কল্পনার রাজ্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন এক শহর অরোভিল। এই শহরে নেই রাজনীতি, নেই দারিদ্র্য, নেই অপরাধ, এমনকি নেই টাকার নোটও। দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে নির্বিশেষে বসবাস করতে পারে এ শহরে।
অরোভিল (ইংরেজি: Auroville) ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ভিল্লুপুরম জেলার বেশির ভাগ অংশে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির কিছু অংশে বিস্তৃত বিংশ শতকের ষাটের দশকে পরীক্ষামূলক ভাবে গোড়া পত্তন ঘটে বিশ্বমানতার স্বপ্নের শহরের। চেন্নাই থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার ও পুদুচেরি হতে প্রায় বারো কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ছোট্ট নগর। ফরাসি ভাষায় ‘aurore’ শব্দের অর্থ প্রভাত বা ভোর আর ville শব্দের অর্থ নগরী। সেই অর্থে অরোভিল হল “প্রভাত নগরী” বা “ভোরের শহর”। আবার অন্য মতে অনেকে বলেন অরোভিল শব্দ-টি এসেছে অরো অর্থাৎ ভারতের বিশিষ্ট দার্শনিক ও তার আধ্যাত্মিক গুরু ও যোগী শ্রী অরবিন্দের নাম থেকেই। শ্রীমা অর্থাৎ মীরা আলফাসা তার গুরুর স্বপ্নকে সার্থকরূপ দিতে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই নগরীর পত্তন করেন। নগরীর স্থপতি ছিলেন রজার অ্যাঙ্গার নামের এক বৃটিশ আর্কিটেক্ট।

১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ২৪ নভেম্বর পণ্ডিচেরিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম’। তবে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠার এক মাসের মধ্যেই আশ্রমের যাবতীয় ভার মীরা আলফাসা তথা শ্রীমায়ের হাতে দিয়ে নিজে অন্তরালে চলে যান তার গুরু ঋষি অরবিন্দ। শ্রীঅরবিন্দ সোসাইটির কার্যকরী সভাপতি শ্রীমা শ্রীঅরবিন্দের নির্দেশিত পথে যোগ সাধনা করতে সঠিক পরিবেশের প্রয়োজন অনুভব করলেন। শেষে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিচেরিতে শ্রীঅরবিন্দ সোসাইটির এক বার্ষিক সম্মেলনে মীরা আলফাসার সভাপতিত্বে অরবিন্দের দর্শনের উপর ভিত্তি করে একটি নগরী পত্তন করার পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার কিছু বছর পর ইউনেস্কার সহায়তায় শ্রীঅরবিন্দ সোসাইটির শ্রীমা মীরা আলফাসা অরোভিল শহর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে মীরা আলফাসা জনসমক্ষে এক বিবৃতিতে বলেন, অরোভিল একটি সর্বজনীন শহর হতে চায় যেখানে বর্ণ, রাজনীতি ও জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল দেশের নারী ও পুরুষ শান্তি ও প্রগতির সাথে বাস করতে সক্ষম হবে।
মিরা আলফাসা এই শহরটিতে ‘The Mother’ শ্রীম নামে পরিচিত। তার বিশ্বাস ছিল যে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শুভবুদ্ধি ও শুভ চিন্তার মানুষদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈশ্বিক শহর সমগ্র মানবজাতিকে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। একইসাথে এটি ভারতীয় রেনেঁসা বা নবজাগরণেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
১৯৬৫ সালে মিরা আলফাসা বিবৃতি দেন যে, “অরোভিল একটি সার্বজনীন শহর হতে চায় যেখানে বর্ণ, রাজনীতি ও জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল দেশের নারী ও পুরুষ শান্তি ও প্রগতির সাথে বাস করতে সক্ষম হবে।” পরের বছর ভারত সরকার কর্তৃক অরোভিলের ধারণাটি ইউনেস্কোর সাধারণ সভায় উত্থাপন করা হয় ও সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এর দু-বছর পর ১৯৬৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পিত এলাকার কেন্দ্রে একটি বটগাছের নিচে প্রায় ৫,০০০ মানুষ শহরটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য জড়ো হন। ভারতের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য সহ পৃথিবীর ১২৪টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা আসেন এ অনুষ্ঠানে। প্রত্যেক প্রতিনিধি নিজ নিজ দেশের কিছু মাটি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। সবার জন্মভূমির মাটি মিশ্রিত করে একটি শ্বেত মার্বেলে তৈরি পদ্ম আকৃতির পাত্রে রাখা হয়। এটি বর্তমানে অরোভিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে সংরক্ষিত আছে। যথেষ্ট নাটকীয়তার মধ্যে দিয়েই অরোভিলের যাত্রা শুরু বলা যায়। একইসাথে মাদার বা শ্রীমা অরোভিলের জন্য চার দফার একটি সনদ প্রণয়ন করেন। এই চারটি দফা হলো —

১) অরোভিল কারো একার না। এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য। কিন্তু কেউ অরোভিলের বাসিন্দা হতে চাইলে, তাকে অবশ্যই স্বর্গীয় চেতনাবোধের স্বেচ্ছাদাস হতে হবে।
২) অরোভিল হবে অফুরান শিক্ষা, অবিরাম প্রগতি ও শাশ্বত তারুণ্যের একটি স্থান।
৩) অরোভিল অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে একটি সাঁকো হতে চায়। সকল আবিস্কারের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সুবিধা-সমূহ গ্রহণ করে অরোভিল ভবিষ্যৎ উপলব্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।
৪) প্রকৃত মানব ঐক্যের মূর্ত প্রতিরূপের জন্য বস্তুগত ও আত্মিক গবেষণার একটি স্থান হবে অরোভিল।
বর্তমানে ৪৯টি দেশের প্রায় ২,৫০০ মানুষ অরোভিলে বাস করেন। এর দুই-তৃতীয়াংশই ভারতীয়। অন্যান্য জাতীয়তার মধ্যে রয়েছে ফরাসী, রাশিয়ান, আমেরিকান, জার্মান, ব্রিটিশ, ইসরায়েলি, মেক্সিকান, চীনা, জাপানি, শ্রীলঙ্কান, নেপালী, আইসল্যান্ডিক, চেক, ডাচ, ব্রাজিলিয়ান, আর্জেন্টাইন ইত্যাদি। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের মানুষই আছে এই শহরে। অরোভিলে ৫০ হাজার মানুষের বাসস্থান সংকুলানের ব্যবস্থা আছে। প্রতি বছর হাজার হাজারর পর্যটক এই বিশেষ শহর দেখতে আসেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মানব একতার প্রতীক হিসেবে সংগৃহীত মাটি কমলাকৃতি কলস কেন্দ্র করে মহাবিশ্বের প্রতীক হিসেবে ১,৪০০টি সোনার প্রলেপ দেওয়া বড় বড় চাকতি দিয়ে এক স্বর্ণ-গোলক তৈরি করা হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে নির্মিত এটি মাতৃমন্দির নামে পরিচিত এবং উপাসনাগার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মাতৃমন্দিরের আশেপাশের পুরো অঞ্চলটিকে শান্তির অঞ্চল বলা হয়। মাতৃমন্দিরের অভ্যন্তরে, একটি সর্পিলাকার পথ মধ্য দিয়ে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাদা মার্বেলের কক্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া যায় যেখানে উপাসনার মাধ্যমে “নিজের চেতনার সন্ধান” প্রাপ্তি ঘটে।
মাতৃমন্দিরে সৌর-বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে। নিপুণভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে সজ্জিত উদ্যান চারিদিক ঘিরে আছে মন্দিরটিকে। সূর্যাস্তের পরে সৌর-বিদ্যুতের সাহায্যে গোলকটিকে আলোকিত রাখা হয়।
অরোভিলের নগর পরিকল্পনাটিও মনোমুগ্ধকর। নগর পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরের বাইরের দিকে আছে প্রশস্ত এলাকা জুডে সবুজ গাছপালা পরিবেষ্টিত ‘গ্রিন বেল্ট’। এই স্থানে পরিবেশ গবেষণার কাজে ও প্রাকৃতিক সম্পদ অঞ্চল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। খামার, বনজ সম্পদ, খাদ্য, ভেষজ উদ্ভিদ পরিবেষ্টিত এই অংশ। মধ্যবর্তী মোটামুটি চারটি অঞ্চলে প্রসারিত সেগুলি হল — আবাসিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল, সাংস্কৃতিক (ও শিক্ষা) অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক অঞ্চল। শহরের অভ্যন্তর ভাগেও নগর ও নিসর্গের মেলবন্ধনের ব্যবস্থা আছে।
মাতৃমন্দির, অরোভিলের মধ্যমণি। বিচিত্র এই অরোভিলের নগর পরিকল্পনাটিও মনোমুগ্ধকর। নগর পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরের বাইরের দিকে ১.২৫ কি. মি. প্রশস্ত এলাকা হবে সবুজ গাছপালা পরিবেষ্টিত ‘গ্রিন বেল্ট’। এই অংশটি একইসাথে খাদ্য, প্রয়োজনীয় কাঠ, ওষুধের সরবরাহ ও বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সেইসাথে নগর ও নিসর্গের মধ্যকার সীমারেখাও এঁকে দেয় এই অংশটি। বর্তমানে এটি ৪০৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো অরোভিলই বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। গ্রিন বেল্টের পরের অংশে রয়েছে ৯৩ হেক্টরের ‘সাংস্কৃতিক এলাকা’। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলার বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এ অংশে। এরপরে রয়েছে ৭৩ হেক্টরের ‘আন্তর্জাতিক এলাকা’। এখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়ন থাকার কথা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্তরবিভক্ত এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ‘আবাসিক এলাকা’। ১৮৯ হেক্টরের এই আবাসিক অংশটিতে ৫৫% গাছপালা ও ৪৫% দালান-কোঠা নির্মিত হবার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ নগরের অভ্যন্তর ভাগেও নগর ও নিসর্গের মেলবন্ধনের ব্যবস্থা আছে।

অরোভিলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর হিসেবে তৈরি করার নিমিত্তে আবাসিক এলাকার পরে ১০৯ হেক্টর ‘শিল্প এলাকা’ রাখা হয়েছে। এখানে ছোট ও মধ্যম মানের শিল্পকারখানা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও শহরের প্রশাসন অবস্থিত। অরোভিলের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত ‘শান্তি এলাকা’। অরোভিলের ‘মাতৃমন্দির’, সংলগ্ন সুদৃশ্য বাগান, অ্যাম্ফিথিয়েটার ও মানব ঐক্যের নিদর্শন সেই শতাধিক দেশের মাটি দিয়ে ভরা পাত্রটি এই এলাকায় সংরক্ষিত। শহরের সামগ্রিক কাঠামোটি সর্পিলাকারে তৈরি।
১৯৮০ সালের আগে পন্ডিচেরির শ্রী অরবিন্দ সোসাইটি অরোভিলের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে ছিল। ১৯৭৩ সালে মিরা আলফাসার মৃত্যুর পরে এই সোসাইটির সাথে অরোভিলের অধিবাসীদের সম্পর্কে ফাটল ধরতে থাকে। ১৯৮০ সালে ভারত সরকার অরোভিল ইমার্জেন্সি প্রভিশন — ১৯৮০ অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে অরোভিলের ব্যবস্থাপনার ভার নিজের হাতে নিয়ে নেয়। যদিও প্রথম দিকে অরবিন্দ সোসাইটি অরোভিলের প্রশাসনে সরকারের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আপিল করে, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় সরকারের পক্ষেই যায়। এরপরে অরোভিলের জন্য একটি ত্রি-স্তরবিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর প্রবর্তন হয়। এই কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরে আছে ভারত সরকারের অনুমোদিত একটি গভর্নিং বোর্ড। এর সদস্য সকলেই শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও সমাজকর্মে অবদান রাখা প্রখ্যাত ভারতীয়। দ্বিতীয় স্তরে আছে একটি ৫ সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদ, যার সদস্যরা মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অরোভিলের অধিবাসী। তৃতীয় পর্যায়ে আছে অরোভিল ফাউন্ডেশন। এটি একজন চেয়ারম্যান দ্বারা পরিচালিত স্বতন্ত্র পরিষদ, যা ভারত সরকারের জনসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে থাকে। অর্থাৎ অরোভিলের প্রশাসনে জনপ্রতিনিধি রয়েছে, কিন্তু কোনো প্রত্যক্ষ সরকার ব্যবস্থা নেই।

অরোভিলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটিও বেশ বিচিত্র। এখানে নেই কোনো কাগুজে বা ধাতব মুদ্রার প্রচলন। একটি মূল অ্যাকাউন্টে শহরের প্রত্যেক অধিবাসীকে একটি অস্থায়ী অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। প্রত্যেকের কাছে থাকে ‘অরোকার্ড’ নামে এক ধরনের ডেবিট কার্ড। সব ধরনের লেনদেন এই কার্ডের মাধ্যমেই হয়। শহরের অর্থনীতির ৭০% আসে বাইরের অনুদান থেকে। এর মধ্যে ২৩% আসে সরকারী অনুদান থেকে, ২২% ভারতের নাগরিকদের অনুদান থেকে, আর ২৫% আসে বিদেশী পর্যটক ও শুভাকাঙ্খীদের অনুদান থেকে। এছাড়া শহরের প্রত্যেক অধিবাসীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক অনুদান দেওয়ার নিয়ম আছে। জনগণের অর্থনীতির উৎস হিসেবে আছে পর্যটন শিল্প, নির্মাণ শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা ইত্যাদি। প্রতিটি খাতের আলাদা আলাদা ইউনিট আছে। আশেপাশের এলাকাগুলো থেকেও প্রায় ৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অরোভিলের এই ইউনিটগুলোতে।
এখানে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ। অনেকের মতে যে পরিমাণ অর্থ ও বিদেশী অনুদান অরোভিলের অর্থনীতিতে প্রবেশ করে, তার তুলনায় এর উন্নয়নের গতি অনেক মন্থর। অনেক সমাজবিজ্ঞানীই এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট নন।
তবে তারপরেও বলতে হয়, যে লক্ষ্য নিয়ে অরোভিলের যাত্রা শুরু, তা আসলেই অনবদ্য। যদিও এর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এখনও অনেক দূরে, তবু এক টুকরো অরোভিল যেন আগামীর বৃহত্তর মানব ঐক্যের অগ্রদূত।
মনোজিৎকুমার দাস, প্রাবন্ধিক, লাঙ্গলবাঁধ, মাগুরা, বাংলাদেশ।