১৯২২ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরির হলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচালনায় বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আবৃত্তিও পরিবেশন করেন। সেই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ অন্যান্য আশ্রমিকরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের কথা মনে রেখে তার শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রামমোহন লাইব্রেরি এন্ড ফ্রি রিডিং রুম এর উদ্যোগে সেই রামমোহন লাইব্রেরীতেই গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় “শতবর্ষের বর্ষামঙ্গল” নামে একটি নান্দনিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে পরিবেশিত শতবর্ষের বর্ষামঙ্গল গীতি আলেখ্যটির গ্রন্থনা ও সংযোজনা করেন চৈতালী গঙ্গোপাধ্যায়, সংগীত পরিচালনা করেন রচয়িতা রায় দত্ত। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শুভাশিস দত্ত। গ্রন্থাগারের সভাপতি ডাঃ সুবীর গাঙ্গুলী, সম্পাদক সঞ্জিত মিত্র, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ডা. শংকর নাথ-সহ বহু বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।

শতবর্ষ আগে রামমোহন লাইব্রেরীতে রবীন্দ্রনাথ
এই অনুষ্ঠানের প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করতে গিয়ে ১০০ বছর আগের সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা মাদাম সিলভা লেভির লেখা থেকে পড়ে শোনান ডা. শংকর নাথ। মাদাম লেভি লিখেছেন, “ছয়টায় শুরু। আমরা ঠিক সময়ে দর্শকে ঠাসাঠাসি সুদৃশ্য নাট্টালয়ে গিয়ে আসন গ্রহণ করলাম। গুটি কয় ইউরোপিয়ান, বড়জোর জনা পনেরো। শোভন সুবেশ দর্শকদের সমাবেশ। অপূর্ব সব অলংকার। গহনার পাথরগুলি যে শুধু দামি তা নয়, সেগুলি যার উপর বসানো তাও সমান মূল্যবান। ঝলমলে শাড়ি, পুরুষদের হিমশুভ্র পোশাক। সব মিলে একটা ছিমছাম নিখাদ, নিপাত সৌখিনতা আর মার্জিত রুচির পরিচয়। পর্দা উঠলো। গায়িকাদের পরনে লাল পাড় সাদা শাড়ি, গায়কদের মাথায় এক ধরনের লাল পাগড়ি। পিছন দিকে মাছ বরাবর দিল খোলা দিনু বাবু। (দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর)। তার সামনে মঞ্চের পুরো ভাগে গায়ক বাদক বিনা বাউলের একতারা। চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসরাজ বাজাচ্ছেন। অনুষ্ঠানের প্রথমেই তাপদগ্ধ গ্রীষ্মের অবসানে বর্ষার আহ্বান। আর সেই মুহূর্তে প্রচন্ড শব্দের ডেকে উঠল মেঘ। ঝমঝম করে এক পশলা বৃষ্টি এলো। আমরা চমকে উঠলাম। দেবতার আশীষ ধন্য অশেষ গুণের অধিকারী সন্তানটির আহবানে এ যেন তাঁদের সাড়া। সেই সময় এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বর্ষার ১৮টি গান নিয়ে ১৬ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার মলাটে লেখা ছিল “বর্ষামঙ্গল। দাম চার আনা।”

সেদিনের সেই রোমাঞ্চিত স্মৃতি যেন ফিরে ফিরে এলো একশ বছর পরের এই অনুষ্ঠানে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অম্লান স্মৃতি শ্রোতাদের আচ্ছন্ন করে রাখলো সারাটা সন্ধ্যা।
শুভেচ্ছা একরাশ
যোগ্য উপস্থাপনা। ঋদ্ধ হলাম। ভালো লাগলো।
অতীত জেনে ঋদ্ধ হলাম। শুভেচ্ছা।