মাঝরাতে আজ আবার ঘুম ভেঙে গেল, ওপরের ঘরে ভারী পায়ের শব্দে, কলকল গলায় মায়ের হাসির শব্দে, বা কোনও দুঃস্বপ্ন দেখে। চোখ খুলে অতু বিছানায় পড়ে থাকে। ওর বাবাও ঘরে নেই। বাবা, মা ও অতু এক ঘরে ঘুমোয়, নিচতলার এই ঘরে, ঘরটা বড় আর গরমে ঠাণ্ডা। দোতলা বাড়ি হলেও নিচতলাটাই এরা বেশি ব্যবহার করে। হলঘর, ডাইনিং স্পেস, বাবার লাইব্রেরি সব নিচতলাতেই। ওপরের ঘরে হেঁটে চলা ভারী পায়ের শব্দে বা মায়ের কলকল হাসির শব্দে বা কোনও দুঃস্বপ্ন দেখে বা অন্য কোনও কারণে অতুর ঘুম ভেঙে গেলে সে প্রায়ই দেখে বাবা তার পাশে ঘুমিয়ে, মা নেই, মায়ের বিছানা খালি। নাইট ল্যাম্পের আলোয় বিছানার হালকা বাদামি শূন্য চাদরটা কুঁকড়ে আছে। মা চলে গিয়েছে ওপরে, তার বন্ধুর সঙ্গে। গভীর রাতে প্রায়ই মায়ের কাছে একটা লোক আসে। মায়ের বন্ধু। মা দরজা খুলে দেয়, তারপর দুজনে ওপরে চলে যায়। তার পর কখনও থমথমে নৈঃশব্দ্য বা শ্বাসপ্রশ্বাসের চাপা শব্দ বা ভারী পা ফেলে হেঁটে চলার শব্দ বা কলকল হাসির। ঘুমন্ত বাবাকে জড়িয়ে অতু আবার ঘুমিয়ে পড়ে, কারণ তার বয়স এগারো, বেশিক্ষণ ভাবতে পারে না, ভয় হয়, বা ঘুম চলে আসে। কিন্তু আজ বাবাও বিছানায় নেই।
বাবা হয়তো লাইব্রেরি ঘরে। বাবা তো জানে তার স্ত্রীর কাছে, অতুর মায়ের কাছে প্রায়ই রাতে একটা লোক আসে। কিন্তু কিছু বলে না। প্রথম যে রাতে জেনেছিল সে রাতে বাবার বমি হয়, পরদিন জ্বর আসে, পর পর কয়েকদিন খিদে চলে যায়, আর রাতে ঘুমোত লাইব্রেরি ঘরে ডিভানে। তারপর বাবা শান্ত হয়ে যায়। মাকে কিছু বলে না। মাকে কখনওই কিছু বলেনি। মা নিজেই জানায় লোকটা তার ছোটবেলার বন্ধু। একসঙ্গে স্কুলে পড়ত। তারপর বড় হয়ে যে কোথায় হারিয়ে গেল। কোন সমুদ্রের ওপারে। মা বলে, নইলে ওর সঙ্গেই হয়তো তার বাবা মা বিয়ে দিত, কারণ লোকটা বড়লোক, আর মজার, মজার মজার কথা বলে, আর হাসায়। মজার মজার কথা বলে যে হাসাতে পারে, মা বলে, তাকে তার খুব ভাল লাগে।
‘তুমি এত গম্ভীর থাকো কেন?’ বাবাকে জিজ্ঞেস করে মা। ‘হাসো না কেন? হাসতে পারো না কেন?’
অতুর বাবা চুপ করে থাকে। প্রসন্ন দৃষ্টি মেঝের দিকে। তার মুখ সব সময় প্রসন্ন, যেন কোনও প্রসন্ন নদী বয়ে বেড়ায় শরীর মনে। আচ্ছন্ন করে রাখে, আমোদে রাখে। মানুষের দিকে, পাখির দিকে, রোদের দিকে, নক্ষত্রের দিকে, প্রাচীন বাড়ির প্রকাণ্ড থামের দিকে, বৃষ্টির দিকে, বইয়ের দিকে, চলন্ত ঘড়ির দিকে, অতুর দিকে, এমনকী অতুর মায়ের দিকে অতুর বাবা যখন তাকিয়ে থাকে তখন তার দৃষ্টিতে প্রসন্নতা। ‘যথাসম্ভব আনন্দে থাকবি,’ মাঝে মাঝে অতুকে বলে, ‘ওটাই প্রাণের উদ্দেশ্য। চেষ্টা করলেই পারবি।’
অতু তখন বাবার বুকে মুখ গোঁজে। ভাল লাগে। চোখে কান্না আসে। ওই কান্না ভাল লাগে। বাবার গা খালি। বুকের মাঝখানে একটু ঢালু জায়গা, যেন নদীর শান্ত ভিজে মিঠে চর একটু, যেন মাটি। ওইখানে নাক রাখতে, গন্ধ শুঁকতে ভাল লাগে। মায়ের প্রতি তার রাগ, অভিমান একটু শান্ত হয়। বাবা আবার ঘুমিয়ে পড়ে ওকে নিয়ে। বা কখনও কখনও নানা কথা বলে। অনেক রাত পর্যন্ত।
আজ ঘুম ভাঙার পর অতু আর ঘুমোতে পারে না। ওপরে মায়ের হাসির শব্দ। লোকটার পদচারণার শব্দ। পাশে বাবা নেই। নাইট ল্যাম্পের আলোয় দেখা যায় মায়ের বিছানার বাদামি শূন্য চাদরটা কুঁকড়ে আছে। আজ সে খুব ভয় পেয়ে যায়। সে কি কোনও দুঃস্বপ্ন দেখছিল? একটা ভাঙা বাড়ির ধূসর কাঠের দরজার ফাঁক দিয়ে একটা সাপের লেজের ডগা ভেতরে ঢুকে গেল। সে সাপটার মুখ দেখতে পায়নি। শুধু এক টুকরো লেজ ভেতরে ঢুকে গেল। এবং কী ভয়ঙ্কর, রহস্যপূর্ণ, গা ছমছম করা ওই দৃশ্য। গোটা সাপটা দেখলে এত ভয় করত না।
সে বিছানা থেকে নেমে আসে। তার ভয় করছে। বাবার কাছে যাবে। বাবা নিশ্চয়ই লাইব্রেরি ঘরে। হলঘরটা পার হয়ে একটা সরু প্যাসেজের ভেতর দিয়ে এগিয়ে গেলে ডানদিকের দ্বিতীয় ঘরটা বাবার লাইব্রেরি। সেদিকে হাঁটার সময় সে ইচ্ছে করেই আলো জ্বালাল না, কারণ কোনও কিছু দেখতে সে ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হচ্ছিল সে যেন একটার পর একটা খালি ঘরের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলেছে। তাদের বাড়িতে এত ঘর? এর আগে সে লক্ষ করেনি?
শেষপর্যন্ত যখন লাইব্রেরির সামনে পৌঁছল, আতঙ্কে সে হাঁপাচ্ছিল। তার বাবা ইজিচেয়ারে বসে চোখ বুজে চিন্তা করছে, দুটো আঙুল কপালে, মুখটা প্রসন্ন, পাশে টেবিল ল্যাম্পের আলো, অতুর পায়ের ওপর দিয়ে কি কিছু দৌড়ে গেল? ইঁদুর? চাপা শব্দ করে সে ছুটে গেল বাবার কাছে। চোখ খুলে বাবা ওকে বুকে টেনে নিল।
‘ঘুম আসছে না?’ গাঢ় গলায় বাবা জিজ্ঞেস করল। অতু দেখল একটা ইঁদুর ছুটে গেল বইয়ের শেল্ফের তলায়। বাবা ওদের মারতে মানা করে। ওরাও বইটই নষ্ট করে না।
‘একটু জল খাবি?’
