| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

বাংলা একাডেমির ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : লিখছেন ড. মিল্টন বিশ্বাস

Reporter
ড. মিল্টন বিশ্বাস / ৪৬৬ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

৩ ডিসেম্বর ঢাকায় অবস্থিত ‘বাংলা একাডেমি’র ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বর্তমান মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং সভাপতি বিশিষ্ট লেখক বঙ্গবন্ধু-অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকাশনা করে এই প্রতিষ্ঠানটি দেশ-বিদেশে খ্যাতির শীর্ষে উন্নীত। যেমন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এ প্রকাশিত নতুন বইয়ের সংখ্যা হলো ৪১টি এবং পুনর্মুদ্রিত বই ৫৩টি। এখন বাংলা একাডেমি প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জাতির মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উচ্চমানের স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠেও বিবৃত হয়েছে একাধিকবার।অবশ্য এই রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকাও ছিল এক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। ‘জনগণের জন্য একটা সুন্দর, উন্নত জীবন উপহার দেব’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রত্যয় কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং জনগণের চেতনা বিস্তারে তিনি কাজ করে চলেছেন সাংস্কৃতিক জগত বিনির্মাণে। গত সাড়ে ১১ বছর (২০০৯-২০২০) একটানা ‘বাংলা একাডেমি’র অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেছেন তিনি। ২০০৯ সালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘একুশে আমাদের আনন্দের এবং গৌরবের দিনও বটে। জাতীয় সীমানা পেরিয়ে এ দিনটি আজ বিশ্বজনীন মানব সভ্যতার অংশ। আপনারা জানেন, ইতঃপূর্বে আমরা সরকারে থাকতে বাংলা একাডেমিতে ১৯৯৮ সালে একুশতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। বাংলা একাডেমি-সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-শিল্পকলাকে কেন্দ্র করে ‘সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয়’ তৈরির কাজও আমরা শুরু করেছিলাম। ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রকল্প’ গ্রহণ করেছিলাম।… আজ দুঃখের সাথে বলতে হয়, পরবর্তী সরকার(বিএনপি-জামায়াত) ক্ষমতায় এসেই এসব প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। জাতি দেখেছে কীভাবে দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের পরিবর্তে দলীয় রাজনীতি ও প্রতিহিংসাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। আপনারা জানেন, এবার আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছি, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্পকলা ও সৃজনশীল সকল কাজ রক্ষা ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেব। আমাদের সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’

অর্থাৎ ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা তাঁর অভীষ্ট কার্যক্রম শুরু করেন। এজন্য তিনি নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন। কিন্তু ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়ত  জোট সরকার তাঁর সকল শুভ প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয়। সৃষ্টি হয় সাংস্কৃতিক নৈরাজ্য। আমরা জানি, ‘বাংলা একাডেমি’র মতো প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ভাষা, সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এদেশে ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা বিস্তারের অন্যতম অনুঘটক। অথচ বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। সেসময় বাংলা একাডেমি পরিণত হয়েছিল মূর্খদের আস্তাবলে, অপশক্তির কব্জায় ছিল আবদ্ধ। আওয়ামী লীগ সরকার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ সালকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করে। এর মধ্যে জাতির পিতার জন্মশত বর্ষ (২০২০) এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে (২০২১) বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে আমরা দেখব। মানুষের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও দিনবদলের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামীতে আরো অগ্রসর হবে এদেশ। শেখ হাসিনা নিজে জানেন অমর একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই লেখা, প্রকাশনা ও বিপণনে জোয়ার আসে। একুশে বই মেলা থেকে প্রতিবছর সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশ ও বিক্রি হয়ে থাকে। তবে এখন দরকার বই-এর মূল্য হ্রাস এবং মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করা। বিশেষ করে ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বিশ্বমানের সাহিত্যের প্রকাশনার দিক থেকে আমাদের পিছিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে উচ্চমান সম্পন্ন লেখা- তা গল্প-উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ বা গবেষণা অভিসন্দর্ভ – যা-ই হোক পেতে হলে লেখকদের উপযুক্ত সম্মানী ও প্রণোদনা না দিলে ভাল কিছু আশা করা যাবে না। শেখ হাসিনার মতে, একটি বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষিত, মার্জিত, রুচি-সম্পন্ন সংস্কৃতিবান সমাজ গড়ে তুলতে যেমন বই-এর ভূমিকা অপরিসীম, তেমনি লেখক-প্রকাশক-পাঠক সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যতিরেকে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারব না। তিনি বলেছেন, ‘বই মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। মানুষের নিঃসঙ্গতা বা একাকীত্ব দূর করতে বই পালন করে থাকে এক অসামান্য ভূমিকা। আমি নিজে তার প্রমাণ। জেলখানার নিঃসঙ্গ দিনগুলোতে বই ছিল আমার একমাত্র সঙ্গী। বই ছাড়া সেই নিঃসঙ্গতা কাটানোর কোন বিকল্পই আমি চিন্তা করতে পারি নি।’ তিনি চিন্তা করেছেন আমাদের দেশের শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষা নিয়ে। ‘ইশারা ভাষা’র উন্নয়নে কাজ করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

২.

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর গড়ে ওঠে বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার বাতিঘর- বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা তিন দশক পেরিয়ে এখন বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী বইয়ের মেলার স্বীকৃতি পেয়েছে। এই বইমেলা এখন আর শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, একই সঙ্গে তা বৃহত্তর বাঙালির প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বইমেলা উপলক্ষে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী অনেক বাঙালি ও বিদেশি নাগরিক মেলায় আসেন। আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, নকশিকাঁথা এবং সিলেটের শীতল পাটি ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পেয়েছে। তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী অমর একুশে গ্রন্থমেলাও বিশ্ব ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পাওয়ার দাবিদার। বাংলা একাডেমির একুশে গ্রন্থমেলাকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর নানা স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। কানাডা প্রবাসী প্রয়াত রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালামের উদ্যোগে এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৯ সালে একুশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের কুড়ি বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমির স্বতন্ত্র কর্মকাণ্ড করে জাতিকে সচকিত করেছে। গত ১১ বছরে (২০০৯-২০১৯) বাংলা একাডেমির অবকাঠামোগত এবং গবেষণা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনের পাশাপাশি একই প্রাঙ্গণে বাংলা ভাষার আরেক প্রখ্যাত গবেষক ড. মুহম্মদ এনামুল হকের স্মরণে একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধানের মত বড় কাজের পাশাপাশি ২০১৭ সালে একটি নতুন আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস এবং ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির ইতিহাস প্রকাশ করেছে। ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর, জাতীয় লেখক ও সাহিত্য জাদুঘর এবং লোকঐতিহ্য সংগ্রহশালা নির্মিত হয়েছে। বাংলা একাডেমি মীর মশাররফ হোসেনের কালজয়ী ‘বিষাদ সিন্ধু’ উপন্যাস এবং মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল নীলিমা ইব্রাহিমের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ বইটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেছে। এই অনুবাদ-কর্মসূচি আরও ব্যাপক হোক – এটাই আমাদের প্রত্যাশা। অবশ্য ইতোমধ্যে অসংখ্য মৌলিক গ্রন্থ অনুবাদের কাজ চলছে।

‘বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও সাহিত্য-শিল্পের উন্নতিকল্পে পরিচালিত কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে পৃথিবীতে। ১৬৩৫ সালে প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ফরাসি একাডেমি’। স্টকহোমে ‘সুইডিশ একাডেমি’ কাজ শুরু করে ১৭৮৬ সালে। ১৯৫০ সালে কোপেনহেগেনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ড্যানিশ একাডেমি’। জাপানের টোকিও’তে ১৮৭৯ সালে ‘জাপান একাডেমি’ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়ে কাজ করতে থাকে। ভারতের রাষ্ট্রভাষাগুলোতে রচিত সাহিত্যের উন্নতি ও সমন্বয়ের লক্ষে ভারত সরকার দিল্লিতে ১২ মার্চ ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠা করে ‘সাহিত্য অকাদেমি’। বর্তমানে আমাদের বাংলা একাডেমির কর্ম পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ৪টি বিভাগ রয়েছে। পুস্তক প্রকাশের পাশাপাশি এখান থেকে ৬টি পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশিত হয়। ১৯৬০ সাল থেকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করে। এ পর্যন্ত প্রায় দু’শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ পেয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জন্ম-মৃত্যুতে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে একাডেমি।

৩.

