| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইংরেজের চোখে আড়াইশ বছর আগের বাঙালি চরিত্রি (দ্বিতীয় পর্ব) : স্বর্ণাভা কাঁড়ার

Reporter
স্বর্ণাভা কাঁড়ার / ৮৬৫ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

চার্লস প্রান্টের প্রতিবেদন

ইউরোপের খুব খারাপ অঞ্চলেও কিছু মানুষ পাওয়া যাবে যারা বিবেকবান, সত্যনিষ্ঠ ও অকপট। বাংলায় কিন্তু যথার্থ সৎ ওসত্যবাদী মানুষের অস্তিত্ব একটা বিরল ঘটনা। আচার-আচরণে সর্বদা বিবেকবান এমন চরিত্র এখানে অজানা। বিশ্বের এই খণ্ডে বিশ্বাস, আস্থা এখনও অনেক পরিমাণে বিদ্যমান এবং ঠকলে মানুষ বিস্ময়বোধ করে। বাংলায় কিন্তু লেনদেনেই সর্বক্ষেত্র জুড়ে আছে অবিশ্বাস। উভয় পক্ষই বিশ্বাসভঙ্গ করতে পারে এই আশঙ্কা নিয়েই চুক্তি বা দলিলপত্র রচনা করা হয়। তাই অসংখ্য শর্ত ও রক্ষাব্যবস্থা জুড়ে দেওয়া হয়। তৎসত্ত্বেও যদি বিশ্বাসভঙ্গ ঘটে তা হলেও কেউ বিস্ময়বোধ করে না।

কোনও নেটিভকে যদি কাজকর্মে সত্য ও ন্যায়নীতি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় তবে সে তাকে দুর্বল ও অবাস্তব প্রস্তাব বলে মনে করবে। সে বলবে, যে সব লোকের সঙ্গে আমাকে কাজ করতে হয় তাদের কি রকম চরিত্র সে-সম্বন্ধে আপনার কোনও ধারণা আছে? সকলেই যখন আমারওপর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টায় আছে তখন আমি যদি কোনও সুযোগ না নিই তাহলে আমি বাঁচব কী করে? জীবনের সর্বক্ষেত্রেই চলেছে প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, ফাঁকিবাজি, সেইসঙ্গে রয়েছে দীর্ঘসূত্রীতা। জাল-জুয়াচুরিও প্রায়শই চলে নির্দ্ধিধায়। কেউ যদি প্রয়োজনের তাগিদে বা যথার্থ বিশ্বাস করেই কারও ওপর আস্থা স্থাপন করে তবে অপর পক্ষ একে লুটেপুটে নেবার একটা মওকা বলে মনে করবে। এই সুযোগে কিছুটা দাঁও মেরে দেবে না এমন লোক খুব কম। জমিদার অথবা ব্যবসায়ীর প্রধান কর্মচারি মালিকের বিষয়-সম্পত্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি নিজের ভাগে টেনে নেবার চেষ্টা করবে। অপর দিকে ঠিক তেমনিভাবে সেই প্রধান কর্মচারির অধস্তন কর্মীরা তাঁর বিষয়-সম্পত্তি হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করবে, বিশেষ করে তিনি যদি একটু কম মনোযোগী হন। এদের কেউ যদি এমনিভাবে অত্যন্ত ধীরে নিঃশব্দে বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলে মারা যান এবং তার অলস পুত্র মালিক হয়ে বসে তবে বাড়ির লোকেরাই তার অজান্তে সম্পত্তি লুটেপুটে নেবে।

যে ভৃত্য বাড়িতে দীর্ঘকাল কাজ করে মালিকের সঙ্গে তার যথার্থই একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তাই বলে মালিকের টাকা-পয়সা চুরি করার অভ্যাস সে ছাড়ে না। পিতৃব্য যদি তার ভ্রাতুষ্পুত্রের ওপর, এমন কি পিতা যদি পুত্রের ওপর তার বিষয় দেখাশোনার ভার দেন তবে সে যে তার থেকে সরিয়ে নিজস্ব বিষয় গড়ে তুলবে না একথা নিশ্চয় করে বলা যায় না। কেউ শিশু সন্তান রেখে মারা গেলে তার বন্ধুবান্ধব অছি হিসেবে নাবালকের বিষয়-সম্পত্তি রক্ষা করবে এটা একটা পবিত্র দায়িত্ব। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার অপব্যবহার ঘটে থাকে। তবে যে ব্যাপারে বাঙ্গালীদের পারস্পরিক আস্থা অটুট থাকে তা হল অবৈধকর্ম। এক্ষেত্রে তারা কথার মর্যাদা রক্ষা করে চলে।

যখনই বিচারের ভার নেটিভদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে, তা সে হিন্দুই হোক আর মুসলমানই হোক, তখনই তা নেহাৎ কেনাবেচার পর্যায়ে নেমে গিয়েছে। আদালতে সাফল্য লাভ করতে হলে তার দাম দিতে হয়। আর সেই সাফল্য ক্রয়ের জন্য চাই উপযুক্ত সুযোগ। টাকা দিয়ে নরহত্যার অপরাধ থেকেও মুক্তি লাভ করেছে। টাকার এমনই শক্তি যে হলফনামা পাঠ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অতি সাধারণ অপরাধ। দুইপক্ষের সাক্ষী সত্য কথা বলার শপথ নিয়ে পরস্পরের ঠিক বিপরীত কথা বলে যাচ্ছে — এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। একটু তদন্ত করলেই দেখা যাবে যে উভয়পক্ষের সাক্ষীরই প্রকৃত ঘটনা সম্বন্ধে যথার্থ জ্ঞান নেই। আদালত থেকে এই সব দুর্নীতির উদ্ভব ঘটেনি, এর উৎস সাধারণের চরিত্রে। লর্ড কর্নওয়ালিশ যে সংস্কার প্রবর্তন করেছেন তার ফলে বিচার ব্যবস্থা হয়তো ক্রুটিমুক্ত হবে, কিন্তু আইন প্রয়োগের আয়োজন সম্পূর্ণ হলেও চরিত্রগত দুর্নীতি নির্মূল হবে না।

এদের কাছে স্বার্থপরতা সকল নিয়ম-নীতির ঊর্ধ্বে, সর্বব্যাপক। আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার শ্রষ্ঠ উপায় অর্থ। তাই অর্থকেই হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ দেবতা বলা চলে। এরা দীর্ঘকাল রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত, মনোবলও হারিয়েছে। ধৈর্য, কৃচ্ছ্রতা ও কলাকৌশল অবলম্বন করে এদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে হয়। তাই অর্থ লালসা মেটানোর জন্য সর্বদা ফন্দিফিকির খুঁজে বেড়ায়।

সেই লাগামহীন স্বার্থপরতার দরুন এদের স্বাভাবিক প্রবণতাই হলো কাজেকর্মে বা প্রকাশ্য বলপ্রয়োগে একজনকে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। ভয়ে নিজেরা কিন্তু সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকে। সামরিক গোষ্ঠীর কথা বাদ দিলে বলা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসীরা যেমন কাপুরুষ, তেমনি নীতিহীন। তারা কৌশল করে, চলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে, মিথ্যা কথা বলে বা দাসত্বের ভান করে স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করে। উচ্চপদস্থদের কাছে খুব সম্মান দেখায়, যেন তারা বিনয়ী বশম্বদ এবং প্রয়োজন হলে তার জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত। যতক্ষণ তাকে ভয় করার কারণ থাকে বা তার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা থাকে ততক্ষণ মুখ বুজে অপমান, অবহেলা বা আঘাত সত্য করে যায়। ওপরে এই সহনশীলতার আবরণ থাকলেও ভিতরে ভিতরে তারা ঠিক তাদের গোপন অভিসন্ধি অনুযায়ী কাজ করে চলে। ওপরওয়ালার কাছে তারা যে মনোভাব চেপে রাখে অধস্তনদের কাছে তারা যে তা পূর্ণমাত্রায় প্রয়োগ করে সে অভাব পূরণ করে নেয়। পদমর্যাদা বলে যাদের ওপর কর্তৃত্ব ফলাতে পারে তাদের কাছে তারা অতি ঈন মনোবৃত্তির পরিচয় দিয়ে থাকে। দেশের অভ্যন্তরভাবে যেখানে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের একত্র বসবাস এবং সকলেই প্রায় সমপর্যায়ের সেখানে নেটিভদের আচার-আচরণের আর আবরণ প্রায় থাকে না। সমাজ প্রবৃত্তির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সমাজরক্ষার মৌলিক গুণাবলী না থাকলে যা ঘটবারতাই ঘটে। নীতিহীন স্বার্থপরতার পরিণামে সমাজে ঘৃণা, বিবাদ, নিন্দাবাদ, মামলাবাজী বিস্ময়কর মাত্রায় বিদ্যমান। একে অপরের প্রতি, এমন কি অনেক ক্ষেত্রে পিতা পুত্রের প্রতি যেরূপ বিদ্বেষ পোষণ করে এবং মিথ্যাচার ও নিন্দাবাদের আশ্রয় নেয় তাতে মানব চরিত্রের এক অতি করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। কোনও আগন্তুক এদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসলেই বুঝতে পারবেন যে, শত্রুতাচরণ ও অন্যের ক্ষতি করার প্রবৃত্তি এদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি গ্রামে মানুষ পরস্পরের বিরূপতার মধ্য বাস করে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক পরিবারেও সেই একই অবস্থা। এমন পরিবার খুব কম আছে যেখানে বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে বিভেদ নেই, স্থায়ী শত্রুতা নেই। এই বিরোধ বাড়ির মেয়েদের মধ্যেও গড়ায়। পুরুষের পদতলে দাসীর মতো থাকে বলে মেয়েরা একে অপরের বিরুদ্ধে সহজেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, উচ্চ কণ্ঠে অকথ্য অশ্রাব্য গালিগালাজ করে মনের ঝাল মেটায়। পৃথিবীর অন্য কোথাও এমনটি বড় একটা দেখা যায় না।

সরাসরি লড়াই করে ক্ষোভ মেটানোর মত যথেষ্ট মনোবল বাঙ্গালীর নেই। তৎসত্ত্বেও চুরি, সিঁদকাটা, ডাকাতি, নদীবক্ষে ডাকাতি বস্তুত আঁধারে, গোপনে ও আকস্মিকতার সুযোগ যে সব অপকর্ম করা যায় সে সবই অত্যন্ত ব্যাপক। অতীতে ও সর্বযুগে এটা ঘটেছে। চোর ও ডাকাতদের স্বতন্ত্র জাতি গড়ে উঠেছে। এদের বিশ্বাস এরা নিজ নিজ বৃত্তি অনুসরণ করে চলেছে মাত্র। এরা সন্তানদেরও এই বৃত্তি শিক্ষা দেয়। পৃথিবীর কোথাও দুর্বৃত্তেরা এতটা নির্মম ও ধূর্ত হয় না। জেলার জমিদারেরা এদের পোষণ করে বা আশ্রয় দেয় এবং ডাকাতির ভাগ নেয় — একথা সকলেই জানে। এরা দলবেঁধে ডাকাতি করে এবং প্রায়ই মানুষ খুন করে। ডাকাতদের বাঁধা দল ছাড়াও পৃথক পৃথক ডাকাতও আছে। তারা প্রতিবেশীদের ধনসম্পদ লুঠ করে। শুধু যে বড় বড় শহরে, ঘনবসতি অঞ্চলে বা তার আশেপাশে ডাকাতি হয় তা নয়, দেশের কোনও অঞ্চল, এমন কি কোন গ্রামও তাদের হাত থেকে নিরাপদ নয়। প্রত্যেক অঞ্চল, রাজপথ ও নদীপথ থেকে ডাকাতি-রাহাজানির অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এই সব অপরাধের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা আছে এবং বহু অপরাধীকে দণ্ডদানও করা হয়। তবু অপরাধ ঘটেই চলেছে। নবাবী আমলে বাংলায় বহু কাল ধরে ফৌজদারী বিচারে যে দুর্নীতি চলে আসছে তার ফলে এই উৎপাত বেড়ে গিয়েছে। তবে এর কারণ আরও গভীরে নিহিত। হিন্দু জাকাতদের, বিশেষ করে চোরদের ছোটবেলা থেকেই বোঝানো হয় যে তাদের বৃত্তি অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু এটা যে অপরাধ একথা বুঝিয়ে দেবার মত কেউ থাকে না। প্রথম প্রথম বিবেকের যে দংশন অনুভূত হয় ক্রমে অভ্যাসে ও অন্যের দৃষ্টান্ত দেখে দেখে তা লোপ পেয়ে যায়। তাছাড়া অন্যান্য হিন্দুর মত তারা ভাগ্যে বিশ্বাসী। এক্ষেত্রে অবশ্য তার ফল দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ। তারা মনে করে ভাগ্যের ফলেই এ পথে আসতে হয়েছে; কাজেই যা ঘটবে তা মেনে নিতে হবে। তাই তারা তাদের কাজ চালিয়ে যায়, বিবেকের কোন দংশন বোধ করে না। যখন সময় আসবে তখন মৃত্যুকেও সহজভাবে মেনে নেবে। যে আইন তাদের দণ্ড দেয় তাকে তারা ন্যায় বিচারের বিধান বলে বিশ্বাস করে না; অধিকতর ক্ষমতাবানের শক্তি বলেই মেনে নেয়। সুতরাং স্পষ্টতি বোঝা যাচ্ছে যে, তাদের দূরাচারী মনোভাব দূর করতে হলে নীতিবোধের মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

দয়া হিন্দু মানসের প্রধান গুণ। যাঁর একথা বলেন তাঁরা এই সব চরিত্রের বিষয়ে কিছুই জানেন না। আমরা যেখানে করুণার দীপ্ত প্রকাশ দেখব বলে আশা করি সেখানে সত্য, ন্যায়বিচার ও আস্থাশীলতায় এমন বিরাট অভাব লক্ষ করি কেন? হিন্দুধর্মে দরিদ্রকে ভিক্ষা দানের বিশেষ বিধান আছে এবং কোনও কোনও পশু মাংস গ্রহণ সম্পর্কে কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু দানকার্যে আত্মগরিমা প্রচারই বেশী দেখা যায় এবং অলস ও হৃষ্টপুষ্ট পুরোহিতেরাই পায় বেশী। হিন্দুদের কাছে গোরু পবিত্র জীব। গোহত্যার কথা মনে এলেও ভয়ে আঁতকে উঠবে। কিন্তু যে গোরুটিকে গাড়িতে জুড়ে দিয়েছে, জোয়ালের ঘর্ষণে যার ঘাড়ের চামড়া উঠে ঘা হয়ে গিয়েছে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা নির্মমভাবে প্রহার করবে, মনে একটুও লাগবে না বা এর পরিণাম ভেবে দেখবে না।

বাঙ্গালীদের শরীরের গঠন দেখে নরম মানুষ মনে হলেও এদের মনে প্রকৃত কোমলতা খুব কম। কয়েকটি বিষয় থেকেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। প্রথমত শাস্তিদানের ব্যাপারে এরা ভয়ঙ্কর রকম বর্বর। এরা অনায়াসে হাত, পা, কান বা নাক কেটে দিতে পারে অথবা চোখ উপড়ে নিতে পারে। তাছাড়া আরও নানা বিকট রকমে মানুষকে কষ্ট দিতে পারে।

পরাজিত শত্রুর প্রতি এদের আচরণেও এই ক্রুরতার পরিচয় পাওয়া যায়। এরা অন্যের কথা ভাবে না। এটাই এদের চরিত্রের একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। হিন্দুরা অন্যের প্রতিবা যে বিষয়ে নিজের স্বার্থ জড়িত নেই সে বিষয়ের প্রতি এমন নির্বিকার ভাব দেখায় যে ইউরোপীয়দের ক্রোধের উদ্রেক করে। সে যাই হোক, এদের স্বার্থের সীমা খুব সঙ্কীর্ণ। হিন্দুস্থানে স্বদেশ প্রেম একেবারে নেই।

এই সব ঘটনা থেকে হিন্দু হৃদয়ে দয়ামায়ার অভাবের আর একটি নজির মনে পড়ে। সেটি হল স্বাভাবিক মমত্ববোধের অভাব। পিতামাতা সন্তানের প্রতি, বিশেষ করে শিশুকালে, যথেষ্ট স্নেহমমতা দেখান তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এর বিপরীত ঘটনাও খুব সাধারণ যা থেকে মানুষের চরিত্র স্পষ্ট বোঝা যায়। এখানে একটি মাত্র ঘটনার উল্লেখ করছি। ১৭৮৮ সালে কলকাতার আশেপাশে খাদ্যভাব দেখা দিয়েছিল। জনৈক ভদ্রলোক, যিনি তখন উচ্চপদে এবং এখন অধিকতর উচ্চপদে অধিষ্ঠিত, তাঁর ভৃত্যদের আদেশ দেন যে কেউ ছেলেমেয়ে বেচতে এলে তারা যেন কিনে রাখে। (দুর্ভিক্ষের সময় হিন্দুরা ছেলেমেয়ে বিক্রি করে থাকে) এবং তাদেরকে বলে দেয় যে, খাদ্যাভাব কেটে গেলে সন্তানকে যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এইভাবে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে ২০টি শিশুর প্রাণ রক্ষা করা হয়েছিল। এদের মধ্যে মেয়েই বেশী। পরে মাত্র তিনজনের মা এসে সন্তানদের খোঁজ করেছিল। এখানে উল্লেখ প্রয়োজন যে খাদ্যাভাব তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এদের পিতামাতা অভাবে মারা গিয়েছে এমন মনে করবার কোন কারণ নেই। প্রত্যেকেই তার সন্তানের জন্য টাকা পেয়েছিল। তখন কলকাতাবাসীরা, বিশেষত ইউরোপীয়রা, মুক্ত হস্তে দান করেছে। কলকাতার অনের স্থান থেকে প্রতিদিন বহু সংখ্যক লোককে চাল বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যলাবের এই সব ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও একটি মেয়েকে প্রকাশ্য দিবালোকে তার শিশু সন্তানকে রাস্তায় ফেলে দিতে দেখা গিয়েছে। হিন্দুস্তানের অধিকাংশ ক্রীতদাসই (এরা শুধু ঘরের কাজ করে থাকে) স্বাধীনতা হারিয়েছে তাদের পিতামাতার জন্যই। দুঃসয়ে, প্রয়োজনের তাগিদে যখন সন্তানদের বিক্রয় করে দেওয়া হয়, ঠিক তখনই কি সন্তানদের পক্ষে পিতামাতার স্নেহের পরশ সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন নয়? বস্তুত সন্তানের প্রতি পিতামাতার এবং পিতামাতার প্রতি সন্তানের টান এদের মধ্যে কম। এদের চরিত্রে যে উদাসীনতার ভাব বিদ্যমান তা নিম্নশ্রেণীর লোকের — যারা ইউরোপীয়দের নজরে বেশী পড়ে — দাম্পত্য সম্পর্কেও বেশ লক্ষ্য করা যায়।

উচ্চ শ্রেণীর অন্দর মহলকে সাধারণের দৃষ্টিপথ থেকে গোপন রাখা হয়। তবু যেটুকু জানা যায় এবং হিন্দুদের বিবাহ যে সব বিচিত্র নিয়মকানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাতে মনে করবার কোন কারণ নেই যে নিবিড় আকর্ষণ বা সুস্থ উপভোগের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রায়শই মধুর হয়ে ওঠে। পিতামাতা শিশুকালেই সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেন। যখন মন তৈরি হয়ে ওঠেনি, কোনও অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়নি ঠিক তখনই একেবারে মায়েদের মহল থেকে উত্তরণ ঘটে সম্পূর্ণ নিজস্ব জগতে। বিচার-শক্তি গড়ে ওঠার মুখে মিলন ঘটে। তাই নূতন পরিস্থিতিতে তারা নিম্নপর্যায়ের পশুর মত আচরণ করে। পারস্পরিক সম্পর্কে মমত্ববোধ বা পছন্দের কোন স্থান নেই অথবা মমত্ববোধকে সযত্নে লালন করে সংবর্ধিত করার চেষ্টাও বড় একটা দেখা যায় না। যে বিধানবলে তারা প্রথমে মিলিত হয়েছিল তারই কাছে আত্মসমর্পণ করে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়। প্রাচ্যের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনুযায়ী সংসারে স্বামীই প্রভু, স্ত্রী দাসী। স্বামী তার স্ত্রীকে সাথী বা বন্ধু করে নেবার কথা চিন্তাও করে না। হিন্দু সমাজে বহু বিবাহ প্রচলিত। এই প্রথাই সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে চলেছে। হিন্দুদের সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে চলেছে। হিন্দুদের কাছে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ হল পরিবারের মান ও জাতকূল রক্ষা করা এবং তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে পত্নীর সুনামের ওপরে। তাই স্ত্রীকে অত্যন্ত ইকট আত্মীয় ছাড়া অপর সকলের দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়। একটু পদস্খলন ঘটনেই তার ভাগ্যে আছে ভয়ঙ্কর অপমানকর শাস্তি। মেয়েদের যে রকম অল্প বয়সে বিবাহ হয় এবং পরবর্তীকালে যেভাবে সতর্কতার সঙ্গে রাখা হয় তাতে ইউরোপীয়রা মনে করতে পারেন যে, হিন্দু জেনানা মহলে শান্তি ও সুশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। কিন্তু তা কল্পনা মাত্র। পুরুষেরা নিজ পরিবার সম্পর্কে কথাবার্তায় আচার-আচরণে অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তা অবলম্বন করে বিদেশীদের দূরে সরিয়ে রাখে। ইংরাজরাও আত্মসম্মানবোধে তাদের পরিবারিক গণ্ডী ভাঙ্গার চেষ্টা কখনও করেনি। কিন্তু পল্লী অঞ্চলে নেটিভদের মধ্যে যাদের বাস করার সুযোগ ঘটেছে তারাই বুঝতে পারবেন যে এদের নারী চরিত্র যতটা নিষ্কলুষ মনে করা হয় বাস্তবে হয়ত ততটা নয়।

বর্তমান লেখক নেটিভদের মধ্যে দীর্ঘকাল কাটিয়ে নিম্ন শ্রেণীর লোকদের কাছ থেকে নীতিভঙ্গের এত বেশী নালিশ শুনেছেন এবং উচ্ছঙ্খলতার ঘটনা এত প্রত্যক্ষ  করেছেন যে এই সব অনৈতিকতার অন্তত কিছুটাই যে উচ্চ শ্রেণীর মধ্যে নেই এ কথা সে মেনে নিতে রাজী নয়। পত্নীর চরিত্রহানির খবর জানাজানি হলে পরিবারকে যে নিদারুণ লজ্জা ও অসম্মানের সম্মুখীন হতে হয় তাতে এ ধরনের ঘটনা সর্বদাই চাপা দেবার চেষ্টা চলে। তবে এরা গোপনে এর প্রতিশোধ নেবার উপায় খুঁজবে, কিন্তু প্রকাশ্যে একটা ফয়সালা করে নেবে না। ঘটনাটি যদি একেবারে জানাজানি হয়েই যায় তবে অবশ্য    অন্য কথা। পরিবারের বিরুদ্ধে কলঙ্কের অভিযোগ নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুদের মধ্যে অতি সাধারণ ঘটনা। উচ্চ মহলেও যথেষ্ট চালু। শত্রুতা থেকে এ ধরনের অপবাদ রচনা হতে পারে, বেশ রঙ ফলিয়ে প্রচারও হতে পারে। তবে রচনা সর্বক্ষেত্রেই শত্রুতাপ্রসূত এবং মিথ্যা এরকম মনে করবার কোন কারণ নেই। প্রকৃত সত্য এই যে, হিন্দু লেখকদের ও হিন্দু আইনের চক্ষে মেয়েদের স্থান অতি নীচুতে। কোনও নীতিবোধের দ্বারা নয়, নজরবন্দী করে রাখাই মেয়েদের চরিত্র রক্ষা করার একমাত্র উপায় মনে করা হয়। শিক্ষার দ্বারা যে মনের উৎকর্ষ ঘটেনি, বিচারবুদ্ধি জাগ্রত হয়নি সেখানে কি নীতিবোধই বা ধাকতে পারে? আর অকালে অনিচ্ছায় আরোপিত দাম্পত্য সম্পর্ক গঠনেই বা সে কতটুকু সাহায্য করতে পারে? পিতামাতা শিশুকালেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ আচরণ সম্বন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাদের অকালে দাম্পত্য সম্পর্কে প্রতিষ্ঠা করে দেন। পরবর্তীকালে প্রভুসুলভ আধিপত্য বিস্তার করে, ভয় দেখিয়ে, পৃথক করে রেখে মেয়েদের সতীত্ব রক্ষার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুষ্কর্মে সুযোগের অভাব ঘটে না। কাজের সময় পুরুষেরা মেয়ে মহল থেকে দূরে থাকে এবং অনেক সময়ই দীর্ঘকাল ঘরের বাইরে থাকতে হয়। জেনানা মহলে অন্য মেয়েদের অবাধ প্রবেশাধিকার। এই মেয়েরাই কিন্তু মেয়েদের সবচেয়ে বেশী নষ্ট করে থাকে। হিন্দু প্রথা অনুযায়ী ঘরের মেয়েদের সন্নাসীদের সঙ্গে আলাপ করতে বাধা নেই। সন্ন্যাসীদের সঙ্গে আলাপ করতে বাধা নেই। সন্ন্যাসীদের সঙ্গে আলাপ করতে বাধা নেই। সন্ন্যাসীরা ভক্ত, ভবঘুরে এবং অনেকের চেহারা অতি কদর্য। এদের সঙ্গে আলাপ-পরিচয়ের ফল কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

এই ভ্রষ্টচারিতা সমগ্র নারী সমাজেই ব্যাপ্ত একথা বলি না বা বিশ্বাসও করি না। তবে মেয়েদের অনেককেই চিরকাল নিরানন্দময় বন্দীর জীবনযাপন করতে হয়, আর না হয় অকালে ভয়ঙ্কর মৃত্যু বরণ করতে হয়। হিন্দু সমাজে এরাই সবচেয়ে নিরীহ, আর এরাই কষ্ট ভোগ করে সবচেয়ে বেশী।

অপর দিকে পুরুষের ওপর নৈতিক বাধানিষেধ বিশেষ কিছু নেই। জাতিভেদ প্রথা অনুযায়ী বাধানিষেধ অনেক এবং সেগুলি লঙ্ঘনে শাস্তির ব্যবস্থাও আচে। তৎসত্ত্বেও নতুন সম্পর্ক, এমনকি অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনে যথেষ্ট সুযোগ থেকে যায়। পুরুষদের এ ব্যাপারে আপত্তি করার বা চোখ রাখার প্রয়োজন অনুভূত হয় না। প্রত্যেক স্থানেই পতিতাদের নির্দষ্ট পল্লী রয়েছে বিধিসম্মতভাবেই। সমাজেও তাদের একটা স্থান আছে। ধনীদের আনন্দ উৎসবে ঐ পতিতা সমাজের নর্তকীরা হল প্রধান ভিত্তি। তবু ঘরের ছেলেমেয়েদের বা তরুণ-তরুণীদের সে নাচ দেখায় কোন বাধা নেই। এমন কি খাস জেনানা মহলেও সে নাচের আসর বসে। এই সব কারণে যথেষ্ট যৌন সম্পর্কের ঘটনা অতি সাধারণ। তবে এতে কামনার সেই উন্মাদনা নেই যা সব কিছুকে ডুবিয়ে দিতে পারে, বরং আচে বোধহীন পাশব প্রবৃত্তির তাড়না। গোপনীয়তা রক্ষারও বিশেষ বালাই নেই। প্রচলিত আইনের বিধিনিষেধ ছাড়া এর প্রতিরোধে হিন্দুদের নিজস্ব কোন বিধান নেই। সমাজের সর্বস্তরে এর বিরুদ্ধে এমন কোন মনোভাব গড়ে ওঠেনি, যাতে এই অপরাধ ঘৃণ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev