নেতাজি ইনডোরে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচি যেভাবে ঘোষণা হয়েছে তাতে আপ্লুত তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। শুধু আপ্লুত নন, তাঁরা চাঙ্গা। সভাস্থল থেকে বেরিয়েই তাঁরা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পিকচার কিংবা ডিপি বদলে নিয়েছেন জননেত্রীর ছবি, সঙ্গে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ লেখা দিয়ে। বলা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। প্রশান্ত কিশোরের টিম আইপ্যাক যেভাবে গোটা ব্যবস্থাপনা করেছিল তা রীতিমতো কর্পোরেট অনুষ্ঠানের মতো, চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছে। আর এর পিছনে যিনি নিরলস পরিশ্রম করে গোটা পরিকল্পনাটি পরিচালনা করেছেন সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ধন্য ধন্য করছেন বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের কর্মীরা। বিশেষ করে পুরানো দিনের কর্মীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে আসা এক তৃণমূল কর্মী বললেন, আমাদের এলাকার নেতারা এতদিন দিদির সভায় আসতে দিত না। অথচ সরকার গড়ার অনেক আগে, দলের জন্মলগ্ন থেকে পার্টি করি, বামেদের হুমকি সহ্য করেছি। তবু ঘাবড়াইনি। অথচ দেখলাম আমারই এলাকায় অন্য দল থেকে আসা লোকগুলো, যারা আমাদের হুমকি দিত, তারাই বড়ো নেতা হয়ে গেল। আজ সে সব ভুলে গেলাম, যেভাবে অভিষেক দাদা আজকের সভায় আমাদের আসার বন্দোবস্ত করলেন বারকোডওয়ালা বিমানের টিকিটের মতো দেখতে কার্ড দিয়ে, এতে আমার নামও লেখা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান থেকেও অনেকে এসেছিলেন, যাঁরা সামনে থেকে বসে দিদির কথা শুনতে পেলেন। কত বছর পর? অনেকে মনে করতে পারছেন না। তাঁরা বলছিলেন, স্করপিও, জাইলো, এসইউভি গাড়ি চড়ে এতদিন আমাদের ওখানকার নেতারা কলকাতায় আসতেন। সাধারণ কর্মীরা কীভাবে আসবেন তা নিয়ে তাঁরা মাথা ঘামাতেন না। অথচ আজ চিত্রটা বদলেছে। অভিষেকদা বলেছিলেন আজকের সভায় এমন কর্মীরা আসবেন যাঁরা বুক চিতিয়ে বুথে কাজ করেন, অথচ এতদিন ডাক পাননি। তাঁদের কাছে আমাদের দলের কর্মীরা কার্ড পৌঁছে দেবেন। ফেসবুকে অভিষেকদার কথা শোনার কিছু পরেই দেখলাম আমাদের হাতে কার্ড এসে গেল। জানেন, এমনও হয়েছে আমাদের এলাকার তাবড় নেতা এদিনের সভায় আসার জন্য যাদের নাম দিয়েছিল সেই তালিকাই বাতিল হয়ে গিয়েছে। কলকাতায় আসার সময় দেখছিলাম অনেকে এমন প্রশ্নও তুলেছেন, আজকের সভায় যারা গেছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় খতিয়ে দেখুক টিম পিকে! এখন ওদের গা তো জ্বলবেই। দিদি তো বলেই দিয়েছেন, পুরানো দিনের কর্মীদের ফিরিয়ে তাঁদের সম্মান দিতে হবে। নতুন-পুরানোরা মিলেমিশে ঔদ্ধত্য ঝেড়ে ফেলে কাজ করবে। ঔদ্ধত্যের জন্যই তো খারাপ ফল হয়েছে কয়েকটা জায়গায়। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে আসা একজন বলছিলেন, যে ভুলত্রুটি ছিল তা শুধরে নিচ্ছে দল। এইটা বামেরা করেনি বলেই বিদায় নিয়েছে। কিন্তু আমাদের দিদি আছেন, শুভেন্দুদা, অভিষেকদারা রয়েছেন। আমরা দিদির সৈনিকরা উত্তরবঙ্গে ভালো ফল করানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ব। দিদি তো বলেই দিলেন, যে ভালো কাজ করে সেই টিকিট পাবে। দেখবেন দলের এই সংশোধন খুব কার্যকরী হবে। এখন তো কোনও অভিযোগের সারবত্তা থাকলে যাতে ব্যবস্থা হয় তাও নিশ্চিত করেছেন দিদি। আর যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে না পেরে অন্য দলে যেতে চাইছে যেতে পারে, পচা আলুদের দরকার নেই। চুপচাপ দলবিরোধী কাজ করা, দুর্নীতিতে ফুলেফেঁপে ওঠার দিন শেষ। সুতো ছাড়া হচ্ছিল, সঠিক সময়েই দুধ-জল পরিষ্কার হয়ে গেল। দেখবেন, পুরভোটের টিকিট বন্টনও এবার স্বচ্ছ হবে। নেতাদের প্রভাব থাকবে না। কুড়ির তৃণমূল এক অন্য দিগন্তের দিশারী হবে।


