সুরে, সুধায় ও জীবনকে যারা মিলিয়েছেন ক্রিকেটের রাখীবন্ধনে, সেই ক্যারিবীয় দ্বীপের ক্যালিপসো সুর যেন শঙ্করীপ্রসাদ বসুর কলমে গেয়ে ওঠে গুণগুণ করে: ‘সারাক্ষণ বিদ্যুৎগতিতে খেলা চলে একসময় শেষ হলো। তখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে। খেলোয়াড়রা মাঠের উপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল হাত-পা ছড়িয়ে। পরক্ষণেই আবার লাফিয়ে উঠে একটা গোটা বোতল গলায় ঢেলে দিল ঢক্-ঢক্ করে। ততক্ষণে সকলে ফিরে এসেছে। নারকেল গাছের তলায়, তেঁতুল গাছের অন্ধকারে, জ্বলে উঠেছে একে একে মশাল। খানাপিনা শুরু হয়। প্রচুর প্রচুর খায়, পানও করে তেমনি। পানে-ভোজনে-স্ফূর্তিতে মাতাল সবাই। মশালগুলো নিভে আসে, কিন্তু আকাশে ওঠে চাঁদ। তার আলো দুধের মতো গড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। দূর থেকে ভেসে আসে সমুদ্রের গর্জন। হু-হু ক’রে বাতাস বয়ে যায়। শিউরে ওঠে নারকেল বন। বাজনা বেজে ওঠে, বেজে ওঠে এক সুরে শত শত কণ্ঠ। সেই চন্দ্রধৌত রাত্রে সমুদ্রতটে, সরল উচ্ছ্বল মানবের প্রাণতটে, আছড়ে পড়তে লাগল সুরের পূর্ণ তরঙ্গ। শুরু হলো নৃত্য।’ (বল পড়ে ব্যাট নড়ে)।

ফ্র্যাঙ্ক ওরেল
ক্রিকেট পৃথিবী রোমাঞ্চিত ও সঙ্গীতময় হয়ে ওঠেছিল পঞ্চাশের দশকে। আর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটের রাজপুত্র। বার্বাডোসের সেন্ট মাইকেলে ত্রিশের দশকের মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে জন্ম নেয়া বিশ্বখ্যাত এই তিন ক্রিকেটার ফুলে-ফলে ভরিয়ে দেন ক্রিকেটের বাগান। ১৯৪৭-৪৮ মোরসুমে ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকালে অভিষেক হওয়া বিখ্যাত এই তিন ‘ডাব্লিউ’র রানে ও গানে উছলে ওঠে ক্যালিপসো সুর। পৃথিবীর ক্রিকেট ইতিহাসে এমনভাবে তিনজনের সম্মিলন আর ঘটেনি। এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে, কোনো টেস্টে তিনজনের একজনও কিছু করতে পারেননি। ‘মর্যাদার লাবণ্যে অনতিক্রান্ত ওরেল, আঘাতে আক্রমণে উন্মুক্ত উইকস, ঋজু শক্তির বহির্বিকাশে সুদৃঢ় ওয়ালকট’। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বকালের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক ফ্র্যাঙ্ক ওরেল। ১৫ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ৯টিতে জয়ী, ৩টি পরাজিত, ২টিতে ড্র ও একটিতে টাই করেন। ওরেলের ব্যাটের হাসি আর মুখের হাসি একাকার হয়ে গেছে। তার ভুবনভুলানো অতুলনীয় হাসিটি ক্রিকেটের সেরা সম্পদ হয়ে আছে। ওরেল ক্রিকেটে গেয়েছেন জীবনের গান। তিনি মনে করতেন— ‘সুখের সঙ্গে মানুষের মতো বেঁচে থাকো, তোমার কথা লিখে ইতিহাস মানুষের ইতিহাস হয়ে উঠুক’। ওরেলকে মনে করা হয়, ‘সোজা ব্যাটের শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যময় খেলোয়াড়’। ওরেলের মহানুভবতা ও রুচির আভিজাত্য ছিল তার সহজাত। মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়িয়ে তিনি মর্যাদার সঙ্গে খেলেছেন। উইজডেনের মতে, ‘মারের সৌন্দর্যে ক্রিকেটের ইতিহাসে ওরেলকে কেউ অতিক্রম করতে পারেননি’।

