আমার এ লেখা মে দিবস নিয়ে নয়, বেকারত্ব নিয়ে। কিন্তু আমি একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে চাই- কেন এখনও আমরা আট কর্ম-ঘণ্টার বাইরে চিন্তা করতে পারছি না। আমেরিকার শিকাগোতে যেসব কারণে তখন আন্দোলন হয়েছিল, তার একটি ছিল কর্মীর সংখ্যা কম বলে কর্মীদের বেশি সময় পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছিল, তবে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছিল না। কিন্তু এখন কর্মী বসে আছে, কাজ খুঁজছে, কোন কাজ নেই। এমন পরিস্থিতিতে মে দিবস পালন আমাদের জন্য কতটুকু প্রাসঙ্গিক? আমার আলোচনার বিষয় হচ্ছে কর্ম-ঘণ্টা আট ঘণ্টা থেকে আরও কমিয়ে অন্যদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এতে মে দিবসের আন্দোলনের মূল স্পিরিট-এর [অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ নয়, কম সময় ধরে কাজ] অতিরিক্ত ফল পাওয়া যাবে। বেকারদের বরং সুস্থ ধারার অহিংস প্রতিবাদ করা দরকার এখন, যাতে তাদের জন্য কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হয় এবং কাজের সৃষ্টিতে কোন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, তা নিয়ে সবাই কাজ করে। আমার লেখা সবার কাছে ব্যতিক্রমী ও আশ্চর্যজনক মনে হবে। তারপরেও বেকারদের সমস্যা ও সংকট খুব গভীর বলে তাদের জন্য কোন না কোন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশে বেকারত্বের হার কত, তা নিয়ে বিতর্ক করতে চাই না। কেননা বিভিন্ন সরকার এ হার অনুযায়ী মোট সংখ্যাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, যেভাবে শিক্ষা ও স্বাক্ষরতার হার, মুদ্রাস্ফীতির হার, প্রবৃদ্ধির হার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। তাছাড়া বেকারত্বেরও একটি সংজ্ঞা ও স্তর আছে- পূর্ণ, প্রচ্ছন্ন আবার অর্ধ্ব বেকারত্ব। আমি কোন অর্থনীতিবিদ নই, রাজনীতিবিদ নই; তবে আমার দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভাবি, সুযোগ হলে অন্যদের কাছে তুলে ধরি। বাংলাদেশ নামক দেশটি নিয়ে আমি গর্বিত। এ দেশের মাটির গন্ধ শুঁকতে ভাল লাগে বলে এত দেশ ঘুরে এবং বিদেশে গিয়ে বসবাস করার সুযোগ থাকলেও দেশকে ছেড়ে যাই নি। এ দেশের অন্যায্যতা, অনৈতিকতা ও খারাপ যা কিছু আছে, তা নিজের মনে করে তার মধ্যে এ দেশেই শেষ পর্যন্ত থাকতে চাই। দেশকে ভালবাসি বলে দেশ নিয়ে চিন্তা করা আমার নৈতিক অধিকার। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার কাজ অন্যদের সাথে নৈতিকতা নিয়ে হ্যাঁ-সূচক আলোচনা করা, সমাজের চলমান বিভিন্ন ঘটনা-প্রবাহ নিয়ে মন্তব্য করা, মাঝে মাঝে লিখে প্রকাশ করা। তবে এ লেখা যে কোন সংবাদ-পত্রে হতে হবে, অথবা কোন টিভি টক শোতে তুলে ধরতে হবে, এমন আশা করি না। কেননা আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তি ব্যক্তিকে সংস্কার, সংশোধন ও পরিবর্তন করতে পারে। এভাবে কোটি কোটি সাধারণ নাগরিক তাদের দায়িত্ব পালন করলে, সমাজ বদল অবশ্যম্ভাবী। অথচ সরকার এ পরিবর্তনের লক্ষ্যে কতই না বাজেট বরাদ্দ করছে। সরকারী প্রশাসনিক যন্ত্র দিয়ে তত বেশি ফল আদায় করা যাচ্ছে না। জনগণকেই দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা নিজেদেরকে জনগণ, বা জনগণের অংশ বলে ভাববেন। সে তাগিদ থেকেই এমন চিন্তা।
বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জারিকৃত মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র ১৯৪৮-এ স্বাক্ষরকারী দেশ। এ ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ ২৩ (১-২)-এ লেখা আছে, ‘প্রত্যেকেরই কাজ করার, স্বাধীনভাবে চাকুরি বেছে নেবার, কাজের ন্যায্য এবং অনুকুল পরিবেশ লাভ করার এবং বেকারত্ব থেকে রক্ষিত হবার অধিকার রয়েছে। কোনরূপ বৈষম্য ছাড়া সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাবার অধিকার প্রত্যেকেরই আছে।’ এ ঘোষণা-পত্র থেকে বুঝা যাচ্ছে, বেকার সমস্যা সারা বিশ্বের সমস্যা। আর বিশ্বের প্রতিটি দেশ এ সমস্যা নিয়ে কাজ করছে। আবার বৈশ্বিক এ সমস্যা সমাধানে দেশগুলো পরস্পরকে সহযোগিতা করার কথা। এক দেশের সমস্যার ভার আরেক দেশ বহন করার কথা।
কর্ম-সংস্থান সৃষ্টি করা বা বেকারত্ব দূর করা, বা ধীরে ধীরে বেকারত্বের হার কমিয়ে আনা বিশ্বের প্রতিটি দেশের সরকারের মূল্যবান দায়িত্ব। এতে সরকারের টিকে থাকা না থাকাও নির্ভর করে; রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের সমর্থন উঠা-নামা করে। এটি বৈশ্বিক বিষয়, শুধু দরিদ্র বিশ্বের বিশেষ কোন ইস্যু নয়। উন্নত বিশ্বেও নির্বাচনের ম্যানিফেস্টোতে বেকারত্ব দূর করার অঙ্গীকার থাকে। সকল জনগণকে মোটামুটি ভাত-কাপড় ও থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে সুখী রাখতে পারাই সরকারের লক্ষ্য। এতে সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্বও রয়েছে। রাজনৈতিক দলের নীতি-নির্ধারকদের এ বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। বেকারত্ব দূর করা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় বলে এটি দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। বেকারত্ব দূর করার বহু পথ আছে, এর মানে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার বহু পথ আছে। আমি আমার লেখায় সেসব কয়েকটি অর্থনৈতিক চিন্তা ও সুপারিশ তুলে ধরব। এ লেখা লিখতে গিয়ে বেকারদের অন্তরের গভীর ব্যথা নিয়ে ভাবার চেষ্টা করেছি, সফলতার বদলে আমি কতটুকু ব্যর্থ, তা পাঠকদের বিবেচ্য বিষয়।
সরকারি পরিকল্পনা করছেন সরকারি সুবিধা-ভোগীরা। নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের আওতাধীন বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে গিয়ে নিজেদের মন্ত্রণালয়ে চাকুরিরতদের দিক বিবেচনা করবেন না এমন কোন নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। অতি সম্প্রতি স্কুলে ভর্তির কোটার মধ্যে দেখলাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্টাফদের জন্য ভর্তির কোটা রাখা হয়েছে। কেননা তারাই ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালান। সরকারি কর্মচারীদের কাজ এটি নয়, পরিকল্পনা সরকারি কর্মচারীরা করবেন না, তারা রাজনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন মাত্র। যদি তারা পরিকল্পনা ও বাজেট করেন, তাহলে বিদেশ ভ্রমণের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। পরিকল্পনা ও পলিসি তৈরির কাজ করবেন মহান সংসদ থেকে দায়িত্ব-প্রাপ্ত বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির মধ্য দিয়ে জন-প্রতিনিধিগণ। দেশের সর্ব-স্তরের প্রতিনিধিগণ পলিসি তৈরি করবেন। কেননা রাজনৈতিক নেতারা জনগণের খুব কাছের প্রতিনিধি। তারা জনগণের কথা ভাবেন, রাজনীতি করাকে দেশ সেবা বলে মনে করেন, ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের কল্যাণ ও অগ্রগতিতে কাজ করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাজনীতির এমন ঐতিহাসিক ও প্রত্যাশিত অবস্থান আর নেই। শুধু আমাদের দেশে কেন, আমেরিকার মত দেশেও রাজনৈতিক নেতৃবর্গ বড় বড় আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়ী। সারা পৃথিবীতে রাজনীতির নীতি ও নৈতিকতা বদলাচ্ছে বলে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ধনীরা শুরু করছেন প্রাথমিকভাবে সমাজের বেকারত্ব দূর করার জন্য নয়, কিন্তু নিজেদেরই ব্যবসায়িক আরও উন্নতির জন্য।
বর্তমান সরকার গার্মেন্টস সেক্টরের বিশাল জনগোষ্ঠীকে ন্যূনতম মজুরির আওতায় এনেছেন, সরকারি ও আধা-সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে বেতন ও সুবিধাদি বৃদ্ধি করেছেন। আশা করি, উপকার-ভোগী ও সুবিধা-ভোগীরা সন্তুষ্ট আছেন এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্র এসব করেছে আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৬ অনুসারে যেখানে লেখা আছে, ‘আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মবিভাগসমূহের সৃষ্টি, সংযুক্তকরণ ও একীকরণসহ পুনর্গঠনের বিধান করা যাইবে এবং অনুরূপ আইন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তির কর্মের শর্তাবলীর তারতম্য করিতে ও তাহা রদ করিতে পারিবে।’ তাহলে দেশের লক্ষ লক্ষ বেকারদের নিয়ে সংবিধানের করণীয়গুলো আমরা করতে পারব না কেন? সকল সেক্টরে যতবার বর্তমান বিশাল কর্মী বাহিনীর বেতন ও সুবিধাদি বৃদ্ধি করা হয়, এমনকি অবসর-প্রাপ্তদেরও পেনশন ও বোনাস বৃদ্ধি করা হয়, বেকারদের মনে কি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে উপলব্ধি করুন। কোন কোন অফিসে দেখা যাচ্ছে, যে কত দামী ও সর্বশেষ মডেলের গাড়ি ব্যবহার করবেন, তার প্রতিযোগিতা চলে। দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি ক্রয়ের পিছনে কারণ হচ্ছে তাদের পরিবাররা এসব গাড়ি ব্যবহার করেন। সেসব পরিবার ও ছেলেমেয়েরা এগুলোকে ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করেন। এর জন্য ড্রাইভার ও তেল খরচের বাজেট বরাদ্দ আছে। দামী গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যধিক, যার ফলে কোন কোন অফিসের ড্রাইভাররা বিল টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে উপরি আয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এসব কিছু গরিব দেশের বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই না। সরকারি অফিসের কাজে গাড়ি অবশ্যই দরকার, কিন্তু দামী গাড়ি নয়। দামী গাড়ি ক্রয় করারও নাকি বহু যুক্তি দেখানো হয়, কিন্তু আমাদের দেশের বেকারদের কোন সাহায্য সহযোগিতার কি পথ ও যুক্তি দেখাচ্ছি? আশা করি, আমাদের দেশে গাড়ি উৎপাদন শুরু হলে জাপান, ভারত, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ইত্যাদি দেশ থেকে দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি ক্রয় করা দরকার পড়বে না। আমরাই বা যত পাচ্ছি, তত নিচ্ছি কেন? আর আমার পাশের বেকারদের তুচ্ছীকৃত ও সমাজের অযোগ্য অভিশপ্ত ভাবছি কেন?
লক্ষ লক্ষ বেকারদের কি হবে? বেকারত্বের সংখ্যার চেয়ে চাকুরির সুযোগ অবশ্যই অনেক কম বলেই ঘুষ নেয়া ও দেয়া, দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগ-প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট স্বার্থপরতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাকুরি জোগাড় করার চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে। যাদের এমনিতে নেই, তারাই জমি-জমা বিক্রি করে বা ধার-দেনা করে চাকুরির জন্য অর্থ ব্যয় করছে। অযোগ্য হওয়া, পিছিয়ে পড়া, প্রতিযোগিতায় টিকে না থাকা কি শুধু ব্যক্তির ব্যর্থতা বা অপরাধ বা দায়? সমাজের কি কিছুই করণীয় নেই? আমরা তথাকথিত এমন নৈতিকতার অবস্থানে এসেছি যে, প্রায়ই এমন কথা বলতে শুনা যায় ‘চাকুরি বা যে কোন কাজের জন্য অর্থ দিলে অমুককে দিতে পারেন, লোকটি খুব ভাল। তিনি টাকা নিলে কাজটি বেশ বিশ্বস্তভাবে করে দেন। আপনার টাকা মার যাবে না, উনি বেশ ভাল মানুষ। বুঝে-শুনে ভাল লোক দেখে ঘুষের উৎকোচ দেবেন।’ অর্থাৎ আমরা অবৈধ ও অনৈতিক উপায়ে আমাদের কাজ করিয়ে নেবার জন্য ভাল লোক খুঁজছি। যারা অনৈতিক উপায়ে আমাদের কাজ করে দিচ্ছেন, তাদের আমরা প্রশংসা করছি। এটি অনৈতিকদের নৈতিকতা। এখন আমরা ঘুষ শব্দটি ভুলে যাচ্ছে। আমরা বলছি ‘সম্মানি’, ‘স্পিড মানি’, ‘অফিস খরচ’; এমনকি কেউ ঘুষ দাবি না করলেও সমাজে চলমান প্রথা বলে এবং আমরা নিজেরা দিতে অভ্যস্ত বলে অথবা এর চর্চা স্বীকৃত হয়ে গেছে বলে, সৎ লোকেরাও কিছু ‘কৃতজ্ঞতার উপহার’ বা ‘চা-পানি’ খেতে দিতে চান এবং দেন।
এর পরেও কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইংগিত না করে বলতে চাই যে, এখনও সত্যিকার মেধা ও যোগ্যতার দাম আছে। সত্যিকারের যোগ্যরা কোথাও না কোথাও টিকে যাবে। যদিও খারাপ লোকেরা খারাপ লোকদের নির্বাচিত করেন, যাতে তারা আরও খারাপ কাজ করতে প্রশ্রয়, সহযোগিতা ও অনুমোদন পান। খারাপ লোকেরা নির্বাচনের আগে বলেন, ‘ভাল লোক দিয়ে আমরা কি করব? আমাদের জন্য সৎ লোক নির্বাচিত হয়ে আসার দরকার নেই।’ সৎ লোক আসলে তাদের অসুবিধাই হবে। এর পরেও সমাজের আশা আছে। আর যদি এ সম্ভাবনাটুকু না থাকত, তাহলে দেশটা একেবারে ধ্বংস হয়ে যেত। আমাদের সমাজে যেমন খারাপ লোক আছে, তেমনি ভাল লোকও আছে, এ আস্থা আছে বলেই আমরা এখনও এ দেশে বাস করছি, এ দেশকে ভালবাসি, এ দেশকে নিয়ে চিন্তা করি, এ দেশকে ভালবাসতে ও দায়িত্ব পালন করতে অন্যদের শিক্ষা দিই এবং বিশ্বাস করি যে এ দেশের ক্ষত সারানো যাবে। সরকারের দৃষ্টি দেয়া দরকার যাতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯ (২)-এর বাস্তবায়ন করা, যেখানে লেখা আছে, ‘মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’
এবার আসা যাক, একটি সুনির্দিষ্ট উপায়ের কথা যা দিয়ে দেশের বেকারত্ব অনেক কমিয়ে আনা যায় এবং চাকুরিজীবী ও চাকুরি-প্রার্থীর মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনা যায়। আর সেটি হচ্ছে, অফিস, কলকারখানা ও সর্বত্র কর্ম-ঘণ্টার বর্তমান সময় কমিয়ে আনার মাধ্যমে সর্বমোট কর্ম-ঘণ্টা বৃদ্ধি করা। সহজ হিসাব হচ্ছে, বর্তমান কর্মরতদের আট ঘণ্টার বদলে কর্ম-ঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় আনা, সাথে বেকারদের থেকে নতুন নিয়োগ-প্রাপ্তদের পাঁচ ঘণ্টার কাজ যুক্ত করা ও নিশ্চিত করা। এতে মোট কর্ম-সময় হবে দৈনিক দশ ঘণ্টা। এতে প্রায়ই দ্বিগুণ লোক কাজ করার সুযোগ পাবেন। নতুন এ বিশাল কর্মীদের পরিচালনার জন্য সরকারের সুযোগ হবে আরও প্রায় দ্বিগুণ সচিব পর্যায়ের সেবকদের নিয়োগ দেয়ার। এখন সচিব বেশি বিধায় অনেককে ওএসডি হয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার বেকারদের সাথে উপহাস করার জন্য এলপিআর রয়েছে। রাষ্ট্রের সকল সুবিধা চাকুরিতে নিয়োজিতদের জন্য, বেকারদের জন্য কি আছে? এজন্য বেকারত্ব দূর করার কিছু উপায় তুলে ধরা হল:
[১] অফিসের সময়- সকাল আটটা থেকে অপরাহ্ণ একটা পর্যন্ত; আবার অপরাহ্ণ দুটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। এতে একজন কর্মী তার কাজের জন্য মোট কত ঘণ্টা ব্যয় করছেন? তার কাজ যদি পাঁচ ঘণ্টার হয়, তাকে অফিসে আসতে-যেতে আরো দুঘণ্টা হাতে রাখতে হবে- এতে তার ও কাজে আসার জন্য সহ মোট সাত ঘণ্টা ব্যয় হবে। যদি কেউ বলেন, এক ঘণ্টায় অফিসে আসা যায় না। তাহলে অফিসের কাছে থাকুন। এতে আপনার সময় বাঁচবে ও পরিশ্রমও কম হবে। কিন্তু আবাসন সমস্যাও আছে স্বীকার করি। তবে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছেন দ্রুত যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য। একটু সময় লাগবে। কিছুদিন পরে দূরত্ব ও সময় তেমন কোন চিন্তার কারণ হবে না। অন্যদিকে আপনি যদি পাঁচ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে আপনি যাতায়াতে বেশি সময় পাচ্ছেন। তবে এ সময় আপনার অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে কমে যাচ্ছে। তার বিশ্রাম ও ঘুমের জন্য আট ঘণ্টা- কেননা প্রত্যেক কর্মীকে যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে। পারিবারিক সময় দৈনিক তিন ঘণ্টা এবং সমাজের জন্য মাত্র তিন ঘণ্টা দিলেও তার হাতে আরও বাকি সময় থাকবে তিন ঘণ্টা। এ সময় বিনোদনের জন্য কাটানো দরকার। এতে স্বাস্থ্যখাতে সরকারকে এত খরচ করতে হবে না। আমরা স্বাস্থ্য খাতে বেশি বেশি বরাদ্দ দিই, বেশি বেশি লোক কি নিয়োগ হচ্ছে? এখন শুনি যে, ডাক্তাররা নাকি বেকার। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে আমাদের দেশে রোগীর সংখ্যা বেশি। আপনি যে কোন স্থানে ডাক্তারের চেম্বার করেন, ক্লিনিক করেন, হাসপাতাল করেন, রোগীর কোন অভাব নেই। স্বাস্থ্য-ব্যবসা নামে এক বিশাল ব্যবসার খাত সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাই, শুধু রোগী আর রোগী। কেন? জীবনে স্বার্থপর চিন্তা-প্রসূত আরও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চয়তা বিধান করতে ব্যস্ততা বৃদ্ধি ও অতি-শ্রম করার কারণে। সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করে, বিনোদন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বিকাশ করে রোগের পরিমাণ-মাত্রা অনেকাংশে নামিয়ে আনা যায়।
[২] বেতন ও সুবিধাদির আনুপাতিক না হলেও সমন্বয় করা। সংবিধান অনুসারে সুযোগ ও সুবিধাদির সমতা নিশ্চিত করা উচিত। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯ (১), ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।’ একজন পাবে, আরেকজন পাবে না, তা হতে পারে না। বহু দেশপ্রেমিক নাগরিক আছেন, যারা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে বসে আছেন। দেশের সম্পদের উপরে সকলের অধিকার সমান। তা হলে কেন অসংখ্য লোক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোন কাজের সুযোগ পাবেন না। আর যারা কর্মে নিয়োজিত হচ্ছেন, তাদের সবাই কি যোগ্যতার ভিত্তিতে হচ্ছেন? যদি সকল নাগরিকের সমান সুযোগের কথা সত্যি হয়, তাহলে কেউ একেবারে কোন কাজ পাচ্ছেন না, আর কেউ কেউ তাদের বয়স বাড়িয়ে বেশি দিন কর্মে নিয়োজিত থেকে অন্যায্যতার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছেন। সমতার বিধান বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উচিত নানা মুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা। ১৯৭১ সনের ১০ই এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের একটি স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য ছিল, তা হচ্ছে ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা।’
[৩] ওভার-টাইম একেবারে বন্ধ করে দেয়া। আপনারা কি আমাকে বুঝাতে পারেন যে, দেশে এত কর্মক্ষম লোক বেকার থাকতে কেন কিছু লোকের জন্য ওভার-টাইম প্রথা চালু আছে? তারা কি রাষ্ট্র থেকে দ্বিগুণ সুবিধাদি নিচ্ছেন না? অথচ কেউ কেউ একেবারে না পাওয়ার স্থানে আছেন? কেউ কেউ মূল ও নির্ধারিত সময়ে কাজ না করে ওভার-টাইম পাবার জন্য রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। আমাদের বিবেক ও মানবিকতায় কি আঘাত লাগে না? এমন চিন্তাকে কি উড়িয়ে দেয়া যায় যে, প্রকৃত সময়ে কাজ বিশ্বস্তভাবে না করে, ওভার-টাইম দেখিয়ে অর্থ লোপাট করা হচ্ছে? আর প্রকৃত কর্ম-সময়ে রাজনীতি, দলবাজি, আলোচনা ও সমালোচনা করে সময় নষ্ট করা হচ্ছে? দেশটা কি শুধু কোন রাজনৈতিক দলের, শুধু যারা চাকরি করে তাদের? আর বেকারদের আমরা করুণা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখব? অসংখ্য বেকার হতাশ, তারা এদেশের প্রতি তাদের আনুগত্য হারিয়ে ফেলছেন, যা অত্যন্ত বিপদজনক। কেউ বা এদেশে থাকতে চান না, এতে তাদের ক্ষোভ ও ঘৃণার প্রকাশ করছেন। তারা নিজেদের অভিশাপ মনে করছেন, অথচ প্রাথমিকভাবে এজন্য আমরাই দায়ী, তারা নয়। সরকার নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে নতুন নতুন কর্ম-সংস্থান করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ওভার-টাইমের চর্চা বন্ধ করে দিয়েও অনেক কর্ম-সংস্থান করা যায়।
[৪] অবসর-বর্ষ সীমিত করা। আবার বলছি, যে সমাজে লক্ষ লক্ষ লোক বেকার, সে সমাজের অবসর নেয়ার বয়স-সীমা কেন আরও বাড়ানো হচ্ছে। কোন কোন ব্যক্তির কাজের চুক্তি সরকার একাধিক বার বাড়াচ্ছে। মনে হয়, সেসব দায়িত্ব পালন করার মত আর কোন লোক নেই। অবসরের এ সময় বিশ থেকে সর্বোচ্চ পঁচিশ বছর হতে পারে। বিশ বছর থেকে স্বেচ্ছা অবসরের সুযোগ থাকা এবং পঁচিশ বছরের বেশি কাউকে কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়। এমন অনেক কর্মী আছেন, যারা বয়সের ভারে ন্যুব্জ, নানা ধরনের অসুস্থতায় আছেন, তাদের দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্র আবার ব্যবস্থা নিচ্ছে, তারা অফিসে যাতায়াত করতেও ঝুঁকিতে আছেন; অথচ চাকুরিতে বহাল আছেন। সবার অবস্থা এমন নয়, রাষ্ট্র চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে, তা আশা করা সঠিক কি? কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর কোন কাজ নেই। বিশ-পঁচিশ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা ও পুঁজি দিয়ে তারা কোন না কোন পথ বের করতে পারবেন। বিশ বছর পরে স্বেচ্ছা অবসর-প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া যায়, যাতে তারা ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হতে পারেন। এতে তারা আরও কর্ম-সংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন। সরকারের কথা বাদই দিলাম- যারা কাজ করছেন, তাদের বলছি। আপনি বহু বছর ধরে কাজ করতে চান, অথচ কর্ম-খালী না থাকায় আপনার ঘরের সন্তানটিও বেকার বা আপনার আত্মীয়টি বেকার। তারা আপনার উপরে নির্ভরশীল। এতে আপনার দায় বাড়ছে।
[৫] সকল অফিসে ডিজিট্যালাইজেশন চালু করা। এতে সকালের কাজের সাথে বিকেলের কাজের ধারাবাহিকতা থাকবে। কর্মী জানেন যে, তার কাজ কি, কোথা থেকে শুরু করতে হবে। বর্তমানে অনেক স্থানে বিশেষভাবে কল-সেন্টারে পার্ট-টাইম কর্মীরা সেভাবে কাজ করেন। এতে সবাই নিজ নিজ কাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ধারণা রাখবেন। সেবা খাতগুলো দ্রুত কাজ দিতে পারবে। প্রশাসন সম্পর্কে একটি দুর্বলতা সর্বজনবিদিত যে, কোন কাজ দেরিতে করা, ফাইল প্রসেসিং দেরিতে হওয়া। সময়ের অভাব, নাকি কর্মীর স্বল্পতা, নাকি সময়ের ফলবান ব্যবহার না করা- কোনটি কারণ? আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতা হচ্ছে, বড় কর্মকর্তাদের অফিসে পাওয়া যায় না। সারাদিন বসে আছি, বস এখনও অফিসে আসেন নি- তিনি হতে পারে কোথাও আরও বড় কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি মিটিংয়ে আছেন, ভিজিট করতে গিয়েছেন, বিদেশে গিয়েছেন, লাঞ্চে আছেন, লাঞ্চের পরে বিশ্রামে আছেন, ছুটিতে আছেন এমন নানা ধরনের কারণ শুনি। আবার তিনি কখন আসবেন তা কেউ জানেন না। অনেকে সারাদিন অপেক্ষা করে রাতে দেখা করার সুযোগ পান, বা পান না। এভাবে দিনের পর দিনও চলে। কোন কোন অফিস বলছে যে, তাদের কর্মী কম বলে তারা পুরো সেবা দিতে পারছেন না। এত লোক বেকার, তাহলে কেন কর্মীর সংখ্যা কম। এ ধরনের অফিস বা পদে আরও লোক নিয়োগ দেয়া দরকার, যেন কেউ তার কাজটি করিয়ে নেয়ার জন্য বসে না থাকেন। বসে থাকাই মানে তার খরচ বাড়ছে। শিল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কেননা সময় ও আনুষঙ্গিক খরচ উৎপাদন খরচের সাথে যুক্ত হয়।
স্মার্ট প্রশাসন হচ্ছে কম সময়ে বেশি কাজ করে ন্যায্য বেতন পাওয়া। কাজের বোঝা বা ফাইল নিয়ে কয়েকজন ঘাম না ঝরিয়ে ‘ফাইল-শূন্য’ অফিসের পরিকল্পনা করা দরকার। চিন্তা করে দেখুন কত পাসপোর্টের ফাইল পড়ে আছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া যাচ্ছে না, কত ব্যবসা ও প্রকল্প নড়ছে না। একে শূন্যের কোঠায় আনা দরকার। এমন অফিস দরকার যেখানে অফিসের দায়িত্ব-প্রাপ্তরা অপেক্ষা করবেন যেন ক্লায়েন্ট যাওয়ার সাথে সাথে সেবা দিতে পারেন। অফিস যেন সে ক্লায়েন্টের কাজ করার জন্যই নিয়োজিত আছে। এমন স্বপ্ন কি আমরা দেখতে পারি না? উদ্যোগ নিলেই সম্ভব। এতে জনগণ আরও নিয়মিত ট্যাক্স দেবেন, এবং প্রয়োজনে বেশি হারে ট্যাক্স দেবেন। দেশের অর্থনীতির ভীত আরও মজবুত হবে।
[৬] কর্মীদের পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বপালন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এমন বাবা আছেন যিনি অফিসে আসার সময়ে তার সন্তুান ঘুমে থাকেন, আবার যখন তিনি বাড়ি ফিরেন, তখন তার সন্তান আবার ঘুমাতে যায়। সারাদিন পরিশ্রম করে বাড়িতে এসে স্ত্রীর সাথে কি অর্থপূর্ণ সময় কাটানো যায়? এটি কি সুস্থ পরিবার? এ পরিবেশে পরিবারের সুখ ও শান্তি বিঘিœত হচ্ছে। এ অবস্থায় সামাজিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নই আসে না। তাই মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বাড়ছে, বন্ধনগুলো দুর্বল হচ্ছে, বাঙালির পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্য ধ্বংস-প্রায়। যদি অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দ্বারা এসব বন্ধন ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা না যায়, তাহলে সে অর্থনীতির উদ্দেশ্য কি? শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি দিয়ে সমাজকে বদল করা যাবে না। এর সাথে অন্যান্য সামাজিক অনুষঙ্গগুলোরও উন্নতি প্রয়োজন। সমাজকে সবদিক থেকে সমন্বিত অগ্রগতির দিকে নিতে হবে। কেননা প্রতিটি অনুষঙ্গ পরস্পর-সম্পর্কিত ও পরিপূরক।
