের কারাগারে বন্দী মীর জুমলাকে মুক্ত করার নির্দেশ দিলেন আওরঙ্গজেব। একই সঙ্গে বুরহানপুরে যত সম্পদ পড়ে রয়েছে সেগুলি তাকে ফিরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিলেন তিনি। নতুন করে প্রশাসনিক কাজ শুরু করার জন্যে জন্য একলাখ টাকা নগদ দেওয়া হল। মহম্মদ মুয়াজ্জমকে নির্দেশ দেওয়া হল বর্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দৌলতাবাদের মহাকোট দুর্গের প্রাকারের নিচের প্রাসাদে তার থাকার ব্যবস্থা করতে।
মীর জুমলাকে ২৯ মে ১৬৫৮ তারিখে তার পুত্রের আসার খবর দেওয়া হল। আওরঙ্গজেব মীর জুমলাকে বললেন, তার প্রতি যে অনুগ্রহ দেখানো হয়েছে সে জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে। আগামী দিনে আরও বড় উপহারের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে তিনি তার সরঞ্জাম সামলানোর জন্য আরও নগদ পঞ্চাশহাজার টাকা দিয়ে মহাকোট থেকে দরবারে আসার নির্দেশ দিলেন। এই কাজ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হল শাহজাদা মহম্মদ মুয়াজ্জমকে এবং মীর জুমলাকে দ্রুত আওরঙ্গজেবের সঙ্গে দেখা করতে বলা হল।
দিল্লিতে ডাক পড়লেও ব্যক্তিগতভাবে মীর জুমলা কর্ণাটকে গিয়ে কুতুব শাহের নিয়ন্ত্রণ থেকে তার জয় করা কেল্লা আর মহালগুলি উদ্ধারের কথা ভাবছিলেন। তার পুত্রের থেকে মীর জুমলার ইচ্ছের কথা জানতে পেরে আওরঙ্গজেব বললেন, যদি মীর জুমলা বেশ কিছুদিন সেখানে না থাকেন তাহলে সে কাজ তার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তিনি স্বয়ং কুতুবশাহকে সেখান থেকে তার সেনা তুলে নিতে নির্দেশ দিলেন। ১৬৫৮এ অক্টোবরের শেষের দিকে মীর জুমলাকে বুরহানপুরের ৬০০০ জাট ৬০০০ সওয়ারের সুবাদার নিযুক্ত করা হল। আওরঙ্গাবাদে বদলি হয়ে যাওয়া ওয়াজির খানের খণ্ডেশের মহাল তাঁর জায়গির হিসেবে অর্পণ করা হল। মীর জুমলাকে বলা হল কর্ণাটক, বুরহানপুর এবং অন্যান্য যায়গার সঙ্গে তার হিসাব কিতাব বুঝে নিতে, বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তার জাহাজ এবং অন্যান্য কিছু সামলাতে, বুরহানপুর এবং কর্ণাটকের মধ্যে ডাকচৌকি নতুন করে স্থাপন করতে, স্থানীয় জমিদার এবং আধিকারিকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করতে, সেনাবাহিনী গড়া এবং সেটি জোরদার করতে আর সব কিছু বিষয়ে তার নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে।
পঞ্চম খণ্ড
ইওরোপিয়দের সঙ্গে মীর জুমলার সম্পর্ক (১৬৫৬-৫৮) (১)
১। উজির মীর জুমলার প্রভাব
মুঘল সাম্রাজ্যের কর্ম নিযুক্তির সঙ্গে কর্ণাটককে মীর জুমলার ব্যক্তিগত জায়গির হিসেবে দেওয়া হল। মীর জুমলার বিপুল ভূখণ্ড কর্ণাটককে জায়গির হিসেবে প্রাপ্তি, তাঁর সঙ্গে ব্রিটিশ কুঠিয়ালদের সম্পর্ক নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। পদ পাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন সাধারণ মাঝারিগোছের এজ আমলা, যিনি ব্রিটিশদের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কিছুটা রাজনৈতিক সুসম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের পরিবেশ বজায় রাখতেন। এই সম্পর্ক রাখার জন্যে তিনি রাখঢাক করার প্রয়োজন মনে করেন নি। এখন তিনি যখন উজির এবং মুঘল ভূখণ্ডের জায়গিরদার, তার পক্ষে থেকে ব্রিটিশদের সঙ্গে সেই সুসম্পর্ক রাখার বাধ্যবাধকতা রইল না। তবে দক্ষিণ থেকে তার বিদায়, রাজনৈতিক ভারসাম্যের অস্থিরতার ধরাণাটির ব্যপ্তি ঘটা, কর্মচারীদের ওপর আঞ্চলিক এবং ব্যবসায়িক কাজকর্মের রেশ ছেড়ে যাওয়া, সেনাবাহিনীর পরিমান কমা, আবার আমলা হিসেবে ফিরে আসার সম্ভাবনা এবং কর্ণাটকের ওপর তার নিয়ন্ত্রণে জোরদার প্রশ্নচিহ্ন জুড়ে যাওয়ার ঘটনায় তার সঙ্গে (এবং তার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও) মাদ্রাজের ব্রিটিশ কুঠিয়ালদের মধ্যে সম্পর্কের জোর অবনতি হয় এবং তার ফলে মাদ্রাজের কুঠিয়ালদের ব্যক্তিগত ব্যবসার পরিমান আগের তুলনায় যথেষ্ট বেড়ে যায়।
২। সেন্ট জর্জের কুঠিয়ালেরা মীর জুমলার প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ আনল
দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পিছনে দায়ি সেন্ট জর্জের কুঠিয়ালদের অভিযোগ। ব্রিটিশদের ফরিয়াদ ছিল সৈয়দ ইব্রাহিম আলির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে মীর জুমলার আধিকারিকেরা ব্রিটিশদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে এবং তাদের ব্যবসা করতে বাধা দিচ্ছে। পুনামাল্লির প্রশাসক বালা রাউর সময়ে ব্রিটিশদের সঙ্গে এই বিরোধ চরমে ওঠে।
ব্রিটিশ কুঠির তথ্য সূত্রে আমরা জানতে পারছি, মীর জুমলার আধিকারিক বালা রাউ দুর্গের অধিকার নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে ব্রিটিশদের হুমকি দিচ্ছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল কুঠিয়ালদের সঙ্গে মাদ্রাজ প্রশাসনের সম্পর্ক যাতে বিগড়ে যায় সেটা দেখা এবং তাতে উৎসাহ দেওয়া। তিনি মাদ্রাজ এবং তার পুনামাল্লির প্রশাসনের জমিতে চাষ হওয়া গম ব্রিটিশদের কিনতে বাধ্য করেন। কোম্পানি মধ্যস্থ গ্রিনহিল মাদ্রাজের সঙ্গে পুনামাল্লিকে জুড়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানালে, বালা রাউ তখন মাদ্রাজ প্রশাসনের ভার এক কর্মচারীকে দিয়ে বলে যান যে, দুর্গে থাকা ব্রিটিশদের সঙ্গে যাতে মাদ্রাজ প্রশাসনের দূরত্ব বাড়ে সেইভাবে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। মীর জুমলার মন ব্রিটিশদের প্রতি বিগড়ে দেওয়ার জন্যে তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে প্রায়শই অভিযোগ করতেন। এছাড়াও কোম্পানির দৈনন্দিনের ব্যবসায়ও নানানভাবে মাথা গলাতেন। পুনামাল্লির দপ্তরকে ব্যবহার করে বালা রাউ মাদ্রাজের উৎপাদন-বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করতেন যাতে ব্রিটিশরা খাদ্যের অভাব বোধ করে মীর জুমলার প্রতি অবনমিত হয়।
৩। মাদ্রাজের কুঠিয়ালদের সঙ্গে সম্পর্ক
ব্রিটিশ কুঠিয়ালেরা মীর জুমলা এবং মীর সৈয়দ আলির দপ্তরে অভিযোগ করেন, কর্ণাটকের প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা বৃথা। তাদের আরও অভিযোগ বালা রাউ ব্রিটিশদের অপমান করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না। বালা, মীর জুমলার এলাকার এবং এলাকার বাইরে থেকে ব্রিটিশ আধিকারিকদের কেনা ধান সম্পূর্ণভাবে দখল এবং তিরুভানাভাসিতে ব্রিটিশদের কেনা কাঁসার পণ্য (পেগুর ভাষায় গানজা) ওয়ারঙ্গলে নিয়ে যেতে বাধা দেন, যদিও তাদের কাছে মীর জুমলার দেওয়া ছাড়পত্র ছিল। এর ফলে ব্রিটিশদের প্রভূত ক্ষতি হয়। ক্ষতিপূরণে আর সম্মান উদ্ধারে সেন্ট জর্জের প্রধান কুঠিয়ালদের প্রধান গ্রিনহিল প্রত্যাঘাতের চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। তারা আগস্ট ১৬৫৬-য় নবাবের লোহিত সমুদ্রের (মোকা) দিকে যাওয়া জাহাজ এবং তার ৪টি কামান দখল নেয়। ব্রিটিশদের এই সুযোগটা এনে দেয় কর্ণাটকের হিন্দু বিদ্রোহ।
ব্রিটিশেরা জাহাজ দখল করে প্রশাসনের সামনে হুঁশিয়ারি ছুঁড়ে দেওয়ায় মীরের প্রশাসনের সঙ্গে ব্রিটিশদের স্থায়ী সংঘাত লেগে গেল। তার প্রভাব এসে পড়ল প্রাথমিকভাবে পূর্ব উপকূলজুড়ে এবং বাংলাতেও। তাদের ধারণা হয়েছিল, অলিখিত, প্রায় বেআইনি গায়ের জোয়ারি এই কাজের প্রেক্ষিতে মীর জুমলা ব্রিটিশদের স্বার্থবাহী একটা সমঝোতা সূত্র উপনীত করবেন। কিন্তু তাদের আশা দুরাশায় পরিণত হল। কড়া প্রশাসক মীর জুমলাকে এই ধরণের হুমকিতে এবং অপমানকর পদক্ষেপে যে নোয়ানো যায় না, সেটা পরিষ্কার হয়ে যায় তার পরবর্তী পদক্ষেপে। যদিও তিনি সে সময় নিজের রাজনীতির ঝামেলা সামলানো নিয়ে খুব ব্যস্ত এবং তার প্রশাসকেরা হিন্দু বিদ্রোহ দমনে দিনরাত লেগে রয়েছেন, কিন্তু তিনি এই অপমান মেনে নেবেন না সে তথ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। তার সেনাবাহিনী মাদ্রাজ ঘেরাও চালিয়ে এবং শহুর জুড়ে অত্যাচার করে মাদ্রাজের ব্রিটিশ কুঠিয়ালদের এই ধরণের চাপ দিয়ে সুবিধে নিংড়ে নেওয়ার নীতিকে প্রশ্নচিহ্নের সামনে ফেলে দেয়।
৪। মীর জুমলার প্রশাসকের পালটা জবাব
প্রাথমিকভাবে মীর জুমলার প্রশাসনের আমলারা, ব্রিটিশদের সঙ্গে মৌখিক আলাপ আলোচনা চালিয়ে জাহাজ দখল সমস্যার সমাধান করার পরিকল্পনা করার কথা ভাবছিল। ব্রিটিশদের এক গুঁয়েমির জন্য সেই আলোচনা খুব বেশি এগোলো না। মীর সৈয়দ আলি মাদ্রাজ ঘেরাওয়ের নির্দেশ দিলেন। বালা রাউ মাদ্রাজে অর্থনৈতিক অবরোধ সৃষ্টি করতে মাদ্রাজের বাইরের পরিখা কামান দিয়ে ঘিরে ব্রিটিশদের পণ্য, খাদ্য সরবরাহে তুমুল বিঘ্ন উপস্থিত করলেন। ইতিমধ্যে লিঙ্গম নায়েকের নেতৃত্বে মীর জুমলার বিশাল বাহিনী হিন্দু বিদ্রোহের ফলে মাদ্রাজের দুর্গে আশ্রেয় নেওয়া কিছু নেতাকে (কোনেরি ছেত্রী এবং ভেঙ্গম রাজা) গ্রেফতার করতে মাদ্রাজ অবরোধে যোগ দিল। অবরোধ চলাকালীন আহত হিন্দু বিদ্রোহীরা মাদ্রাজের ব্রিটিশ দুর্গ থেকে পালিয়ে গেলে বিপুল বিশাল মীর জুমলার সেনাবাহিনী মাদ্রাজের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়, কুঠি, গুদামের কাপড়, পণ্য লুঠ করে। মীর জুমলা সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও, এই আক্রমণের প্রভাবে পরপর দুবছর ব্রিটিশদের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়।
৫। ডাচ এবং ব্রিটিশদের প্রতি মনোভাব
ব্রিটিশেরা যেমন মাদ্রাজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঠিক তেমনি পুলিকটে ডাচেরাও সুরক্ষিত দুর্গে থেকেও তাদের ক্ষতি সামলাতে পারে নি। চন্দ্রগিরির রাজা সুরক্ষা কবচ ভেঙ্গে কুঠিগুলি লুঠ করে। ১৬৫০-৫৫ পর্যন্ত মীর জুমলার সঙ্গে ডাচেদের বিরোধ সত্ত্বেও পুলিকটের হিন্দু বিদ্রোহের সময় ডাচেরা মীর জুমলাকেই সেনা বাহিনী দিয়ে সাহায্য করেছে। ১৬৫৫-র মাঝামাঝি ব্রিটিশদের সঙ্গে মীর জুমলার মনকষাকষি চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে যায়। কর্ণাটকের হিন্দু বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশরা সুখীই হয়। যে সব ছন্নছাড়া হিন্দু রাজা, তাদের হারানো জমি খুঁজে পেতে লড়াই চালাচ্ছিল, তাদের ব্রিটিশেরা সমর্থন জানায়। যদিও তারা প্রাক্তন শাসক চন্দ্রাগিরির রাজাকে কিছুটা হলেও সমর্থন করেছিল, কিন্তু একই সঙ্গে নতুন নবাবের কর্তৃত্বকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চটিয়ে নিজেদের অবস্থানকে আরও নড়বড়ে করতে সাহস করেনি, বরং তারা সেই সম্ভাবনাকে সুচতুরভাবে এড়িয়ে চলছিল।
মীর জুমলার আধিকারিকদের সঙ্গে একপক্ষকাল দরকষাকষি চলার পর ঠিক হল যে তার দখল নেওয়া পণ্য ফেরত দেবে ব্রিটিশেরা, এমন কি জাহাজটাও ফেরত দেবে এবং তার বদলে অতীতের সমস্ত ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধে বজায় থাকবে। আলোচনা চলার সময় মাদ্রাজের সেন্ট ফোর্ট জর্জের কাউন্সিল আপতকালীন অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য মাদ্রাজের সুরক্ষা জোরদার করতে হাতে থাকা ব্রিটিশ সেনা, ভাড়া করা সেনা দিয়ে শহরের বাইরেটা টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
৬। উজিরের পদ থেকে কর্মচ্যুতির পর গণ্ডগোল
১৭৫৭-য় উজিরের পদ থেকে বহিষ্কারের সংবাদ পাওয়ার পরেই ব্রিটিশরা মীর জুমলার বাহিনী সঙ্গে নতুন গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশেরা মোগল বিরোধী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া চন্দ্রাগিরির রাজাকে আস্তানা গড়ার সুযোগ দিয়েছে এই অভিযোগে তিনি মাদ্রাজ আক্রমন করেন। পরের মাদ্রাজ আক্রমণের ঘটনাটি ঘটে সেপ্টেম্বর ১৬৫৭-এপ্রিল ১৬৫৮এ মীর জুমলার সেনাপতি টুপাকি কৃষ্ণাপ্পা নায়েক এবং বালা রাউ, মীর সৈয়দের নির্দেশে। আক্রমনকারীদের অভিযোগ ব্রিটিশেরা মীর জুমলার জাহাজগুলি সমুদ্রে যাওয়ার ছাড়পত্র দিচ্ছে না। কিন্তু মীর জুমলার মূল সাজোঁয়া বাহিনী যেহেতু আওরঙ্গজেবের বাহিনীতে চলে যায়, সেগুলি ছাড়া এই আক্রমনে তারা ব্রিটিশদের খুব একটা ক্ষতি সাধন করতে পারে নি। মাদ্রাজে যেহেতু সমুদ্র পথেও খাবারদাবার আনা যায়, সেজন্য সেন্ট জর্জ অবরোধ খুব একটা ফলপ্রসূ হয় নি। নানান দিক চিন্তা করে, টুপাকি কৃষ্ণাপ্পা এবং আয়াপ্পা নায়েক (জাপা) বালা রাউকে অবরোধ তুলে নিতে নির্দেশ দেন (১৯ এপ্রিল)। এবং যতক্ষণ না মীর জুমলা এসে পৌছচ্ছেন, ততক্ষণ সমস্ত বিরোধ মুলতুবি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ১৬৫৮ তে টুপাকি কৃষ্ণাপ্পা এবং কুঠিয়াল গ্রিনহিলের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তিতে বলা হয় বার্ষিক ৩৮০ প্যাগেডার বিনিময়ে মাদ্রাজের রাজস্ব এবং শুল্কের ওপর সমস্ত দাবি প্রত্যাহার করা হবে এবং মাদ্রাজ দুর্গ আর শহরের ওপর ব্রিটিশদের অধিকার মীর জুমলা স্বীকার করে নেবেন। এর পরে টুপাকি পুলিকট অভিযানে সেনানায়ক চিনাতাম্বি মুদালিয়ারকে পাঠান। ব্রিটিশ এবং ডাচেরা মীর জুমলার বাহিনীকে বিপুল পরিমান অর্থ প্রদান করে। ডাচেরা ১০ হাজার প্যাগোডা এবং ব্রিটিশেরা ২ হাজার প্যাগোডা এবং ১ হাজার প্যাগোডা দামের কাপড় উপহার দেয়। স্যান থোমের পর্তুগিজ কুঠি ধ্বংস করে দেয় মীর জুমলার বাহিনী। (চলবে)