হিন্দুদের একটি ঘরোয়া উৎসব হল ভাইফোঁটা। এর পোষাকি নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ কিংবা দ্বিতীয়া তিথিতে কালীপুজোর ঠিক দুদিন পরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কোনও কোনও বছর শুক্লপক্ষের প্রথম দিনেও ভ্রাতৃদ্বিতীয়া উদযাপিত হয়ে থাকে। পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামেও পরিচিত। দীপাবলি উৎসবের শেষদিন ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে বলে ভাইবিজ। নেপালে ও দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে বিজয়াদশমীর পর এই উৎসব হয় যা পরিচিত ভাইটিকা নামে।
ভাইফোঁটা হল একটি ঘরোয়া উৎসব। এইদিন বোনেরা ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।/যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা॥/যমুনার হাতে ফোঁটা খেয়ে যম হল অমর।/আমার হাতে ফোঁটা খেয়ে আমার ভাই হোক অমর॥ এই ছড়াটি বলে ও ভাইদের দীর্ঘজীবন কামনা করে। ঘরে শঙ্খ বা উলুধ্বনি দেওয়া হয়। বোনেদের পছন্দমতো উপহার দেয় ভাইরা। আর নানা রকম মিষ্টি ও বিভিন্ন পদের রান্নাবান্না তো আছেই।

ভ্রাতৃদ্বিতীয়া উপলক্ষ্যে এদিন নিষিদ্ধ পল্লীতে ভাই ফোঁটা নিলেন বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী। ওই অঞ্চলের বোনেদের হাত থেকে ফোঁটা নিয়ে উপহারও তুলে দেন বিজেপি নেতা। পেশাগতভাবে পৌরহিত্য করেন গণেশবাবু। পৌরহিত্য করে সারাবছর তিনি বহু শারি পান। সেই সব সারিই তিনিই এইবোনেদের হাতে তুলেদেন। এদিন সকালেই তারকেশ্বরের একটি নিষিদ্ধ পল্লীতে কাপড় মিষ্টি নিয়ে হাজির হন বিজেপি নেতা। একে একে বোনেদের হাত থেকে ফোঁটা নিয়ে তাদের আশীর্বাদ করেন এবং বোনেদের হাতে উপহার তুলে দেন। তাঁর কথায় এদের কাছে তো পুরুষেরা আসে অন্যভাবে, কেউ ফোঁটা নিতে আসে না। আমার সহ্গে এদের সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো। আমি এসেছি এই বোনেদের হাতে ফোঁটা নিতে।
বছরের অন্য দিনগুলিতে এই এলাকার যৌনকর্মীরা রুজি-রোজগারের তাগিদেই নিজেদের দেহ বিক্রি করেন। এদিন তাঁরা সামান্য সময়ের জন্য হলেও হাতের কাছে বড় ভাই হিসেবে গণেশ বাবুকে কাছে পেয়ে আবেগে ভাসলেন। প্রসঙ্গত, এবার করোনা সংক্রমনের জেরে যৌনকর্মীদের কেটেছে সংকটজনক অবস্থায়। তার মধ্যেও একটুকরো খুশির আকাশ সকলের কাছে।