ত্রিপুরা পুলিশের কাছে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা করার কথা ছিল। কিন্তু ত্রিপুরা পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় সেই মিছিল করা যায়নি। পুলিশ নানা কারণ দেখিয়ে আগরতলায় মহামিছিলের অনুমতি বাতিল করে দেয়। কিন্তু তাতে যে তৃণমূল কংগ্রেসকে দমিয়ে রাখা যায় না বরং আরও বেশি উদ্যমী হয়ে ওঠে ঘাসফুল শিবির সে কথা বুঝিয়ে দিতেই যেন নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করে ত্রিপুরার ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিল তৃণমূল।
ত্রিপুরা থেকে পদ্ম বন সাফ করে সেখানে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর-পূর্বের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের এখনও অনেক দেরি কিন্তু তার আগেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় পদযাত্রা করার পরিকল্পনা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই পদযাত্রার অনুমতি দেয়নি ত্রিপুরার পুলিশ প্রশাসন। এমনকি তৃণমূল দিন পরিবর্তন করার পরও পুলিশের অনুমতি মেলেনি। তবে দমে যাওয়ার দল তৃণমূল নয়। ত্রিপুরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহামিছিলের আয়োজ ন যেকোনও উপায়ে সফল করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল।
১৫ তারিখের পর ১৬ তারিখেও ত্রিপুরা পুলিশ নানা কারণ দেখিয়ে আগরতলায় মহামিছিলের অনুমতি দেয়নি। এই নিয়ে তৃতীয়বার চিঠি পাঠাল তৃণমূল। আগের দুটি আবেদন ত্রিপুরা পুলিশ খারিজ করে দেওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরায় মিছিল করার কথা। সেই মিছিলের অনুমতিও কিছুতেই দিতে চাইছে না ত্রিপুরা পুলিশ। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও ছাড়তে রাজি নয়। বিপ্লব গড়ে ঝড় তুলতে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আগরতলায় বিরাট পদযাত্রা করবে তৃণমূল। তাই ১৬ তারিখ থেকেই সেখানকার তৃণমূল কর্মীরা প্রচারে নামছে বলে জানা গিয়েছে। ১৫ তারিখ অভিষেকের পদযাত্রা নিয়ে ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় সেই রাজ্যের নিয়ম অনুসারে কোনও মিছিল করতে গেলে লিখিত অনুমতি চাইতে হয় ৭২ ঘণ্টা আগে। সেই লিখিত চিঠি দেওয়া হয়নি তৃণমূলের পক্ষ থেকে। এমনটাই দাবি করা হয়েছিল।
পুলিশ আরও জানিয়েছিল যে যে রুটে তৃণমূলের মিছিলের কথা ছিল ওই দিনেই একই রুটে অন্য একটি দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। সেই দল আগেই লিখিত ভাবে মিছিলের অনুমতি চেয়েছে। তাই তাঁদের ১৫ সেপ্টেম্বর মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা পুলিশের কথা মেনে তৃণমূল বৃহস্পতিবার অভিষেকের শোভাযাত্রার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ১৭ তারিখ বিশ্বকর্মা পুজো তাই রাজ্য অশান্ত হতে পারে এই কারণ দেখিয়ে ১৬ তারিখও মেলেনি অনুমতি। তবে এবার আর কোনও ফাঁক রাখতে চায়নি তৃণমূল। আগে থেকেই অনুমতির জন্য আবেদন করে দিয়েছে। তবে এটাই দেখার আগামী ২২ তারিখ পদযাত্রার অনুমতি দেয় কিনা ত্রিপুরা পুলিশ।
প্রসঙ্গত, এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই সেই রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। আগরতলা বিমানবন্দরে অভিষেক পা দেওয়া মাত্র তাঁর গাড়িকে কালো পতাকা দেখানো হয়, গোব্যাক স্লোগান ওঠে, এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বৈঠক করে বিপ্লব দেব সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন ২০২৩-এ ত্রিপুরা দখল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। বলা যায় তারপরে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরার পদ্মবনে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা খেলা হবে দিবস থেকে শুরু করে রাখি উৎসব সবেতেই ত্রিপুরায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
ইতিমধ্যে ত্রিপুরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে পুলিশ মামলা করেছে। দলের যুব নেতাদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে খোয়াই থানায় ধরনা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে কেন তাঁদের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এই নিয়ে খোয়াই থানার ওসির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এরপরে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ৮ তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক এবং সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে খোয়াই থানার ওসি।
তৃতীয়বার বাংলা জয়ের পর ত্রিপুরাকে তৃণমূল কংগ্রেস পাখির চোখ করেছে। ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্যে তখন থেকেই কোমড় বেধেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। দলের একাধিক নেতা মন্ত্রী দফায় দফায় ত্রিপুরা সফর করছেন। সেখানে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে স্বয়ং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিল করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাোধ্যায়ের রোড শোয়ের পরেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা কররা কথা রয়েছে সেখানে। তা বলে কি বিজেপি হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবে? বিপ্লব দেব সরকার কি সহজেই ছেড়ে দেবে তাঁর মাটি? তাঁর হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিপ্লব যেন-তেন প্রকারেণ রুখতে চাইছেন তৃণমূলের প্রতিটি পদক্ষেপ। ফলে ত্রিপুরা অশান্ত। আরও বড় অশান্তি অপেক্ষা করছে আগামী দিনের ত্রিপুরায়।
অবশ্যই অনুমতি দিতেই হবে, কারণ বাংলার যুবরাজ সমস্থ্য আইন মেনেই ত্রিপুরার প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব কে ভয় পেয়েছে। তাই ত্রিপুরা তে বাংলার যুবরাজের নেতৃত্বে ত্রিপুরার জয় নিশ্চিত। জয় হিন্দ জয় বাংলা। তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ।