ধাপার মাঠের বর্জ্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নেওয়ার কথা অনেকদিন আগের। বিশেষ বায়ো মাইনিং ইউনিট সফল হলে আগামীদিন রাজ্য সরকারের তরফে ধাপা সংলগ্ন এলাকায় একটি কারখানাও হতে পারে বলেও শোনা গিয়েছিল। যার মাধ্যমে স্তূপাকৃতি বর্জ্য থেকে সহজেই জৈব ও অজৈব পদার্থগুলিকে আলাদা করে সম্ভব হবে। পরবর্তীতে ওই জৈব বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির মাধ্যমে তা কৃষি কাজের কাজে লাগানো যাবে বলেও জানা গিয়েছিল। একইসাথে ধাপার মাঠে বর্জ্য থেকে পাওয়া অজৈব উপাদান গুলি প্লাস্টিক, রাবার, কাপড়, চামড়া, এমনি সিমেন্ট শিল্পেও ব্যবহার করা যাবে। প্রসঙ্গত, সাড়া বাংলায় পৌরসভা এলাকায় প্রতিদিন ১৪,০০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উত্পাদিত হয়। সেখানে কলকাতা পৌরসভাই প্রতিদিন ৪৫০০ মেট্রিক টন বর্জ্য ধাপার মাঠে জমা করে।

এবার সেই স্তূপীকৃত বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ শুরু হতে চলেছে। শুক্রবার ধাপায় দু’টি প্লান্ট উদ্বোধন করলেন হিডকোর নতুন চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। যার মাধ্যমে স্তূপীকৃত বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ শুরু হতে চলেছে। দু’টি প্লান্ট-এর মধ্যে একটি হল বায়ো মাইনিং এবং স্তূপীকৃত বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট। অন্যটি হল প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট। কলকাতা পুর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন ফিরহাদ হাকিম জানন, ‘এক দিকে স্তূপীকৃত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে যেমন তার পুনর্ব্যবহার করা যাবে, অন্য দিকে প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে শহরকে প্লাস্টিকমুক্ত করা সম্ভবব হবে’। তিনি একথাও বলেন, প্রক্রিয়াকরণ প্লান্টের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নির্মাণ সামগ্রীও পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, বহু বছর ধরে ধাপা এলাকায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। তবে ১৯৮৭ সাল থেকে যে সাত একর জায়গাতে জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে, আগামী তিন বছরে সেই স্তূপীকৃত বর্জ্য থেকে ৪০ লক্ষ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ হলে ধাপায় যে স্তূপীকৃত বর্জ্য পাহাড়ের মতো হয়ে রয়েছে, তা পুরোপুরি সমতল হয়ে যাবে। জাতীয় পরিবেশ আদালত একাধিক বার নির্দেশ দিয়েছে স্তূপীকৃত বর্জ্য ও নির্মাণ বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ যথাযথ করতে। সেই নির্দেশকে মান্যতা দিতেই এই প্লান্ট। প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত রিপোর্ট পরিবেশ আদালতে জমা দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।