কঙ্গো মিশনে, বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের এলাকায় বিদ্রোহী মিলিশিয়া বাহিনী জাতিসংঘের পরিদর্শক দলের কর্মকর্তাদের কিডন্যাপ করে গভীর অরণ্যে আটকে রাখে। এদের উদ্ধারে, রেসকিউ মিশনের জন্য বাংলাদেশ থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে বিশেষ কমান্ডো টিমকে, যার নেতৃত্বে আছেন মেজর শিফান। এদিকে হেলিকপ্টার রেকি করতে কমান্ডোদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত হলো গভীর অরণ্যে। তবে সেই ভয়ংকর বৈরী পরিবেশেও অবশেষে দুর্ধর্ষ কমান্ডো দল তাদের মিশন সফল করলো…।
তরুণ সামরিক কর্মকর্তা শাহরিয়ার সৈকতের মিলিটারি থ্রিলার ‘মিশন কঙ্গো’ পাঠককে নিয়ে যায়, পদে পদে শিহরণময়, উত্তেজনায় ভরা রোমাঞ্চকর অজানা ভুবনে। পড়তে পড়তে মনে হয়, হয়তো হলিউডের ব্লকব্লাস্টার কোন ফিলম দেখছি। এভাবেই আমাদের শান্তিরক্ষীগণ তাদের অসাধারণ অভিজ্ঞতার বয়ান দিয়েছেন নিজেদের লেখা বইয়ের পাতায় পাতায়। এদের কেউই হয়তো বিদগ্ধ লেখক নন। তবে নিজস্ব অভিজ্ঞতার যে বিবরণ দিয়েছেন, তার মূল্যও হয়তো কম নয়।
১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক মিলিটারি অবজারভার গ্রুপ (ইউনিমগ) মিশনে, লেঃ কর্ণেল ফজলে এলাহী আকবরের (পরে মেজর জেনারেল) নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল চৌকস শান্তিরক্ষী অংশগ্রহণ করে। পরবর্তী তিন দশকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ (সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য লাভ করেছে। গড়ে তুলেছে নতুন এক বাংলাদেশের প্রেরণাদায়ক ও গর্বের ভাবমূর্তি। বর্তমানে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। গত ৩৩ বছরে শান্তিরক্ষীরা ৪০টি দেশে ৫৫টি মিশন সম্পন্ন করেছেন। পূর্ব তিমুর থেকে হাইতি, লেবানন থেকে কঙ্গো পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সব সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আমাদের শান্তিরক্ষীদের প্রত্যয়ী পদচিহ্ন। আমাদের শান্তিসেনারা দুর্গত মানবতার সেবায় কাজ করছে। তেমনি আবার বিশ্ব শান্তি বিনষ্টকারী আগ্রাসী বাহিনীর মোকাবিলাও করেছে।
এই শান্তিরক্ষীদের কেউ কেউ দেশে ফিরে নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে মিশনের উপর বই লিখেছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন। এই গ্রন্থগুলোই আজ হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতার এক নতুন দিগন্ত। এই ধরনের লেখা সাধারণত দুই শ্রেণির। কিছু বই/প্রবন্ধ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের থিওরি, সামরিক ও অপারেশনাল বিষয় নিয়ে লেখা। অনেকটা একাডেমিক পর্যায়ের। আরেক ধরনের বই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ কিংবা ভ্রমণ, ইতিহাস ও উপাখ্যানময়। এই নিবন্ধে এই শ্রেণির লেখা নিয়েই আলোকপাত করা হচ্ছে। এই ধরনের বই এর সংখ্যা পঞ্চাশ এর অধিক।
জাতিসংঘ শান্তিমিশনে কর্মরত ছিলেন এরকম বেশ কয়েকজন শান্তিরক্ষী (বাংলাদশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী) জাতিসংঘ স্বেচ্ছাসেবক, বেসামরিক কর্মকর্তা ও মিশন এলাকায় ভ্রমণকারী লেখক সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের লেখায় ঐ সকল দেশের ইতিহাস, সভ্যতা, রাজনীতি, ভূগোল, জাতিগত সংঘাত, গৃহযুদ্ধ, অর্থনীতি সামরিক ও আন্তর্জাতিক কৌশলসহ বিভিন্ন বিচিত্র বিষয উঠে এসেছে।
নামিবিয়ার শান্তি প্রক্রিয়া মনিটর ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য জাতিসংঘ ‘আনটাগ’ নামে একটি পিস কিপিং মিশন (১৯৮৯) পরিচালনা করে। এই মিশনে বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯০ সালে মার্চ মাসে নামিবিয়ার স্বাধীনতা প্রাপ্তির অনুষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন সাংবাদিক-লেখক হারুন হাবিব। এই দূর্লভ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি পরবর্তীতে লিখেন- ‘নামিবিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা- সূর্যোদয় দেখে এলাম’ (জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, মার্চ, ১৯৯১)। এই বইটিকে জাতিসংঘ মিশনের উপর লেখা প্রথম বই বলা যায়। তবে শান্তিরক্ষীদের লেখা প্রথম বই (সম্ভবত), সেই মিশনে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা জনাব এস কে এন ইসলামের ‘আমার দেখা নামিবিয়া’ (লায়লা আরজুমান্দ বানু, খুলনা, জুলাই, ১৯৯১)।
এরপর বসনিয়ায় মিশনের অভিজ্ঞতার উপর লেঃ কর্ণেল বশীর উদ্দিন আহমদ লিখেছেন- “অভিজ্ঞতার আলোকে বসনিয়ার যুদ্ধ”। জাতিসংঘ মিশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত আইজিপি ও সচিব) নব বিক্রম ত্রিপুরা প্রকাশ করেন “দূরদেশ”। এরপর সোমালিয়া মিশনের উপর লেঃ কর্ণেল ফয়েজ সিদ্দিকী লিখেছেন- “সোমালিয়ার কান্না’। এইগুলি ছিল শান্তিমিশনের উপর প্রকাশিত প্রথম দিককার বই।
শান্তিরক্ষা মিশনে কাজের কঠিন পরিবেশ, শান্তিরক্ষীদের অর্জন, মানবিক কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জগুলো শান্তিরক্ষীদের বইতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। এই বইগুলোর অন্যতম- মেজর জেনারেল রেজাকুল হায়দারের “ওয়ান এয়ার ইন ইষ্ট তিমুর”, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ বায়েজিদ সরোয়ারের “কম্বোডিয়াঃ শান্তি সেনার জার্নাল”, কর্ণেল জি র মো আশরাফ উদ্দিনের “সাদা কাক ও কালো মানুষের গল্প”, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জাহিদ হোসেনের “সিয়েরালিওনের স্মৃতি”, মেজর মুহাম্মদ আশিক হাসান উল্লাহ’র “ব্লাক উডসের দেশে” অন্যতম। এর বইগুলোর পাতায় পাতায় আমরা পাই কিভাবে আমাদের শান্তিরক্ষীদের সহযোগিতায় পরাধীনতার শৃংখল থেকে স্বাধীন দেশের জন্ম হচ্ছে। তেমনিভাবে গৃহযুদ্ধের অভিশাপ থেকে আফ্রিকার দেশসমূহকে মুক্ত করে শান্তির আলো দেখিয়েছে। আমাদের শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে মুক্ত হয়েছে মানবিকতা। তারা যে দেশেই গেছেন, সে দেশের মানুষের হৃদয় মন জয় করেছেন।
শান্তিরক্ষীদের লেখায় উঠে এসেছে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের গৃহযুদ্ধ, ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত, গণহত্যা ও বিদেশী ষড়যন্ত্রের কুটিলতা। তারা দেখেছেন সম্ভাবনাময় হলেও গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত ও গণহত্যায় বিপর্যস্ত দেশগুলোর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ভয়াবহ অনৈক্য ও মারাত্মক বিভেদের বাস্তবতা। শান্তিরক্ষীদের কিছু গ্রন্থের সমস্ত বিবরণ জুড়ে রয়েছে জাতিগত ঐক্যের আকুতি। এই ধরনের বইগুলোর অন্যতমঃ লেঃ কর্ণেল ফয়েজ সিদ্দিকীর “সোমালিয়ার কান্না”, কর্ণেল মোঃ নুরুল ইসলামের “অশান্ত সোমালিয়া”, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বদরুল মিল্লাতের “কালো মানুষ ও ভালোমানুষের গল্প”, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হাবিবুল করিমের “কঙ্গোঃ নরখাদক ও পিগমীদের দেশে”, নৌ-বাহিনীর কমান্ডার হাসান জামান খানের “ডায়েরীর পাতায় আইভরি কোষ্ট” ও মেজর কাউসার আহমেদের “কনফ্লিক্ট ইন ওয়েষ্টার্ন সাহারা এন্ড কোয়েস্ট ফর পিস”।
কয়েকজন শান্তিরক্ষী মিশনের পটভূমিতে চমৎকার কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন। কথাশিল্পী কাজী রাফি (মেজর কাজী জহিরুল ইসলাম) তাঁর প্রথম উপন্যাস- ‘ধূসর স্বপ্নের সাসান্দ্রায়’ পাঠকদের নিয়ে যান রোমান্সের ভিন্ন জগতে। আইভরি কোষ্টে, ফরাসি সেনাবাহিনীর নারী অফিসার এলমা, আর বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী অথৈ। এই গ্রহের ছোট ছোট ক্ষতগুলোকে হৃদয়ের উত্তাপ দিয়ে সারাতে গিয়েই অথৈ জড়িয়ে যায় লাস্যময়ী ফরাসিনী এলমার সাথে….। “লে জো নদীর বাঁকে” শান্তিমিশনের পটভূমিতে লেখা কাজী রাফির আর একটি অনবদ্য প্রেমের উপন্যাস। লেখক জাহান আরা সিদ্দিকী কম্বোডিয়ার শান্তিমিশনের পটভূমিকে লিখেছেন- ‘সংবর্ত’। একজন বাঙালি শান্তিরক্ষী ও খেমার তরুণীর হৃদয় ঘটিত কাহিনি পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মেজর সাব্বির আহসান কঙ্গোতে শান্তিরক্ষীদের জীবনের অভিজ্ঞতার উপর ইংরেজিতে লিখেছেন- ‘দি পিস কিপারস’। মিশনের বিস্তারিত বয়ান সমৃদ্ধ উপন্যাসটি পাঠকদের দৃষ্টি কেড়েছে। লেঃ কর্ণেল সৈয়দ আলী আহমদ লিখেছেন- “মুভে ফাম”।
আমাদের কয়েকজন কবি ও লেখক জাতিসংঘ মিশনে জাতিসংঘ স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কবি জাহিদ হায়দার কম্বোডিয়া মিশনের অভিজ্ঞতার উপর লিখেন চমৎকার গ্রন্থ “যখন কম্বোডিয়ায়”। জাতিসংঘে কর্মরত কবি কাজী জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন মিশনে অভিজ্ঞতার উপর বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এর অন্যতম ‘গজমোতির দেশ আইভরি কোষ্ট’।
মিশন এলাকায় ভ্রমণকারী কয়েকজন লেখক ও সাংবাদিক তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর লেখা চমৎকার কিছু বই উপহার দিয়েছেন। এর মধ্যে জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হক লিখেছেন অনবদ্য এক গ্রন্থ- “আইভরি কোষ্টে লাল সবুজের পাশে”। লেখক মিতালী হোসেন লিখেছেন- ‘খেমারুজদের দেশে’। এক্ষেত্রে সাংবাদিক হারুন হাবিব এর গ্রন্থের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বে উল্লেখিত পুলিশ কর্মকর্তাগণ ছাড়াও পুলিশ বাহিনীর আরো কয়েকজন শান্তিরক্ষী দুলর্ভ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাঁদের প্রকাশিত বইগুলোতে। এর মধ্যে জনাব ফিরোজ খানের ‘দুরের যাত্রা’, গোলাম মহিউদ্দিন খান এর ‘মিশন দারফুর’ ও রহমান শেলীর ‘রক্তাক্ত সুদানে শান্তির সন্ধানে’ অন্যতম।
বর্তমানে শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের নারী শান্তিরক্ষীগণ সগৌরবে অংশগ্রহণ করছেন। নিজের অভিজ্ঞতার উপর আর্মি মেডিকেল কোরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগম নাজু চারটি বই লিখেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ‘আত্ম কথন জাতিসংঘ ইতিহাসের প্রথম নারী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার’। মেজর শারমিন হক লিখেছেন- ‘দ্যা বেঙ্গল গার্ল ইন আফ্রিকা’ (প্রবন্ধ)।
শান্তি মিশনের অভিজ্ঞতার উপর মেজর মোঃ দেলোয়ার হোসেন সম্পাদিত ও প্রথমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত “শান্তিরক্ষী: বিশ্ব শান্তি রক্ষায় ৩০ বছর বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতা’’, একটি অসাধারণ উদ্যোগ। এক মলাটের মধ্যে, নানান সুতার মালায় গাঁথা শান্তিরক্ষীদের বিচিত্র অভিজ্ঞতার বয়ান। রচনাগুলো পাঠককে নিয়ে যায় বিশ্বের নানা রুক্ষ, দুগর্ম বন্ধুর জনপদ ও প্রান্তরে। পাঠককে লেখাগুলো বিস্মিত ও মুগ্ধ করে।
শান্তিরক্ষীদের বইগুলোর অন্যতম আকর্ষণ এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত। শান্তিরক্ষীদের বইগুলো এক একটি চমৎকার ভ্রমণকাহিনিও বটে। বইগুলো পাঠকদের নিয়ে যায় বিশ্বের দুর্গম জনপদে, কম্বোডিয়ার প্রাচীন নগরীর রহস্যময় মন্দিরে, পৃথিবীর সুন্দরতম সমুদ্র সৈকতে, আফ্রিকার গভীর অরণ্যে, অচেনা পামির মালভূমিতে, অজানা পশ্চিম সাহারার মরু প্রান্তরে, কখনো বা প্রাচীন ব্যবিলন নগরীতে…।
পুলিশ কর্মকর্তা নব বিক্রম ত্রিপুরার “দূরদেশ”, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসের “কুর্দিস্তানের দিনগুলো”, মেজর খোশরোজ সামাদের “যে গল্প ত্রাসের যে গল্প দুঃসাহসের”, লেঃ কর্ণেল ওয়ালিউল্লার “আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলো”, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাহফুজুল হকের “ছোটদের আফ্রিকা”, কর্নেল মোঃ ফরিদ উদ্দিনের “আমার দেখা আফ্রিকা”, কর্নেল মোঃ শাহজাহান মোল্লার ‘পৃথিবীর ছাদে’, উইং কমান্ডার রাকিব মাহমুদের “র্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট (প্রবন্ধ)” ও লেঃ কর্ণেল মাহমুদ শমশেরের “আফ্রিকার দেশে দেশে” এই ধরনের ভ্রমণগাঁথা।
আজ ২৯ মে, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২১। এ শুভক্ষণে বর্তমানে মিশনে নিয়োজিত সকল শান্তিরক্ষীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় শাহাদাত বরণকারী ১৫৯ জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের কথা স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধায়। আমরা যেন সকল শহীদ শান্তিরক্ষী পরিবারের পাশে সব সময় দাঁড়াতে পারি। শহীদ শান্তিরক্ষী বীরদের প্রতি সালাম।
শান্তিরক্ষীদের সৃষ্টিকর্মের একটা ফলাফল হলো বৈচিত্র্যহীন বাঙালি জীবনে ঢেউ এসে আছড়ে পড়া- যেখানে আছে যুদ্ধের ডামাডোল, রোমাঞ্চকর অভিযান, পৃথিবীর আশ্চর্য মিলন মেলায় নর-নারীর প্রেম ভালোবাসার উপাখ্যান, অজানা ভুবনের পরিপার্শ্ব, অচেনা চরিত্রের আনাগোনা। আছে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী বীরদের বীরত্ব গাঁথা। শান্তিরক্ষীদের গ্রন্থ- বাগানে ফুল ফুটেছে। ফুলের সৌরভ ও সৌন্দর্য্ ছড়িয়ে পড়ুক সব দিকে, সবখানে।
লেখক : মোঃ বায়েজিদ সরোয়ার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, এনডিসি (অবঃ), কম্বোডিয়ায় (আনটাক) শান্তিমিশনে নিয়োজিত ছিলেন। bayezidsarwar792@gmail.com