| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা : জগদীশ নায়ারণ সরকার (৭ম কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৩৩৩ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

দ্বিতীয় অধ্যায়

কর্ণাটকে মীর জুমলা

প্রথম পর্ব

কর্ণাটক এবং কর্ণাটকে মুসলমান উপস্থিতির ইতিহাস

ক। বীজাপুর

মহীশুরের উপত্যকায় বেশ কিছু হিন্দু রাজ্য যেমন ইক্কেরি, সেরা, ব্যাঙ্গালোর আর কুর্নুলকে প্রথম দফায় ১৬২২-২৩ এবং তাঁর পরে দ্বিতীয় দফায় ১৬৩৬-৪৮এ নিজের অধীনে নিয়ে আসেন বীজাপুরের সুলতান। মাত্র সাত বছরে ১৬৩৭ থেকে ১৬৪৪এর মধ্যে তাঁর সেনাপতি (সরইলস্কর বা সিপাহসালার), রণদৌলা খান (রুস্তমইজামান), আফজল খান, মুস্তাফা খান এবং খান মহম্মদ একে একে বেন্দুর আর মহীশূরের একাংশ দখল করেন। ১৬৩৭-৪১এর প্রথম সেনাপতি রণদৌলা মুলুন্দ আর কর্ণাটক দখল করেন সেনা পরাক্রমে আর কূটনীতিক চাতুর্যে। তারিকেরের আর বাসবপত্তনের রাজা কেঙ্গ নায়কএর (কেঙ্গে হানুয়া) বেন্দুর দখল করে। কানাড়ায় সেনা অভিযান শুরু হয়। রয়াল বিরুদ্ধে নায়েক বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে তিনি রয়ালের সঙ্গে চুক্তি করে ঠিক করেন তিনি তাঁর বিজিত এলাকার সম্পদ বিজাপুরে নেবেন, শুধু খালি দুর্গটা দখলে রাখবেন তৃতীয় ভেঙ্কট। প্রাথমিকভাবে রুস্তমইজামানের প্রস্তাবে ভেঙ্কট রাজি হলেও পরে তিনি বাস্তব অবস্থা বুঝে পিছিয়ে যান। রুস্তম তখন ভেঙ্কটের বিদ্রোহী ভাইপো শ্রীরঙ্গর সঙ্গে সন্ধি করলেন। রাজ্যের ভেতর থেকে সাহায্যের সূত্র পেয়ে রুস্তম, কেঙ্গ নায়কের সাহায্যে ইক্কেরির রাজা বীরভদ্রের রাজত্ব অধিকার করলেন (নাগর তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ১৬৩৭)। তারপর তুঙ্গভদ্রা নদী পেরিয়ে তিনি বর্তমান অনন্তপুর জেলার গাণ্ডিকোটার প্রামাসানি প্রধানের এলাকা তাদপার্তি অভিযানের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু পরিকল্পনা পালটে তিনি সহকারী সেনাপতি আফজল খানকে নিয়ে, কেঙ্গে হানুয়ার পরামর্শে, শ্রী রঙ্গার বিদ্রোহের সুযোগে কেম্প গোণ্ডার (কেম্পে গৌড়া) অধিকারে থাকা ব্যাঙ্গালোরের দিকে যাত্রা শুরু করেন (১৬৩৮)। সেরা (কস্তুরি রঙ্গার নিয়ন্ত্রণে টুঙ্কুর) দখল করে এটিকে সাহজী ভোঁসলের নিয়ন্ত্রণে রেখে রুস্তম কান্তিরাভা নারাসার (রাজা কান্তি রাই) দুর্গ দখল করে ৫ লাখ হুন ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিজাপুর ফিরে এলেন (১৬৩৮-৩৯)। এইও অভিযানেই বিজাপুর মহিশূরের বিশাল অংশ দখল করল।

বিজাপুরের বিরুদ্ধে রাজা নায়কের বিদ্রোহ আর কানাড়ি এলাকায় হিন্দু রাজাদের উত্থানে আবার রুস্তম ফিরে আসতে বাধ্য হলেন। ডিসেম্বর ১৬৩৮-এ তিনি ইক্কেরির রাজার সাহায্যে তারিকারে-বাসবপত্তন দখল করলেন। নায়ক সেনা বাহিনীর সাহায্যে ভেঙ্কট লড়াই করলেন জুলাই ১৬৩৯ পর্যন্ত। কিন্তু নভেম্বরেও তিনি ব্যাঙ্গালোর দখল করতে পারলেন না। টুঙ্কুরের রাজা চিক-নায়কন-হাল্লির বিদ্রোহের খবরে রুস্তমইজামান সে বিদ্রোহ দমন করতে আফজল খানকে পাঠালেন। তিনি বেল্লুর (তৃতীয় ভেঙ্কটের দখলে থাকা), টুঙ্কুর, বালাপুর আর কুনিগালও দখল করলেন। ১৬৪১-এর মে-আগস্টে শ্রী রঙ্গার সঙ্গে হাত মিলিয়ে রুস্তম তৃতীয় ভেঙ্কটের বিরুদ্ধে ভেলোরে লড়াই করলেও মাদুরা, জিঞ্জি আর তাঞ্জোরের যুক্ত সেনাদলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে না পেরে ফিরে এলেন। চন্দ্রগিরির শ্রী রঙ্গা (তৃতীয় রঙ্গা) বিজাপুরের সঙ্গে চুক্তি করে ঠিক হল (মার্চ ১৬৪৪) তাঁদের বিজয়ে তিনি সাথী হবেন। দুর্গের লুঠ করা সমস্ত ধনসম্পত্তি বিজাপুর নিয়ে গেলেও কিন্তু শর্ত হল দুর্গটির অধিকার রয়ালকে দিতে হবে। তাকে পাদশাহী চাদর দিয়ে সম্মান জানানো হয়। কিন্তু খুব শীঘ্রই রয়াল এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বিজাপুরের বিরুদ্ধে হিন্দু জোট গড়ে তোলার উদ্যম নিলেন। কিন্তু কোন কিছুই রুস্তমকে দমাতে পারল না, তিনি একের পর এক দুর্গ, এলাকা দখল করতে শুরু করলেন। পরে রয়ালকে মাফ করার শর্তে রয়াল ৫০ লক্ষ হুন ক্ষতিপূরণ/পেশকাশরূপে দিতে বাধ্য হল। রুস্তমইজামানের পরের দখলি এলাকা হল বালাপুর আর কুলিহাল (কুনিগাল?, রয়ালকে দেওয়া)। ১৬৪৪-এ দখল হওয়া ইক্কেরির দুর্গ পরে বেন্দুরের শিভাপ্পা নায়েকের কাছে হারতে হলেও তা খান মহমুদের চেষ্টায় দখলে আসে। তিনি সেই লড়াইতে পেন্নার থেকে কৃষ্ণা-তুঙ্গভদ্রার মধ্যে নান্দিয়াল, শ্রীভেল্লা এবং কানিগিরির (১৬৪৫) মত প্রচুর দুর্গ দখল করলেন। ১৬৪৫-এর মধ্যে বিজাপুর, পশ্চিম কর্ণাটকের বিপুল এলাকা দখলে আনল।

খ) গোলকুণ্ডা

১৬৪৫-এর আগেই বিজাপুর যত তাড়াতাড়ি পশ্চিম কর্ণাটক দখল করতে পেরেছিল, ঠিক সেই দ্রুততায় গোলকুণ্ডা পূর্ব কর্ণাটকের উঁচু পাহাড়ি এলাকা (বালাঘাট) দখল করতে পারে নি। ১৬৪২ পর্যন্ত কুডাপ্পার জেলার উত্তর-পূর্ব দিকের শুধু কাম্বমই দখল করতে পেরেছিল গোলকুণ্ডা। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যেতে বেশ সময় লেগেছিল।

কর্ণাটক দখলের লড়াইতে পেছনে পড়ে থাকতে চাইছিলেন না সুলতান আবদুল্লা কুতুব শাহ। তিনি সাম্রাজ্য বিস্তারের কাজে সরইখাহিল মীর মহম্মদকে রাষ্ট্রের মানচিত্র বদলে দেবার দায়িত্ব দিলেন। মীর মহম্মদ সুলতানকে খুশি করে গোলকুণ্ডার সীমান্ত বদলে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন। ওয়ারিস লিখছেন, ‘এর আগে কুতুবউলমুলকের নিযুক্ত একজন নায়েকও কর্ণাটকের এক একরও জমি দখল করতে পারে নি, কিন্তু মীর জুমলা বিশাল সব দুর্গ দখল করেন’।