ক্লাইড ওয়ালকট
ক্রিকেটকে যারা সুর-ছন্দ ও মাধুর্য দিয়ে কানায় কানায় ভরিয়ে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সেরা হলেন তিন ক্যারিবীয় শিল্পী ক্রিকেটার ওরেল-উইকস-ওয়ালকট। তারা ক্রিকেট খেলেছেন হৃদয় দিয়ে। ফ্র্যাংক ওরেলকে ‘প্রিন্স অব ডেনমার্ক’ অভিহিত করে শঙ্করীপ্রসাদ বসু যেভাবে গেঁথেছেন শব্দের মালা: ‘ফ্রাঙ্কি ওরেলের জন্য আমরা তাই প্রতীক্ষা করি— প্রতীক্ষা ক’রে থাকব চিরদিন। ওরেলরা আমাদের বর্ণহীন পৃথিবীতে সু-বর্ণময়। রুশো বলেছিলেন, ফিরে যাও। প্রকৃতির কাছে থাকলে তোমরা আরও বেশি ‘মানুষ’ থাকবে। জীবনের হারানো আনন্দকে খুঁজে পাবে দুয়োরানীর কুটিরে। কাউন্টি খেলার ব্যবসায়িকতা যখন ক্রিকেটকে বণিকবৃত্তিতে পর্যবসিত করেছে, কিংবা শেফিল্ড-শীল্ডের দুঃসাহসী ছোকরারা যখন ক্রিকেটে এনেছে ধারাবাহিক ভীতি-শিহরণ, তখন ওরেলরা ক্রিকেটের মুক্তিদূত। বাল্যের সহজ সুস্থ পবিত্র আনন্দকে যেন খুঁজে পাই এদের মধ্যে ক্রিকেট খুঁজে পায় তার নির্মলতাকে। এখনো আমার চোখের সামনে ভাসছে ইডেন গার্ডেনে ওরেলের খেলা। শীতের দুপুরে একটি মিঠে প্রেমকাহিনীর মতো অলস আনন্দের ক্রীড়াবিস্তার। আক্রমণ নেই, আঘাত নেই, শুধু ব্যাট-বলের মধুস্পর্শ। সুখের খুশির বিহ্বল বিলাস। তার আঘাতকেও আঘাত বলে মনে হয়নি, এমনই আঘাতের ছন্দ। অতি বড় কঠিন কথাকেও সেদিন ওরেল বলেছিলেন কবির মতোই অবহেলার লাবণ্য-ভঙ্গিমায়। ক্রিকেটের একজন কবির নাম ফ্রাঙ্কি ওরেল। (বল পড়ে ব্যাট নড়ে)।

এভারটন উইকস
এভারটন উইকসের ব্যাটে পাহাড়ের নদীর মতো রানের স্রোত নেমে আসে দুদ্দাড় করে। সেই ১৯৪৮-৪৯ মোরসুমে টেস্টে তিনি টানা পাঁচটি ইনিংসে সেঞ্চুরি করে যে রেকর্ড গড়েছেন, তা আজও অটুট আছে। টেস্টে দ্রুততম সহস্র রানের অধিকারী, ওই ক্রিকেটারের ‘তার স্বাভাবিকতা, তার অনায়াস প্রত্যয়, তার নিখুঁত সংহার, তার অচঞ্চল সমাপ্তি’ দিয়ে এমনই মাদকতা তৈরি করেছেন, যে কারণে দেশের পরাজয়ের মাঝেও প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারের প্রশস্তিতে মজে যান শঙ্করীপ্রসাদ বসু: ‘উইকসের সেঞ্চুরি মানে কলকাতার মাঠে ভারতের জেতার আশা শূন্যের দিকে সরে যাওয়া। কিংবা পরপর ইনিংসে টেস্ট-সেঞ্চুরি উইকসের গৌরব যত বাড়াচ্ছে, ভারতের গৌরব ঠিক পরিমাণে কমাচ্ছে— অবিশ্বাস্য বিশ্ব রেকর্ডটি করা হচ্ছে ভারতের বোলিং ও ফিল্ডিংকে ধূলায় মিশিয়ে। ওসব কোনো কথাই তখন আমাদের মনে হয়নি। কেবল দেখলুম। ব্যাটের তলোয়ার, বলের মৃত্যু, ফিল্ডারের বেড়ার দিকে পলায়ন। উইকস আমাদের সম্মোহিত করে, আমাদের সকল আঞ্চলিক, পেশাগত ও ব্যক্তিগত স্বার্থপরতাকে জয় করে, একটি সুদীর্ঘ বাহবা আদায় ক’রে নিলেন। যে বাহবা গল্পের সুপরিচিত আত্মঘাতী বাহবার তুল্য; তরবারির অপূর্ব কৌশলে নিজ পুত্রকে বিভক্ত অথচ অবিচ্ছিন্ন দেখে দেশের প্রবীণ শস্ত্রবীর যেমন তারিফ করেছিলেন নবাগত চ্যাম্পিয়নকে। (বল পড়ে ব্যাট নড়ে)।
ওরেল-ওয়ালকট-উইকসরা ক্রিকেট মাঠে গেয়েছেন জীবনের গান। তাদের ব্যাটে যেমন ছিল সুরের নৃত্যগীত, তেমনি ক্রিকেটকে ভরিয়ে দিয়েছেন আনন্দের ঝরণাধারায়। ‘এরা খেলায় অনেক কিছু দিয়েছেন। এঁরা খেলাকে বাঁচিয়েছেন মৃত্যুর হাত থেকে। দ্রুত রানের বদলে ধীর রানের পৃথিবীব্যাপী প্রতিযোগিতার হিসাব-খাতা এঁরা পুড়িয়ে দিয়েছেন। কয়েদীর মৃত্যুশীতল চাহনি নিয়ে ক্রিকেটাররা যেখানে চেয়ে থাকে— সেখানে এঁরা গেয়েছেন জীবনের গান। এই তিন ক্রিকেট-মাস্কেটিয়ার্স উৎফুল্ল শৌর্যে অনতিক্রান্ত। অপরিসীম অর্থক্ষুধায় ক্রিকেটকে মারছে একদিকে কর্তৃপক্ষ, আনন্দলক্ষ্মী শিউরে উঠছেন কুবের-সঞ্চয় দেখে, অন্যদিকে পরাজয়ভীতি আচ্ছন্ন করেছে অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের। বক্সিংয়ের প্রদর্শনী-যুদ্ধের মতো ড্র করার প্রাণহীন ক্রিকেটযুদ্ধ। হারবো না— আগে বলত বীরপুরুষ। তারা হয় হারত, নয় জিতত। হারবো না— বলছে এখনকার সাবধানী ক্রিকেটাররা। ফলে তারা প্রায়ই হারছে কাপুরুষের মতো, জিতছে আরো কম, বেশি করছে ড্র। নিশ্চিত-নিরাপদ একটি মাঝারিপনা গ্রাস করেছে ক্রিকেটকে। বিলেতি ওল্ডদের রুচিহীন পোশাক আর নি®প্রাণ নাচের আড়ম্বরে ধরা পড়েছে ক্রিকেট’। (বল পড়ে ব্যাট নড়ে)।

সিড বার্নস
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ‘দুষ্টু বালক’ খ্যাত সিড বার্নসকে নিয়ে লিখেছেন ‘শেরউড বনের ক্রিকেটার’। ডন ব্রাডম্যানের দলের এই ক্রিকেটারের খ্যাতি ও অখ্যাতি তুমুলভাবে সাড়া জাগিয়েছিল। বার্নসের ব্যক্তি জীবনের চমকপ্রদ দীর্ঘ কাহিনী তুলে ধরে লেখক লিখেছেন : ‘শেরউড বন গেল কোথায়! বার্নসের ভিতরে একটা অবুঝ দুরন্ত ক্রন্দন ও সন্ধান। সেই হাহাকারের স্বরূপ বার্নস নিজে সম্পূর্ণ বোঝেন নি। রবিন হুডের কয়েক শতাব্দী পরে তিনি জন্মেছেন। রবিনের সাম্রাজ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে পথ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ভিতরের উৎকণ্ঠা যত তীব্র হয়েছে বাইরের জগতে তত উগ্র ও বেখাপ্পা হয়ে পড়েছেন। জীবনে বেড়া টপকানোর শেষ হলো না।’ (বল পড়ে ব্যাট নড়ে)।

ভিক্টর ট্রাম্পার
১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় ‘ক্রিকেট সুন্দর ক্রিকেট’। এই গ্রন্থে ঠাঁই পেয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত। মহান ক্রিকেটার ভিক্টর ট্রাম্পার ‘বিদ্যুতের অক্ষরে ক্রিকেটে মহাকাব্যের অনেকগুলি পৃষ্ঠা লিখে গিয়েছিলেন মাঠে-মাঠে’। স্বপ্নের নায়ক ট্রাম্পারকে জীবনে প্রথম আউট করার পর স্পিনার আর্থার মেইলীর অনুভূতি হয়েছিল এমন : ‘অপসৃয়মান সেই মূর্তির দিকে তাকিয়ে আছি। আমার চোখে কিন্তু কোনো জয়ের আলো ছিল না। একটি সুন্দর পাখীকে আমি মেরে ফেলেছি— হ্যাঁ, ঠিক তাই করেছি— আমি অনুভব করেছিলুম’। ট্রাম্পার মারা যাবার পর বলা হয়েছিল— ‘ঈগলের পাখা থেমে গেছে, এখন কাক আর চিলের কাল’। তার সম্পর্কে লিখেছেন: ‘পরমোজ্জ্বল সুপ্রখর প্রতিভা, অথচ সদানন্দ সুস্মিত মানুষ। প্রচ-তম আক্রমণের মধ্যেও সৌজন্য স্নিগ্ধ। সিডনিতে ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাট করতে গিয়েছেন। মাঠ ভিজে, ভিজে মাঠের মহাপাতক জ্যাক স্যান্ডার্স বল করছেন। তার প্রথম বল ট্রাম্পারকে হারিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল। স্যান্ডার্স ভাবলেন— পেয়েছি। সকলেই তাই ভাবল। ট্রাম্পার হাসলেন। এগিয়ে গিয়ে বললেন— পুরনো দোস্তের সঙ্গে একী ব্যবহার? যা হোক ভায়া, আজ তোমার দিন কি আমার দিন। সে দিনটা কারো নয়— একমাত্র ক্রিকেট-দেবতার। ট্রাম্পার ষাট মিনিটে একটি দেবভোগ্য সেঞ্চুরি করলেন’। (ক্রিকেট সুন্দর ক্রিকেট)।

আর্থার মেইলী
শ্রেষ্ঠতম ক্রীড়ার মহান নীতির প্রতিপালক আম্পায়ার। আম্পায়ার ছাড়া ক্রিকেট খেলার কথা ভাবা না গেলেও তাদের অবদানকে কেউ গুরুত্ব দিতে চান না। ক্রিকেট মাঠে তাদের অবহেলিত উপস্থিতি। আম্পায়ারদের প্রসঙ্গে শঙ্করীপ্রসাদ বসু চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন: ‘হিন্দু বিয়ে বাড়িতে পুরোহিতের ঐ একই অবস্থা। উৎসবের অগ্নিসাক্ষী ও মন্ত্রপাঠ যিনি করাচ্ছেন, তিনি কে, কি রকম দেখতে- তা কি ভালো ক’রে চেয়ে দেখা হয়? তিনি না এলে চেঁচামেচি, থাকলে খেয়াল নেই। কাজকর্ম মিটবার পরে ভক্তিমতী স্থূলাঙ্গী বাড়ির গৃহিণী গলায় কাপড় দিয়ে হাঁসফাঁস ক’রে তাকে প্রণাম করেন, তিনি যদি অধিকন্তু হৃদয়াবতী হন, তাহলে মিছরির জলের সঙ্গে পান্তুয়ার অর্ডার দিয়ে সোরগোল তোলেন, তারপরে জানিয়ে দেন বিগলিত শ্রদ্ধায়— ‘ঠাকুরমশাই তো আর কিছু খাবেন না’। এদিকে যে-সব ছেলে-ছোকরা কোমরে তোয়ালে জড়িয়ে পরিবেশনের নামে হট্টগোল করেছে, কনেকে ঘুরিয়েছে সাতপাক, পাউডার-ঘষা ঘাড় উঁচু ক’রে বরের ফ্রেন্ডরূপে বিয়ে দেখতে গিয়ে ভালো ক’রে দেখেছে কনের ফ্রেন্ডদের- তাদের কাছে চিরকালই পুরুতব্যাটা পাজি, মেয়েদের মাথায় হাত বুলিয়ে টাকা হাতাবার যম। দয়া ক’রে যদি তারা বিবাহ-সম্পাদক আর্য ব্রাহ্মণটিকে কত ধরে দেয়া হয়েছে খোঁজ নিতেন! আম্পায়ারের ‘মাহিনা’ কত খোঁজ নিয়েছেন আপনারা?’ (ক্রিকেট সুন্দর ক্রিকেট)।
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় ‘নটআউট’। ১৯৬৪ সালে ইডেন গার্ডেনে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট ম্যাচের শীতের তীব্র হাওয়া হাড়ে কাঁপন ধরিয়ে দিলেও পাঁচ দিনের খেলা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন শঙ্করীপ্রসাদ বসু। ক্রিকেট থেকে ‘অনিত্যের মধুপান’ করেছেন। তার রোমান্টিক চোখে ক্রিকেটীয় সুধা পান করার পাশাপাশি ক্রিকেট মাঠের রসিকতাটুকুও তার দৃষ্টি এড়ায়নি। পঞ্চ দিনস্থায়ী বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশটি তার কাছে মনে হয়েছে বিশ্বজীবনের খ-রূপে। তাই ম্যাচ শেষে শঙ্করীপ্রসাদ বসুর হৃদয়ে বয়ে যায় আরেক অনুভূতির মিশ্র অনুভূতি: ‘….আমরা সকলে যখন পঞ্চম দিনের শেষে হাজির হলুম- যখন মাঠ ছেড়ে যাবার সময় এল- তখন সহসা অভাবিত নিঃস্বতায় ভরে গেল মন- ক্রিকেট হারালুম বলে নয়, অনেক মানুষের সঙ্গ হারালুম বলে। ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে বহু মানুষের সঙ্গ পাই আমরা— আজ ক্রিকেট আমাদের সামাজিক উৎসব। (চলবে)
ঋণস্বীকার : ক্রীড়াজগত, ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