১৯৭৪ সালে বিশ্বের খ্যাতনামা কবি-লেখক-পণ্ডিতদের অংশগ্রহণে ‘বাংলা একাডেমি’ প্রাঙ্গণে প্রথম বাংলা সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এর উদ্বোধন করেছিলেন। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি তার নিজস¦ প্রকাশিত বই প্রদর্শন ও ম্যুরাল প্রদর্শনীর আয়োজন করে। তখন একাডেমি প্রাঙ্গণ সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চুনের দাগ দিয়ে প্রকাশকদের জন্য কিছুটা জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয় বাংলা একাডেমি। সেই নির্দিষ্ট স্থানে প্রকাশকেরা যে যার মতো স্টল তৈরি করে বই বিক্রির ব্যবস্থা করে। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এই আয়োজনের কোনো স্বীকৃতি দেয়নি বাংলা একাডেমি। এমনকি কোনো নামও দেয়নি। তবে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। তারপর ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। একাডেমি এবং বইমেলার নামকরণ ‘একুশে গ্রন্থমেলা’ করে ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ‘একুশে গ্রন্থমেলা’ পালিত হয়। আবার ১৯৮১ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় পরিবর্তন আনে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। ‘একুশে গ্রন্থমেলা’র মেয়াদ কমিয়ে ২১ দিনের পরিবর্তে ১৪ দিন ধার্য করে বাংলা একাডেমি। কিন্তু প্রকাশকরা বাংলা একাডেমির এ সিন্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। তারা বাংলা একাডেমির এ সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের দাবি তুলে ধরে। প্রকাশকদের এ দাবির মুখে ১৯৮২ সালে ‘একুশে গ্রন্থমেলা’র মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়ে পুনরায় মেলার মেয়াদ করা হয় ২১ দিন করে এবং মেলার উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলা একাডেমি সে মেলার আয়োজন করে। ১৯৮২ সালের ঐ মেলায় সহযোগী হিসেবে ছিল জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। ১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কবি মনজুরে মওলা। তিনি বিশেষ কারণে সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রকে বাংলা একাডেমি থেকে বাদ দিয়ে দেন। ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি আবার ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র পুনঃআয়োজন করে। সেসময় প্রকাশকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্টলের সংখ্যা বাড়ানো হয়, সেই সাথে মেলার পরিসরও বাড়তে থাকে। ‘অমর একুশে’ বইমেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠের আসর, লেখক আড্ডাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করে থাকে বাংলা একাডেমি। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষার চেতনাকে গৌরবান্বিত করা হয়। সাবেক মহাপরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক শামসুজ্জামান খানের আমলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বই প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি থেকে। শেখ হাসিনার উৎসাহে এই মহাপরিচালক প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থটি। পাঠকমহলে গ্রন্থটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু রচিত ‘আমার দেখা নয়া চীন’ নামক গ্রন্থটি। মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর নেতৃত্বে ‘মুজিববর্ষে’ বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে মুজিব জন্মশতবর্ষের সিরিজ গ্রন্থমালা। এর মধ্যে আমার রচিত গ্রন্থ ‘উপন্যাসে বঙ্গবন্ধু’ উল্লেখযোগ্য একটি প্রকাশনা।

অন্যান্য বছরের মতো চলতি বছর (২০২০) করোনা মহামারির আগে বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশের নামকরা কবি-লেখকবৃন্দ অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব ঢাকা লিটেরারি ফেস্টিভ্যাল সংক্ষেপে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও এর মূল আয়োজক সংস্থা ‘যাত্রিক’। তবে বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় এই ফেস্টিভ্যালের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে।

৪.

জাতির মননের প্রতীক হিসেবে ‘বাংলা একাডেমি’ এখন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। এদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণেও এ প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বসভা জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ প্রদান করে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে এ ভাষার গৌরব ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা দেখতে পাই শেখ হাসিনাও একই কাজ করেছেন ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসীন হয়ে। তিনি বলেছেন, ‘সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আমি নিজেও নিয়মিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে নিয়মিত বাংলায় ভাষণ দিয়ে আসছি। আপনাদের সবার প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে পারব।’

মূলত ‘বাংলা একাডেমি’র উদ্যোগে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের ‘জামদানি’ এবং ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ এখন এক অফুরন্ত সম্ভাবনার নাম। আমরা স্বল্পতম সময়ে দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূলে সক্ষম হয়েছি। এসবই সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম কাজ। ‘বাংলা একাডেমি’র আয়োজনে দেশে এখন আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন হয়, আসেন বিশ্বসেরা ব্যক্তিরা। এ প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা বেগবান হয়েছে। অচিরে দেখতে পাব তরুণ প্রজন্ম কেউ আর ধর্মীয় মৌলবাদে দীক্ষা নিচ্ছে না। বরং রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ চর্চায় আত্মনিয়োগ করেছে তারা। তারা বই পড়ছে। ইন্টারনেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলা একাডেমির ই-বুকও ডাউনলোড করছে। বলা যায় তরুণদের সাংস্কৃতিক জাগরণের মূল মন্ত্রটি হাতে তুলে দিয়েছে ‘বাংলা একাডেমি’।

লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস,  বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, email-drmiltonbiswas1971@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev