ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-২ নম্বর ব্লকের বেলিয়াবেড়া কৃষ্ণ চন্দ্র মেমোরিয়াল হাইস্কুল (উ.মা)-এর সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত মহাপাত্র সমাজের নানা ধরনের সচেতনতামূলক কাজ করে চলেছেন। যেমন বিয়ের মরসুম শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিয়ের পিড়িতে বসার আগে ‘থ্যালাসেমিয়া টেস্ট’। তার জন্য নিজের উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় পোস্টার সাঁটাচ্ছেন জঙ্গল মহলের এই শিক্ষক৷ তিনি বলেন, বিবাহ যোগ্য ছেলে বা মেয়ে বিয়ের পিড়িতে বসার আগে কুষ্টি-ঠিকুজি বিচার নয়, থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা অতি অব্যশই করা প্রয়োজন।
এর আগেও সুব্রতবাবু নিজের টাকায় ‘ মদ ও চোলাই মদের বিরুদ্ধে’ একই ভাবে পোস্টার ছাপিয়ে আদিবাসী গ্রামগুলোতে স্কুল ছুটির পর লাগাতার সচেতনতা মূলক প্রচার চালিয়ে গেছেন এখনও করে চলেছেন। কইমা, ভাদুয়া, মুচিনালা, শাকরারী, ভান্ডারডিহা, নারানপুর, মহাপাল, তপশিয়া প্রভৃতি গ্রামে গেলে দেখা যাবে মাস্টার মশাই-এর সাঁটার পোস্টার জ্বলজ্বল করছে।
সুব্রতবাবুর এক ছাত্র সুখেন্দু খিলাড়ির কথায়—সুব্রত স্যার একজন আদর্শ শিক্ষক, আমরা ওনার ছাত্র হিসেবে গর্ব অনুভব করি। আরালে আবডালে অনেকে আবার নানা কথা বলেন, মাষ্টার মশাই এর কোন বিকার নেই। শুধু বলেন, কর্মই ধর্ম। ভালো কিছু করতে পারলে নিজের ভালো লাগে, সেই ভালোলাগা থেকে এই কাজের নেশা। এরজন্য হয়তো আমার অর্থ ও শ্রম দিতে হচ্ছে ঠিকই কিন্তু কিছু মানুষ যদি সচেতন হয় ওটাই আমার সার্থকতা।
গোপীবল্লভপুর-২ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) অর্ঘ্য ঘোষ বলেন— সুব্রতবাবুর এই উদ্যোগ অকল্পনীয়। সমাজের মানুষজন যাতে ভালো থাকেন তাঁর এই প্রচেষ্টাকে আমরা কুর্নিশ জানাই।

বেলিয়াবেড়া থানার ওসি সাহেব সুদীপ পালোধী বলেন, মাস্টার মশাই-এর এই প্রচেষ্টাকে স্যালুট জানাই। উনি কোন সহযোগিতা চাইলে আমরা দিতে প্রস্তুত। বেলিয়াবেড়া চক্রের এস.আই. তমাল দাস জানান, সুব্রতবাবু স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি যেভাবে সমাজের কথা ভাবেন, খুব কম জনই তা ভাবেন বা করেন। ওনার কাজই ওনাকে আর পাঁচ জনের থেকে আলাদা করেছে। ওনার এই ধরনের কাজকে সন্মান জানাতেই হয়। এই করোনা কালে করোনা মোকাবিলায় সমাজের সচেতনতার লড়াই-এর অঙ্গ হতে চেয়ে জঙ্গল মহলের এই শিক্ষক চিঠি লিখলেন গোপীবল্লভপুর-২ নম্বর ব্লক উন্নয়ন সমষ্টি আধিকারিক অর্ঘ্য ঘোষ মহাশয়কে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যে কোনও করোনা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পারেলে তাঁর ভালো লাগবে।
এই মহামারীতে স্কুল কলেজ সব বন্ধ। মাসের ৪/৫ দিন মিড-ডে মিলের চাল, ডাল দেওয়ার জন্য স্কুলে যেতে হয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। অন লাইন ক্লাসও খুব একটা আশাপ্রদ নয়। সুব্রতবাবু জানান— তিনি একই স্কুলে প্রায় ২১ বছর শিক্ষাদানে ব্রতী রয়েছেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি এই কভিড পরিস্থিতিতে শুধু শুধু ঘরে বসে না থেকে ব্লকের মানুষজনের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করেন৷ গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকে বিডিও সাহেব বলেন, সুব্রতবাবুর এই মানসিকতা কে আমরা কুর্নিশ জানাই।