বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজসেবী ও গান্ধীবাদী বরেণ্য নেতা শান্তিমোহন রায়ের ১০৮ তম জন্ম বার্ষিকী যথোচিত মর্যাদায় পালিত হল। হুগলির বিভিন্ন প্রান্তে ২৭ ডিসেম্বর জেলার রূপকারকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করল। এদিন শান্তিমোহন রায় স্মৃতিরক্ষা কমিটি তাঁর জন্মস্থান কায়বা গ্রামে আবক্ষ মূর্তির সম্মুখস্থ প্রাঙ্গনে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শতাধিক গুণমুগ্ধ মানুষের উপস্থিতিতে প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকীর শুভ সূচনা হয়।এরপর বিশিষ্টজনরা শান্তিমোহন রায়ের আবক্ষ মূর্তিতে ফুল ও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে বিশিষ্ট সমাজসেবকে স্মরণ করা হয়। শান্তিমোহন রায় স্মৃতিরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও একমাত্র পুত্র চন্দন রায় বলেন, শান্তিমোহন রায়ের অসংখ্য গুণগ্রাহীদের সহায়তায় প্রতি বছর জন্মদিন পালন করা হয়। তাঁর অবদানের কথা ও রামমোহন রায়ের উত্তরসূরি হিসেবে মানুষ আজও মনে রেখেছেন।

শিক্ষাবিদ সেখ হাসান ইমাম বরেণ্য নেতা শান্তিমোহন রায়ের অবদানের দিকগুলো তুলে ধরেন। আরামবাগ পৌরপিতা সমীর ভাণ্ডারি হুগলির রূপকার শান্তিমোহন রায়ের স্বাধীনতার লড়াই ও শিক্ষার জন্য যে মহৎ কাজ করে গেছেন, তা চিরকাল মানুষ মনে রাখবেন। আঞ্চলিক গবেষক ও লেখক দেবাশিস শেঠ স্মরণীয় ও বরণীয় শান্তিমোহন রায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি একাধারে বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্ৰামী, আবার স্মরণীয় সমাজসেবক। মানুষের উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভেবেছিলেন। আর তার ফলস্বরূপ রাজা রামমোহন রায় মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা। কেবল এখানেই থেমে থাকেনি। খানাকুলে তাঁর হাত ধরেই আরও কয়েকটি শিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এছাড়া তিনি ছিলেন দেশের একজন বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা। তাঁকে মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবেন।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পলাশ রায় ও স্বপন নন্দী শান্তিমোহন রায়ের স্মৃতিতে মাল্যদান করেন। তাঁর জীবনাদর্শ ও কর্মভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। অধ্যক্ষ ড. তারকনাথ সরকার ও অ্যাডভোকেট দিলীপ চ্যাটার্জী শান্তিমোহন রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেইসঙ্গে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। কমিটির সভাপতি প্রাক্তন অধ্যাপক ড. রণজিৎ কুমার গোস্বামী শান্তিমোহন রায়ের আবক্ষ মূর্তিতে ফুলমালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জানান, হুগলির রূপকার ছিলেন শান্তিমোহন রায়। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর ভূমিকা ভোলার নয়। আবার শিক্ষাবিস্তারে সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। প্রতিষ্ঠা হয় রামমোহন কলেজ। এছাড়া আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভোলার নয় তাঁর স্বার্থহীন রাজনীতি। কেবল সকল মানুষের জন্য ভেবে গেছেন।

প্রসঙ্গত, এদিন জন্মস্থান কায়বা গ্ৰাম ছাড়াও মাতুলালয় পাতুল গ্রামে তাঁর মর্মর মূর্তির পাদদেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।রাধানগরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজা রামমোহন রায় মহাবিদ্যালয়ে ‘শান্তিমোহন রায় স্মৃতিভবন’-এ ব্রোঞ্জ মূর্তিতে মহাবিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও ফুলমালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশিষ্টজনরা। অপরদিকে আরামবাগ মহকুমা কার্যালয় তথা “শান্তিমোহন রায় স্মৃতিভবনে” তাঁর আবক্ষ মূর্তির সম্মুখে ও শেওড়াফুলি কংগ্রেস অফিসে আবক্ষ মূর্তির সম্মুখস্থ প্রাঙ্গণে যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে তাঁর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নেতা, সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদরা। এছাড়া অসংখ্য গুণগ্রাহীদের মধ্যে সংগীত শিল্পী অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য, সুজিত মান্না, রবীন্দ্রনাথ মিত্র, অধ্যাপক তথাগত হাজরা, বাবুলাল মান্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।