রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষ পঞ্চানন কুশারী কবিয়াল ছিলেন কিনা সে ব্যাপারে কোনও দিগগজ গবেষক মুখ খোলেননি।
বারবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করেও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কোনও জবাব পাইনি।
ব্রাহ্মণ কবিয়ালদের পদবি লোকমুখে পালটে ঠাকুর হয়ে যেত। এইভাবেই পঞ্চানন কুশারীর পদবি পালটে ঠাকুর হয়। পরবর্তীকালে হরু ঠাকুর, নীলু ঠাকুর, রামপ্রসাদ ঠাকুর, মনোরঞ্জন ঠাকুর, নিমচাঁদ ঠাকুর, মধু ঠাকুর পদবিবদলের সাক্ষ্য দিচ্ছেন। হরু ঠাকুরের পূর্বাশ্রমের নাম হরেকৃষ্ণ দীর্ঘাঙ্গী। নীলু ঠাকুর ও রামপ্রসাদ ঠাকুরে পূর্বাশ্রমের পদবি চক্রবর্তী। পঞ্চাননের মতো তাঁদেরও মূল পদবি বদলে ঠাকুর হয়ে গিয়েছিল কবিয়াল হওয়ায়। হরু ঠাকুর আর নীলু ঠাকুরের বিষয়টি জানি অরুণকুমার সেন সম্পাদিত সটীক হুতোম প্যাঁচার নকশা বইটির পাদটীকা থেকে। রাজা নবকৃষ্ণদেবের সভার কবিয়াল হওয়ায় হরেকৃষ্ণ দীর্ঘাঙ্গী বা দীঘাড়ির পদবি পাল্টে ঠাকুর হয়। তিনি পরিচিতি পান হরু ঠাকুর নামে।
সম্প্রতি একটি পুরনো ইংরেজি বই হাতে পেলাম। বইটির নাম ‘The Tagore Family, a Memoir’। লেখকের নাম James W. Furrell, বইয়ের প্রকাশকাল ১৮৮২। লন্ডনের একটি প্রেস থেকে বইটি ছাপা হয়েছিল।
লেখক লেখার রসদ সংগ্রহ করেছিলেন পাথুরিয়াঘাটা ঠাকুরবাড়ির বিদ্বান নাট্যকার ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিত্ব যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের কাছ থেকে। ভূমিকায় ১৮৭০ সালে প্রকাশিত কিশোরীচাঁদ মিত্রর দ্বারকানাথ ঠাকুরের জীবনীগ্রন্থকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন লেখক।
বইটির লেখক James W. Furrell প্রমাণ করতে চেয়েছেন, ভট্টনারায়ণ থেকে দ্বারকানাথ ঠাকুর ও তাঁর বংশধররা বংশগতির ধারায় সৃষ্ট একটি সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত মানবগোষ্ঠী। তাঁদের জিনের মধ্যে প্রজ্ঞা ও প্রতিভা পরতে পরতে জড়িয়ে আছে।
পঞ্চানন কুশারীও কোনও জাহাজের খালাসি ছিলেন না, সাংস্কৃতিকভাবে অত্যুৎকৃষ্ট এই শ্রেণির প্রতিভূ হিসেবে তিনি ‘ঠাকুর’ সম্মান অর্জন করেছিলেন। কোনও জেলে-মালো-কৈবর্তের ‘ঠাকুরমশাই’ ডাকের ফলশ্রুতিতে তিনি ঠাকুর হয়ে যাননি। তাই পঞ্চাননের কবি বা কবিয়াল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।
কলকাতার ঠাকুরবংশের কথা বারে বারে লেখার একটাই কারণ, এঁদের ছাড়া বঙ্গসংস্কৃতির উৎকর্ষসাধন কোনও মতেই সম্ভব হতো না। পাথুরিয়াঘাটার সিনিয়র ব্রাঞ্চ, জোড়াসাঁকোর জুনিয়র ব্রাঞ্চ, যাদের কথাই ধরা হোক না কেন, সাহিত্যসংস্কৃতির পীঠস্থান ছিল এই দুই জায়গার ঠাকুর-ভবন।
ভট্টনারায়ণ হলেন আদিশূর কর্তৃক বঙ্গে আনীত কান্যকুব্জের বৈদিক পঞ্চব্রাহ্মণের অন্যতম। তিনি ছিলেন শাণ্ডিল্য গোত্রের ব্রাহ্মণ। অন্য চারজন ছিলেন শ্রীহর্ষ, দক্ষ, ছান্দড় ও বেদগর্ভ। ভট্টনারায়ণ রাঢ়ের পঞ্চকোটে বাসস্থান পান। তাঁর তীর্থাবাস ও চতুষ্পাঠী ছিল কালীঘাটে। তিনি প্রসিদ্ধ সংস্কৃত নাটক বেণীসংহার-এর রচয়িতা। মহাভারতের সভাপর্বে দুঃশাসনের হাতে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের ঘটনাকে উপজীব্য করে রচিত এই নাটক সংস্কৃত নাটকের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে।
কলকাতার ঠাকুর বংশের সৃষ্টি ভট্টনারায়ণের ষোলজন পুত্রের অন্যতম নানু বা নৃসিংহ কুশারীর সময় থেকে। সাহিত্যসৃষ্টি ও কাব্যপ্রতিভায় বরাবরই, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে, এই বংশ আমাদের মুখোজ্জ্বল করেছে।
ভট্টনারায়ণের অষ্টম প্রজন্মের দুই ভাই ধরণীধর ও বলরাম। ধরণীধর ছিলেন পণ্ডিত মানুষ। তিনি’ মনুসংহিতা ভাষ্য’-র রচয়িতা। বলরামও ছিলেন সে সময়কার নামকরা লেখক।
ধরণীধরের নাতির নাম ছিল ধনঞ্জয়। তিনি বল্লাল সেনের রাজসভার বিচারকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনিও ছিলেন বিশিষ্ট লেখক। তিনি বৈদিক ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে একটি পুস্তক রচনা করেন। বইটির নাম ‘নিঘণ্ট’।
এরপর ধনঞ্জয়ের পুত্র হলায়ুধ-এর নাম করতে হয়। তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর লক্ষ্মণ সেনের প্রধানমন্ত্রী। তিনিও ছিলেন প্রতিভাবান লেখক ও গণিতজ্ঞ। তাঁর রচিত পুস্তকগুলির নাম ব্রাহ্মণ, সারভাষা, ন্যায়, পণ্ডিত, শিব, মৎস্য, শাক্ততন্ত্র, মৃতসঞ্জীবনী, অভিধান রত্নমালা ও কবিরহস্য।
হলায়ুধের পুত্র ছিলেন বিভু। বিভুর দুই পুত্র মহেন্দ্র ও গণেন্দ্র। এঁরা পাণ্ডিত্যের কারণে সেন রাজবংশের উত্তরসূরীদের কাছে ও সাধারণ্যে বড় কুমার ও ছোট কুমার নামে পরিচিত ছিলেন। মহেন্দ্রর চতুর্থ প্রজন্মের বংশধর রাজারাম ছিলেন বিখ্যাত লেখক।তিনি ও তাঁর নাতি জগন্নাথ কুশারী, দুজনেই ছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত, তদুপরি জগন্নাথ কুশারী ‘পণ্ডিতরাজ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
জগন্নাথের পুত্র পুরুষোত্তম কুশারী থেকে ঠাকুরবংশের বর্তমান ধারার সাক্ষাৎ উদ্ভব। পুরুষোত্তম নিজেও ছিলেন কেউকেটা লেখক। তিনি অনেক গ্রন্থের রচয়িতা। প্রয়াগ রত্নমালা, মুক্তি চিন্তামণি, ভাষাবৃতি, ত্রিকাণ্ড শেষ, একাসারা কোষ, হরলতা, হারাবলি ও গোত্রপ্রভার দর্পণ নামক বিখ্যাত গ্রন্থ তাঁর সৃষ্টি। তাঁর পুত্র বলরাম প্রহদ প্রক্ষা নামক গ্রন্থের রচয়িতা।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাত্যহিক প্রভাতী মন্ত্র ছিল —
পুরুষোত্তমাদ্বলরামঃ বলরামদ্বাহরিহরঃ
হরিহরাদ্রামানন্দঃ রামানন্দান্মহেশঃ
মহেশাৎ পঞ্চাননঃ পঞ্চাননজ্জয়রামঃ
জয়রামন্নীলমণিঃ নীলমণে রামলোচনঃ।
