বসন্ত এসে গেছে আগেই। এবার বসন্তোৎসবে মেতে ওঠার পালা। সোমবার দোল, মঙ্গলে হোলি। রঙের উৎসবে রং তো মাখতেই হবে, মাখাতেও হবে। করোনা-আতঙ্কে অনেকে এবার হোলি খেলা থেকে বিরত থাকলেও সেই সংখ্যা খুবই নগণ্য। চিকিৎসকরা বলছেন, রং খেলুন চোখ বাঁচিয়ে। কিছু সাবধানতা শুধু অবলম্বন করতে হবে। খেয়াল রাখুন, আনন্দ যেন কারও নিরানন্দের কারণ না হয়। কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে? সেগুলি হলো:
১) রং খেলার সময় সানগ্লাস পরে খেলুন।
২) যাঁদের চোখে পাওয়ার আছে বা চশমা ব্যবহার করেন তাঁরা চশমা পরে খেলুন।
৩) ভেষজ রং ব্যবহার করাই ভালো।
৩) গুঁড়ো রঙেই বেশি বিপদ লুকিয়ে রয়েছে। তাই আবির মাখালে পিছন থেকে কাউকে মাখাবেন না। যাঁকে আবির মাখাচ্ছেন তাঁর চোখ বাঁচিয়ে মাখান।
৪) জল রঙের বেলুন কারও দিকে ছুঁড়লে শরীর লক্ষ্য করে ছুঁড়ুন, মুখ লক্ষ্যে করে নয়। হঠাৎ এমন জল বেলুন লাগলে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
৫) চোখে রং গেলে কয়েকবার পরিষ্কার জলের ঝাপটা দিন।
৬) চোখে রং গেলে আঙুল দিয়ে চোখ রগড়াবেন না। নোংরা হাতে তো নয়ই। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং চোখের পাতা উঠিয়ে-নামিয়ে ভেজা তুলো দিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন।
৭) এ সবের পরেও সমস্যা রয়েছে লক্ষ্য করলে চিকিৎসককে দেখান। ফর্টিস মেডিক্যাল সেন্টারের কনসালটেন্ট অপথালমোলজিস্ট ডা. নন্দিনী রায়ের কথায়, রং খেলার পর অনেকেই চোখের নানা সমস্যা নিয়ে আসেন। খারাপ গুণমানের রং, সঠিক পদ্ধতিতে চোখ পরিষ্কার না করা এবং সাবধানতা না মেনে ইচ্ছামতো রং খেলাতেই চোখের সমস্যা নিয়ে মানুষ আসেন। এমনকী সম্ভাবনা কম থাকলেও এইসব সমস্যা অন্ধত্বের কারণ পর্যন্ত হতে পারে। চোখের ভিতর রং গিয়ে বা চোখের পাতায় দীর্ঘক্ষণ রং আটকে থাকলে চোখ লাল হয়, আবছাভাব আসে, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে, চোখে ব্যাথা হতে পারে, চোখ দিয়ে জল পড়ে, এমনকী কেমিক্যাল বার্নস হতে পারে। সঠিক পরিচ্ছন্নতার অভাব সমস্যা বাড়ায়। আঙুলে নোংরা থাকা অবস্থায় তা দিয়ে চোখ রগড়ালে ব্যাক্টেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস হতে পারে। তাই এ সব এড়াতে চোখ বাঁচিয়ে রং খেলুন কয়েকটি সতর্কতা মেনে।
