দিলু-বাবুলরা উঠতে বসতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে চলেছেন। বাবুল তো বলে বসেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথা শোনার দরকার নেই! কী আস্পর্ধা! অবশ্য ঘরে বসে এ সব না করলে খাবার হজম হবে না যে! করোনাকে সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে তৃণমূলকে গালমন্দ করছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু থুথু উপর দিকে ছুঁড়লে ওঁদের নিজেদের গায়েই এসে পড়ছে! লকডাউনে বিজেপি বিধায়কদের কাণ্ডকারখানা নিয়ে ওঁদের মুখে কুলুপ। মোদীবাবুর কথাই শোনেন না তাঁর দলের বিধায়করা। মহারাষ্ট্রের পর এবার কর্নাটকে ধুমধাম করে পালিত হলো বিধায়কের জন্মদিন। লকডাউন শিকেয় তুলে সবাই বিরিয়ানি খেলেন। বাবুল-দিলীপরা তার ছবি থেকে গন্ধ শুঁকেই যাচ্ছেন!

ঘটনাস্থল কর্নাটকের টুমাকুরু জেলার গুব্বি তালুকের আঙ্কালাকুপ্পে গ্রাম। বেঙ্গালুরু থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে লকডাউনের মধ্যেই ধুমধাম করে নিজের জন্মদিন পালন করলেন টুরুভাকারের বিজেপি বিধায়ক এ এস জয়রাম। নিজের ৫১তম জন্মদিনের পার্টিতে প্রচুর লোকজনকে নিয়ে সেজেগুজে কেক কাটলেন। তাঁর আবার মশলার ব্যবসা রয়েছে। জন্মদিনের পার্টিতে কয়েকশো মানুষকে বিরিয়ানিও বিতরণ করলেন। আবারও বলছি, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যের পুলিশ যথারীতি ধামাচাপা দিতে চেয়েছে গোটা ঘটনা। পুলিশের ভার্সান হলো, বিধায়ক আত্মীয়-বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে জন্মদিন পালন করেছেন। তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে এসেছিলেন কয়েকশো অনুগামী। আর একটা মন্দির থেকে হনুমান জয়ন্তীর প্রসাদ বিতরণ হয়েছে। বিরিয়ানি বিতরণের কথা চাপলেও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং যে মানা হয়নি তা শেষে মানতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।

তবে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেই রাজ্যে বিজেপি বিধায়কের জন্মদিনেও এমন ছবি দেখা গিয়েছিল। গত রবিবার ওয়ার্ধার বিজেপি বিধায়ক দাদারাও কেচের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বাড়ির সামনে উপস্থিত ছিলেন শ-দুয়েক লোক। লকডাউন বিধি ভাঙায় স্থানীয় এসডিও নোটিশ পাঠিয়েছেন বিধায়ককে। বেকায়দায় পড়ে তাঁর সাফাই, আমি কাউকে ডাকিনি। করোনা পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়া ২১জন শ্রমিককে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে গুরুবাড়ি গিয়েছিলাম। এর মধ্যে বিরোধীরা রটিয়ে দেন আমি সকলকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি। তা শুনেই নাকি অতো মানুষ তাঁর বাড়ির সামনে আসুন।

তাই বলি, দিলু-বাবুল, হাম্বা হাম্বা করার আগে চারদিকটা দেখে রাখবেন।