পুরুষোত্তমের পঞ্চম প্রজন্মের বংশধর পঞ্চানন পাণ্ডিত্যের জন্যে ঠাকুর উপাধি পেয়েছিলেন বলে জানাচ্ছেন ফারেল সাহেব। কোনও জেলে-মালো-কৈবর্তের ‘ঠাকুরমশাই’ বলার গল্প তিনি লেখেননি। ভট্টনারায়ণ থেকে বৈদিক বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের বংশধারার সন্তান হিসেবেই তিনি পঞ্চানন কুশারীর ঠাকুর-উপাধিপ্রাপ্তির বিবরণ দিয়ে গেছেন। তাই পঞ্চাননের কবিয়াল হওয়ার সম্ভাবনা মোটেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
যাঁরা ভাবছেন এটা পাগলের প্রলাপ, ফারেল সাহেবের মত ও যুক্তি তাঁদের বিপক্ষে যাবে। কবিয়াল হরু ঠাকুর তাঁর ঠাকুর পদবি পেয়েছিলেন রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সভার কবিয়াল হওয়ার সূত্রে। পঞ্চানন ও জয়রাম কুশারীর সঙ্গে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যের বহু লিখিত ও অলিখিত প্রমাণ আছে। তার সূত্রেই হয়ত তাঁদের ঠাকুর উপাধি প্রাপ্তি ঘটেছিল।
পঞ্চাননপুত্র জয়রাম ও রামসন্তোষও ফ্রেঞ্চ, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ছিলেন। যা তাঁদের ব্যবসাবাণিজ্য ও চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সুবিধে পাইয়ে দিয়েছিল।
পারিবারিক কলহের জন্যে কাকা শুকদেবকে নিয়ে পঞ্চানন কুশারী খুলনার পিঠাভোগের বাড়ি ছেড়েছিলেন। রূপসা নদী বেয়ে অনেক ঘাটের জল খেয়ে এ বঙ্গে আসেন। বাড়িপালানো কবি ঈশ্বর গুপ্তও কিছুকালের জন্যে কবিগানের দলে নাম লিখিয়েছিলেন। পল্লীকবি জসীম-উদ্দিন, কাজী নজরুলও প্রথমজীবনে কবিগানের দলে ভিড়েছিলেন। যদিও স্বল্পকালের জন্যে। কৈশোরকালে সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ আলকাপের দলে যোগ দিয়ে একবার বাড়ি ছেড়েছিলেন ছেলেবেলায়। অর্থাৎ গানবাজনার দলে ভিড়বার জন্যে ঝগড়া করে বাড়ি ছাড়াটা ছিল বহুযুগের ট্রেন্ড।
কলকাতার গোবিন্দপুরে পঞ্চানন ও শুকদেব নাকি জাহাজে পণ্যসরবরাহ করতেন। ইংরেজিতে তাদের বলত Stevedore। ঠতার মধ্যে জল, খাদ্যসামগ্রী, পালের কাপড়, দড়ি যেমন থাকত, জাহাজ নোঙর করা অবস্থায় জাহাজের ডেকে কবির লড়াই, তরজা, গাজনের দলের স্বল্পকালীন আমোদপ্রমোদের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। এর দায়িত্বও নিতে হতো পঞ্চাননকে। অসম্ভব কিছু নয়। নিজে কবিয়াল বলে তাঁর পক্ষে তদারকি করা সহজ হত।
ব্রিটিশ আমলে রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সভাকবিয়াল হরু ঠাকুর সাহেবদের কবিগানে মজিয়েছেন। বুঝুন না বুঝুন, সাহেবমেমরা তাতে আমোদিত হতেন নিশ্চয়। পঞ্চানন কুশারী তথা ঠাকুর কলকাতার প্রথম কালেক্টর র্যাল্ফ শেলডনকে যে কবিগানে মজিয়ে ১৭৪২-এ কলকাতার প্রথম জরিপের সময় তাঁর দুই পুত্র জয়রাম ও সন্তোষীরামকে আমিনের পদ জুটিয়ে দেননি, তা কে বলতে পারে!
কবি ঈশ্বর গুপ্ত কবিয়ালদের ইতিহাস লিখতে গিয়ে প্রথম কবিয়াল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গোঁজলা গুঁইকে। তাঁর জন্ম ১৭০০ (১৭০৪?) সালে। কিন্তু তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম খুঁজে পাননি। সময়কাল অনুযায়ী পঞ্চানন কুশারী হতে পারেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। কারণ ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী পঞ্চানন কুশারী ১৭০০ থেকে ১৭২০র মধ্যে কলকাতা-গোবিন্দপুরে বসত গাড়েন কাকা শুকদেব কুশারীকে নিয়ে।
পঞ্চানন কুশারী একটি শিবমন্দির স্থাপন করেছিলেন গোবিন্দপুরের ধনসায়রে। শিবমন্দিরকে ঘিরে গাজন, বোলান, কবিগানের আয়োজন হওয়ার চল ছিল সেযুগে। পঞ্চাননও সক্রিয়ভাবে সেই কবির লড়াইয়ে অংশ নিতেন। শিবমন্দির চত্বরে কবিগানের সেই ট্র্যাডিশন এখনও বাংলায় চলছে।
মূলত অশ্লীল খেউড় অংশের জন্যে রবীন্দ্রনাথ কবির লড়াই সম্বন্ধে বীতস্পৃহ হলেও স্বীকার করেছিলেন, তিনি যদি গ্রামের দরিদ্র কৃষকের ঘরে জন্মাতেন, তাহলে হয়তো তাঁকে কবিগানের দলে নাম লেখাতে হত, গ্রামে গ্রামে বাউল-বাউন্ডুলের মতো ঘুরতে হত।
‘জাপানযাত্রী’ -তে কবিগুরু লিখেছেন,
“ডেকের উপর বিছানা করে যখন শুলুম তখন বাতাসে এবং জলে বেশ একটা কবির লড়াই চলছে; একদিকে সোঁ সোঁ শব্দে তান লাগিয়েছে, আর-একদিকে ছল্ ছল্ শব্দে জবাব দিচ্ছে, কিন্তু ঝড়ের পালা বলে মনে হল না। আকাশের তারাদের সঙ্গে চোখোচোখি করে কখন এক সময়ে চোখ বুঝে এল।
রাত্রে স্বপ্ন দেখলুম, আমি যেন মৃত্যু সম্বন্ধে কোনো একটি বেদমন্ত্র আবৃত্তি করে সেইটে কাকে বুঝিয়ে বলছি। আশ্চর্য তার রচনা, যেন একটা বিপুল আর্তস্বরের মতো, অথচ তার মধ্যে মরণের একটা বিরাট বৈরাগ্য আছে। এই মন্ত্রের মাঝখানে জেগে উঠে দেখি, আকাশ এবং জল তখন উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। সমুদ্র চামুণ্ডার মতো ফেনার জিব মেলে প্রচণ্ড অট্টহাস্যে নৃত্য করছে।”
কবিগুরু একটি কবিতাতেও লিখেছেন, —
‘কবির লড়াই লাগল যেন
আকাশে বাতাসে’।
তিনি শান্তিনিকেতনে কয়েকবার কবিয়াল গুমানী দেওয়ানকে ডাক দিয়েছিলেন তাঁকে কবিগান শোনানোর জন্যে। গুমানী দেওয়ান ছিলেন সেযুগের অন্যতম সেরা কবিয়াল।
কবিয়াল রমেশ শীল ও গুমানী দেওয়ানের মধ্যে কবিগানের ডুয়েটের আয়োজন করা হয়েছিল কলকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে। অমীমাংসিত সে লড়াইয়ে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল রমেশ শীলকে। সেই পুরস্কার অর্পণের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয় রবীন্দ্রনাথের উপর।
অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ কবিগান ও কবির লড়াই নিয়ে ভালোই ওয়াকিবহাল ছিলেন।
এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখে কিছুটা ইনটুইশন কাজে লাগিয়ে এমন সিদ্ধান্তে আসাই যায় যে, জাহাজের স্টিভডোর হলেও পঞ্চাননের পক্ষে শখের কবিয়াল হওয়ার ষোলো আনা সম্ভাবনা ছিল। সেই কবিয়ালের জিন নীলমণি ঠাকুর, রামলোচন ঠাকুর ও দ্বারকানাথ-দেবেন্দ্রনাথ হয়ে রবীন্দ্রনাথের রক্তেও বহমান হল। এ নিয়ে আরও বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা দরকার। বনগাঁর কবিগান আকাদেমি স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস মহাশয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হল কি? কাঁধে ঝোলা, একমুখ দাড়ি নিয়ে যাঁরা ওখানে যান, তাঁরা রবীন্দ্রনাথের বংশে কবিয়ালের জিন নিয়ে কোনও গবেষণা করেননি এখনও পর্যন্ত। রবীন্দ্রভারতী ও বিশ্বভারতীও নীরব। কবিগুরুর পূর্বপুরুষ খালাসি ছিলেন, এটা ভেবেই ওঁদের মহা ফুর্তি, খালাসিটোলায় খোঁজখবর নিয়েছিলেন কিনা ওঁরা, সেটা অবশ্য জানা যায় না।