কৃষি খামারের মধ্যে একটি ফার্ম স্টে… দুর্গাপুর ব্যারেজ পেরিয়ে বাঁকুড়া রোডের উপরে অবস্থিত বড়জোড়া ফার্ম হাউস। সম্পূর্ণ নতুন এই জায়গাটিতে ২-৩ মাস হলো পর্যটকদের থাকার জন্য ব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছে। ৬৮ একর জমির মাঝে সে এক বিপুল কর্মযজ্ঞ। ৬ লক্ষের উপরে পেয়ারা, লেবু, বেদানার চারা চাষ শুরু হয়েছে। ধ্বংসাবশেষের মত পড়ে থাকা এই জমিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। জংলা আগাছাগুলোকে কেটে পরিস্কার করে সাজানো হচ্ছে। ফুলের বাগান, সবজির বাগান, নব পুকুর নির্মাণ, রাস্তার পাশে আলোর বন্দোবস্ত… সব মিলিয়ে এক দারুণ কাজের সাক্ষী থাকলাম।

এবার আসি থাকার জায়গার কথাতে। বিশাল বড় ঘরগুলো সুসজ্জিত, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এই করোনা আবহে এমন একটা পরিবেশে থেকে এলাম যেখানে নিশ্চিন্তে শান্তির নিশ্বাস নিলাম। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ইন্ডোর গেমের ব্যবস্থা। এছাড়া নানা রকম খেলার জন্য সামনের খোলা প্রাঙ্গণ তৈরি করা হচ্ছে। ঘাসের গালিচাতে দৌড়ে বসেই সময় কেটে যায় অনেকখানি। পুকুরপাড়েও কিছু দড়ির দোলনার ব্যবস্থা রয়েছে।
খাবার ব্যবস্থার কথা না বললে ভুল হবে। ৩ বেলা যা খেলাম তাতে মনে হল না যে, বাড়ির বাইরে খাচ্ছি। মাছের মাথা দিয়ে বাগানের পুঁইশাক, পুকুরের টাটকা মাছের ঝোল কিংবা হালকা মিষ্টি শিমুই পায়েস, সকালের ফুলকো লুচি, আলুর দম… খুবই লোভনীয়, সহজপাচ্য খাবার।

এই পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের অমায়িক ব্যবহার আরো প্রানবন্ত করেছে। কখনই মনে হলো না যে বাইরে কোনও হোটেলে আছি, গল্পে, আতিথ্যতায়, ভদ্রতায় ওনারা পরিবেশটাকে আরো সুন্দর করেছেন। সোমনাথ বাবু এবং রুদ্রনীল বাবুর অতিথিবৎসল আচরণ… মনে রাখার মত।
এবার কাছাকাছি কি দেখার
সম্পূর্ণ কৃষি খামারটি ঘুরে ঘুরে দেখতেই অনেক সময় কেটে যায়। বিকেলে হাঁটা পথে ৫ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায় দামোদরের পাড়ে। বিকেলের সূর্যাস্ত এক অপরূপ দৃশ্য। আমরা দামোদরের বুকে বিকেলে নৌকা বিহারও করলাম। বেশ কম খরচে, জন প্রতি ৪০টাকায় আধ ঘন্টা ঘুরে দেখলাম। জলের মধ্যে জেলেদের জাল ফেলা, সূর্য ডোবা, এমন করেই সময় কাটলো বেশ। বড়দিনে একটু ভীড় থাকায় প্রতাপপুর ঘাটের সন্ধ্যা আরতি দেখতে আর আমরা যাই নি, কিন্তু সে দৃশ্যও মনোরম, কাছাকাছি দেখার একটা জায়গা।

সন্ধ্যায় শান্ত খামারবাড়ির ব্যালকনিতে এক অন্য রকম সময় কাটলো। আবার পরের দিন সকালের দৃশ্য অন্যরকম। নানারকম পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙলো নিশ্চিন্তে বিশুদ্ধ বাতাসে। সকালে বাগান জমি ঘিরে কত লোকের কাজের রকমারি। কেউ আগাছা সাফ করতে ব্যস্ত, কেউ রাস্তা পরিস্কার করছে, আবার আম গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে নতুন করে জীবন্ত করছে, ফলের চারাদের যত্ন করছে কেউ, গাছে জল তো দিচ্ছেই কেউ না কেউ, অন্যদিকে খেলার মাঠে নতুন ঘাস লাগানো চলছে, এছাড়া থাকার জায়গায় লোকজন নিজেদের কাজে ব্যস্ত। এই করে সকালটা কাটিয়ে বেড়িয়ে পড়েছিলাম বিষ্ণুপুরের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মনের মধ্যে অনাবিল পরিতৃপ্তি নিয়ে।

জায়গাটির নাম— বড়জোড়া, দুর্গাপুর ব্যারেজ পেরিয়ে বাম দিকে অবস্থিত, বাঁকুড়া রোডের উপর। বড়জোড়া কৃষি খামার। থাকা খাওয়া মিলিয়ে একদিনে তিনজনের খরচ ৫৫০০-৬০০০ মত। ড্রাইভারের থাকার আলাদা ব্যবস্থা আছে।
এখান থেকে ঘুরে আসা যায়— বাঁকুড়ার নানা জায়গা, শুশুনিয়া পাহাড়, আশেপাশের ড্যামে। আমরা পুরাতাত্ত্বিক জায়গা বিষ্ণুপুর ঘুরে বাড়ি ফিরেছি। এখান থেকে বিষ্ণুপুর যেতে ১.৫ ঘন্টা সময় লেগেছে।
