| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

বাঙালির কাছে বিজেপি অনেকটাই বহিরাগত লিখছেন শুভাশিস মৈত্র

Reporter
শুভাশিস মৈত্র / ৭৪৭ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

ইংরেজিতে কালচার বলে যে শব্দটা আছে, বাংলায় আমরা তার প্রতিশব্দ করেছি সংস্কৃতি।  অতীতে বাংলায় হিন্দি শব্দ থেকে ধার করে কালচারের প্রতিশব্দ করা হয়েছিল ‘কৃষ্টি’। ১৯৩২ থেকে ১৯৩৭-৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলায় কালচারের প্রতিশব্দ হিসেবে কৃষ্টি শব্দের ব্যবহার হয়েছে। সংস্কৃতি শব্দ তখনও বাংলায় আসেনি।  ১৯২৪-২৫ কি তারও দুই এক বছর আগে যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি সম্ভবত প্রথম কৃষ্টি শব্দের প্রচলন করেন বাংলায়। হিন্দি ভাষায় কৃষ্টি শব্দটির ব্যবহার ছিল। বাঙালির ইতিহাস প্রণেতা নিহার রঞ্জন রায়ের মত, যোগেশচন্দ্র হিন্দি থেকেই শব্দটি আহরণ করেছিলেন। নীহার রঞ্জন রায়ের লেখা ‘কৃষ্টি কালচার সংস্কৃতি’ বই থেকে জানা যায়, হিন্দি থেকে ধার করে আনা এই শব্দটিকে একেবারেই মেনে নিতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ। বলা যায় বহিরাগত শব্দ হিসেবেই কৃষ্টিকে দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই শব্দের বাংলা ভাষায় প্রবেশের আশঙ্কায় যথেষ্ট বিচলিত বোধ করেছিলেন কবি। যাতে এই হিন্দি শব্দটি বাংলা ভাষায় আশ্রয় না পায়, তার জন্যেও চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি রবীন্দ্রনাথ। ইংরেজি কালচারের প্রতিশব্দ হিসেবে যে শব্দটি কবির কাছে রুচিকর মনে হয়েছিল তা হচ্ছে ‘সংস্কৃতি’। সম্ভবত ১৯২২ সালে, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সংস্কৃতি শব্দটির প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মারাঠি ভাষায় বিদগ্ধ মহলে কালচার অর্থে সংস্কৃতি শব্দের প্রচলন ছিল। পরে ক্ষিতিমোহন সেন ‘ঐতেরেয় ব্রাহ্মণ’-এর একটি উক্তিতে সংস্কৃতি শব্দের উল্লেখের কথা রবীন্দ্রনাথকে বলেন। তখন থেকেই রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে বাংলা ভাষায় ধীরে ধীরে কৃষ্টিকে সরিয়ে সংস্কৃতি শব্দটি স্থায়ী আসন লাভ করে।

হিন্দি থেকে ধার করা কৃষ্টি শব্দের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরক্তি কতটা ছিল তা বোঝা যায় তিনি যখন বলেন, ‘…কালচার শব্দের একটা নতুন বাংলা কথা হঠাৎ দেখা দিয়েছে; চোখে পড়েছে কি? কৃষ্টি? ইংরেজি শব্দটার আভিধানিক অর্থের বাধ্য অনুগত হ’য়ে ওই কুশ্রী শব্দটাকে কি সহ্য করতেই হবে? এঁটেল পোকা পশুর গায়ে যেমন কামড়ে ধরে, বাংলা ভাষার গায়ে ওটাও তেমনি কামড়ে ধরেছে। মাতৃভাষার প্রতি দয়া করবে না তোমরা?’

এটা একটা বিচ্ছিন্ন দৃষ্টান্ত সন্দেহ নেই। কিন্তু আজকের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে বলাই যায়, হিন্দি গোবলয়ের কৃষ্টি বা সংস্কৃতির  সঙ্গে বাংলাভাষার, বাংলা সংস্কৃতির  বিরোধের ইতিহাসটা নতুন নয়। অনেক দিনের পুরোনো। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেল এই বিজেপির কৃষ্টিকেই বহিরাগত বলে রাজনৈতিক আক্রমণ করতে। বিজেপি গোবলয়ের সংস্কৃতিকেই সারা দেশে চাপাতে চায়। তাদের স্লোগান হল, হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্তান। বৈচিত্রময় ভারতে তাদের আস্থা নেই।

