সাঁওতাল পরিবার তৈরি করছে দুর্গা প্রতিমা। গত দশ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছেন তারা। কিন্তু হাতে নাতে প্রশিক্ষণ নেই কারোরই। পরিবারের তিন মহিলা সদস্যদের নিয়ে মোট আট সদস্য তৈরি করছেন দুর্গা প্রতিমা। হুগলির তারকেশ্বরের মির্জাপুর গ্রামে ১৭টি সাঁওতাল পরিবারের বসবাস। তাদের মধ্যে একটি পরিবার প্রতিমা তৈরির সাথে যুক্ত।

না না করে এবারে বারোটি পূজা মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন তারা প্রতিমার দাম সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে পরিবারের আট সদস্যের মধ্যে কেউ কোথাও প্রতিমা তৈরি করার কাজ শেখেনি বলে দাবি তাদের।
বছর বারো আগে খেলার ছলে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন পরিবারের মেজ ছেলে বিজয় হেমব্রম। আস্তে আস্তে লক্ষী, কালি-সহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরি শুরু করেন। এর পর এলাকায় সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির আট সদস্যই বিভিন্ন সময়ে প্রতিমা তৈরি কাজ শুরু করে দেন। খেলার ছলে করতে থাকা প্রতিমা তৈরি করা এখন পেশায় পরিণত হয়েছে ওই সাঁওতাল পরিবারটির।

সারা বছরের সংসার খরচের আয় এখন প্রতিমা তৈরি করেই উপার্জন করেন ওই সাঁওতাল পরিবার। গত দু-বছর পর পর তারকেশ্বর ব্লকে প্রশাসনের তরফ থেকে সেরা প্রতিমা তৈরির তকমা পেয়েছেন ওই সাঁওতাল পরিবার। রাজ্যের কোথাও সাঁওতাল পরিবার প্রতিমা তৈরির কাজে নিযুক্ত এরকম নিদর্শন পাওয়া দুষ্কর।

তাদের তৈরি প্রতিমা শুধু তারকেশ্বর নয় হুগলী জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের কাছে অর্ডার আসতে থাকে এমনকি বর্ধমান জেলা থেকে দুর্গা প্রতিমা তৈরির অর্ডার আসে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১২টা প্রতিমার বেশি অর্ডার নেননি তারা।