উত্তরপ্রদেশের মুসলিমরা নিজেদের পরিচয় দিতেও কতটা ভয় পান তা সামনে এলো আরও একবার। এবার সব্জি বিক্রেতাকে এক বিজেপি বিধায়কের হেনস্থা ও হুমকির মুখে পড়তে হলো।কাইসেরগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক ব্রিজ ভূষণ শরণের বাড়ির সামনে দিয়ে ঠেলাগাড়িতে করে সব্জি বিক্রেতা যাচ্ছিলেন। তাঁকে আটকে ক্রমাগত নাম জিজ্ঞাসা করতে থাকেন ওই বিধায়ক। সব্জি বিক্রেতা নিজের নাম রাজকুমার বললেও ওই বিধায়ক ও তাঁর লোকজন তা মানতে চাননি।

এমনকী ওই সব্জি বিক্রেতাকে ওই এলাকায় ঢুকতে নিষেধ করে দেওয়া হয়। এই হেনস্থার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই বিধায়ক নিজের কৃতকর্মের জন্য বিন্দুমাত্র দুঃখিত নন। বরং তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তির নাম রাজকুমার নয়, রেহমুদ্দিন। মিথ্যা কথা বলতেই ওঁকে সতর্ক করি। কানপুরে ১৬ ও লখনউয়ে একজন সব্জি বিক্রেতা করোনা আক্রান্ত। ফলে ওই ব্যক্তি মাস্ক বা গ্লাভস না পরা থাকায় তাঁকে সতর্ক করেছি। বিজেপি বিধায়ক যে সঠিক কথা বলেননি তা ভিডিওতে স্পষ্ট। কেন না, দেখা গিয়েছে সব্জি বিক্রেতার মুখে মাস্ক রয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুরেশ তিওয়ারি দাওয়াই দেন, তবলিঘি জামাতের লোকজনের দ্বারাই করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে। তাই সংক্রমণ রুখতে কেউ মুসলিম সব্জি বিক্রেতাদের কাছ থেকে সব্জি কিনবেন না!

ফলে রাজকুমার বা রেহমুদ্দিন যাই নাম হোক না কেন, লকডাউনে কিছু আয়ের আশাতেই তো সব্জি বিক্রি করছেন মানুষ। বিজেপি যেভাবে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াচ্ছে তাতে আতঙ্কে নিজেদের পরিচয় দিতেই ভয় পাচ্ছেন এই গরিব মানুষগুলো।
সব্জি বিক্রেতাকে বিজেপি বিধায়কের হেনস্থার ভিডিও দেখতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন