১৪ মে ২০২৩ (রবিবার) উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদে ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় মজবুত লড়াই চাই’ বিষয়ক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এদিনের সভার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকার বিশেষ পাখি সংখ্যার প্রকাশ। ‘বিজ্ঞান দরবার’ (কাঁচরাপাড়া) এবং ‘গোবরডাঙা জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা সমিতি’-র আয়োজনে এই সভা বসেছিল। আহ্বায়ক ছিলেন জয়দেব দে ও দীপককুমার দাঁ। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং তারপর সারাদিনব্যাপী গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদের রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কক্ষে পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা চলে। গোবরডাঙা গবেষণা পরিষৎ হল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও পরিবেশের বই, পত্র-পত্রিকার সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র সংবাদপত্র, লিটল ম্যাগাজিন ও সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থাদির সংগ্রহও রয়েছে। সেখানেই এই সভা বসেছিল। একাধিক বিশিষ্টজন এবং বহু পরিবেশকর্মী ও বিজ্ঞানকর্মী এদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদে এসেছিলেন। এদিনের সভার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় যৌথ সহযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ, আলোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন। পাশাপাশি একাধিক পত্রপত্রিকা গ্রন্থাদি এদিন প্রকাশ পায়। ‘বাংলাভাষায় পাখিচর্চা’ (একটি সংকলন প্রয়াস) গ্রন্থটিও এদিন প্রকাশিত হয়। যার লেখক ডা. কণাদ বৈদ্য ও দীপককুমার দাঁ। গ্রন্থটি প্রকাশ করেন জ্যোতিরিন্দ্রনারায়ণ লাহিড়ী। দীপককুমার দাঁ রচিত ‘মিষ্টি জলের সঙ্কট ও প্রতিকার’ গ্রন্থটিও এদিন প্রকাশ পায়। এই গ্রন্থটির আবরণ উন্মোচন করেন স্বদেশ মিশ্র ও অনুপম পাল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দীপককুমার দাঁ। এদিন সভা প্রাঙ্গণে পরিবেশ বিষয়ক বই ও পত্র-পত্রিকার প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থাও ছিল।

বর্তমানে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ে একটি অন্যতম পত্রিকা হল ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’। এই পত্রিকা বিগত কুড়ি বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে। দুই মাস অন্তর এর একটি করে সংখ্যা প্রকাশ পায়। কখনো কখনো বিশেষ সংখ্যা নিয়েও তাদের হাজির হতে দেখা গেছে। সাম্প্রতিককালে যেমন ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর পক্ষ থেকে বিশেষ সংখ্যা হিসেবে হিমালয় ও মানুষ সংখ্যা (বর্ষ ১৮ সংখ্যা ৬, নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২১); গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সংখ্যা (বর্ষ ১৯ সংখ্যা ৪, জুলাই-আগস্ট ২০২২); নোবেল সংখ্যা (বর্ষ ২০ সংখ্যা ১, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০২৩); ক্যানসার সংখ্যা (বর্ষ ২০ সংখ্যা ২, মার্চ-এপ্রিল ২০২৩) প্রকাশ করা হয়েছে। এদিনও অর্থাৎ ১৪ মে ২০২৩ ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা পাখি (বর্ষ ২০ সংখ্যা ৩, মে-জুন ২০২৩) প্রকাশ পেল। যাদের হাত দিয়ে এই পাখি সংখ্যাটি প্রকাশ পেল, তারা হলেন জৈব চাষের অন্যতম কর্ণধার ব্যক্তিত্ব অনুপম পাল, বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ স্বদেশ মিশ্র, ‘এবং কী কে ও কেন’ পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশ দাস বিশ্বাস, ‘শুধু সুন্দরবনচর্চা’ পত্রিকার সম্পাদক জ্যোতিরিন্দ্রনারায়ণ লাহিড়ী, ‘জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক দীপাঞ্জন দে এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞান প্রচারক দীপককুমার দাঁ। ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকার সম্পাদক প্রবীর বসু এবং প্রকাশক জয়দেব দে উপস্থিত ছিলেন।

গণবিজ্ঞান ভাবনার পত্রিকা ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর প্রকাশক বিশিষ্ট বিজ্ঞানকর্মী জয়দেব দে। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া থেকে এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পত্রিকার উপদেষ্টামণ্ডলী এবং সম্পাদকমণ্ডলীতে বহু গুণী মানুষ রয়েছেন। বর্তমানে পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে রয়েছেন জয়দেব দে, বিজয় সরকার, শিবপ্রসাদ সরদার, চন্দন সুরভী দাস, দীপাঞ্জন দে, অমিতাভ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য দে, রতন দেবনাথ, পান্না মানি, অনুপ হালদার, সুবিনয় পাল, তুষার কান্তি নাথ, শতাব্দী দাশ, সোমা বসু, অর্চন সমাজদার এবং উজ্জ্বল কান্তি রায়। আর বর্তমানে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকার উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন সমর বাগচী, শঙ্করকুমার নাথ, দীপককুমার দাঁ, সিদ্ধার্থ জোয়ারদার, বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়, গোপালকৃষ্ণ গাঙ্গুলী, প্রকাশ দাস বিশ্বাস, রাজা রাউত, তপন দাস, মানসপ্রতীম দাস, সুমিত্রা চৌধুরী, জয়শ্রী দত্ত, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এবং তপন সাহা। পত্রিকার নির্দিষ্ট একটি ওয়েবসাইট রয়েছে— www.ssu2011.com/bigyan-anneswak. এই পত্রিকার ইমেইল আইডি bigyanannesak1993@gmail.com. পত্রিকার অক্ষরবিন্যাসে রেজ ডট কম (৪৪/১এ বেনিয়াটোলা লেন, কলকাতা ০৯)। বর্তমানে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বিজ্ঞান পত্রিকাগুলির মধ্যে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ একটি বিশেষ নাম।

‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকার একটি বিশেষ আকর্ষণ হল তার প্রচ্ছদ। সমগ্র পত্রিকাটি সাদা কালো হলেও এর চারটি প্রচ্ছদ হয় রঙিন। আর সেখানে প্রকৃতি, পরিবেশ, বিজ্ঞানের সুন্দর সুন্দর কিছু ছবি থাকে। যে সকল পাঠক বিজ্ঞান অন্বেষক পত্রিকা দেখেছেন, তারা নিশ্চয় আমার সঙ্গে সহমত হবেন। প্রথম প্রচ্ছদে থাকে নির্দিষ্ট সেই সংখ্যার প্রধান বিষয়ভিত্তিক ছবি। দ্বিতীয় প্রচ্ছদে পত্রিকার সচিত্র সূচিপত্র দেওয়া হয়। ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর পাখি সংখ্যায় সচিত্র সূচিপত্রে এই বিষয়গুলি দেখা যায়— বাংলার পাখী- শ্রীজগদানন্দ রায় (পুনর্মুদ্রণ), পাখি প্রেমী সেলিম আলি, ভারতে পাখি চর্চা, পাখির বাসা, স্বাধীন ভারতে পাখি আবিষ্কার, পাখির আইনি রক্ষাকবচ, ভারতের পাখি অভয়ারণ্য, পাখির ডাক, বীক্ষণ-অবেক্ষণ-পর্যবেক্ষণ, চঞ্চু, পাখির ডিম, কবিতা- নীড়হারা পাখিদের গান ও বিশল্যকরণী, পালকের রঙ রহস্য, পাখি মৃত্যুর জাটিঙ্গা রহস্য, পরিযায়ী পাখি এবং বিজ্ঞানের খবর। আর তৃতীয় ও চতুর্থ প্রচ্ছদে ‘যারা হারিয়ে যাচ্ছে’ শিরোনামে বিজ্ঞানকর্মী রাজা রাউত ধারাবাহিকভাবে বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, পক্ষী আর অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের কথা তুলে ধরেন। সদ্য প্রকাশিত ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর পাখি সংখ্যায় যেমন ‘যারা হারিয়ে গেছে’ শিরোনামে আটটি পাখির সচিত্র বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলি হল— মরিশাস সেল্ডহাঁস (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Alopochen mauritiana), দৈত্যাকার হস্তীপাখি (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Aepyornis maximus), জাভার হাটিটি (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Vanellus macropterus), মোয়া (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Megalapteryx didinus), ডোডো (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Raphus cucullatus), হিমালয়ের কোয়েল (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Ophrysia supercillosa), গোলাপী মাথা হাঁস বা ভূতিহাঁস (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Rhodonessa caryophyllacea) এবং পরিব্রাজক পায়রা (বিজ্ঞানসম্মত নাম : Ectopistes migratorius)।

পাখি সংখ্যাটির প্রকাশ উপলক্ষ করে এই প্রতিবেদন রচিত হল। সেক্ষেত্রে এই বিজ্ঞান পত্রিকার সঙ্গে পাখির সম্পর্ক একটু দেখে নেওয়া যেতেই পারে। ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর পূর্ববর্তী সংখ্যাগুলিতে পাখি বিষয়ে একাধিক লেখা প্রকাশ পেয়েছে। সেগুলিকে তালিকাবদ্ধ করলে এমন দাঁড়াবে— পাখিদের কথা (বসন্তবৌরি), পাখিদের কথা (তালচোঁচ), পাখিদের কথা (ডাহুক), পাখিদের কথা (কুকো), পাখিদের কথা (নীলকণ্ঠ), পাখিদের কথা (বাঁশপাতি), পাখিদের কথা (কাঠঠোকরা), পাখিদের কথা (প্যাঁচা), পাখিদের কথা (টুনটুনি), পাখিদের কথা (মোহনচূড়া), পাখিদের কথা (শকুন), পাখিদের কথা (পাপিয়া), পাখিদের কথা (ফটিকজল), পাখিদের কথা (বসন্ত বৌরি), পাখিদের কথা : তালচোঁচ, পাখিদের কথা : ডাহুক, পাখিদের কথা : কুকো, পাখিদের কথা : নীলকন্ঠ, পাখিদের কথা : বাঁশপাতি, পাখিদের কথা : কাঠঠোকরা, পাখিদের কথা : মোহন চূড়া, পাখিদের কথা : শকুন, পাখিদের কথা : পাপিয়া, পাখিদের কথা : ফটিক জল, পাখিদের কথা ও ময়না, ভারতীয় উপমহাদেশের পাখি, ভারতীয় উপমহাদেশের পাখি (মাছরাঙা), ভারতীয় উপমহাদেশের পাখি (বাঁশপাতি), ভারতীয় উপমহাদেশের পাখি (বসন্তবৌরি), যাত্রী পায়রা, শকুন প্রজনন কেন্দ্র, পাখিদের কথা (ময়না), সারস, স্বাধীনোত্তর ভারতে আবিষ্কৃত পাখি, পশ্চিমবঙ্গে পাখির খোঁজে, সুন্দরবনের বসতি এলাকার পাখি, পাখিদের কথা : মুনিয়া, হলদে লাল রাস সাঙরা, লং-টেইলড ব্রডলি, আমাদের মেরে ফেলা একদম সহজ, চড়াই কেন ডাকে না, ব্ল্যাক বাজা, পাখিরালয়, চাষিদের বন্ধু কোকিল, ভালোবাসার জন্য, পাখিদের শরীরচর্চা, উড়ানের শুরুর দিকে, প্রচ্ছদ কথা : শামুক খোলের হাই তোলা, যারা হারিয়ে যাচ্ছে : জহর পাখি, প্রচ্ছদ কথা : পাখি কেন পাথর খায়?, প্রচ্ছদ কথা : পাখি সব করে রব, স্মৃতিকথার বিল বাঁওর, প্রচ্ছদ কথা : বেনে বউ-এর শুঁয়োপোকা শিকার, জানো কি? কাঠঠোকরার মাথা ব্যথা হয় না কেন?, যারা হারিয়ে যাচ্ছে পাখি : বুনো পেঁচা, যারা হারিয়ে যাচ্ছে পাখি : সাদা পেট নীলদোয়েল, হিমালয়ের বিপন্ন বন্য প্রাণীরা (পাখি), পক্ষী : বিয়ার রাঙা মুড়ি হাঁস, পক্ষী : হিমালয়ের শকুন, যারা হারিয়ে যাচ্ছে পক্ষী : হাড় গিলা, বাবুই ও হকমথ লার্ভা, বিপন্ন শকুন – অপরাধী ডাইক্লোফিন্যাক, পক্ষী : বুগন ফুট্কি, পক্ষী : চামচঠোঁট কাদাখোঁচা, যারা হারিয়ে যাচ্ছে পক্ষী : হিমালয়ের কোয়েল, যে নামডাফা দেখেছি সেইবার —এই লেখাগুলির কথা বলতেই হয়।

পত্রিকার পক্ষ থেকে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়— সর্বস্তরে বিজ্ঞানচেতনার প্রচার ও প্রসার অর্থাৎ বিজ্ঞানকে সমাজমুখী আর সমাজকে বিজ্ঞানমুখী করার প্রয়াস৷১৯৮০-র দশকের শুরু থেকে তাদের বিজ্ঞান প্রসারের চিন্তাভাবনা ও কর্মকাণ্ডের সূচনা। ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ রাজ্যের সেরা বিজ্ঞান সংগঠন হিসেবে বিজ্ঞান দরবারকে মেঘনাদ সাহা পুরস্কার প্রদান করে। উল্লেখ্য, বিগত কুড়ি বছরের কাজের নিরিখে বিজ্ঞান দরবার এই পুরস্কার অর্জন করে নিয়েছিল। তখন বিজ্ঞান দরবারের সম্পাদক ছিলেন জয়দেব দে (১৯৮৬-২০০৫)। পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্ত কুড়ি হাজার টাকা অর্থমূল্য বিজ্ঞান প্রসারের কাজে লাগানো হয়েছিল। ‘বিজ্ঞানের মজা’ পুস্তিকা (৩৬ পৃষ্ঠা) বারো হাজার নিউজপ্রিন্টে এবং পাঁচ হাজার হোয়াইট প্রিন্টে ছাপা হয়েছিল। বইটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানা গেছে সেটি আবার নতুন করে ছাপানোর ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হাতে কলমে বিজ্ঞান শিক্ষাদান, বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, বিজ্ঞান পত্রিকা ও বিজ্ঞানের বই প্রকাশ, আলোচনা সভা ও কর্মশালা-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়। তাদের শ্লোগান— সর্বস্তরে বিজ্ঞানমনস্কতার প্রচার ও প্রসার চাই। আর এই কাজে সকলের সহযোগিতা চাই। বর্তমানে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর সংখ্যাগুলি হয় দুই ফর্মার। সেই ৩২ পাতার মধ্যেই বিজ্ঞানের বহুবিধ বিষয়কে সচিত্র তুলে ধরা, সেগুলি সম্পর্কে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ, মতামত আহ্বান প্রভৃতির প্রচেষ্টা করা হয়। এখানে আরেকটি কথাও বলা প্রয়োজন— একটি ভালো পত্রিকা প্রকাশ করে দিয়েই কিন্তু পত্রিকা গোষ্ঠীর দায়িত্ব শেষ হয় না। পত্রিকাটি পাঠকদের কাছেও সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন। ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর টিম বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে এই কর্মটি সম্পাদন করে। আর সামান্য বিনিময় মূল্যে পাঠকেরা বিজ্ঞান অন্বেষকের গ্রাহক হতে পারেন।
‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকার শুরুর দিকের কথা একটু জেনে নেওয়া যাক। দেওয়াল পত্রিকা হিসেবে প্রথম এর পথচলা শুরু। ১৯৮০ সাল— উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়ার বিজ্ঞান সংগঠন ‘বিজ্ঞান দরবার’-এর তরুণ বিজ্ঞানকর্মীদের উৎসাহে কাঁচরাপাড়া রেলস্টেশনে সুন্দর হাতের লেখায় দেওয়াল পত্রিকা হিসেবে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। দুই-তিন বছর সেই দেওয়াল পত্রিকা চলেছিলে। সে সময় দেওয়াল পত্রিকার খুব চলছিল। ইত্যবসরে ১৯৮১ সাল থেকে ‘অন্বেষক’ নাম নিয়ে বিজ্ঞান দরবারের উদ্যোগে তাদের সংগঠনের বার্ষিক রিপোর্ট হিসেবে এই পত্রিকা প্রকাশ পেতে থাকে। যা চার পাঁচ বছর চলেছিল। তারপর ১৯৮৬ সাল থেকে বিজ্ঞান দরবার একাধিক বুকলেট প্রকাশ শুরু করে। বিজ্ঞান দরবারের শেষ বুকলেটটি ২০১৮ সালে প্রকাশ পেয়েছে। যাইহোক, ২০০৩ সাল থেকে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ নাম নিয়ে পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর সেই থেকে এই পত্রিকা নিরলসভাবে চলছে। ২০২৩ সালে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকা ২০ বর্ষে পদার্পণ করল।

২০০৩ সালে পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন শিবপ্রসাদ সরদার। ২০১৭ সালে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’-এর সম্পাদক হন তাপস মজুমদার। আর ২০২৩ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সংখ্যা থেকে এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রবীর বসু। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ৮ পৃষ্ঠার (নিউজ প্রিন্ট) এই কাগজের মূল্য ছিল এক টাকা। ২০১১ সাল পর্যন্ত সেভাবেই পত্রিকাটি চলে। তারপর ২০১২ সাল এই পত্রিকা ১২ পৃষ্ঠার হয় (হোয়াইট নিউজ প্রিন্ট) এবং দাম হয় দুই টাকা, যেটা ২০১৬ সাল পর্যন্ত চলে। ২০১৭ সাল থেকে পত্রিকা ১৬ পৃষ্ঠার হয়, আর এর মূল্য হয় পাঁচ টাকা। পত্রিকার প্রচ্ছদে ছবির ব্যবহার শুরু তখন থেকেই। ২০২০ সালে আবার পরিবর্তন— ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকা ৩২ পৃষ্ঠার করা হয় এবং মূল্য নির্ধারিত হয় পনেরো টাকা। ২০২২ সালের মার্চ-এপ্রিল সংখ্যা থেকে এর দাম হয় কুড়ি টাকা, যা এখনো চলছে। ২০২০ সালে এই পত্রিকা ISSN নম্বরও (২৫৮২-৫৬৭৪) লাভ করে। সার্বিক দিক থেকে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকা সম্পর্কে একথা বলা যায় যে, জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও জনবিজ্ঞান আন্দোলন— এই দুই ক্ষেত্রেই সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে এই পত্রিকা এগিয়ে চলেছে। আশা করি আগামীতেও ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকা একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করবে।
লেখক: আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক, নদিয়া।
অসাধারণ কাজ হচ্ছে। অবশ্যই এই সংখ্যার পত্রিকা টি সংগ্রহ করবো।
সংগ্রহযোগ্য একটি পত্রিকা। অসংখ্য ধন্যবাদ।
অবশ্যই সংগ্রহ করবো।
লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগল।
খুব ভালো উদ্যোগ, অবশ্যই এই সংখ্যার পত্রিকা টি সংগ্রহ করবো।
ধন্যবাদ।
লেখাটা পড়ে ভালো লাগল। খুব খুব সুন্দর লেখা এবং পত্রিকাটিও সংগ্রহযোগ্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমাদের মতো পাঠকই প্রয়োজন। ক্ষুদ্র পত্রপত্রিকা সংগ্রহ এবং পাঠ প্রয়োজন।
খুব ভালো লাগলো স্যার ।।। লেখাটা সত্যিই অসাধারণ।।
তোমরা পড় বলেই লেখার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ তোমায়।
Worth reading.
কণিষ্ক চৌধুরী স্যর, আপনার মতো বাগ্মীর মন্তব্য আমায় প্রাণিত করল।
১৯৮০ সাল থেকে এই পত্রিকার পথচলা শুরু হয়। ২০০৫ সালে রাজ্য সরকারের সেরা বিজ্ঞান সংগঠন হিসেবে ‘বিজ্ঞান অন্বেষক’ পত্রিকা মেঘনাদ সাহা পুরস্কার পায়৷
উপরের এই তথ্যটি ভুল আছে। এর সংশোধন প্রয়োজন। ধন্যবাদ।
সংশোধনটি একটু লিখে জানান।
লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো স্যার। ‘“বিজ্ঞান অন্বেষক’” পত্রিকা টির সম্পর্কেও অনেক কিছু কথা জানতে পারলাম।
অনেক ধন্যবাদ পড়ে দেখার জন্য।
লেখাটা পড়ে এই পত্রিকা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ স্যার।
লেখাটি মন দিয়ে পড়েছ বলে তোমাকেও ধন্যবাদ জানাই তন্ময়।
Here is a copy of the last May-June 2023 issue.
https://ssu2011.com/wp-content/uploads/Bigyan-Annweshak-May-Jun-2023-wth-covers.pdf
You may take a peek to see whether it is worth subscribing in print form on a regular basis.
পুরানো সংখ্যাগুলি পাবার জন্য এবং উল্লিখিত অন্যান্য যে সব পত্রিকা এখন থেকে প্রকাশিত হয়, সেই সব পত্রিকাগুলিও পাবার জন্য কি করতে হবে, দয়া করে জানাবেন।
9734067466
7001337714
এই নম্বরে ফোন করলেই পেয়ে যাবেন।