একে অদ্ভুতুড়ে ঘটনা বলবেন নাকি অন্য কিছু। তবে ধনিয়াখালির চীনাগর গ্রামের এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। যার ব্যাংকে নেই অ্যাকাউন্ট তার মোবাইলে ফোনে ঢুকছে লক্ষ টাকা জমা পড়ার মেসেজ। আরও আশ্চর্যের বিষয় দু-দিন পরই সেই টাকা তুলে নেওয়ার মেসেজ ঢুকছে মোবাইলে। ব্যাঙ্কের নাম বন্ধন। শাখা ধনিয়াখালি মদনমোহন তলা। এই ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কিত ধনিয়াখালি এলাকার ভান্ডারহাটি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চীনাগর গ্রামের মানুষজন। ওই গ্রামে একটি আদিবাসী পাড়ার দশ-বারো জনের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। যার কোনও কার্যকারণ বুঝতে পারছেন না। ফলে তারা ভয় পেয়ে গিয়েছেন।
প্রায় এক বছর আগে ঠিক এমনই এক ঘটনায় শোরগোল পড়েছিল কালনা ১-এর নান্দাইয়ে। সেখানেও কারও ১০ হাজার, কারও ৩৫ হাজার, কারও আবার এক লক্ষ টাকা ঢুকছিল ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে! কোথা থেকে টাকা ঢুকছে, তা অনেক প্রাপকের কাছে স্পষ্ট না-হলেও, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের স্থানীয় শাখার ম্যানেজার অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেন, টাকা ঢুকেছে কৃষি বিমা কোম্পানি থেকে।
আর ধনিয়াখালি এলাকার চীনাগর গ্রামের মানুষদের অ্যাকাউন্ট-এ টাকা ঢুকেছে বন্ধন ব্যাঙ্কের ধনিয়াখালি মদনমোহন তলা শাখা থেকে। এই বেসরকারি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ বছর হতে চললো তাদের পথা চলা শুরু করেছে। সাশ্রয়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও নিজেদের ভিত শক্তিশালী করেছে। যতদুর জানা যায় ব্যাংকিং ক্ষেত্রে সার্বিক ও দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনের উপরেই তারা জোর দেয়।

অথচ চীনাগর গ্রামের ওই মানুষেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা ধনিয়াখালি মদনমোহন তলা এলাকার বন্ধন ব্যাঙ্কে কোনোদিন যাননি, এমনকি ব্যাঙ্কের ওই শাখায় কোনো অ্যাকাউন্টও তাদের নেই। তাহলে কিভাবে তাদের বাড়িতে পৌঁছে গেল ওই শাখার চেক বুক ও পাশ বুক। মাস খানেক আগেই ওইসব মানুষদের ঠিকানায় ডাকযোগে চেক বুক ও পাশবই এসে পোঁছায়। এর দুদিন পর থেকেই মোবাইল নম্বরে টাকা লেনদেনের মেসেজ আসতে থাকে। টাকার পরিমাণও তো কম নয়। তাই দেখে চক্ষু চরক গাছ তাদের।
চীনাগর গ্রামে যে সব মানুষদের মোবাইল ফোনে লাখ টাকা লেনদেনের মেসেজ এসেছে তাদের সবাই প্রায় দিন মজুর। কেউ জমিতে শ্রমিকের কাজ করেন। অবাক কাণ্ড; যাদের কারো কোনো জমিই নেই অথচ ধান বিক্রির লক্ষ লক্ষ টাকা জমার মেসেজ ঢুকছে তাদের মোবাইল ফোনে।
ব্যাঙ্কের এই অদ্ভুতুড়ে ঘটনা নিয়ে বন্ধন ব্যংকের ওই শাখায় যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীন ব্যংকের প্রাক্তন ম্যানেজার সহদেব বাবু জানান, ব্যংকের কিছু কর্মী সাধারণ মানুষের নথি জোগাড় করে এই ধরণের জালিয়াতি করে। ব্যংকের কোনো কর্মী যুক্ত না থাকলে এই ধরণের ঘটনা কখনই সম্ভব নয় বলে জানান প্রাক্তন পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীন ব্যংকের ওই ম্যানেজার।