বেশ কয়েক বছর আগে বরোদা আর্ট কলেজ, যে প্রতিষ্ঠানকে সারা বিশ্বে এক ডাকে চেনে, সেখানে একটি আর্ট এক্জিভিশনে হামলা চালিয়ে ভেঙে দিয়েছিল হিন্দুত্বাদীরা। কারণ, সেখানে  মহাদেবের সাজে এক শিল্পীর আঁকা বহুরূপীর একটা ছবি ছিল। ছবিতে দেখা যাচ্ছিল, মহাদেব সাজে বহুরূপী একটি ছোট রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের সিটে বসে সিগারেট খেতে খেতে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন। মহাদেবকে নাকি অসম্মান করা হয়েছে , তাই ভাঙচুর।

আর বাংলার দিকে তাকান। বাংলা সংস্কৃতিতে ঠাকুর-দেবতা নিয়ে মস্করা বাঙালির রক্তে আছে। আচ্ছা, শুনুন এই কথাগুলো- ‘…তখন গণেশ সিন্দুকের উপরে নেমে, উপরের দু’হাতে তুড়ি দিয়ে, নীচের দু’হাতে ঢোলে চাঁটি মেরে, ইঁদুরের সঙ্গে-সঙ্গে ঢোল বাজিয়ে নৃত্য করছেন। রিদয় সাঁ-করে কুড়োজালি যেমন চাপা দেওয়া, অমনি গনেশ তার মধ্যে আটকা পড়ে যাওয়া! ইঁদুরটা টপ করে লাফিয়ে কুলুঙ্গির উপরে একেবারে সিংহাসনের তলায় যেমন ঢুকেছে, অমনি মাটির সিংহাসন দুম করে উল্টে চুরমার হয়ে গেল। ইঁদুর ভয় পেয়ে ল্যাজ তুলে কোথায় যে দৌড় দিলে তার ঠিক নেই! গনেশ জালের মধ্যে মাথা নিচু করে দু-পা আকাশে ছুঁড়তে লাগলেন আর বলতে থাকলেন-‘ছেড়ে দে ছেড়ে দে বলছি!’ কিন্তু দাঁতে-শুঁড়ে ঢোলকে-জ্বালে এমনি জড়িয়ে গেছেন যে গনেশের নড়বার সাধ্যি নেই।‘

ভাবুন একবার গনেশ, যার গলায় কি না পৈতে জ্বল জ্বল করে, ব্রাহ্মণ, তাকে কিনা মাছ ধরার জাল দিয়ে বন্দি করা। সেখানে গনেশ বাবাজি জালের মধ্যে মাথা নিচু করে দু-পা আকাশে ছুঁড়তে লাগলেন আর বলতে থাকলেন-‘ছেড়ে দে ছেড়ে দে বলছি!’

আজকের যুগে লেখা হলে তো বলা হত, হিন্দুদের আবেগে শিরীষ কাগজ ঘষে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই লেখা যিনি লিখে গিয়েছেন, তিনিই আবার  ভারতমাতার ছবি এঁকেছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে অবনীন্দ্রনাথের আঁকা ভারতমাতা-ই আমাদের দেশের একমাত্র মূর্তি-রূপ। তাঁর কিন্তু আটকায়নি গনেশকে নিয়ে ছোটদের লেখায় হাসি-ঠাট্টা করতে।

বা ধরুন দ্বিজ কালিদাসের কালিকা মঙ্গল। সেখানে শিবকে  তার হবু শ্বশুর বলছেন,

‘হরের উত্তর শুনে      গিরি মহাকোপ মনে

          হরে কটু  ক’হে কত কব।

বলে বেটা এত জোর    একটা চড় মেরে তোর

     কাঁথা বাঘছাল কেড়ে লব।‘

রীতিমত শ্লীলতাহানির হুমকি। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এর পর হিমালয়, সন্ন্যাসীবেশী শিবের হাত-পা বেঁধে ছুড়ে ফেলে দিলেন। তার পর যেমন হয়, নারদের প্রবেশ এবং বিয়ে সম্পন্ন।

ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে শিবের বর্ণনা, ‘ উমার বদনচাঁদে পরকাশে রাকা/ বুড়ার বিকট মুখে দাড়ি গোঁফ পাকা’।

এর পরও শিবের হেনস্থা শেষ হয়নি। সাপকে বেল্টের মতো করে বাঘছাল কোমরে পরে আছেন সিব। স্ত্রী-আচারের সময় বিষ্ণু, নারদ সবাই এসেছেন। বিষ্ণুর পরামর্শে, নারদের দুষ্টুমিতে সাপখেকো গরুড় পাখি এসে ভয় দেখালো শিবের কোমরের সাপকে। সাপ বেচারা অমনি ভয়ে শিবের কোমড় ছেড়ে পগার পার। শিবের অবস্থা আর কহতব্য নয়। মেনকা সহ মহিলারা হুলুস্থুলু বাঁধিয়ে দিলেন । উপস্থিত মহিলারা সব প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে সেই এ-মার্কা পরিস্থিতি সামাল দিলেন।

এখন যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশে এই লেখা কেউ লিখলে তার নির্ঘাৎ ইউএপিএ হয়ে যাবে।  এইখানেই বাঙলি সংস্কৃতি হিন্দিবলয়ের থেকে আলাদা। সীমাহীন তার উদারতা। বল্গাহীন তার স্বাধীনতা।

এই ব্যাপারটাই নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহরা বুঝতে পারছেন না। এবারের বিধানসভা ভোটে দেখা গেল,  হিন্দি গোবলয়ের নেতারা  এসে বাঙালিকে হুমকি দিচ্ছেন, ক্ষমতায় এসে অ্যান্টি রোমিও পুলিশ বাহিনী তৈরি হবে, যার মানে লোকে যা বুঝল, সেটা হল, লেকে বা ময়দানে প্রেম করতে দেখলে পুলিস ধরবে। লাভ জিহাদ আইন হবে। দু’এক জনকে বলতে সোনা গেল ক্ষমতায় এসে নাকি অবাধ্য বাঙালিকে সবক শেখানো হবে। এক শীর্ষনেতা, বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে যা বললেন, তার মানে হয়, একবার আসি ক্ষমতায়, তার পর ব্যাটাদের বুঝে নেব। এর আগে তিনিই বলেছিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সব অ্যান্টি ন্যাশনালদের নাকি কলার ধরে বের করে আনা হবে। এঁদের চোখে পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ বাস করে। একদল হিন্দুত্ববাদী, গোমূত্র-টুত্র খায় বাকিরা সব অ্যান্টি ন্যাশনাল।

বিজেপির এই লম্ফ-ঝম্ফের কারণটা হচ্ছে তারা ২০১৯-এ লোকসভা ভোটে প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তারা মানতেই চাইছেন না যে এই ভোটের সবটা হিন্দুত্ববাদী ভোট নয়। এর ৮০ শতাংশই তৃণমূলের বিরুদ্ধে বদলা নিতে একদল ক্রোধে অন্ধ হয়ে যাওয়া বামপন্থীর ভোট।

এই রাজ্যে বিজেপির ভোটের ওঠা-নামাটা লক্ষ্যণীয়। ২০০৯-এ ৬ শতাংশ, ২০১১ তে ৪ শতাংশ, ২০১৪ তে ১৭ শতাংশ, ২০১৬ তে ১০ শতাংশ তার পর ২০১৯-এ ৪১ শতাংশ। ২০২১-এ ৩৮ শতাংশ।   ঠিক যেমন একসময় বিজেপি নেতা তপন শিকদার দমদম কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন বিপুল ভোটে। সেটাও হয়েছিল সিপিএমের দলের ভিতরের ঝগড়ার ফলে পাওয়া ভোট আর তৃণমূলের সমর্থকদের ভোট মিলে। সেদিনের  সেই ভোটও সবটা বিজেপির ছিল না।

দেখুন একবার কেমন ওঠা নামা করেছিল দমদম কেন্দ্রে বিজেপির ভোট। ১৯৯৬ সালে দমদম লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির দিবাকর কুণ্ডু ভোট পান ৮.৭ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে বিজেপি প্রার্থী তপন শিকদার দমদম থেকে জিতলেন ৫০.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে। ১৯৯৯-এ ফের ভোট। তপন জয়ী ৫১.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে। ২০০৪-এর লোকসভা ভোট। তপন শিকদার পরাজিত, ভোট পেলেন ৪১.৭ শতাংশ। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে ওই দমদম কেন্দ্রে তপন শিকদারের ভোট কমে হল মাত্র ৫.৭ শতাংশ। জিতলেন সৌগত রায়। ২০১৪ লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে ফের তপন শিকদার পরাজিত, ভোট পেলেন ২২.৮ শতাংশ। ২০১৯-এও বিজেপি এই কেন্দ্রে হেরেছে, ভোট পেয়েছে ৩৯’৪ শতাংশ। ২০২১-এ যদি দমদম লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের ফল যোগ করে দেখা হয়, তাহলে দমদম লোকসভা ক্ষেত্রে ২০২১-এ বিজেপির ভোট আরও কমে হয়েছে ৩২ শতাংশ।

কেন এমন ঘটছে? তার কারণ বিজেপি এই রাজ্যে কোনও গণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তাদের সমর্থন বাড়ায়নি। কিছুটা সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপির যে সাফল্য তার প্রভাব, কিছুটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ইত্যাদি নিয়ে বিজেপির উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারের প্রভাব, কিছুটা এই রাজ্যে সক্রিয় ১২ হাজার আরএসএসের শাখার প্রচারের প্রভাবে বিজেপির সামান্য একটা নিজস্ব ভোট তৈরি হয়েছে। হ্যাঁ সামান্যই। বাড়তি যে ভোট বিজেপির বাক্সে ঢুকছে, সেটা যে কোনও সময় বেরিয়ে যেতে পারে। অতীতেও তাই হয়েছে। দমদমের ভোটের ফলের ইতিহাস সে কথাই বলে।

প্রথমে সিপিআই, পরে সিপিএম টানা ২০ বছর আন্দোলনের ফলে ৬৭ সালে যুক্তফ্রন্ট তৈরিতে সফল হয়।  বাম ফ্রন্টের সাফল্য আসে আরও ১০ বছর পরে ১৯৭৭-এ। অর্থাৎ ৩০ বছর লেগেছিল বামফ্রন্টকে ক্ষমতায় আসতে।  তৃণমূল কংগ্রেস মাঠে নেমে বিভিন্ন সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে,  সিপিএমের একনায়কসুলভ আচরণের প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘টুথ অ্যান্ড নেল’ লড়াই করে ১৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে। অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ক্ষেত্রে নবরাত্রির মতো অনুষ্ঠান উপলক্ষে অস্ত্র নিয়ে কিঞ্চিৎ লাফালাফি করা ছাড়া এই রাজ্যে বিজেপির কোনও ভূমিকাই নেই। আম বাঙালির কোনও সঙ্কটে সামনের সারিতে কখনও তাদের দেখা যায়নি। মমতাকে বারমুডা পরতে বলার পরামর্শের মতো শুধু মাত্র রকের ভাষায় বাইট দিয়ে বাংলায় ক্ষমতা অর্জন করা যায় না। এটা যেমন দিলীপ ঘোষকে বুঝতে হবে তেমনি তাদের হিন্দিভাষী নেতাদেরও বুঝতে হবে।  তার সঙ্গে অপপ্রচার, ফেক নিউজ, ফেক ভিডিও ছড়িয়ে দলটা ইতিমধ্যেই প্রভূত বদনাম কুড়িয়েছে বঙ্গ সমাজে, বিশ্বাসযোগ্যতাও  হারিয়েছে অনেকটা।

পশ্চিমবঙ্গে পোস্ট পোল ভায়োলেন্স নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীন বা নির্বাচনের পরে এই রাজ্যে হিংসার একটা দীর্ঘ লজ্জাজনক ইতিহাস আছে। যারা মারা যান, সবাই গরিব ঘরের মানুষ। কিন্তু এমন একটি ঘটনাই বা ঘটবে কেন? একজনেরই বা মৃত্যু হবে কেন? এই নিয়ে যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যেয়কে ভাবতে হবে, তেমনই বাঙালিকেও ভাবতে হবে সারা দেশে বাঙালির এই বদনাম ঘোঁচাতে তাদের করণীয় কী? কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, এই ঘটনার পি্ছনে বিজেপি নেতাদের ভূমিকাও কম নয়। প্রধানমন্ত্রীর আসানসোলের বক্তৃতায় যখন দাঙ্গার প্রসঙ্গ আসে তখন বিজেপিও পোস্টপোল ভায়োলেন্সের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। অমিত শাহ , শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপির প্রত্যেক নেতার প্রচার-বক্তৃতায় ছিল বিদ্বেষের সুর। যারা সগর্বে বলতে পারেন আরও অনেক শীতলকুচি করা হবে, নির্বাচন উত্তর হিংসার দায় তারা কখনই এড়িয়ে যেতে পারেন না।

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “বাঙালির কাছে বিজেপি অনেকটাই বহিরাগত লিখছেন শুভাশিস মৈত্র”

  1. তপন মল্লিক চৌধুরী says:

    বেশ ভাল লেখা

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev