কুম্ভমেলা!— তাও আবার বাংলায়! শুনে কিছুটা বিস্ময় জাগলেও, ২০২৩ সালে এমনটিই হতে দেখা গেল। নদিয়া জেলার কল্যাণীতে হল বঙ্গ কুম্ভমেলা। কল্যাণীতে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী— এই তিন নদীর সঙ্গমস্থলে বসেছিল পাঁচদিনের কুম্ভমেলা। ২০২৩ সালের ১০-১৪ ফেব্রুয়ারি নদিয়া জেলার কল্যাণীতে মাঝেরচর হরিহর আশ্রম শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঘাটে সুসংগঠিতভাবে কুম্ভমেলা ও পুণ্য কুম্ভস্নানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই বিরাট কর্মযজ্ঞের আয়োজক ছিল বঙ্গ কুম্ভমেলা পরিষদ ও সনাতন সংস্কৃতি সংসদ। তাদের আহ্বানেই সমগ্র দেশ থেকে সাধু সন্ন্যাসী, মুনি ঋষিগণ কল্যাণীর অন্তর্গত গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীর মুক্তত্রিবেণীর পূর্ব পাড়ে মাঝেরচরে জড়ো হয়েছিলেন। এই বিরাট কর্মযজ্ঞের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বঙ্গ কুম্ভমেলা’।

বিশ্বের দরবারে ভারতের কুম্ভমেলা কয়েক বছর আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে। কুম্ভমেলাকে বিশ্বের বৃহত্তম শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পুণ্য লাভের জন্য এক শ্রেণীর মানুষ কুম্ভ স্নানকে আবশ্যিক বলে গণ্য করেন। ২০১৭ সালে UNESCO (ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল সায়েন্টিফিক এন্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) কুম্ভমেলাকে ভারতের অনবদ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (Intangible Cultural Heritage) বলে ঘোষণা করেছে। কুম্ভমেলার বিভিন্ন পর্যায় বা ধাপ রয়েছে। সাধারণ কুম্ভমেলা হয় প্রতি চার বছর অন্তর। অর্ধকুম্ভ হয় প্রতি ছয় বছর অন্তর হরিদ্বার ও প্রয়াগে (এলাহাবাদে)। পূর্ণকুম্ভ হয় প্রতি বারো বছর অন্তর। গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে চারটি নির্ধারিত স্থানে (যথা— প্রয়াগ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী ও নাসিক) পূর্ণকুম্ভ হয়। বৃহস্পতি ও সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে কুম্ভমেলার স্থান নির্বাচন হয়। বৃহস্পতি বৃষ রাশিতে এবং সূর্য কুম্ভ রাশিতে অবস্থান করলে প্রয়াগে মেলা হয়। সূর্য মেষ রাশিতে অবস্থান করলে হরিদ্বারে মেলা বসে। সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে অবস্থান করলে উজ্জয়িনীতে মেলা হয়। আর বৃহস্পতি ও সূর্য সিংহ রাশিতে অবস্থান করলে নাসিকে মেলা বসে। এভাবে প্রতিটি কুম্ভমেলার স্থান নির্বাচিত হয়। আর বারোটি পূর্ণকুম্ভের পরে অর্থাৎ ১৪৪ বছর (১২x১২) পরে এলাহাবাদের প্রয়াগে বসে মহাকুম্ভ। পূর্ণকুম্ভের জন্য চারটি স্থান (প্রয়াগ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী ও নাসিক) নির্দিষ্ট। এর পশ্চাতে প্রচলিত কাহিনীটি হল— সমুদ্রমন্থনের সময় দেবতা ও রাক্ষসেরা অমৃত ভরা একটি কুম্ভ আবিষ্কার করেছিলেন। সেই অমৃত নিয়ে দেবতা ও রাক্ষসেরা ঝগড়া শুরু করলে নারায়ণ নারীর বেশে আবির্ভূত হন। সেই নারীর রূপ দেখে তাঁরা মোহিত হন। আর সেই সুযোগে গরুড় অমৃতের কলসি নিয়ে পালায়। আর তখনই কলসি থেকে চার ফোঁটা অমৃত পৃথিবীতে পড়ে। অমৃতের ফোঁটা পড়া সেই চারটি স্থানেই কুম্ভমেলা হয়।

