কোটাতে আটকে পড়া পড়ুয়াদের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। আর স্বভাব যায় না ম’লে প্রবাদ ফলো করে সেই বিপদে পড়া পড়ুয়াদের নিয়ে খিল্লি করছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল সকালে টুইটারে বিজেপির দাবি, কোটা থেকে নাকি ৩টি বাসে করে ৩ হাজার পড়ুয়াকে ফেরানো হচ্ছে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ জন্য কটাক্ষও করেছে অশিক্ষিত গোমূত্র পার্টির আইটি সেল ও তাদের পথ দেখানো নেতারা। এমন আজব দাবি আর মিথ্যাচার দেখে প্রশ্ন জাগে, এমন মিথ্যাচার করতে কত পরিমাণ গঞ্জিকা সেবন করতে হয়? অপদার্থ, অশিক্ষিত যত বেশি তাদের পিছনে আইটি সেলে তত বেশি টাকা ঢালে নাকি গোমূত্র পার্টি? বাস্তব তথ্য হলো, কোটা থেকে ২৩৬৮ জন পড়ুয়াকে নিয়ে ৯৫টি বাস বুধবার রওনা দিয়েছে। রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা আছেন। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে বাসগুলিতে পড়ুয়াদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে। বাসগুলি শুক্রবারের মধ্যে তিনটি জোন- কলকাতা, শিলিগুড়ি ও আসানসোলে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো এ-বি-সি-ডি জোনে মগ্ন বিজেপি তিনটি জোনকে তিনটি বাস বলে মিথ্যাচার করছে।

এখানেই শেষ নয় বন্ধু! বিজেপির দাবি করোনা যোদ্ধাদের জন্য রাজ্য সরকারের বিমা ঘোষণার নাকি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কোনও বিমা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি নাকি হয়নি। গঞ্জিকা সেবন করে বুঁদ হয়ে থাকলে এমন দাবি করা যায়!অপপ্রচার করে যারা রাজনীতিতে ব্যস্ত, তাদের জানিয়ে দিন আসল তথ্য।

করোনা যোদ্ধাদের জন্য রাজ্য সরকার প্রথম বিমা ঘোষণা চালুর নির্দেশিকা দেয় ২১ মার্চ। মোদীবাবু এমন বিমা ঘোষণার অনেক আগে। কারা এই বিমার আওতায় আসবেন সেই ক্ষেত্র ও বিমার অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা হয়। সরকারি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকদের সর্বশেষ এই বিমার আওতায় আনা হয়েছে। বিমার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৩১ মে অবধি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম থেকেই নির্দেশ ছিল চিকিৎসা করাতে গেলেও যেন বিমার টাকা মেলে। ৬৬টি কোভিড হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার খরচ বহন করছে রাজ্য সরকার। তা সত্ত্বেও ৩০ এপ্রিল অবধি চিকিৎসা করাতে গিয়ে ২১ জন বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার পাশাপাশি বিমার জন্য ১ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। মৃত দুই চিকিৎসকের পরিবারের অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। আরও ১৪ জনের ক্ষেত্রে বিমার অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়াত চিত্র সাংবাদিক রনি রায়ের পরিবার চাইলেও বিমার টাকা বাবদ ১০ লক্ষ টাকা পাবে বলে জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।