বাবার বুকে মুখ রেখে অতু একটু শান্ত হয়। বুকটা যেন নদীর চর, মিঠে নরম মাটি। কিন্
ওর বাবা কিছু বলে না। অনেকক্ষণ স্তব্ধতা। ওপর থেকে মায়ের অস্পষ্ট গলা। লোকটার অস্পষ্ট গলা। ইঁদুরটা কোনও বইয়ের পাশ দিয়ে দ্রুত দৌড়ে যায়, ফলে খসখস শব্দ, কাগজের, দুঃস্বপ্নে দেখা সাপটার লেজের ডগাটা যেন কী রঙের ছিল?
কালো? গাঢ় মেরুন? গোটা সাপ দেখে তত ভয় করে না, যতটা করে তার অপস্রিয়মাণ লেজের ডগা দেখলে।
‘মাকে এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলো।’
ওর বাবা এ বারও কিছু বলে না। এটা অতুকে আরও অশান্ত করে তোলে। গভীর রাতে মাঝে মাঝে তার এ রকম ঘুম ভেঙে যাওয়া, মায়ের কলকল হাসির শব্দ, দোতলার মেঝেয় ভারী পায়ের চলাফেরা, সে কত দিন সহ্য করবে এ সব? মা এ বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে যাক। কিংবা মা থাকুক, লোকটা আসা বন্ধ করুক। কিন্তু লোকটা আসবেই, কারণ মা বলেছে সে তার ছোটবেলার বন্ধু। ছোটবেলার বন্ধুকে মা আসতে মানা করবে কী করে? তা ছাড়া, লোকটা যদি হঠাৎ নিরুদ্দেশ না হত, সমুদ্রের ওপারে কোথাও না চলে যেত, তবে মা নাকি তাকেই বিয়ে করত। তা হলে অতু তার এই বাবাকে পেত না। ভাবনাটা তাকে হঠাৎ এমন আতঙ্কিত ও হতবুদ্ধি করে দিল যে তার দু’ চোখ ছলছল করে ওঠে এবং সে প্রায় চেঁচিয়ে বলে ওঠে, ‘ওই লোকটাকে আজ মারবই!’
তু একটু পরেই আবার অশান্ত হয়ে ওঠে। ‘ওই লোকটাকে আজ মারব।’
বাবা ওকে কাছে টেনে মাথায় হাত বোলাতে থাকে। অতু ফুঁপিয়ে কাঁদে। তারপর বলে, ‘আর মাকেও বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলো।’
‘সেটা সম্ভব নয়,’ বাবা বলল। অনেকক্ষণ পর।
লাল, ভেজা চোখে অতু তাকিয়ে থাকে বাবার মুখের দিকে। বাবা চুপ করে থাকে। শান্ত দৃষ্টি মেঝের দিকে।
‘কেন?’
অতুর বাবা ভাবে। একটা মানুষকে সে কী করে তাড়িয়ে দেবে? তার স্ত্রী, অতুর মাকে সে কী করে তাড়িয়ে দেবে? ইঁদুরটা চলাফেরা করে বইয়ের এপাশ ওপাশ দিয়ে। অতুর বাবার দিকে চোখ পড়তেই মুখ লুকোয়। অদৃশ্য হয়ে যায়।
‘কেন চলে যেতে বলবে না?’ অতু আবার জিজ্ঞেস করে। কণ্ঠস্বরে তীব্র ক্ষোভ।
‘ও তোর মা। ওকে চলে যেতে বলি কী করে? কোথায় যাবে? তা ছাড়া, বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে সবাই জেনে ফেলবে। লোকসমাজে ওর মানহানি হবে। ও খুব লজ্জা পাবে। কিন্তু ও সব বাদ দে, ও যে তোর মা, ওকে চলে যেতে বলি কী করে? ওটা বলা কি সম্ভব? হ্যাঁ?’ ‘তা হলে ওই লোকটার সঙ্গে মেশে
কেন?’
