আমার বাড়ি আর তারকবাবুর বাড়ি কাছাকাছি। মুখোমুখি। রাস্তার এপার ওপার। মাঝখানের ইটবেছানো রাস্তা, পঞ্চায়েতের তৈরি। আমার বাড়ির বারান্দা থেকে কয়েকটা বাড়ি দেখা যায়। দোতলার বারান্দা। আমার ছেলেমেয়েরা থাকে সব হস্টেলে। ওরা দু-চার দিনের ছুটি পেলে আসে। বাড়ি আসার দিনগুলো ওদের কাছে হ্রস্ব। অলকা আমি ছাড়া দোতলা বাড়িতে কেউ থাকে না। ঠিকে ঝি অপর্ণা এসে দু-বেলা কাজ করে চলে যায়। তারকবাবুর বাড়ির একতলায় ভাড়াটে থাকে। কমবয়সী দম্পতি, সুধাকর আর তপতী, আর তাদের কমবয়সী মেয়ে ছৌ। খুব ভালো নাম। আড়াই বছর বয়স। মাঝে মাঝে অলকার কাছে আসে। আমাকে ওর পছন্দ নয়। ভয় করে। আমি যতই ঘেঁষতে যাই ওর কাছে, ও ততই কান্নাকাটি করে। যাক গে, অলকার কাছেই থাক না!
তারকবাবু দু-বছর হলো রিটায়ার করেছে। আমি দেড় মাস। এই বেশ। আরেক-রকম থাকা। পনেরো বছরের এ-পাড়ায় বাড়ি করে থাকার দৈনন্দিন এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে কাটে। একত্রিশ বছর বিবাহিত জীবনে আমার স্ত্রী অলকাকে জানারও কিছু খামতি ছিল। অফিস যাওয়ার তড়িঘড়িতে নাকে-মুখে দুটি ভাত খেয়ে অলকার হাত দিয়ে বাড়ানো গামছায় মুখ মুছে ক্ষণমুহূর্তে অলকাকে দেখার ভেতর কত অসম্পূর্ণতা ছিল। আকর্ষণ ছিল, কিন্তু তিলেক দাঁড়াবার উপায় নেই। রাতে তো নটার পর বাড়ি ফেরা।
এখন বারান্দায় চেয়ার পেতে বসার সময় আমার বেড়েছে। রেললাইনের গোড়ায় বাড়ি। ট্রেন আসা-যাওয়ার শব্দ পাই। আর অলকার চেনা ঘ্রাণ। অলকা প্রায়ই কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসে দাঁড়ায় নিঃশব্দে। আমি তাকে তিলেক দেখি। তারপর আবার মুখ ঘুরিয়ে নিই, ঘ্রাণেই সখ্য বেশি গড়ি। অলকা আবার ফিরে যায় বাড়ির ভেতর পানে।
আজ রবিবার। সকালবেলা অলকাকে জিগেস করে জেনেছিলাম আজ কী বার? কেননা রিটায়ারের পর বার-তারিখ মনে থাকে না। এখন জুনের বিকেল। অল্পবয়সী দম্পতি এখনও ঘুমোচ্ছে, বিকেল পাঁচটা বাজে। রোদের এখনও তেজ আছে। ছুটির দিন এভাবে মানুষ ঘুমোয়। তারকদা একটু আগেই চলে গেছে তার মুদিখানার দোকানে। রিটায়ারের পর পাড়ায় মুদিখানার দোকান করেছে। বউ নন্দিনী। বৌদিও হাতে হাতে সাহায্য করে। সন্ধ্যার পর যাবে, শাঁখ বাজিয়ে, সন্ধ্যা দেবে, আলো জ্বালিয়ে, তবে। তাদের ছেলে আলো এবার নাইনে উঠেছে। পড়াশোনায় মোটা। মাজাঘষায় কোনো মতে এবার নতুন ক্লাসে উঠেছে। অলকা বলত। কেননা নিচু ক্লাসে অলকার কাছে পড়তে আসত।
বলতে বলতে আলো এল তাদের গেটের সামনে। বাবার সঙ্গে দোকান খুলতে গিয়েছিল। এখন টিনের দরজায় ধাক্কাচ্ছে জোরে জোরে। আলো তো এহেন অসহিষ্ণুতা দেখায়নি কখনো!
নন্দিনীর কানে যাবার মতো শব্দের জোর। পাগলাঘন্টার মতো। আলো এত রাগ দেখাচ্ছে কেন মায়ের ওপর ? ঘ্রাণে বুঝলাম অলকা আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। পেছন ফিরে দেখলাম তাকে। বললাম, ‘বৌদির কী হলো, খুলে দিচ্ছে না কেন?’
অলকা বলল, ‘চুপ করো।’
‘কেন?’
‘আরে, দেখতে দাও।’
আমি কিছু রহস্যময় গন্ধ পেলাম। ‘কী হয়েছে?’
‘এখন নয়, চুপ করো, পরে বলছি।’
‘কেন কী ব্যাপার?’
‘দেখবে, আলোকে ঢুকতে দেবে না বাড়িতে।’
‘কেন কেন?’
‘আলো টাকা চুরি করেছে।’
‘কত টাকা?’
‘দশ হাজার টাকা। মোবাইল কিনেছে। আর’—
‘আর?’
‘পনেরো বছর আমরা এখানে বাড়ি করেছি, তুমি কি জানতে আলো ওদের ছেলে নয়?’
‘ছেলে নয়?’
‘আরে আলো তো মুসলমান ঘরের ছেলে।’
‘মানে?’
‘মানেটানে কিছু জানি না। আমিও ক-দিন হলো জেনেছি। টাকা চুরি করার পর। পাড়ার কেউ কেউ জানত। জালালদার বাড়িতে তার ছেলের সঙ্গে টিউশন পড়ত, মিনা ভাবি একদিন আলোকে সে-কথা বলা দেয়।’
‘তাই বুঝি?’
‘আলো বাড়িতে এসে বলে, “মা তুমি আমার মা নও”?’
‘নন্দিনী বৌদি আলোকে আলোর জ্ঞান হওয়ার পরই বলে দেওয়া উচিত ছিল। এখন পনেরো বছর বয়সের ছেলেটার কষ্ট কতখানি বুঝতে পারছ?’
‘আলো তো বিগড়ে গেল। টাকা চুরি করে মোবাইল কিনল।’
‘বৌদি যে তার মা নয়, আলোর এই প্রশ্নের কী উত্তর দিল?’
‘বৌদি কথাটা শুনে আলোর নড়া ধরে আলোকে টানতে টানতে মিনা বৌদির বাড়িতে নিয়ে যেতে যেতে চেঁচাতে লাগল, “কে বলে রে আমি তোর মা নই, চল, আমি তার ধুধ্ধুড়ি নেড়ে দিই”।’
‘তারপর?’
‘বৌদি মিনা ভাবির বাড়ি গেল আলোর নড়া ধরে—ঝগড়া করল—অকথা কুকথা বলল, বাড়ি ফিরে এসে বারান্দায় পা ছড়িয়ে এক ঘণ্টা কাঁদল। আলো তো হতভম্ব। দু-দিন পর টাকা চুরি করল। তারকবাবু আলোকে রাস্তায় বের করে দিয়ে ভেতরে তালাচাবি দিয়ে দিল।’
‘আলো কী করল?’
‘রাস্তাতে বসে বসে কাঁদতে লাগল। এক ঘণ্টা পরে বৌদি এসে হাত ধরে ঘরে নিয়ে যায় আলোকে। তিন দিন আগের কথা।’
আমি বললাম, ‘আমাকে তুমি বলো নি কেন? আমি কোথায় ছিলাম?’
অলকা বলল, ‘ও মা তুমি তোমার দেশের বাড়ি গিয়েছিলে?’
‘কড়িয়া?’
‘হ্যাঁ।’
‘এখন আলো রেগে গেছে কেন?’
‘সারাক্ষণ তো রেগে থাকছে।’
অলকা ফিরে গেল রান্নাঘরে, বারান্দা এখন তার কাছে সরে গেছে। আমিই একমাত্র বারান্দায় বসে সেই দৃশ্যের সামনে আছি। আলো তেমনই দরজায় শব্দ করছে। কিন্তু শব্দটার জোর কমে গেছে। তারপর কেঁদে উঠল, ‘মা-মা’ করে।
এই কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই নন্দিনী বৌদি দরজা খুলে বেরিয়ে এল, ঠাস করে আলোর বাঁ-গালে একটা চড় মারল, ‘কো তোর মা? আমি নই তো আর কে আছে? শুয়োরের বাচ্চা, বেজন্মার জাত!’
আলো মায়ের মার সহ্য করে ঢুকে গেল ভেতরে। তারপর একটা ব্যাট নিয়ে বেরিয়ে এল। ‘আমি আজ প্রাইভেট পড়তে যাব না।’
নন্দিনী বৌদি বলল, ‘সন্ধে হয়ে আসছে তো।’
‘আমি আজ পড়ব না।’
‘দেখব, কেমন পড়তে না যাস, তোর একদিন কি আমার একদিন!’
‘আমার খুব রাগ!’
‘তুই তোর রাগ নিয়ে থাকবি, না গেলে আমি কী করি দেখিস!’ নন্দিনী বৌদি ওভাবে আলোকে রেখে রাগে গর গর করতে করতে দোতলায় উঠে গেল।
আলো কোথাও গেল না। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাতাসে ব্যাট করতে লাগল। ব্যাট চালানোর মধ্যে কোনোটা ধোনির মতো, কোনোটা শচীন, সৌরভ, বিরাট কোহলির মতো। তারপর পায়ের কাছ থেকে রাস্তার নুড়ি কুড়িয়ে বাঁ-হাত দিয়ে নুড়ি ছুড়ে দিয়ে ব্যাট চালনা করে মারছে। প্রতিটিই নির্ভুল মারছে। একটার পর একটা। রেগে যাওয়া ব্যাটসম্যান যেমনটা করে। অভিমান আছে, ভালোবাসাও আছে তার মধ্যে। তার অস্তিত্বও। তার কষ্টও আছে। ছ-মাস বয়স থেকে যে মায়ের কোলে মানুষ হয়েছে। সে মা নাকি তার মা নয়? ব্যাট চালনার মধ্যে তারই বিস্তার।
আমি ভাবি নন্দিনী বৌদির কথা। মহাসংকটে পড়েছে। রেগে গিয়েছিল খুব। তারকদা বলেছিল, নিজের ছেলে হলে কি এভাবে এত টাকা চুরি করতে পারত! আলো পেটের ছেলে নয় বলে এমনটা করেছে। প্রথমে বিশ্বাস করেছিল নন্দিনী বৌদি। মোবাইল কেড়ে নেয়, বাকি টাকা কেড়ে নেয়। মারধরও করে ওর বাবা। ওর বাবা? আলোর কাছে তার স্বামী বাবা ছাড়া আর কী সম্বোধন আছে? মা ছাড়া কথা বলতে পারে না, মা বলতে অজ্ঞান। লোকের মুখে শুনে বিচলিত হয়েছে বটে, কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে তার চেয়ে বেশি। টাকা চুরিটা বিশ্বাসঘাতকতা ভেবে মারধর করে গালাগাল দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। আলো যায়নি। হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়ার