একই দিনে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দু দুটো দুঃসংবাদ পাবো ভাবিনি। ঋষি কাপুরের মৃত্যুর শোকের ঘোর কেটে ওঠার আগেই হারালাম আমার দাদা চুনী গোস্বামীকে। এমন স্নেহভাজন মানুষের সংস্পর্শে খুব কমই এসেছি জীবনে। আমার মত লক্ষাধিক মানুষ ওনার গুণমুগ্ধ। আমার মত তাঁরাও সবাই তাদের এক প্রিয় মানুষকে হারালেন।মাত্র আট বছর বয়সে মোহনবাগানের জুনিয়র দলে যোগদান করেন। তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। জুনিয়র এবং সিনিয়র দল মিলে টানা বাইশ বছর তিনি খেলেছেন মোহন বাগান ক্লাবের হয়ে। এর মধ্যে পাঁচটি মরসুমে অধিনায়কত্বও করেন তিনি। মোহন বাগানে খেলার পাশাপাশি তিনি ভারতের হয়ে খেলেন পঞ্চাশটি ম্যাচ, যার মধ্যে ঐতিহাসিক এবং চিরস্মরণীয় হয়ে আছে ১৯৬২-তে তাঁর অধিনায়কত্বে এশিয়ান গেমস-এ সোনার পদক জয়।ফুটবলের পাশাপাশি সমান দক্ষতার সাথে বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটও খেলেন তিনি।

যার মধ্যে তাঁর অধিনায়কত্বে ১৯৭২-এ বাংলার রঞ্জিতে “রানার-আপ” হওয়ার গৌরবময় ইতিহাস জড়িয়ে আছে।আরেকজন এমন খেলোয়াড় পাওয়া খুবই কঠিন যিনি একই সাথে প্রথম শ্রেণীর ফুটবল ও ক্রিকেট সমান দক্ষতায় খেলে গেছেন। এমনকি শোনা যায় বিদেশী ক্লাবের ডাক প্রত্যাখ্যান করে উনি নিজের গোটা ফুটবল জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন মোহন বাগানের হয়ে খেলে। এই নজিরও ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসে বিরল।সব শেষে ওনার পরিবারের সবার প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁর পরিবারের সাথে আমার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক। চুনী গোস্বামী আমার নিজের দাদার থেকে কম কেউ ছিলেন না। আজ আমি আবার আমার এক অভিভাবককে হারালাম। ঈশ্বর ওনার পরিবারকে শক্তি দিন আর ওনাকে নিজের পদতলে আশ্রয় দিন, এটাই আমার কাম্য।