বহু বছর পর নাকি বাংলায় কুম্ভমেলা হতে দেখা গেল! কথাটি যদি পুরোপুরি সত্যি হয়, তাহলে ঐতিহাসিক দিক থেকে ২০২৩ সালটি ভবিষ্যতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে কল্যাণীর মাঝেরচরে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঘাট মহাপবিত্র স্থান হিসেবে চিহ্নিত। কল্যাণী শহরের পশ্চিমাংশে এই মাঝেরচর অবস্থিত। এটি কল্যাণী নোটিফায়েড এরিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কল্যাণী (মেইন) রেলস্টেশন থেকে মাঝেরচর শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঘাট সড়কপথে প্রায় ৮ কিলোমিটার। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ওপার বাংলার। মাঝেরচর গ্রামে বিরাট উদ্বাস্তু কলোনী রয়েছে। কাঁচড়াপাড়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাঝেরচর এলাকায় প্রায় ছয় একর জমিতেই বসেছিল কুম্ভমেলা। লোকশ্রুতি অনুযায়ী ঋষি ব্যাসদেব, কণাদ, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, গৌতম, ভৃগু, পরশুরাম প্রমুখ মুনি ঋষিরা এখানে এসে তপস্যা করেছিলেন। একদা নিয়মিতভাবে গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গমস্থল মুক্ত ত্রিবেণীতে নাকি কুম্ভস্নানের আয়োজন হত। মাঘী সংক্রান্তিতে সাধু সন্তরা এখানে পুণ্য স্নানের জন্য আসতেন। অতি প্রাচীনকাল থেকেই মুনি ঋষিরা এই ত্রিবেণী সঙ্গমে জড়ো হতেন এবং পুণ্যস্নান সেরে বৈদিক মন্ত্রোচারণের মধ্যে দিয়ে স্বর্গের দেবতাদের তুষ্ট করতেন।

প্রাচীন সনাতন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই পুণ্য কুম্ভস্নান ও কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানান। নদিয়ার মাঝেরচরে বঙ্গ কুম্ভমেলার নির্ধারিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল ৭০ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে মণ্ডপ বাবদ প্রায় নয় লক্ষ টাকা, আলো বাবদ প্রায় দুই লক্ষ টাকা, বিদ্যুৎ বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। মেলার আয়োজনে খরচের বহর যেমন ছিল, তেমনি দান দক্ষিণাও প্রচুর পাওয়া যায়। মেলার বিভিন্ন অংশে প্রণামী বাক্স দেখতে পাওয়া যায়। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী বঙ্গ কুম্ভমেলায় ১০৮টি ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছিল। যাদের মধ্যে ইস্কন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, কাঠিয়া বাবা পরম্পরা আশ্রম, নাথ পরম্পরা আশ্রম, ভবার মহাশক্তির আশ্রম, শ্রীশ্রী হরিহর আশ্রম, বাগবাজার গৌড়ীয় মিশন, রামকৃষ্ণ বেদান্ত আশ্রম, দত্ত মন্দির, ভোলাগিরি আশ্রম, নিরঞ্জনী আখড়া, অটল আখড়া, শঙ্কর মঠ ও মিশন, জুনা আখড়ার মতো প্রতিষ্ঠান ছিল।

বঙ্গ কুম্ভমেলায় নাগা সন্ন্যাসীদেরও দেখতে পাওয়া যায়। নাগা সন্ন্যাসীদের প্রতি এমনিতেই সাধারণ মানুষের বিশেষ আকর্ষণ থাকে। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কল্যাণীর কুম্ভমেলায় নাগা সন্ন্যাসীদের দেখার সুযোগ ভক্তরা ছাড়েননি। নাগা সন্ন্যাসীদের দেখার জন্য মেলায় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলাক্ষেত্রে অল্প পরিসরে নিজেদের আখড়া গড়ে নাগা সন্ন্যাসীরা মেলার কটাদিন মাঝেরচরেই ছিলেন। নাগা সন্ন্যাসীদের দর্শন পেতে এবং তাদের আশীর্বাদ ভিক্ষা করতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা কুম্ভমেলায় ছুটে আসেন। নাগা সন্ন্যাসীদের দিগম্বর শোভাযাত্রা ছিল বঙ্গ কুম্ভমেলার বিশেষ আকর্ষণ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ (সোমবার) মাঘি সংক্রান্তির দিন শাহী জৌলুসের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রায় নাগা সন্ন্যাসীদের নগর পরিক্রমা ছিল দেখার মতো। মাঝেরচরের শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঘাট থেকে এই শাহী জৌলুস বার হয়। সেখান থেকে বালক সংঘ শিব মন্দির, নিমুর মোড়, শনি মন্দির, পিকনিক গার্ডেন, ফায়ার ব্রিগেড, বুদ্ধ পার্ক, দক্ষিণপাড়া টোল ট্যাক্স, কাছারিপাড়া গুল ফ্যাক্টরি, তিন নম্বর কালিবাড়ি হয়ে বালক সংঘ বটতলা দিয়ে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঘাটে এসে এই শাহী শোভাযাত্রা শেষ হয়।

উল্লেখ্য, নদিয়া জেলার কল্যাণীর মাঝেরচরে বা হুগলির ত্রিবেণীতে ২০২৩ সালে যে মেলা বসে সেটি যেন কুম্ভমেলার এক নব সংস্করণ। এটি পূর্ণকুম্ভ, অর্ধকুম্ভ বা মহাকুম্ভ— কোনোটিই নয়। এটি হল ‘বঙ্গ কুম্ভ’! যেন এক নব আবিষ্কার! অনেকেই ২০২৩ সালের বঙ্গ কুম্ভমেলাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে করেন। তাছাড়া বঙ্গ কুম্ভমেলাকে ঘিরে রাজনীতিও হয় প্রচুর। মেলা ক্ষেত্রে আগত দর্শনার্থীরা বিষয়টি বেশ ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারেন। মেলার দীর্ঘ প্রবেশপথ রাজনৈতিক দলগুলির তোরণ, ব্যানার, পোস্টারে মুড়ে ফেলা হয়। এমনকি মেলার কটা দিন পুণ্যার্থীদের পরিষেবা দিতে রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে মেলার প্রবেশপথে একাধিক জলছত্রের ব্যবস্থা করা হয়। আর সেখান থেকে মাইকে অনবরত প্রচারকার্য চলতে থাকে। মেলার দীর্ঘ প্রবেশপথে যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত রাজ্যের শাসকদলের একাধিক তোরণ দেখতে পাওয়া যায়, তেমনি মেলায় প্রবেশের মুখে ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের ছবি সম্বলিত বিশাল তোরণও সকলের নজর কাড়ে। ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এমনও দাবি করা হয় যে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমে এই কর্মকাণ্ডকে বন্ধ করতে চেয়েছিল। আর পরে তারাই এই মেলাকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করে। বস্তুত, পঞ্চায়েত ভোটের আগে ডান হোক, বা বাম— কোনো রাজনৈতিক দলই কল্যাণীর কুম্ভমেলায় প্রচারকার্য চালানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি।

গঙ্গার ওপারে ত্রিবেণীর ঘাটেও মেলা বসেছিল। যদিও গঙ্গার পূর্ব পাড়ে মেলার যে বৈভব, তা পশ্চিম পাড়ের মেলাকে ছাপিয়ে যায়। ত্রিবেণীর গঙ্গার ঘাটে মেলার জৌলুস মাঝেরচরের থেকে কিছুটা কমই ছিল। দিনেরও ফারাক ছিল— কল্যাণীতে ছিল পাঁচদিনের মেলা ১০-১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩। অন্যদিকে ত্রিবেণীর মেলা ছিল তিন দিনের— ১২-১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩। ৭০৩ বছর পর নাকি এই মেলার আয়োজন করা হলো! — উদ্যোক্তাদের এই দাবি অনুযায়ী ২০২৩ সালের আগে শতকের পর শতক এই মেলা বন্ধ ছিল। তবে লোকশ্রুত ব্যাখ্যানুযায়ী— বহু আগে থেকেই গঙ্গার এই ত্রিবেণী সঙ্গমে নিয়ম করে পুণ্যস্নান ও সে উপলক্ষে মেলা বসত। গঙ্গাসাগরের মেলা পৌষ সংক্রান্তিতে, আর মাঘ সংক্রান্তিতে বসত গঙ্গার ত্রিবেণী সঙ্গমে মেলা। গঙ্গাসাগর থেকে সাধু সন্তরা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ত্রিবেণীতে মাঘী সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নানের জন্য আসতেন। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী ত্রিবেণী সঙ্গমের সেই মেলাই ছিল কুম্ভমেলা। আর বাংলায় মুসলিম শাসনকালে সেই মেলা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে এর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ অনুসন্ধান করেও আমি পাইনি। বরং এ প্রসঙ্গে বলতে হয় যে, ছয় বছরের হাবসি শাসনকাল (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রি.) ছাড়া বাংলায় ইলিয়াস শাহী বংশের শাসনকালে (১৩৪২-১৪১৫ খ্রি. এবং ১৪৩৭-১৪৮৭ খ্রি.) এবং হোসেন শাহী বংশের শাসনকালে (১৪৯৩-১৫৩৮ খ্রি.) যথেষ্ট সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির বাতাবরণ ছিল। এমনকি বাংলায় স্বতন্ত্র মুসলিম শাসনকালে একাধিক মুসলিম শাসক হিন্দু পণ্ডিত, শিল্পী বা জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। কয়েকজন মুসলিম শাসক প্রজাহিতৈষণার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন হোসেন শাহ যেমন জনপ্রিয়তার নিরিখে বাংলার মানুষদের থেকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি পেয়েছিলেন। ‘বাংলার আকবর’ হিসেবেও তাঁকে অভিহিত করা হয়। এই সকল তথ্যের নিরিখে মধ্যযুগে বাংলায় কুম্ভমেলার অস্তিত্ব এবং সেই মেলা ক্রমান্বয়ে বিলীন হওয়ার যে কাহিনী সাম্প্রতিককালে পরিবেশিত হচ্ছে, সেগুলিকে ঐতিহাসিক বিকৃতি বলেই মনে করছি।
লেখক : আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক, নদিয়া।
খুব সুন্দরভাবে নব কুম্ভ মেলার সাংগঠনিক দিক যেমন তুলে ধরেছেন তেমনি যথার্থ ঐতিহাসিক হিসেবে ইতিহাস বিকৃতির দিকটিকেও চিহ্নিত করেছেন।
সমৃদ্ধ হলাম। অভিনন্দন জানবেন।
লেখাটি শেয়ার করছি।
আমাদের নদীয়া জেলায় এত সব অজানা জিনিস আছে আগে জানতাম না।। খুব ভালো ভালো লাগলো নতুন কিছু জেনে।।।
কুম্ভমেলার এরকম বর্ণনা বিশ্লেষণ― খুবই ভালো লাগলো।
ভালো লাগলো তবে বঙ্গ কুম্ভমেলা নিয়ে বা শেষ কবে হয়েছিল সেটার উপরে যদি আরেকটু বিশ্লেষণ পাওয়া যেত আরো ভালো লাগতো।
ত্রিবেণী তে গত বছর ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালন সমিতির উদ্যোগে ৭০২ বছর পর পুণরায় কুম্ভস্নান ও তৎসংলগ্ন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে লেখক কিকি অনুসন্ধান করেছেন জানা নেই। তবে শাস্ত্রীয় বহু তথ্য দেওয়া যেতে পারে।
এবছর কিছু সাধুসন্তর ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালন সমিতির সঙ্গে মত বিরোধ দেখা দেওয়ায় তাঁরা স্বতন্ত্রভাবে কল্যাণীর মাঝেরচড়ে শ্রীচৈতন্য দেবের নাম জড়িয়ে অন্য একটি উৎসবের আয়োজন করেন। এনিয়ে কিছু বলার নেই। এটিও ঈশ্বরের নির্দেশে সনাতনী বাঙ্গালী জাতি সত্বার আর এক জাগরণ।
তবে, ত্রিবেণী তে মহাপবিত্র কুম্ভ স্নান ও মেলা কেন্দ্র করে ১০/১২ লক্ষেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটেছে।
বিদ্বান, পণ্ডিত, প্রচার মাধ্যম রাজনৈতিক নেতারা যাই বলুক, বা না বলুক, সাধু সন্ত বৃন্দ যুলুশ, শোভাযাত্রা আয়োজন করুন বা না করুন, গ্রাম গঞ্জের নিরক্ষর দরিদ্র মানুষেরা বিশ্বাস করেছে এই তিথিতে স্নানে পুণ্য হয়, পাপ নাস হয়।
ব্যাস! নিশ্চিন্ত থাকুন। এই উৎসব বন্ধ করার ক্ষমতা কারো হবেনা।
খুব ভালো তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। অভিনন্দন রইল।
Near Tribeni there stands the Jafar Khan Gazi Darga which was built over the destroyed structure of a magnificent Visnu temple around 1300 AD. The present Kumbh Mela is most probably is an attempt to revive a long lost tradition so far preserved in popular memory.
তোমার লেখাতে ঐতিহ্য ও সমকাল বিশেষভাবে মিলেমিশে গেছে। তবে মনে হয় এই মেলায় রাজনৈতিক গিমিকই বেশি। অবশ্য বাংলায় ত্রিবেণীর একটি স্থানমাহাত্ম্য বরাবরই আছে। সত্যেন দত্তের কবিতা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে। স্বাদু লেখা সন্দেহ নেই।