উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানগুলো খুলতে জরুরি পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে ডুয়ার্সের তিনটি বন্ধ চা বাগান খোলার জন্য নতুন মালিক খোঁজা হয়েছিল আগেই। ওই সব চা বাগানের জমির লিজ হস্তান্তর করতে কিছুদিন আগেই টেন্ডার ডাকে রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার মধু চা বাগান ও বান্দাপানি চা বাগান এবং জলপাইগুড়ি জেলার সুরেন্দ্রনগর চা বাগান। তিনটি চা বাগানই বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ।
এবার ডুয়ার্সের বাগরাকোট চা বাগান। এই বাগান খোলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছিল। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে প্রচারে এসে মোদী-শাহ বলেছিলেন তাঁরা উত্তরবঙ্গের সমস্ত বন্ধ চা বাগান খুলে দেবেন। কিন্তু কথবা রাখেন নি। সাংসদ জন বারলাও কোন দিশা দেখাতে পারেন নি। শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে খুলেছে ডানকানস গোষ্ঠী পরিচালিত ডুয়ার্সের বাগরাকোট চা বাগান। লকডাউনে বাগান খোলায় খুশির মেজাজে স্থায়ী শ্রমিক শুকনু ওরাওঁ, বিরসু লোহার থেকে শুরু করে ইলেকট্রিশিয়ান দিলীপ শর্মা, শ্রমিক নেতা সরোজ ছেত্রী, লরেন্তুস লাকড়া, নির্মল ছেত্রী, আমির ছেত্রী-সহ সবাই।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে শ্রমিক স্বার্থ বিবেচনা করে রবিবার শিলিগুড়ী দাগাপুর শ্রমিক ভবনের কনফারেন্স হলে মন্ত্রী বুলু চিক বরাইকের উপস্থিতিতে, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও অপারেটিং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক ত্রিপাক্ষিক মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় ১ জুলাই থেকে বাগরাকোট চা বাগানের কাজ ফের শুরু হবে। ডানকান গ্রুপ বাগান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকরা, অসহায় হয়ে পড়ে। ডানকান গ্রুপ দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর সামেরিয়ান টি এন্ড বেভারেজেস, রাজ্য সরকারের কাছে বাগান কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করায় রবিবার এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাগান খোলার সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৫ সাল থেকে বহু আন্দোলনের পরও চা বাগানের হাল ফেরেনি। একে একে সমস্ত সুযোগসুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইদানীং ন্যূনতম মজুরিটুকুও মিলছিলো না। চা পর্ষদের নির্দেশ মেনে বাগানের কাঁচা পাতা তোলা বন্ধ। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নির্মাণকারী সংস্থার তরফে ৩০,০০০ গাছ কাটার ক্ষতিপূরণ হিসেবে গোয়েঙ্কা গোষ্ঠীর হাতে ১০ কোটি ৩৪ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৮১ টাকার তহবিল তুলে দেওয়া হলেও তার কানাকড়িও শ্রমিকদের বকেয়া মেটানোর জন্য খরচ করেনি মালিকপক্ষ। এরপরই সিদ্ধান্ত হয় বাগান হস্তান্তর করা হবে।
এখন এই চা বাগানের শ্রমিকের সংখ্যা ১,২০০। বন্ধ থাকাকালীন অনাহার অপুষ্টিতে প্রায় ৪০ জন শ্রমিক মারা গিয়েছে। তখন চা বাগান মজদূর ইউনিয়ন-সহ সমস্ত শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই শ্রমিকদের পাশে দাড়িয়েছিলেন। আশা করা যায় চা বাগান খুলে গেলে শ্রমিকরা আবার আগের অবস্থায় ফেরবেন। মন্ত্রী বুলুচিক বড়াইক বলেন, রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ধীরে ধীরে শ্রমিকদের বকেয়া দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে খুশি চা বাগানের শ্রমিকেরা।