সমাজে থেকেও তাঁরা ব্রাত্য৷ সমাজের তথাকথিত উঁচু মহলের লোকজন তাঁদের নাম শুনলে ভ্রু কোঁচকান৷ বাঙালির ভাইফোঁটায় তাঁদের পাশে দাঁড়াল ভাইয়েরা৷ প্রতি বছরের মতো এই বছরও বৃহন্নলা বোনের কাছ থেকে ভাইফোঁটা নিলেন রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত। শিলিগুড়ির বাড়িভাষাতে বৃহন্নলা বোন সোনালি দেবী নিজের বাসভবনে ভাইফোঁটার আয়োজন করেন। ভাইকে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টিমুখ করানোর পর সঞ্জয় দত্ত বোনের হাতে উপহার তুলে দেন। পাশাপাশি আরও কিছু ভাইরা এসে বৃহন্নলা এই বোন-সহ আরও কিছু বৃহন্নলা বোনের হাত থেকে ফোঁটা নেওয়ার পর নানা রকম উপহারে ভরিয়ে দেন। সেই সমস্ত উপহার পেয়ে আনন্দে আপ্লুত তারা। ভাইফোটার এই বিশেষ দিনে ভাইদের এত ভালোবাসা পেয়ে তারা মনে করে তারাও সমাজেরই একটা অংশ। সমজ থেকে দূরে নয়। সঞ্জয় দত্ত বলেন, “আজকের দিনে বৃহন্নলা বোনের হাত থেকে ফোঁটা পেয়ে আমি ভীষন খুশি। সমাজের কাছে বার্তা দিতে চাই ওরা সমাজে থেকে দূরে নয় ওরাও যে সমাজের একটা অংশ তা যেন সকলে মনে করে।”

শিলিগুড়িতে ধরা পরলো আরও এক অন্য ছবি। ভাইফোঁটার দিন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বোনেদের থেকে ভাইফোঁটা নিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজনকে এদিন ভাইফোঁটা দেন এই বোনেরা। ভাইফোঁটা উপলক্ষে শিলিগুড়ি রামকিঙ্কর হলে অনুভব ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়। এদিনের ভাইফোঁটায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা। এদিন সোসাইটির ৪ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বোন কমিশনারকে ভাইফোঁটা দিয়ে ওনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। শুধু তাই নয় এদিনের এই অনুষ্ঠানে এই বোনেরা তাদের মতই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন আরও ৮ জন ভাইদেরও ভাইফোঁটা দেন। আয়োজক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে করোনার কারণে এবছর খুব সামান্য আয়োজনেই এই ভাইফোঁটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখেই যেহুতু এই ১২ জনের করোনার ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ সম্পন্ন হয়েছিল তাই তাদের নিয়ে ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়। এদিন অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা বোনেদের থেকে ভাইফোঁটা নিয়ে তাদের পাশে থেকে সব সময় যেকোনো সহযোগিতায় দাদার দায়িত্ব পালন করার আশ্বাস দেন।

অভিনব ভাই ফোঁটার সাক্ষী থাকলো আলিপুরদুয়ার জেলার জটেশ্বর, ফোঁটা নিলেন কৃষক, টোটো চালক, ভ্যান চালক, গাড়ি চালকেরা। একেবারে অন্যভাবে শনিবার ভাইফোঁটা উৎসব পালন করলেন জটেশ্বরের বেশ কয়েক জন যুবক-যুবতী।

এদিন ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বরের বিভিন্ন এলাকার কৃষক, টোটো চালক, ভ্যান চালক, গাড়ি চালক থেকে শুরু করে জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশদেরকে ফোঁটা দিয়ে মঙ্গল কামনা করলেন এলাকার নানা বয়সের শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা। আর এলাকার বোনেদের কাছ থেকে টিকা নিয়ে যার পর নাই খুশী সমাজের বিভিন্ন স্তরের এই ভাইয়েরা। সব মিলিয়ে এক অভিনব ভাই ফোঁটাকে কেন্দ্র করে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠলেন জটেশ্বরবাসী।
ছবি ও সহায়তা : সজল দাশগুপ্ত