[৭] ট্যাক্স প্রদান। এটি খুব লজ্জার যে, কোটি কোটি জনসংখ্যার দেশে মাত্র কয়েক লক্ষ লোক কোন কোন কাজ করার জন্য কর সনাক্তকরণ নম্বর [টিআইএন] সংগ্রহ করেন, তাদের মধ্যে কিছু অংশ ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন, আর তাদের মধ্য থেকে আরও সামান্য সংখ্যক লোক ট্যাক্স দেন যাদের মধ্যে প্রকৃত ও ন্যায্য ট্যাক্স দেয়ার লোক আরও কম, কর কমানো ও ফাঁকি দেয়ার লোক বেশি। ভ্যাট আমাদের থেকে কেটে রাখা হচ্ছে, আমরা দিচ্ছি না। এক কাপ চা খেতে গেলেও আমাদের থেকে ভ্যাট কাটা হচ্ছে। একটি বিষয় খেয়াল করবেন, ভ্যাট ও বিবিধ কর বিশেষ করে আয়কর দেয়া নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা তাদের বক্তৃতায় কিছু বলেন না, শুধু সরকারি রাজস্ব অফিস কথা বলে। ধর্মীয় নেতারা তাদের জনসভায় কর দেয়া নিয়ে বলেন না। নির্বাচনের আগে কোন রাজনৈতিক নেতা ট্যাক্স দেয়ার আহবান জানিয়ে, বা ট্যাক্স আদায় করা হবে বলে সতর্ক করে কেউ নির্বাচনে জিতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে চান না। আমরা নিজেরা কর দিই না বলে অন্যদের দিতে বলার কর্তৃত্ব রাখি না। সরকারের কাছ থেকে শুধু আশা করি, দিতে চাই না। সরকার সকলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে, রাস্তা-ঘাট করে দেবে, নিরাপত্তা দেবে, চাকুরির ব্যবস্থা করবে, দুর্যোগের সময় সাহায্য করবে, আরও কত কি। সরকারের কাছ থেকে পাবার তালিকার কোন শেষ নেই। কিন্তু সরকার কোথা থেকে অর্থ পাবে এবং আমাদের দেবে? ক্ষমতায় থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিদেশ থেকে ধার-দেনা ও সাহায্য নিয়ে এসে হলেও জনগণকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে। বিদেশি ভিক্ষা ও সাহায্য বেশি আনতে না পারলে বিরোধী দল আবার আন্দোলন করে বলে এ সরকার ব্যর্থ। সরকারের সফলতার তথাকথিত মাপকাঠি হচ্ছে সরকার কত পরিমাণ বৈদেশিক ঋণকে অনুদানে পরিণত করতে পারল। আমরা নৈতিকতার উল্টো স্রোতে হাঁটতে হাঁটেত এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছি, যেখানে অন্যায় হচ্ছে ন্যায়। সেখানে মন্দতা হচ্ছে নায়ক বনে যাওয়ার সুযোগ। আমি মনে করি, ট্যাক্সের আওতা-পরিধি, খাত, পরিমাণ-হার আরও বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে কর দেয়া বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। তবে তার আগে শিক্ষকদের কর দিতে হবে। কেননা আমরা আর লজ্জার মধ্যে থাকতে চাই না। আর কত দিন বিদেশের কাছে হাত পাতব? আর কত দিন আমাদের বাজেটে আগাম পরিকল্পনা করে রাখব যে, বিদেশ থেকে এত সাহায্য আসবে। সাহায্য পাবার জন্য বাজেট করে অপেক্ষা করছি! ঘাটতি বাজেটই বা আমরা কেন করছি? জাতি হিসেবে আমরা গর্ব করার মত পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্যাক্স বাড়লে বেকারদের কর্ম-সংস্থান আরও বাড়ানো সম্ভব। আমাদের দেশের মানুষের ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে আমাদের দেশকে চালানো সম্ভব।
কিভাবে উপরি-উক্ত উপায়গুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব? প্রথমত : আমাকে ‘আমার’ কেন্দ্র থেকে ‘আমাদের’ ও ‘সকলের’ চিন্তায় আসতে হবে। ‘কেবল আমি পাব’, ‘আমি খাব’, ‘আমি নেব’ ধরনের মানসিকতা বাদ দিতে হবে। আমি যা কিছু পাচ্ছি-খাচ্ছি, এর সব কিছু রাষ্ট্র আমার জন্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার কারণে। আবার আস্তিক হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এর আসল মালিক সৃষ্টিকর্তা। আমার যে জমির জন্য আমি মারামারি করছি, তার আসল মালিক সৃষ্টিকর্তা, কেননা তিনিই জমিন সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিকর্তার পক্ষে রাষ্ট্র দেখাশুনা করছে। রাষ্ট্র এর প্রয়োজনে ব্যবহার করতে নিয়েও নিতে পারে। তাই দেশের সম্পদের সম-বণ্টন করা দরকার। কেননা দেশটা ত সবার। শুধু আমিই দেশের সব না, শুধু আমাকে নিয়ে দেশ না। আমাদের মনে রাখা দরকার, আমি একা অর্থনৈতিকভাবে ভাল থাকলে, সমাজে আমি ভাল থাকতে পারব না। বৃহত্তর জনগোষ্ঠী খারাপ অবস্থায় থাকলে সেখানে সংখ্যা-লঘু চাকুরিরতরা ভাল থাকবেন না। এতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে। কেননা মানুষ তার চাহিদা পূরণের জন্য যে কোন অবৈধ পথ অবলম্বন করার চেষ্টা করবে। এবং তারা সেসব অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধ ও ন্যায্য প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে সকলকে তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের এমন মানসিকতা হবে না যে, আমি কি বা কতটুকু পেলাম বা পাব, কিন্তু সমাজকে কি দিতে পারলাম বা কতুটুকু দিতে পারলাম। আমি যদি সমাজকে পরিবর্তনে কাজ না করি, তাহলে আমি যেভাবে অন্যের উপরে অন্যায্যতা করছি, আমার উপরেও আরেক জন তাই করবে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসে যাবে।
