শীত মানেই উত্তরবঙ্গ, উত্তরবঙ্গ জুড়ে প্রচুর পিকনিক স্পট রয়েছে। পাহাড় কিংবা ডুয়ার্স কিংবা সমতল পিকনিক স্পটের ছড়াছড়ি গোটা উত্তরবঙ্গে। শীত পড়লেই এইসব পিকনিক স্পট গুলিতে প্রচুর মানুষের ভিড় দেখতে পাওয়া যায়।

এই বছর নভেম্বর মাসের শেষের পথে ধীরে ধীরে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। রাস্তার পাশের চায়ের দোকানগুলোতে একটু উষ্ণতা খুঁজতে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তাপমাত্রা ক্রমশই নিম্নমুখী হবে। ভোর বেলার দিকে এবং রাত্রিবেলায় দৃশ্যমানতা একেবারেই কমে যাবে। সেই কারণে আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে গাড়ি চালকদের। তারা যেন সাবধানে গাড়ি চালান। গতবছর করোনার কারণে সেইভাবে পিকনিক স্পট গুলিতে ভিড় দেখা যায়নি। এই বছর পরিস্থিতি অনেকটা অনুকূল হওয়ায় অনেকেই পিকনিকে যাবার পরিকল্পনা আগের থেকেই করে রেখেছেন।

শিলিগুড়ির অনতি দূরে অবস্থিত সাফারি পার্কে যথেষ্ট জনসমাগম হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট করোনা বিধি অবশ্যই সবাইকে মানতে হবে পার্কের মধ্যে। করোনার ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে গত ৪ মাস ধরে বন্ধ ছিলো শিলিগুড়ি বেঙ্গল সাফারি পার্ক। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পার্ক খোলা হয়েছে। বাঘ সাফারি থেকে শুরু করে হরিণ, ভাল্লুক, চিতা সাফারিও শুরু হয়। কিন্তু বন্ধ ছিলো হাতি সাফারি। অবশেষে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সেই সাফারিও শুরু হয়ে গেলো। বেঙ্গল সাফারি পার্কে থাকা দুই হাতি লক্ষ্মী ও উর্মিলার পিঠে চড়ে শুরু হলো জঙ্গল সাফারি। বেঙ্গল সাফারি পার্কে তরফে জানানো হয়েছে আপাতত সারাদিনে ৬ বার সাফারি হবে। বেঙ্গল সাফারি পার্কের ডিরেক্টর বাদল দেবনাথ বলেন, আধঘন্টা পার্কের জঙ্গলে হাতির পিঠে চড়ে সাফারি করা যাবে। তার জন্য মাথাপিছু ৩০০টাকা করে টিকিট কাটতে হবে। ৬ জন করে একটি সাফারিতে যেতে পারবেন।

এছাড়া সিকিম, দার্জিলিং, ডুয়ার্সের পিকনিক স্পট গুলিতে অনেকেই আশা রাখছেন এই বছর ভালোই লোকজনের জনসমাগম হবে। শীতকাল মানেই উত্তরবঙ্গের পিকনিক উৎসব। যে উৎসবে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা অংশ নেয়। বিশেষ করে ২৫ ডিসেম্বর, নতুন বছরের প্রথম দিন, ২৩ জানুয়ারি, ২৬ জানুয়ারি এই দিনগুলোতে উত্তরবঙ্গের পিকনিক স্পটগুলো তে প্রচুর জনসমাগম ঘটে।

শিলিগুড়িতে আগে নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে বাইরে থেকে শয়ে শয়ে লোক আসতেন শিলিগুড়িতে,প্রচুর রসদ ছিলো কি ছিলো না, নলেন গুড়ের সন্দেশ, ফুলকপির সিঙ্গারা এবং শীতের কমলালেবু। সাথে সাথে থাকত ক্রিকেট এবং সিনেমা। সবমিলেয়ে তখন শীত এবং বতর্মান শীতের পার্থক্য যে অনেকটাই। শীতের হিমেল পরশে শিলিগুড়ি থাকত শিলিগুড়ির আমেজে, যা প্রকৃতির কারনে বা বর্তমান আধুনিকতার ছোয়াতে নষ্ট হয়ে গেছে অনেকটাই।
শীতের মাসে দার্জিলিংয়ের কমলা আমদানি হলেও তার পরিমাণ কিন্তু অনেকটাই কম। দার্জিলিং এর চা এর মতই স্বাদ সুগন্ধে মানুষের মন জয় করে দার্জিলিংয়ের কমলা। দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলের দার্জিলিং, মিরিক, সামসিং, সহ আরও বেশ কয়েকটি পাহাড়ের গ্রাম্য এলাকায় প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয় কমলালেবু। এবছর শীত পড়লেও সেভাবে সমতলের বাজারে আসছেনা দার্জিলিং এর কমলালেবু। শিলিগুড়ি বিধান মার্কেটের এক ফল বিক্রেতা জানান, বাজারে নাগরপুর, ভুটান এর কমলা থাকলেও দার্জিলিংয়ের কমলার চাহিদাই বেশি রয়েছে, পাশাপাশি আর এক বিক্রেতা জানান, এখনও দার্জিলিংয়ের কমলা আমদানি হচ্ছে তবে খুব অল্প পরিমাণে। তবে বিক্রেতারা আশা করছে খুব শীঘ্রই বেশি পরিমাণে পাহাড়ি কমলা আমদানি হবে। বাজারে ও ক্রেতার চাহিদা মেটাতে পারবে বিক্রেতারা। এর পাশাপাশি পাহাড়ে কমলার বাগান গুলোতে জোরকদমে চলছে কমলা তোলার প্রস্তুতি। সেই কমলা সুন্দর করে প্যাকেজিং করে যে সমস্ত জায়গায় পাহাড়ের কমলার চাহিদা বেশি রয়েছে সেখানে রপ্তানি করার প্রস্তুতি চলছে। কমলালেবু রপ্তানি করে দার্জিলিং-এর বহু মানুষের জীবন চলে, তাই ভালোভাবে কমলালেবুর ফলন না হলে অর্থের যোগান পাওয়া মুষ্কিল। ভালো মানের কমলালেবুর যেমন চাহিদা আছে, তেমনি ভালো কমলালেবু না হলে বিক্রি হওয়া মুষ্কিল তাই জানালেন এক কমলালেবু বিক্রেতা।