কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের উদ্যোগে মোহর কুঞ্জে চলছে তিন দিন ব্যাপি পুষ্প প্রদর্শনী। মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ১১ ফেব্রুয়ারি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ তথা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়, বিধায়ক তথা পুরসভার উদ্যান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, মেয়র পারিষদ অভিজিৎ মুখার্জী, সন্দীপ রঞ্জন বক্সি, মিতালি সাহা, বরো চেয়ারপার্সন সুস্মিতা ভট্টাচার্য-সহ একাধিক কাউন্সিলর ও আধিকারিকগণ। দর্শকরা আজ অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন। মেলা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
অন্যান্য বছর কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো পৃথক ভাবে নিজ নিজ বরোতে ফুলমেলার আয়োজন করত। কিন্তু করোনা কালে তার ব্যাঘাত ঘটে। পুরসভা এই বছর প্রথম সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ভাবে একজায়গায় পুষ্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত করবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে ১১ থেকে ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি পুষ্প প্রদর্শনী চলছে মোহরকুঞ্জে।

বায়ুদূষণের কালো ছায়ায় কার্যত ঢেকে রয়েছে গোটা বিশ্ব। আমাদের শহরের আকাশেও এখন এই বায়ুদূষণ নুতন উদ্বেগের মেঘ তৈরি করেছে। এই বায়ুদূষণ কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম শহরের সবুজের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। তিনি বারবার বলেছেন, ‘আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা এক দুষণ মুক্ত সবুজ পরিবেশ দিতে চাই।’ এইদিন ফুল মেলা উদ্বোধন করেও তিনি জানান, ‘কলকাতায় যদি পার্ক তথা সবুজ পরিবেশ না থাকে তাহলে মানুষ বাঁচতে পারবে না। অক্সিজেন না পেলে আমরা একমুহূর্ত জীবিত থাকব না। এর পর এমন একটা দিন আসবে হয়ত, যখন অক্সিজেনের জন্য আমাদের অক্সিজেন পার্লারে যেতে হবে। তাই পরিবেশ আমার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার পরিবেশে সবুজের আধিক্য বৃদ্ধি করা এখন মেয়র হিসেবে আমার কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এয়ার কোয়ালিটি ডেভলপমেন্ট করার বিষয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি আশা করি এমন একটা দিন আসবে যখন শহর কলকাতার এয়ার কোয়ালিটি লন্ডন বা সিঙ্গাপুরের এয়ার কোয়ালিটির থেকে ভালো হবে।’

মালা রায় জানান, “কলকাতা কর্পোরেশনে এতদিন ধরে ১৬টি বরোর ১৬ জায়গায় পুষ্প প্রদর্শনী হতো। সারা বছর পুরসভার উদ্যান বিভাগের আধিকারিক ও মালিরা খুব যত্ন সহকারে ফুল ফোটান, সবজি ফলান। করোনার কারণে বিগত দুই বছর এই অনুষ্ঠান সংক্ষেপে করতে হয়েছে করোনার কারণে। এই বছর কেন্দ্রীয় ভাবে সেই অনুষ্ঠানটি মোহরকুঞ্জে হচ্ছে। মোহরকুঞ্জ নিয়ে আমার এক নস্টালজিয়া আছে। আগে এটির নাম ছিল সিটিজেন্স পার্ক। ২০০৪ সালে আমার ওপর এই পার্কটি নির্মাণের দায়িত্ব ছিল। আমরা সেই কাজটি সম্পন্ন করেছি। এই জায়গাটি থেকে প্রায় ৭০০ গাড়ি মাটি উঠেছিল। সেই স্থুপিকৃত মাটি সরিয়ে আমরা এটাকে সুসজ্জিত বাগানে রূপ দিয়েছি। পরে এই পার্কের নাম পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে “মোহরকুঞ্জ”। এই পার্ক কলকাতা শহরের এখন গর্ব্ব।”

এবার আসা যাক, মেলায় এসে আপনি কী দেখবেন? একাধিক রঙের মনোরম ফুল তো আছেই। তার সাথে আছে ক্যাকটাস, বনসাই, বিভিন্ন সবজি সবকিছুই। মন ভালো করার জন্য ফুল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এক বার ঘুরে যান মোহরকুঞ্জে। তবে করোনা বিধি মেনে।