কল্যাণ সেনগুপ্ত
স্বাধীনতার পর আমাদের দেশ এতবড় বিপদের সম্মুখীন আগে কখনও হয় নি। অতীতে বিজেপি নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার পাঁচ বছরের কিছু বেশিই শাসন ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু সেসময় বিরোধীপক্ষের কারোরই মনে হয়নি যে দেশের সংবিধানসম্মত ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে খতম করে ভারতবর্ষকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করার সম্ভাবনা দেখা দেবে। আসলে বিজেপি নেতা অটলবিহারীর সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কোন তুলনাই হয় না। মোদীর নেতৃত্বে দেশে এখন চলছে ধর্মান্ধ রাজনীতি। মুসলিম হত্যা, দলিতদের উপর অত্যাচার, দাঙ্গা ইত্যাদি সবই এখন অতি তুচ্ছ ঘটনা। এসব যে আগে কখনো ঘটেনি, এমনটা নয়। কিন্তু তফাৎ হচ্ছে এখন এসব ঘটছে শাসকদলের মদতে, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রদর্শনের উৎকট নমুনারূপে ভয় দেখাতে, ভয় পাওয়াতে। গোটা দেশে চালানো হচ্ছে হিন্দুত্বের জিগির। বলা হচ্ছে, ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছে। মুসলিমদের দাবি মতো পাকিস্তান গঠিত হয়েছে। তাই মুসলিমদের পাকিস্থান চলে যাওয়া উচিত আর নইলে মুখ বুজে চুপ করে থাকা উচিৎ। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই NRC চালু করার তোড়জোড় চলেছে এবং চেস্টা চলছে ধীরে ধীরে মুসলিমদের ভোটাধিকার কেড়ে নেবার।
এহেন পরিস্থিতিতে আর কয়েক মাস পরেই হতে চলেছে বিহারের ভোট। বিগত নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার আরজেডি সহ অন্য দলগুলোর সাথে জোট করে লড়েছিলেন কিন্তু এখন তিনি শিবির বদলে বিজেপির বন্ধু হয়েছেন। এভাবেই নীতিশ কুমার তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে কলঙ্কিত করলেন বিজেপির সমস্ত অপরাধের সঙ্গী হয়ে। কিছুদিন আগেই বিহারের লাগোয়া ও অঙ্গচ্ছেদে সৃষ্ট ঝাড়খন্ড রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। সুতরাং আসন্ন নির্বাচনে বিহারের মানুষ কি রায় দেয় জানতে গোটা দেশের মানুষ উৎসুক হয়ে আছে। তার পরেই আগামী মে মাসে এই বাংলার ভোট এবং বঙ্গবিজয়ের জন্য বিজেপি তো সব কিছুই বাজী ধরে বসে আছে।
অতএব খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিহারের নির্বাচনে বিজেপি তথা এনডিএ বিরোধী সমস্ত শক্তিকে একই মঞ্চে এনে লড়াইকে সংগঠিত করতে পারলে শাসক জোটকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বিহারের দুই জনপ্রিয় যুবনেতা তেজস্বী যাদব ও কানাইয়া কুমারের মধ্যে নেই বিশেষ সদ্ভাব। এবিষয়ে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস দূর করতে না পারলে নির্বাচনে ভাল ফল অধরাই থেকে যাবে। মনে রাখতে হবে, ফল ভাল হলে তেজস্বীই তার অধিক সুফল ভোগ করবে। অতএব তেজস্বীকেই অধিক আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, উদারতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে সব বোঝাপড়া। গোটা দেশের ছাত্র যুবকরা কানাইয়া কুমারকে চায় জাতীয় রাজনীতিতে, সংসদে। সুতরাং এবিষয়ে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝাঁ, মমতা বন্দোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী প্রমূখ প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে সুষ্ঠ সমাধান করতে পারলে বিহার নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বাংলা সহ জাতীয় রাজনীতিতেও। বিজেপির সর্বনাশা কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে একজোট হয়েই লড়তে হবে, এককভাবে এই কঠিন লড়াই জেতা সম্ভবই নয়। ফলে জোটবদ্ধ হয়ে লড়ে এনডিএ কে পরাস্ত করার সুযোগ বিহারবাসীকে দেওয়াই এখন প্রধান কর্তব্য।