ময়ূরের ডাক, ময়ূরের ডাক, শ্রাবণের গোধূলিতে ভিজে গাছপালার ভেতর থেকে আলিপুরের চিড়িয়াখানায় ময়ূরের ডাক! অতুর বাবা ভাবছিল। সেদিনই সে প্রথম ইন্দ্রাণীকে স্পর্শ করে। আচমকা। ইন্দ্রাণী বাধা দেয়নি, শুধু মুখ লাল করে বলেছিল, অনেকটা গ্রাম্য মেয়ের ব্রীড়ায়, অসভ্য, ডাকাত, চোর! সে কি ইন্দ্রাণীকে ভালবাসেনি? ইন্দ্রাণী কি তাকে ভালবাসেনি? না বাসলে অতু জন্মায় কী করে? অতু জন্মায় কেন? সমুদ্রের ওপারের লোকটার জন্য ওর যদি এতই টান বুকে গোপন করা ছিল তবে অতুকে না জন্ম দিলেই হত! বিয়েটা না করলেই পারত! এখন অতুর কষ্ট কী করে দূর করে অতুর বাবা?
‘কারণ লোকটাকে তোর মা ভালবাসে,’ অতুর বাবা জবাব দেয়। ‘ওরা ছোটবেলার বন্ধু। যদি তা নাও হত, আর তোর মা যদি ওকে ভালবাসত, তা হলেও কারও কিছু করার থাকে না। আমি যদি জোর করি, বলি ওই লোকটা এখানে আসবে না, তা হলেও কিছু হবে না। কারণ তোর মা তা হলে মনে মনে ওকে ভালবাসবে। আমাকে নয়, ওকে ভালবাসবে। মনে মনে যদি কেউ অন্যকে ভালবাসে, কারও কিছু করার থাকে না।’
অতু চুপ করে থাকে। মায়ের ওপর রাগ বাড়ে। লোকটাকে মারার ইচ্ছে প্রবলতর হয়। তার বয়স এগারো। সে তার দুটো খুদে, দুর্বল, নরম, অসহায় হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে।
‘মন খারাপ করিস না,’ বাবা বলল ওর হাত ছুঁয়ে। ‘ওরা তো একে অপরকে ভালবাসছে, ঘেন্না করছে না। একে অপরকে ভালবেসে ওরা ভাল থাকুক। আমিও ভাল আছি, চাকরি করে, গান শুনে, বই পড়ে, তোকে ভালবেসে। তুইও ভাল থাক।
আমার ভালবাসা নিয়ে। আমি কি তোকে ভালবাসি না?’
অতু হাসল। চোখে জল। ওর বাবাও হাসল। মুখে প্রসন্নতা। দুজনেই চুপ। অতু দেখছিল ঘরটার চারপাশ, এত বই, বাবা বই পড়তে ভালবাসে আর গান শুনতে আর একমনে চিন্তা করতে আর টুকিটাকি নানা শিল্পদ্রব্য কিনতে, যা ঘরটার দেওয়ালে ঝুলছে বা রাখা আছে বইয়ের শেল্ফের ফাঁকফোঁকরে। ঘরটা যেন জাদুঘর। বাবার মতে পৃথিবীতে কত কম দামি ছোটখাটো জিনিস আছে যা আনন্দ দেয়। ওগুলো সোনা নয়, রুপো নয়। কাঠের, পাথরের, মাটির। বস্তুর আনন্দ বাবাকে কেমন আচ্ছন্ন করে দেয়। মালদা থেকে তিন চারশো বছরের পুরনো এক মসজিদের ভেঙে পড়া একটুকরো নোনা ধরা ইট নিয়ে এসেছিল বাড়িতে। তারপর ওটার দিকে তাকিয়ে থাকত অদ্ভুত দৃষ্টিতে। ওই ইট একদিন যে রাজমিস্ত্রির হাত ছুঁয়েছিল সে কোথায়? ওটা যদি ছাদের কোনও অংশের ইট হয় তবে ওটার ওপর কোনও চিল নিশ্চয়ই কখনও বসেছিল। তিন চারশো বছর আগের আকাশে মেঘের ছায়া। তীব্র রোদ। গোধূলি। প্রাচীন বাংলার নির্জনতা। গিরিখাদের মতো গভীর রাত। ওপর থেকে হঠাৎ ভেসে আসে মায়ের হাসির শব্দ, এবার লোকটার গলা থেকেও গমগমে হাসির, এখনও অনেক রাত, ভোর হতে আর কত বাকি?
‘চল্, ঘুমোবি,’ হঠাৎ অতুর বাবা বলে।
লাইব্রেরি থেকে শোবার ঘরে হেঁটে যাবার সময় অতুর মনে হয় সে যেন একটা ঘর থেকে বেরিয়ে আর একটা ঘরে ঢুকছে। ঘরের পর ঘর। বাড়িতে এত ঘর? বাবা ওকে নিয়ে বিছানায় শুলো। হয়তো ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু অতুর ঘুম আসে না।
দোতলায় কারও ভারী পদচারণায় যেন গোটা বাড়িটা থিরথির করে কাঁপছে। ভোরে লোকটা চলে যাবে। ওকে মারা তার পক্ষে সম্ভব নয়, অতু ভাবছিল। কিন্তু এক বার ভয় তো দেখানো যায়? ওটাও কি সে পারবে না? লোকটাকে একটু ভয় দেখাতে? যাতে এখানে আসা বন্ধ করে?
তার ঘুম আসে না। ভোরের দিকে বিছানা থেকে উঠল। রান্নাঘরে ঢুকে বঁটিটা হাতে নিল। ভোরে লোকটা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে। সিঁড়ির একপাশে অতু গোপনে দাঁড়িয়ে থাকল। লোকটার নামার শব্দ কানে আসছে। সে মারবে না, কিন্তু বঁটিটা তুলে একটু ভয় তো দেখাতেই পারে। তাড়া করে বাড়ি থেকে বার তো করে দিতেই পারে। সিঁড়ির উল্টো দিকে লম্বা জানলা, যা দিয়ে ভোরের আলো গঙ্গার মতো বয়ে যাচ্ছে। সেই আলোয় লোকটাকে দেখা গেল সিঁড়ি থেকে নেমে হলঘরের ভেতর দিয়ে বাইরের দরজার দিকে হেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু অতু ভীষণ চমকে ওঠে এবং বঁটিটা তার হাত থেকে পড়ে যায়। ভয়ে। লোকটাকে সে পেছন থেকে দেখতে পাচ্ছে। বলিষ্ঠ শরীর, পরনে শুধু জাঙ্গিয়া বা খাটো আঁটোসাঁটো হাফপ্যান্ট, আর মাথায় এক জোড়া শিং। টলতে টলতে হেঁটে যাচ্ছে দরজার দিকে। অতু কি ভুল দেখছে? ওর মাথায় কি শিং নেই? দরজা খুলে খুব দ্রুত ভেসে যাওয়া মেঘের মতো বাইরে বেরিয়ে যাবার সময়েও ওর মাথায় শিং দেখা যাচ্ছিল। ওর মায়ের কাছে তবে কে আসে? অতু ছুটে গেল দরজার দিকে। বাইরে ভোরের আলো, ফাঁকা ট্রামলাইন, উড়ন্ত পায়রার ঝাঁক, দু একটা নিরীহ পথচারী, ফুটপাতে বসে থাকা এক বুড়োর অসীম কাশি। কিন্তু কোথাও লোকটা নেই।
ভীত, ত্রস্ত পায়ে অতু সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে লাগল, তারপর একটা ঘরের সামনে দাঁড়াল। ভেতরের নারীটি তখন খোলা চুলে, দরজার দিকে পিঠ করে, ঘরে জ্বলতে থাকা নীল নাইট ল্যাম্পের মায়াবী আলোয় খাটের পাশে দাঁড়িয়ে সায়ার দড়ি বাঁধছে। এই নারীটিও কে? নিজের মাকে অতু চিনতে পারছিল না।
প্রথম প্রকাশ : ২১ ভাদ্র ১৪১০ রবিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৩