দ্বিতীয়ত : স্বায়ত্ত-শাসিত অফিস-আদালতে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করা যেতে পারে। শিক্ষাখাতে শিক্ষকগণ পাঁচ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। এখন দেখা যায়, তারা নিজের দায়িত্ব পালন না করে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে সময় কাটাচ্ছেন। আবার কোন কোন শিক্ষকের কোন কোন দিন কোন ক্লাসই নেই, অথবা দিনে একটি বা দুটো ক্লাস আছে। বাকি সময় তারা পড়াশুনা, গবেষণা, রাজনীতি বা কোন অনুৎপাদনশীল খাতে কাটাচ্ছেন। যেহেতু টিউশনি, কোচিং, ইত্যাদি বন্ধ করা যাচ্ছে না, কোচিং সেন্টারের মালিকদের সাথে এমনকি সরকারকেও আপোস করে চলতে হয়, তখন কর্ম-ঘণ্টা কমিয়ে দিয়ে তাদের খুশি মত কাজ করতে দেয়া ভাল। স্বাস্থ্যেও একই চিত্র- ডাক্তাররা কেউ কেউ নিজের চাকুরিতে দায়িত্ব পালন না করে, প্রাইভেট ক্লিনিকে বা নিজের চেম্বারে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন। সেজন্য কর্ম-ঘণ্টা কমালে কেউ কোন আপত্তি করবেন না বলেই মনে হয়। কেননা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করে মাস শেষে পুরো বেতন-সুবিধাদি নিয়ে চুরি ও প্রতারণার মত অনৈতিক কাজ তারা পছন্দ করবেন না। কিন্তু সংক্ষিপ্ত সময়ে তাদের কাজ শেষ করে অন্যান্য কাজ করার সুযোগ নেবেন। এ ধরনের বড় বড় কয়েকটি সেক্টরে কর্ম-ঘণ্টা কমানো বাস্তবায়ন করা গেলে, ধীরে ধীরে সকল ক্ষেত্রে করা যাবে।
তৃতীয়ত : সুনির্দিষ্টভাবে গার্মেন্টস শিল্পের মত সেক্টরে এর বাস্তবায়ন করা যায়। যেমন গার্মেন্টস শিল্পের একটি দিক অমানবিক বলে সমালোচিত। আর তা হচ্ছে মালিক যখন পোশাক তৈরির অর্ডার পান, এবং নির্দিষ্ট সময়ে সে অর্ডার অনুসারে মাল সরবারহ করতে হবে, নচেৎ অর্ডার বাতিল হয়ে যাবে; তখন ওভার-টাইম বাধ্যতামূলক করা হয়। আর এতে কোন কোন কর্মীকে বারো-চৌদ্দ ঘণ্টা এমনকি ষোল ঘণ্টাও কাজ করতে হয়। তাদের বেশির ভাগ থেকে শুনা যায় যে, তারা ওভার-টাইম করছেন। চিন্তা করুন এমন গরমের মধ্যে নির্মাণ-শিল্পে বা কৃষি-খাতেও তারা কীভাবেই না পরিশ্রম করছেন। সে পরিবেশে বরং তার কর্ম-ঘণ্টা কমিয়ে দিয়ে বেশি লোককে কাজ করার সুযোগ দেয়া দরকার। এতে অন্যরা কাজের সুযোগ পেতে পারতেন। এত বেকার লোক থাকতে শুধু একজন ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ কেন অত্যধিক কাজ করবেন? তিনি হতে পারে অর্থ পাচ্ছেন, কিন্তু তার দৈহিক ও মানসিক জীবনটা তো শেষ হয়ে যাচ্ছে। মধ্য প্রাচ্যে আমাদের দেশের যে সন্তানেরা কাজ করতে যাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করছেন যাতে তারা তাদের পরিবার চালাতে পারেন, তাদের বিদেশ যাওয়ার জন্য নেয়া ঋণ শোধ করতে পারেন। তাদের কর্ম-পরিবেশ অত্যন্ত অমানবিক। তাদেরকে অস্বাভাবিক গরম বা শীতের মধ্যেও কাজ করতে হয়। অতিরিক্ত কাজ মানুষের কর্ম-দক্ষতা হ্রাস করে দিচ্ছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গার্মেন্টস সেক্টরের মত উপরি-উক্ত তিনটি সেক্টরে কম-বেশ প্রায় প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ লোক কাজ করছেন। এদের কর্ম-ঘণ্টা কমিয়ে এখানে আরও প্রায় ২০-২৫ লক্ষ লোকের কর্ম-সংস্থান করা যেতে পারে। এতে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট ধীরে ধীরে সরকার কমিয়ে এনে শিক্ষা খাতে দিতে পারবে। কেননা মানুষ কম পরিশ্রম করে মোটামুটি সুখে চলতে পারলে, রোগ-বালাই কমবে। আর তাতে রোগীর অভাবে অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করে দিতে হবে। যেমন, অতি সম্প্রতি কোভিড-১৯ বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোকে আবার নন-কোভিড ঘোষণা করতে হয়েছে। কেননা সরকারের সূত্র মতে, কোভিড রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এভাবে জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হলে, দেশের অনেক অর্থ বেঁচে যাবে। রোগ ও অসুস্থতা কি উৎপাদনশীল খাত? অর্থ অপচয় ছাড়াও এটি পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।
চতুর্থত : রাষ্ট্রের যে কোন সিদ্ধান্ত বা পলিসি আনতে গেলে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলো সর্বপ্রথম চিন্তা করে কি কি বিরোধিতা ও চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। এটি আসা স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। না আসাটাই অস্বাভাবিক। কোন বিচক্ষণ রাজনৈতিক দলকে বিরোধিতার কয়েকটি উৎস বিষয়ে সাবধান থাকতে হয়- একটি হচ্ছে যাদের নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, তাদের থেকে বাধা; একটি হচ্ছে নিজের দলে ঘাপটি মেরে থাকা উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক নেতৃত্ব; আরেকটি হচ্ছে বিরোধী দল; আরেকটি হচ্ছে দেশের সামরিক বাহিনীর অবস্থান; এবং আরও আছে বিদেশী ষড়যন্ত্র। শেষ উৎসটি দেশের ভিতরকার যে কোন একটিকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তবে এসব সম্ভাব্য বিরোধিতার মধ্যে দ্বিতীয়টি অর্থাৎ নিজের দলের ভিতরকার বিরোধিতা বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এতে ভাল ও মন্দ উভয়টি ঘটতে পারে। নিজের দলের ভিতরে বিরোধিতা ভাল, কিন্তু আমি বলছি নিজ দলের ভিতরে থেকে যারা কোন ইস্যুকে ব্যবহার ও অপব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের কথা। প্রথমটি থেকে বাধা আসবেই। কেননা কেউই কোন যুক্তিসংগত ও ন্যায্য ক্ষতি মেনে নিতে পারে না। তবে তাদের মনে রাখতে হবে, আট কর্ম-ঘণ্টার বদলে পাঁচ-ঘণ্টা কাজ করতে গিয়ে বেতনাদি ও সুবিধাদি একেবারে আনুপাতিক হারে না কমিয়ে যদি মানবিক ন্যায্যতার ভিত্তিতে করা হয়, তাহলে তাদের কোন আপত্তি থাকার কথা নয়।
একটি বাস্তব উদাহরণ- একটি অফিসের তিনটি গেইটে দিনে তিন জন আর রাতে তিন জন করে মোট ছয় জন গার্ড ছিল। প্রত্যেকে মাসিক প্রায় ১০,০০০ টাকার মজুরিতে বার-ঘণ্টা করে কাজ করতেন। অর্থাৎ দিনে দু’ শিফট। বার-ঘণ্টা কাজ করার কারণে রাতের গার্ড নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে ঘুমাতে অভ্যস্ত ছিলেন। ছয় জনের জন্য মোট খরচ হত ৬০,০০০ টাকা। পরবর্তীতে সে অফিস গার্ডদের কমÑঘণ্টা আট ঘণ্টা করে দেয়। এতে অতিরিক্ত তিন জন সহ মোট নয় জন গার্ড দরকার হয়। এখন যেহেতু কর্ম-ঘণ্টা চার ঘণ্টা করে কমেছে, তাই প্রত্যেক গার্ডের গড় মজুরি আনুপাতিক হারে না কমিয়ে গার্ডদের সাথে আলোচনা করে মোটামুটি ৮,০০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়, এতে মোট খরচ এখন ৭২,০০০ টাকা। এতে আগের চেয়ে ১২,০০০ টাকা বেশি খরচ দরকার হল। তবে অফিসের নিরাপত্তা বেড়ে গেল। পরবর্তীতে অফিস চিন্তা করল, কর্ম-ঘণ্টা ছয় ঘণ্টা করা হবে। তাতে মোট গার্ড দরকার হল বার জন, যাদের এখন ছয়-ঘণ্টা কাজের জন্য প্রত্যেকের মজুরি ৭,০০০ টাকা করা হল। তাতে মোট খরচ হল ৮৪,০০০ টাকা। অতিরিক্ত খরচ লাগল ১২,০০০ টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে যে, কর্ম-ঘণ্টা যত কমছে, তত বেশি কর্মী কাজের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু অফিসের মোট খরচের পার্থক্য কমছে। এতে সম্পদের বণ্টন বেশি লোকের মধ্যে করা যাচ্ছে, সুবিধা-ভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সংখ্যক গার্ডের মধ্যে দু’জন নারি গার্ডকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। [চলমান: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে নদ-নদীর গুরুত্ব – পর্ব ২]
(লেখক : এডওয়ার্ড আইয়ুব, লেখক ও ধর্মযাজক, প্রেসবেটিরিয়ান চার্চ অব বাংলাদেশ, গাজীপুর, বাংলাদেশ, ইমেল: ayub1163@gmail.com)
অদ্ভূত রকমের ভালো লাগলো। আপনার পরামর্শ গুলিও যথার্থ বলেই আমার কছে মনে হয়েছে। আসলে এ বিষয়টিকে নিয়ে কেউ কখনও ভেবেছে বলে আমার জানা নেই। আর ভাবলেও সে ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে বলেও আমার জানা নেই। অবশ্য এটি আমার নিজের অজ্ঞতাও হতে পারে। আর কাজের ঘন্টা কমিয়ে বেশী শ্রমিক নিয়োগ দিলে যে আর্থিক প্রশ্নটি আসবে সেটিও একটি কল্যান রাষ্ট্রের জন্যে খুব বড় বিষয় নয়। কারণ, বেশী শ্রমিক হলে উৎপাদনও অধিক হবে। সে ক্ষেত্রে অধিক আর্থিক প্রয়জনের বিষয়টিকেও তারাই সামাল দেবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি- অতিরিক্ত উৎপাদন করে আয়ের মাত্রাটিকে বাড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থটি তারাই সরকারের নির্দিষ্ট খাতে প্রদান করবে। আপনার অতীব মূল্যবান এ লেখাটিষ জন্যে আমি আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। অনেক শভ কামনা।। ভালো থাকবন।
OK.
সুন্দর, গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, বাস্তবিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো লেখা l সরকার ও দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক এ চিন্তা ও পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়ন করলেই দেশ তথা সমাজের উন্নয়ন সম্ভব l