সোমবার ভাবাদিঘি নিয়ে হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দিল দেশের সবোর্চ্চ আদালত। ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রেখে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, এর আগে হাইকোর্টে ‘দিঘি বাঁচিয়ে রেল চাই’ বলে আবেদন করেন ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীরা। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায় ‘আড়াই লক্ষের চেয়ে আড়াইশোর স্বার্থ বড় নয়’। হাইকোর্টের ফের মন্তব্য ছিল এবং নির্দেশ, ‘এখন তো বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়েও রেল চলে! যেখানে ক্ষতিপূরণ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেই অঞ্চলের কাজ ছয় সপ্তাহের মধ্যে চালু করতে হবে রেলকে।’
উল্লেখ্য, ফের প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে, পুরোনো ভাবাদিঘি বিতর্ক। তবে এ বার একটা আশার রেখাও দেখা দিয়েছে। দেশের সবোর্চ্চ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশকেই বহাল রাখলেন। দিঘি বাঁচিয়েও রেল প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে পারে এমনই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ আট বছর ‘ভাবাদিঘি বাঁচাও’ জমি আন্দোলনে থমকে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্প। বিভিন্ন স্তরে শাসক এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। এখনও সেই তরজা থেমে নেই। আন্দোলনকারীরাও অনড়। তাঁরাও জানিয়েছেন, আগে যা বলেছে কমিটি, এখনও তা-ই বলা হচ্ছে। রেল হোক, কিন্তু দিঘি বাঁচিয়ে। তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের গোঘাট ও কামারপুকুরের মধ্যবর্তী ভাবাদিঘি জটে থমকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার রেলের কাজ।

প্রসঙ্গত, যেখানে ক্ষতিপূরণ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেই অঞ্চলের কাজ ছয় সপ্তাহের মধ্যে শুরু করতে হবে রেলকে। ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীরা কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেও তাঁদের দাবি থেকে এখনও সরে আসেননি। যদিও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পরে ও সুপ্রিমকোর্টের এদিন রায়ের পরে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল লাইন নিয়ে আশার আলো দেখছেন দক্ষিণ বঙ্গের বৃহৎ অংশের মানুষজন। এই রেললাইন সম্পূর্ণ ভাবে চালু হলে পশ্চিমাঞ্চলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার সঙ্গে হাওড়ার যোগাযোগে আরও কম সময় লাগবে। হাওড়া থেকে তারকেশ্বর হয়ে হাওড়ার যোগাযোগে আরও কম সময় লাগবে। তাছাড়া হাওড়া থেকে তারকেশ্বর হয়ে আরামবাগের উপর দিয়ে বিষ্ণুপুর অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন। কয়েক লক্ষ মানুষের এই স্বপ্নের প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে, এই এলাকার আর্থসামাজিক পরিস্থিতিরও আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশাবাদী তরুণরা। তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই জোর কদমে চলছে। তারকেশ্বর-আরামবাগ থেকে গোঘাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়ে রেল চলছে। অন্য দিকে, কামারপুকুর স্টেশনও তৈরি হয়ে পড়ে আছে। গোঘাট রেলস্টেশন ভাবাদিঘির পূর্বপাড় পর্যন্ত রেলের স্লিপারও পড়েছে। অন্যদিকে, ভাবাদিঘির পশ্চিম প্রান্ত থেকে কামারপুকুর স্টেশন পর্যন্ত স্লিপার বিছিয়ে রেললাইন সম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। কামারপুকুর স্টেশনও আগেই সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে জোরকদমে রেললাইনের ও স্টেশনের কাজ চলছে। কামারপুকুর রেলস্টেশন থেকে জয়রামবাটি রেলস্টেশনের মাঝে অমরপুর এলাকায় দ্রুত গতিতে মাটি ফেলার কাজ চলছে।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় বিষয়ে ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, ‘আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। এ বার দেখতে হবে কী আছে সেই রায়ে। আমরা তো চাই, রেলের কাজ হোক। কিন্তু সেটা হোক, ভাবাদিঘি বাঁচিয়ে। এটাই আমাদের বরাবরের দাবি।’