২। মীর জুমলার প্রথম যুদ্ধযাত্রা

মীর মহম্মদ জানতেন বিজয়নগরের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এতই দুর্দশাগ্রস্ত ছিল যে গোলকুণ্ডার মত যে কোনও রাষ্ট্র ছোটখাটো সেনা অভিযানের উদ্যোগ নিলেই কর্ণাটকের বিপুল অংশ সহজেই দখলে চলে আসার সুযোগ তৈরি ছিল। সুলতান মীর মহম্মদের আশ্বাসে সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখলেন। মীর মহম্মদ জানেন, গোলকুণ্ডার মত রাষ্ট্র তাঁর পাশে থাকলে ভেঙে পড়তে থাকা বিজয়নগর রাষ্ট্র দখল শুধু মাত্র সময়ের অপেক্ষা। বিজয়নগরের রাজা ভেঙ্কটপতি বা তৃতীয় ভেঙ্কট (১৬৩০-৪২) প্রথম পাঁচ বছরের রাজত্বেই রাজ্যে বিদ্রোহের আগুনের আঁচ আন্দাজ করতে পাচ্ছিলেন। জিঞ্জির নায়কের সঙ্গে তাঁর চুক্তিতে অসস্তুষ্ট হয়ে তাঞ্জোর আর মাদুরার নায়েক ১৬৩৭-এ বিজয়নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। এর আগে বেশ কয়েকটা বীজাপুর রাষ্ট্রের সেনা অভিযান রয়ালদের সম্পদ আর আত্মরক্ষার ক্ষমতা ভেতর থেকে ক্ষইয়ে দিয়েছিল। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে পড়ল পরিবারের মধ্যে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। ভাইপো শ্রীরঙ্গ কাকার সঙ্গ ছেড়ে বীজাপুরকে মদত দিতে শুরু করে। তৃতীয় ভেঙ্কট মাদ্রাজপত্তম আর পুনামাল্লির (৪০,০০০ সেনা বাহিনীর) প্রধান ভেলুগতি তিম্মা, দামরালা ভেঙ্কটার সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও খুব বেশি লড়াই দিতে পারেন নি।

১৫০২/১৬৪২-এর এপ্রিলে আলি রাজা খাঁ (কোন্ডাভিডুর সরইলস্কর, রাজাকীয় বাহিনীর প্রধান), গাজি আলি বেগ (মারাঠা অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধান), আলম খান পাঠান, আইনুল মুলক, সুজাউলমুলক, দাদাজী কান্তিয়া, আসির রাও, ভেঙ্কটা রেড্ডি এবং অন্যান্য নাইকোয়ারের মত বেশ কিছু হিন্দু এবং মুসলমান সেনাপতির ৪০,০০০ পদাতিক, ৪,০০০ ঘোড়সওয়ার গোলান্দাজ বাহিনী নিয়ে মীর মহম্মদ বিজয়নগর দখলে এগিয়ে চললেন। বাজার দরে খাবার কেনা হল, খবর চালাচালির জন্য দরবারের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ডাকচৌকি আর পায়রার ডাকের ব্যবস্থা করা হল।

উপকূলের কোণ্ডাইভু সেনা শিবির থেকে থেকে সৈন্য নিয়ে মীর মহম্মদ কোনও রকম বড় প্রতিরোধ ছাড়াই নেল্লোরের সমতলে পৌঁছলেন। স্থানীয় দুর্গের সেনা আক্রমণ রুখে একে একে আটটা বড় দুর্গ দখল করবেন তিনি। এর পরে আরও দক্ষিণের দিকের অভিযানে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু তাঁর জন্য চাই রাজধানী থেকে দক্ষ সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কর্মী, বিশেষ করে যদি সেই অঞ্চলের সুরক্ষিততম দুর্গ ডুম্বুরু (বা দান্দারুলু) দখল করতে হয়। সেই লক্ষে ২০-১-১০৫২/১১ এপ্রিল ১৬৪২ দুর্গে ট্রেঞ্চ খোঁড়ার দক্ষ কর্মী চাইলেন। তিনি আরমাগাঁও আর পুলিকটের মধ্যের শ্রীহরিকোটা দ্বীপ এবং ২১ এপ্রিল ১৬৪২-এ আরও কিছু দুর্গ দখল করলেন রয়াল, টিম্মা আর দামারলা ভেঙ্কটের যৌথ বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে। ভেঙেপড়া রয়াল চিত্তোরের পাহাড়ে আশ্রয় নিলেও ছ’মাসের মধ্যে, ১০ অক্টোবর ১৬৪২-এ ভগ্নহৃদয়ে মারা গেলেন। তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে শ্রীরঙ্গ সিংহাসনে আরোহন করলেন তৃতীয় শ্রীরঙ্গ নাম নিয়ে ২৯ অক্টোবর ১৬৪২-১৬৮১-এ।

শ্রীহরিকোটা দখল হল। আদতে এই অঞ্চল দখনে আনা মীর জুমলার রণনীতির চাতুর্য এবং স্বাভাবিকভাবে রণনৈতিক দক্ষতাও প্রমান করে। শ্রীহরিকোটা দ্বীপ, উত্তরে আরমাগাঁও এবং দক্ষিণে পুলিকটের মধ্যে গোঁজ হয়ে রইল। শ্রীহরিকোটা ভিত্তি করে খুব তাড়াতাড়ি তিনি আরমাগাঁওএর আশেপাশের এলাকা দখল করলেন। যদিও এর মধ্যে একটা বড় অংশ তখনও শ্রীরঙ্গ’র আয়ত্তে ছিল — তিনি বিপুল পরিমান সৈন্যদল ভেঙ্কটগিরি আর আরমাগাঁওতে তেরি রেখেছিলেন। ব্রিটিশ কুঠিয়ালদের নথি লিখছে, আরমাগাঁও এলাকার নায়েকেরা ‘দেশ থেকে তাড়া খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, একদিকে রয়ালের চাপ অন্য দিকে সুলতানি সেনার চাপে তারা প্রাণ বাঁচাতে ব্যতিব্যস্ত। মুসলমানেরা চাওলা গেলডানকেতে মূল শিবির তৈরি করেছে’। তাঁদের ধারণা ছিল খুব তাড়াতাড়িই এই এলাকা মুসলমান শাসনের আওতায় চলে আসবে। ব্রিটিশরা রঙ্গ করে লিখল, ‘একদিকে গোলকুণ্ডার রাজা, অন্যদিকে বিজাপুরের রাজার শাঁড়াশি আক্রমন, অথচ দেশিয়রা (জেন্টুজ) নিজেদের মধ্যে বিভেদের খেলায় মত্ত। ফলে তারা আর তাঁদের দেশের শাসন ধরে রাখতে পারবে না।’

নেল্লোরকে মূল ঘাঁটি করে বর্ষার পরপরই গোলকুণ্ডার সেনা বাহিনী ঝটিতি আক্রমণ করে নাকবাত, রাপুর (১৯.১০.১০৫২/৩১ ডিসেম্বর ১৬৪২) কাল্লুর (২৪.১০.১০৫২/৪.১.১৬৪৩) দুর্গ দখল করে। অতীতের হারের অভিজ্ঞতায় নাকবাত কেল্লার ত্রস্ত সেনাবাহিনী, বিপক্ষের অভিযানের খবর শুনেই কেল্লা ছেড়ে পালিয়ে গেল। দ্বিতীয় দুর্গের লড়াইতে গোলকুণ্ডা ১০-১২ হাজার ঘোড়সওয়ারওয়ালা আদিবাসী সাংগ্রেজ রাজের বাহিনীকে বিশাল জঙ্গলের মাঝে ঢুকিয়ে হারাল। জঙ্গল পরিষ্কার করে মীর মহম্মদের নেতৃত্বে দুটো ছোট কেল্লা তৈরি হয়। মুসলমান সেনা নেতার অধীনে যেমন দুজন মুসলমান নেতা খাইরাত খাঁ এবং সৈয়দ মহম্মদ মাজানদারানি ছিলেন, তেমনি ছিলেন দুজন রেড্ডি ভাই ভেঙ্কট আর তিম্মা এবং রাওয়াজী কান্তিয়া। কুল্লুরের দুর্গ দখলের লড়াই প্রায় একমাস ধরে চলে (২৪-১০-৫২/৪-১-৪৩ শেষ শাওয়াল ১০৫২ জানুয়ারি ১৬৪৩)। রয়াল বিশাল সেনা বাহিনী নিয়ে তিরুপতিতে বিপক্ষের আক্রমণের জন্যে অপেক্ষা করছিলেন (মার্চ এপ্রিল ১৬৪৩)। কিন্তু বিপক্ষের জোরদার যুদ্ধ করার দক্ষতা, উন্নত, ধারালো অস্ত্রশস্ত্রের খবরে হারের আশংকায় ভয় পেয়ে বাহনীর অংশিদার কালাহস্তির দামারালা ভেঙ্কটা এবং টুপাক্কি কৃষ্ণাপ্পা বিদ্রোহ করে আক্রমণকারী কুতুবশাহী সেনার মনোবল বাড়িয়ে ভেলোরে পালিয়ে গেলেন। অন্যদিকে মীর মহম্মদ রয়ালকে আক্রমণ না করে, অপেক্ষা করিয়ে রেখে উদয়গিরিতে পৌঁছলেন। উদয়গিরি তখন দুই শক্তিধর রাজ্য বীজাপুর আর গোলকুণ্ডার মধ্যে মাঝে মধ্যেই হাত বদল হত। উদয়গিরি দুর্গ ভালিকোণ্ডা পাহাড়শ্রেণীর শৃঙ্গে ছিল। উদয়গিরিকে অভেদ্য কেল্লা বললেও অত্যুক্তি হয় না। মীর মহম্মদের অজানা নয় সামরিক দিক দিয়ে দেখলে উদয়গিরির ভিত্তি করে কেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাঁর পরিকল্পনা সবার আগে উদয়গিরি দখল। দুর্গে শুধুমাত্র একটি ঢোকার রাস্তা। দুর্গে প্রবেশের অন্য কোনও সুযোগ নেই। মীর মহম্মদ, বিপক্ষের হিন্দু সেনাপতি মাল্লাইয়াকে প্রচুর সোনা ঘুষ দিয়ে গুপ্ত প্রবেশ পথ জেনে নিলেন (জুনের মাঝামাঝি, ১৬৪৩)। দুর্ভেদ্য উদয়গিরির পতন হল। উদয়গিরি কবলে আসা এই অঞ্চলে গোলকুণ্ডার সাম্রাজ্য বিস্তারে খুব বড়ভাবে সাহায্য করে। একের পর এক বিপক্ষের দুর্গ পতনের খবরের মাঝে রণনৈতিকভাবে আরও বড়, প্রায় অজেয় এবং অভেদ্য উদয়গিরি দুর্গ পতনের খবর এল সুলতানের কাছে, ১০.৪.১০৫৩/১৮ জুনে ১৬৪৩-এ। সংবাদ পাওয়া মাত্র সুলতান বিজয়ী সরইখাহিলকে মীর জুমলা পদে অভিষিক্ত করলেন। বিজয়ী মীর মহম্মদ এবার থেকে মীর জুমলা নামে পরিচিত হবেন। মীর মহম্মদ দরবারে উপস্থিত হয়ে সরকারিভাবে বিজয় সংবাদ সুলতানকে উপহার দিয়ে বেশ কিছু কাল তিনি দরবার আলো করে থাকলেন।

১৬৪২ আর ১৬৪৩-তে মীর জুমলার বীরত্বে পুলিকটের উত্তরের উপকূল এলাকার অধিকাংশ অঞ্চল সুলতান কুতুব শাহের দখলে এল। সামরিক বীরত্ব আর কূটনৈতিক চাতুর্যে প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করলেন মীর জুমলা। বিজয়নগরের পরাজয়ের জন্যে যেমন মীর জুমলার দক্ষতা দায়ি, তেমনি দায়ি রাজপরিবারের সদস্যদেরে মধ্যে বিভেদ। মীর জুমলা রাজপরিবারে দুই অদক্ষ অযোগ্য রাজা তৃতীয় ভেঙ্কট আর তৃতীয় রঙ্গর মধ্যে তৈরি হওয়া বিভেদ বীজকে মহীরুহ করে তুলে নিজের সার্থসিদ্ধির কাজে ব্যবহার করেছেন। ভেঙ্কটের অসুবিধেগুলো আগেই আলোচনা করেছি। মাথায় রাখতে হবে শ্রীরঙ্গর সঙ্গে ভেঙ্কটের তীব্র ঝগড়ার কারনে শ্রীরঙ্গের সিংহাসন আরোহনের সময় উনিশ দিন পিছিয়ে যায়। পারিবারিক বিভেদকে যুদ্ধ জয়ের কাজে ব্যবহার করলেন গোলকুণ্ডার নতুন সেনাপতি। নতুন রাজাকে অধিকাংশ অভিজাতর পছন্দ ছিল না বিশেষ করে কালাহস্তির ভেলুগতি ভায়েদের (দামারালা ভেঙ্কটাদ্রি বা ভেঙ্কটা এবং আয়াপ্পা)। এরা দুইভাই আগের রাজত্বে রাজাকে শিখণ্ডী রেখে পিছন থেকে রাজ্য পরিচালনা করত। বিক্ষুদ্ধরা জুটল গোলকুণ্ডার দলে। ভেঙে পড়া রাজত্বে, শ্রীরঙ্গা কখনও গোপনে কখনও প্রকাশ্যে গিরগিটির মত মত, রঙ, আনুগত্য বদল করা অভিজাতদের বিশ্বাসঘাতকতার মুখোমুখি হলেন। এর পাশাপাশি তাকে দু’দিক থেকে আক্রমণ শানাল বিদেশি সেনাবাহিনী, কখোনো যৌথভাবে কখোনো একা।

গাজি আলির হাতে কুতুব শাহি বিপর্যয়

মীর জুমলা কর্ণাটকের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সম্মান গ্রহণে গোলকুণ্ডা দরবারে যাওয়ার পর্বে সেনাবাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন গাজি আল বেগ। নেতৃত্ব আরও জোরদার করতে সুলতান তাঁর সঙ্গে পাঠালেন সৈয়দ মুজফফর, শাহ গজনফর খান, বিজাপুরের রুস্তমইজামানের জামাই এবং আরও বেশ কয়েকজন সেনা আধিকারিককে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হল, সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব পরিবর্তন গোলকুণ্ডার রাজ্য জয়ের পক্ষে শুভ হল না।

আক্রান্ত হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে শ্রীরঙ্গ প্রাণপনে চেষ্টা করছিলেন গোলকুণ্ডার বিরুদ্ধে রণনীতির গুটিগুলো ঠিকভাবে সাজানোর, যাতে বিজয় অধরা না থাকে। বিজয়নগরের শেষ প্রভাবশালী নরপতি শ্রীরঙ্গ ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শাসক। তিনি মীর জুমলার আক্রমণ প্রাবল্যের আতঙ্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছিলেন। যুবরাজ থাকাকালীন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বিরুদ্ধে বিজাপুরী হানাদারদের সঙ্গে হাত মেলালেও ক্ষমতা হাতে পেয়ে পূর্বের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়ে আক্রমনকারীর বিরুদ্ধে দক্ষিণের হিন্দু রাজাদের একজোট করতে সচেষ্ট হলেন। তিনি জানেন রাজনৈতিক পরিবেশ তার পক্ষে নয়। তাই রাজ্যের সুরক্ষায় ডাচেদের থেকে সামরিক সাহায্যও প্রার্থনা করে রাখলেন। রণনীতির প্রথমস্তরে সাফল্য পেতে শ্রীরঙ্গকে রাজসভার তাঁর বিরুদ্ধ ষড়যন্ত্রীদের খতম করতে হল। প্রতিবেশী রাজ্য মাদুরাইএর তিরুমালা নায়েককে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু তিরুমালার নায়েক শ্রীরঙ্গর পরিকল্পনা আন্দাজ করে তাঞ্জোর আর জিঞ্জির নায়েকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁদের যৌথ শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। শ্রীরঙ্গ, জিঞ্জির নায়কের বিরুদ্ধে বিপুল সেনাবাহিনী নিয়ে লড়তে গেলেন। তিরুমালার নায়েক বৃহত্তর দেশভক্তিকে চুলোয় দিয়ে শ্রীরঙ্গর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে গোপনে গোলকুণ্ডা রাজত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তর দিক থেকে সুলতানকে শ্রীরঙ্গর রাজধানী ভেলোর আক্রমণ করতে প্ররোচিত করলেন। রাজ্য আক্রমনের সংবাদে শ্রীরঙ্গ জিঞ্জি থেকে নিজ রাজ্যে ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং তাঁর সঙ্গে হাত মেলায় পশ্চিম উপকূলের ইক্কেরির নায়ক। শ্রীরঙ্গ রাজধানীতে ঢুকে লুঠেরা গোলকুণ্ডার সেনাকে (১৬৪৩-৪৪) রাজধানী ছাড়া করলেন। দামরালা ভেঙ্কটাপ্পা গোলকুণ্ডার সঙ্গে হাত মেলাবার আগেই তাঁর হাতে গ্রেপ্তার হলেন। মীর জুমলা, বিজাপুরী সেনাপতিদের ১৫ লক্ষ প্যাগোডা এবং ১৫টি হাতি দিয়ে কিনে নিয়ে অভেদ্য উদয়গিরি দখল করার কাণ্ডে মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত শ্রীরঙ্গ, আদিল শাহের ঈর্ষা জাগানোর উদ্যম নিলেন। কর্ণাটকের বালাঘাটে তখন ছিল বিজাপুরী ৬,০০০ গোলান্দাজ আর ২০,০০০ পদাতিক সেনা। রয়াল তাঁদের আক্রমন করে সেখান থেকে কুতুবশাহী সেনা উতখাত করলেন (জানুয়ারি ১৬৪৪)। বিজয়ী হয়ে আঞ্চলিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলেন — জিঞ্জি, তাঞ্জোর আর মাদুরার নায়েকদের পাশে সামরিক সাহায্য নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য বিপুল অর্থ দাবি করলেন। বিজাপুরকে সেই অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঋণ শোধ করে জিঞ্জির হাত থেকে আর্নি দখল নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন।

কিন্তু শ্রীরঙ্গর পক্ষে তাঁর রাজ্যের ভেতর আর বাইরের, দু-ধরণের শত্রু বিরুদ্ধে লড়া খুব সহজ হচ্ছিল না। নিজের রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তাঁর আত্মীয় আয়াপ্পা দারমালার আক্রমনের ধাক্কায় দারমালা ভেঙ্কটাপ্পাকে মুক্তি দিতে হল এবং তাঁদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হল। অন্যদিকে যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্কটগিরি দখল করে রাখা গোলকুণ্ডা সেনা বাহিনীর আক্রমনের আশংকাও তিনি করছিলেন।

১৬৪৪-এর ১৪ জুলাই-এর মাঝামাঝি কুতুব শাহী সেনাবাহিনী কাসি আলির (গাজি আলি) নেতৃত্বে কোনও বাধা ছাড়া পুলিকটের কাছাকাছির শহরগুলি শহর দখল করতে থাকে এবং আরও এগিয়ে গিয়ে ডাচেদের বাণিজ্য সুবিধা রেখেই সামরিক দিক থেকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়। ব্রিটিশেরা আশঙ্কা করছিল সেন্ট জর্জেও গোলকুণ্ডার আক্রমন নেমে আসতে পারে। কিন্তু আক্রমণকারীরা ডাচ সেনাপতি হিউসেনের জবরদস্ত প্রতিরোধ ভেঙ্গে গড় দখল করতে পারল না। উল্টোদিকে জিঞ্জির বিদ্রোহী নায়েক, গাজি আলির আক্রমনের আগেই রয়ালকে আক্রমনের পরিকল্পনা করছিল পিছন থেকে। খবর পেয়ে রয়াল জিঞ্জির সঙ্গে চুক্তি করে সেখান থেকে রাজ্য থেকে তাঁর হিন্দু সেনাপতি কিস্টাপ্পা নায়েককে তুলে নেন এবং চিন্নানাকে (মালাইয়া) আবার ক্ষমতায় বসান। কিস্টাপ্পা এবং ভেলুগতি শিঙ্গা হঠাৎ করে মুসলমান বাহিনীকে ভেঙ্গাল্লু হ্রদের সামনে (২১ আগস্ট ১৬৪৪) আক্রমন করে। এই হঠাত আক্রমনের ধাক্কায় যুদ্ধে প্রায় অপ্রস্তুত গোলকুণ্ডার সেনাবাহিনীর প্রভূত ক্ষতি হয়। যৌথ বাহিনী তাদের আরমাগাঁও থেকে উদয়গিরি ছাড়িয়ে তাড়িয়ে দিয়ে আসে। মীর জুমলার বীরত্বপূর্ণ কাজ ধুলিতে মিশে গেল। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev