সংগঠনের সাথে প্রিয় মানুষগুলোর ভালোমন্দ দেখতে জননেত্রী যার উপর ভরসা রেখেছেন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাড়গ্রাম জেলা সভানেত্রী বীরবাহা সরেন। এই জেলা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেই পরিচিত। লোধা-শবর থেকে নিম্ন আয়ের দরিদ্র বহু মানুষের বাসভূমি। তাদের নিত্যদিনের জীবনযাপনও চলে সেই ভাবে লকডাউন-এর জেরে সেই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলি সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন। তারা আজ সত্যিকারের অসহায়। চোখে অন্ধকার দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই সেই সব মানুষগুলোর কথা ভেবে আগামী ছয় মাসের জন্য বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। প্রশাসন এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও প্রায় প্রতিদিন ত্রাণ বন্টন করে চলেছেন।

এবার জেলার সেই সকল প্রান্তিক মানুষগুলোর কথা ভেবে দলের মহাসচিব ও জেলার পর্যবেক্ষক ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায় গতকাল প্রায় ৪,৫০০টি ত্রান প্যাকেট পাঠিয়েছেন। আজ জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পৌরসভায় সেই সব পিছিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে বিলির প্রক্রিয়া শুরু হলো নেত্রী বীরবাহা সরেনের নির্দেশে। নিজেও গেলেন সেই ত্রাণ নিয়ে বিলি করতে। জেলারই এক গ্রামীণ এলাকা রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কন্যাডোবা সংসদে। যোগ্য সহযোগিতা করেন সাহিত্যিক খেরোয়াল সরেন এবং শহর যুবর অজিত মাহাত, উজ্জ্বল পাত্র, গৌতম মাহাত, রিঙ্কা মুখার্জী প্রমুখরা।

তদারকি করলেন ঠিক ঠাক ভাবে ত্রাণের সামগ্রী সকলের কাছে পৌঁছেছে কিনা। উনি বলেন, বিরোধী কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের ত্রাণ নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে নিজে এলাকায় এলাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু গিয়ে দেখছেন অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই। সর্বৈব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আজও প্রায় ৭০/৮০ টি পরিবারকে নিজেই ত্রান বিলি করেছেন।

আরো জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই সকল প্রান্তিক মানুষগুলো যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের আগে নজরে রাখছেন। এছাড়া যাতে জেলার কেউ অভুক্ত না থাকে তার দিকেও সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন যে মানুষজন কেমন আছেন। তাদের অভয় দিচ্ছেন, কোনো গুজবে কান না দিয়ে কোনো কুসংস্কারে মাথা না ঘামাতে।
ছবি ও সংবাদ : সুদীপ্ত চক্রবর্তী