জুটমিলগুলিতে শ্রমিকের অপ্রতুলতা দেখা যায় প্রায়ই। অনেক সময় শ্রমিকের অভাবেই চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এ সমস্ত বিষয়গুলিতে নজর দিয়েই রাজ্য শ্রম দফতর বাংলার জুটমিলগুলিতে স্থায়ী ও দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য জুড়ে যুবকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। রাজ্যে এক লক্ষ যুবককে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে বলে লক্ষ্যমাত্রাও স্থির করা হয়েছে। শ্রম দফতর জানিয়েছিল, সরকার নিজেই উদ্যোগী হয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরের ব্যবস্থা করবে। ঠিক ছিল চলতি মাসেই প্রথম প্রশিক্ষণ শিবিরটি অনুষ্ঠিত হবে।

যুবকদের প্রথম ১৫ দিন জুটমিলে কাজ করার বিষয়ে পুঁথিগত শিক্ষা দেওয়া হবে। পরের ৪৫ দিন হাতে কলমে জুটমিলে কাজ করার শিক্ষা দেওয়া হবে। তার পর তাঁদের নিয়োগেরও বন্দোবস্ত করা হতে পারে। রাজ্যের মোট ২৫-২৬টি মহকুমায় এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির হবে। মূলত পাটশিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মহকুমাগুলিতেই এই প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি আয়োজিত হবে। শ্রম দফতরের দাবি দু-মাসের এই শিবিরগুলিতে যোগদানের ফলে যুবকরা জুটমিলের দক্ষ শ্রমিক হয়ে উঠবে।
এই পদ্ধতিতে যেমন জুটমিলের জন্য দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা যাবে। তেমনই বহু অল্প লেখাপড়া জানা যুবকদের সহজে কর্মসংস্থানের বন্দোবস্তও করে দেওয়া যাবে বলে মনে করছে শ্রম দফতর। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন চটকল থেকে উৎপাদিত চটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। বিশেষ করে হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের চিনি বা আটা কারখানায় এ রাজ্যর চটের ব্যাগ ব্যবহৃত হয়। গত বছর জোগানে প্রায় ১৫ শতাংশ ঘাটতি ছিল। তার অন্যতম কারণ চটকল বন্ধ ও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাব। সেই সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই বন্ধ থাকা ১৭ চটকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রেরণায় শ্রমদপ্তরের উদ্যোগে জুট মিলে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন হল হালিশহরের হুকুমচাঁদ জুট মিলে। উদ্বোধন করলেন শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না। উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, সচিব ও শ্রম কমিশনার জাভেদ আখতার, জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত, বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, সুবোধ অধিকারী, সোমনাথ শ্যাম-সহ সরকারি আধিকারিকবৃন্দ।