বিদেশে আলু রপ্তানি বন্ধ। বাইরের রাজ্যে পাঠানোয় নিষেধাজ্ঞা। হিমঘরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে দিনের পর দিন আলুর দাম তলানিতে ঠেকেছে। চাষিরা পড়েছেন চিন্তায়। ব্যবসায়ীদেরও কপালে ভাঁজ। সরকার অবিলম্বে চিন্তাভাবনা না করলে হিমঘরে প্রচুর আলু মজুত থেকে যাবে।
প্রসঙ্গত, সবথেকে বেশি আলু উৎপাদন হয় হুগলির আরামবাগ, পুরশুড়া, গোঘাট, খানাকুল, তারকেশ্বর, হরিপাল, সিঙ্গুর, ধনেখালিতে। বাংলায় যে যে জাতের আলু চাষ হয় প্রধানত জ্যোতি, হেমাঙ্গিনী, চন্দ্রমুখী, পোখরাজ, কলম্বো, সুপার-৬ ইত্যাদি। প্রতিদিন হিমঘরগুলি থেকে যে পরিমাণ আলু বের হচ্ছে তা রাজ্যের বাজারগুলিতে ঘোরাঘুরি করছে। আলু বাইরে না যাওয়ার দরুন দাম পাচ্ছেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। না পাওয়ার কারণ চাহিদার তুলনায় হিমঘরে এখনও বাড়তি আলু মজুত রয়েছে। বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানোয় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশে আলু রপ্তানি বন্ধ। সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু কেনেনি। ফলে হুগলি, বর্ধমান ও হাওড়ার হিমঘরগুলোতে এখনও অতিরিক্ত আলু মজুত রয়েছে। রাজ্যে এ বার মোট আলু চাষ হয়েছিল প্রায় ৩৫ লক্ষ বিঘা জমিতে। বিঘা প্রতি আলুর উৎপাদন প্রায় ৩৭৫০ কেজি । উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি ২৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।এ রাজ্যে বছরে আলু উৎপাদন হয় ৯০-১২০ লক্ষ মেট্রিক টন। রাজ্যবাসীর চাহিদা ৬০-৭০ লক্ষ মেট্রিক টন।
এই মুহূর্তে আলু মজুত আছে আনুমানিক ৫৭ লক্ষ মেট্রিক টন। হিমঘরগুলোতে এখনও দু’বছরের আলু মজুত আছে। নিষেধাজ্ঞার জন্য বাইরে আলু পাঠানো যায়নি। ফলে আলুর বাজার ওঠেনি। তাই আলু চাষিদের এ বার প্রচুর টাকা লোকসান হয়েছে। সরকার যদি বেশি করে আলু কিনে নেয় এবং রাজ্যের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তবেই কিছুটা রক্ষা হতে পারে। রাজ্য প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায় জানান, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী চাষিদের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। এ ক্ষেত্রেও তিনি নিশ্চয়ই কিছু একটা করবেন।
রাজ্য প্রোগ্রেসিভ পোট্যাটো ওয়াকার্স অ্যান্ড ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের কনভেনর স্বপন সামন্ত বলেন, আমি দু’বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। মোট ৬৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আলু পেয়েছি ১৫০ বস্তা। আর এখন বস্তা পিছু আলুর দাম (খাড়াবন্ড) ৩৩০ টাকা। আমার প্রায় ২৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সরকার যদি কিছু আলু কিনে নেয়, তা হলে লোকসানের বোঝা কিছুটা কমবে। আরামবাগের কোরোলা গ্রামের আলু চাষি সৌমেন কোলের মতে বহু বছর ধরে আমরা আলু চাষ করেছি। কিন্তু এ বার ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। সরকার যদি আমাদের পাশে না থাকে, তা হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। জয়রামপুরের আলু চাষি মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের রাজ্যের আলু বাইরে যেতে না দেওয়ার জন্য দাম বাড়ছে। তাছাড়া এখন বাইরের রাজ্যগুলো নিজেরাই আলু চাষ করছে। ফলে বাংলার আলু বিক্রি হচ্ছে না। সরকারের ভুলে চাষিরা আজ পথে বসেছেন।