কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে মুখতার আহমেদ নাকভির ইস্তফার পর সংসদে বিজেপির আর কোন মুসলিম মুখ রইলো না। লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এখন আর তাদের কোন মুসলমান সাংসদ নেই। এমনকি এখন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ৩১টি বিধানসভাতে বিজেপির একটিও মুসলমান সদস্য নেই। দেশে সংসদের দুটি কক্ষ, সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিধানসভা মিলিয়ে মোট আসন রয়েছে ৪২ হাজার ৯০৮টি। এরমধ্যে লোকসভায় ৫৪৩টি রাজ্যসভায় ২৪৫টি এবং ৪ হাজার ১২০টি আসন রয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিধানসভায়।

নির্বাচনী পাটিগণিত বলছে মুসলমানরা সাধারণত বিজেপিকে ভোট দেয়না তাই সঙ্গত কারণে বিজেপিতে মুসলমান সাংসদ ও বিধায়ক কম। ২০১৪ ও ২০১৯ এ লোকসভায় বিজেপির কোন মুসলমান মুখ ছিল না। এমনকি ২০১৪তে তাদের তৎকালীন সাংসদ শাহনওয়াজ হুসেনও হেরে যান। একই ঘটনা ঘটে ২০১৯এও। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং লাক্ষাদ্বীপে বিজেপির ৩ মুসলমান প্রার্থীর একজনও জিততে পারেননি। আমাদের গণতন্ত্রে এটাই সাধারণ ধারণা যে মুসলমানরা ভোট দেয় বিজেপিকে হারাতে।

অনিবার্যভাবে প্রশ্ন আসে এমনটা হয় কেন? কখন এবং কীভাবে মুসলমানদের এই বিজেপি বিরোধী মানসিকতা গড়ে উঠলো তার উত্তর লুকিয়ে আছে বিজেপির ইতিহাসেই। রাজনীতিগতভাবে বিজেপি কোনদিনই তাদের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি। তাদের রাজনীতিটাই মুসলিম বিদ্বেষের রাজনীতি। তারা মুসলমানদের ঘনিষ্ট হওয়া, তাদের স্বপক্ষে কথা বলার তেমন কোন চেষ্টাও করেনি। মোদি হাওয়ায় ভর দিয়ে ২০১৪তে ক্ষমতায় আসার সময়ও তারা ভোট পেয়েছিল ৩১ শতাংশ। এই প্রবণতা শুধু লোকসভা নির্বাচনগুলিতেই ঘটছে এমন নয়, বিধানসভা নির্বাচনগুলিতেও বারবার প্রমাণিত হয়েছে মুসলমানরা বিজেপির সঙ্গে নেই। কয়েকবছর আগেও দেশের সব বিধানসভাগুলি মিলিয়ে মাত্র চারজন মুসলমান বিধায়ক ছিল বিজেপির। জম্মু ও কাশ্মীর এবং আসামে একজন করে আর দুজন রাজস্থানে। শেষ মুসলমান বিজেপি বিধায়কের দেখা পাওয়া গেছে আসামের সোনাইতে, ২০১৬ সালে।

পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন আসতে আর দু’বছরও বাকি নেই। কিন্তু বিজেপির মুসলিম ভোটের অবস্থা আগের থেকেও খারাপ। দুটি মুসলমান রাষ্ট্র কাতার এবং কুয়েতের সঙ্গেও বিজেপির সম্পর্ক ইতিমধ্যে আরও তিক্ত হয়েছে। দুই বিজেপি প্রতিনিধির ইসলাম বিরোধী মন্তব্য মুসলিমদের মধ্যে বিজেপি বিদ্বেষ আরও বাড়িয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর মুসলমানদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব আরও বাড়বে বলে অনেকে আশা করেছিলেন কিন্তু তা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, তারা মূলত হিন্দুদেরই মুখ হয়েছে। দেশের সব মানুষের মুখ হয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের পক্ষে এটা মোটেই কোন সুখবর নয়।