দেবাশিস ভট্টাচার্য
৩০ বছর ধরে একটানা লড়াই করে ২০১১ সালের ২০ মে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। বাংলার মানুষ করোনা আবহে বুঝতে পারছেন কত যোগ্য ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন। পথে ঘটে মানুষ বলছেন ভাগ্যিস মমতা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে আছেন। নতুবা বহু মানুষ খেতে পেতেন না। অনাহারে মারা যেতেন। খাবারের খোঁজ করতে গেলে বহু লোককে পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হতো। রাস্তায় কান ধরে উঠবোস করতে হতো। এমন কিছু ঘটনা মমতার কানে আসতেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। পোস্তা পাইকারি ব্যবসায়ীদের দোকান খোলা না থাকলে পাড়ার দোকানে যে মাল পাওয়া যাবে না, সেটা মুখ্যমন্ত্রী বোঝেন। তাই পুলিশ দোকান বন্ধ করায় তিনি কমিশনারের সামনে জোড়াবাগান থানাকে ভর্ৎসনা করেন। মোদির কার্ফু এবং লকডাউন মিলিয়ে আজ সাতদিন হয়ে গেল। সাতদিনেই ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। বহু রাজ্যের অবস্থা খুব খারাপ। মুখ্যমন্ত্রী বলতে গেলে ২০-২২ ঘণ্টা খেটে এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন।

তিনি দূরদর্শী। প্রথমেই বুঝতে পেরেছেন, মোদির ঘোষণা মতো সকলেই ঘরবন্দি থাকলে অন্য কারণে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। পাড়ায় ডাক্তার পাওয়া যাবে না। গাড়ির অভাবে হাসপাতালে যাওয়া যাবে না। কটা লোক আর বাড়ির সামনে চাকরি করেন। অত্যাবশ্যকীয় কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের আসতে হয় দূর থেকে। সেই সব কর্মীরা আসতে চাইছেন, কিন্তু গাড়ি নেই। মমতা প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন জায়গার মানুষের অসুবিধার খবর পাচ্ছেন। তাই তিনি বলেছেন, ৩১ মার্চ পর্যালোচনা করে দেখবেন কিছু শিথিল করা যায় কি না। মোদির মতো তিনি হটকারী নন। মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু লকডাউন না বলে complete safety restrictions কথাটি ব্যবহার করছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ১) দমদম থেকে গড়িয়া ১ ঘণ্টা অন্তর মেট্রো চালানোর ব্যবস্থা করা ২) সুবারবান ট্রেন ২ ঘণ্টা অন্তর চালানোর ব্যবস্থা করা। এটা না হলে গ্রাম থেকে শহরে সবজি আসবে না। মুদি খানার জিনিস শহর থেকে গ্রামে যাবে না। গরুর দুধ, ছানা শহরে আসবে না।

মমতার নির্দেশে রাজ্য সরকারের গ্রামোন্নয়ন দফতরের অধীনস্থ সিএডিসি-র ২২টি খামার থেকে প্রতিদিন লরি করে বিধাননগরে সবজি ঢুকছে।

খাদ্যসামগ্রী যোগানের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে লকডাউনের ১০-১২ দিনের মাথায় বিরাট সমস্যা হবে। গেঞ্জি কারখানা ২১ দিন বন্ধ থাকা আর মুদিখানা দোকান বন্ধ থাকা এক নয়। মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতাতে সংবাদপত্র শিল্প মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেলো। নোটবন্দির মতোই মোদির লকডাউনের ঘোষণার পর মানুষের মনে যে আতঙ্ক তৈরী হয়েছিল, মমতার জন্যই তা অনেকটা কমেছে।