সময় হাপুস নয়নে কেঁদেছিল যেমন তেমনি রাগ দেখিয়েছে। যেমন করে নিজের ছেলেরা করে। আলো যে দত্তক নেওয়া পাড়ার সবার কাছে অজানা। কেননা পাড়াটা নতুন গড়ে উঠেছে। তারকবাবু আদি বাসিন্দা। পনেরো বছর পরে আর সবাই বাড়ি করেছে। অলকা খবর সব পায়, তারকবাবুদের নিজের এক ছেলে ছিল। চোদ্দো বছর বয়সে গাড়ি চাপা পড়ে মারা যায়। নন্দিনী বৌদির পাগলপ্রায় অবস্থা, কোথা থেকে একটি বাচ্চাকে দত্তক নিয়ে কোলে তুলে দেয় তারকদা নন্দিনী বৌদির। আলোকে পেয়ে সব কষ্ট ভুলে যায়। এখন আবার কষ্ট। আলোর হাত ধরে হু হু করে কেঁদে ওঠে।
অলকার কাছে জানতে পারলাম, আলো মুসলমান ঘরের ছেলে। এটাও সম্ভব? সম্ভব হওয়াটাই তো প্রত্যাশিত। যে-কোনো ধর্মের শিশুদের কোনো ধর্ম নেই। তারা দেবদূত। নন্দিনী বউদি আলোকে প্রাণ মন করে। রাগের মাথায় ‘অজাত’ ‘কুজাত’ বলে গালাগালি দেয় যদিও। মুসলমান বাড়ির কোনো খাবার খায় না। নিরামিষ খায় ধর্মকর্ম করে।
সন্ধ্যা নেমে যাওয়ার আগে আলো টিউশনি পড়তে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। পেছু পেছু এসে নন্দিনী বৌদি দাঁড়িয়ে পড়ল।
আলো বারান্দার নীচে আসতে আমি ডাকলাম—‘আলো’।
আলো থেমে গিয়ে ওপরের দিকে তাকাল।
আমি বললাম, ‘আলো, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে, আমার সঙ্গে দেখা করবে।’
আলো বলল, ‘এখন যাব?’
আমি বললাম ‘না, এখন নয়, কালকে যখন সময় হবে—আর শোনো, তুমি কি খুব কষ্টে আছো?’
আলো বললো, ‘না।’
আমি বললাম, ‘তোমার মা তোমাকে মায়ের মতোই মানুষ করেছে। মা-ই তোমার।’
কথাটা শুনে সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে আলো চলে গেল।
আমি ভাবলাম সমস্যাটা আলোর, আমি কী করতে পারি। যেচে এসব বলা কি ঠিক হলো? খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। আলো যদি কিছু করে ফেলে? বয়সটা খুবই খারাপ। ভালো কিছু করার জন্যই তো ডেকে ওকে এসব কথা বললাম। আলো কি নিজেকে লুকোচ্ছে? আলোর মধ্যে কতখানি অন্ধকার জমে উঠেছে সে-সব দেখতে পাচ্ছি না আমি। আমার অবস্থা খড়ের গাদায় ছুঁচ খোঁজার মতো। তবুও তো একরকম চেষ্টা করলাম। ধরা দিল না। হয়তো—নন্দিনী বৌদি আমাদের কিছু বলে না কেন? আমরা সকলে সাহায্য করতে পারতাম।
একা একা স্নেহ ঝরায় নন্দিনী বৌদি। মা না হয়ে মায়ের ভূমিকা থেকে সরে না। মাতৃত্বের এমন রোদ্দুর নারী বলে, সব নারীর মধ্যে একটা মা আছে। তারকদা তেমনটা নয়। টাকা চুরি করায় আলোর ওপর হাত ধুয়ে বসে আছে। মন থেকে সরিয়ে দিয়েছে আলোকে। আজ রাতে নন্দিনী বৌদির সঙ্গে ঝগড়া হলো আলোকে নিয়ে। শেষের দিকে বৌদি তুমুল চোটপাট করল। রেগে আগুন। কী দিয়েছ আমাকে? কোনদিন কোথাও বেড়াতে নিয়ে গেছ আমাকে? নিষ্কর্মা অযোগ্য মানুষ। তারকবাবু রাগে তেড়ে যায় আলোর ওপর। সে হাউ হাউ করে কাঁদে। আলোর এই কান্না কি থামতে পারে না? কে পারবে থামাতে? নন্দিনী তাকে থামাতে চাইছে। কিন্তু ততই কান্না বেড়ে যাচ্ছে আলোর। বৌদি আলোর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে কান্না থামাতে লাগল। ধীরে ধীরে কান্নার শব্দ থামতে লাগল। কান্নার শব্দ কমতে থাকার মধ্যে এই কথা যেন আভাসিত হতে থাকল, আলো বিশ্বাস করে না নন্দিনী তার মা নয়। এই বিশ্বাস যে শুধু বিশ্বাস, সত্য নয়, হয়তো সে কথা জানে। সে কথা জানার যথেষ্ট বয়স হয়েছে।
ঘটনাটা শেষ পর্যন্ত কোনদিকে গড়াবে সে কথা নিয়ে আমরা স্বামী-স্ত্রী চিন্তিত, আমরা দুজনে দুজনকে চিনি বলে একে অপরের কপালের ভাঁজে কী তা পড়তে পারছি। আমরা স্বাভাবিক কথায় গেলাম। যেমন করে এই বয়সের স্বামী-স্ত্রী কথায় যায় সে-রকম সহজ কথাতেই। আমাদের যেন কোনো দুশ্চিন্তা নেই, মনঃপীড়া নেই।
অলকাকে হাই তুলতে দেখে বললাম, ‘ঘুম পেয়েছে? দুপুরে ভালোই ঘুমোলে!’
অলকা বলল, ‘আরে না না—আজ ইসতিরি করতে ভুলে গেলাম। তুমিও তো পারতে করতে।’
‘তোমার মতো কি?’
‘সে যা-ই হোক! কাল কোরো।’
‘কার বোঝা কে বইবে।’
‘বটে।’ মুচকি হাসি দিল অলকা। ‘আমি আমার কাজ নিয়ে পাগল।’
‘তোমার কাজ পছন্দ করি বলেই—’
‘আর বাড় খাইও না।’
‘চা দিলে না।’
‘এই দিই, ভিজছে।’
‘ঠান্ডা হয়ে যাবে না তো?’
‘না।’
আমি নিশ্চিত যে এই কথোপকথনে আলো ছিল। আলোর কষ্ট নিয়ে ভাবনা।
পরের দিন বিকেলে আমার ইসতিরি করার দিনে বারান্দায় আমরা দুজন এসে দাঁড়িয়েছি যেই অমনি সাইকেলের ক্রিং ক্রিং…। বারান্দার নীচে সাইকেলের বেল বাজচ্ছে আলো, যেন ঝড়ের বেগে, যেমন ঝড়ে অনেক পাকা আম পড়ে যায়, তেমন মুখরতা সাইকেলের ঘন্টির শব্দে। একটা নতুন সাইকেল নিয়ে বারান্দার নীচে দাঁড়িয়ে আছে আলো। মুখে হাসি। স্কুল থেকে ফিরছে, ‘কাকু-কাকিমা, স্কুল থেকে নতুন সাইকেল পেলাম আমি।’ তার এই আনন্দিত হওয়া হাসি উচ্ছ্বাসের শব্দ পেয়ে আমাদের মতো তারকদা ও নন্দিনী বৌদি তাদের বারান্দায় এসে ঝুঁকে হাসিমুখে তা দেখছে। সাইকেলটাই যেন তার শুশ্রূষা। আঁকড়ে ধরে আছে।
সংগ্রামী মা মাটি মানুষ পত্রিকা ২০১৭ পূজা সংখ্যায় প্রকাশিত