পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনে ফেরানোর ক্রেডিট নিতে গিয়ে পদে পদে ঠোক্কর খাচ্ছে মোদী সরকার। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। গরিব, অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে ট্রেনের টিকিটের ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে একেবারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা! অস্বীকার করতে পারছে না। কেন না, ভারতীয় রেল মন্ত্রকের নির্দেশিকায় লেখা ছিল, ট্রেনের টিকিট ছাপবে কেন্দ্র। পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে ভাড়া নিয়ে তা রেলকে দেবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য। এমনকী ১২ ঘণ্টার বেশি যাত্রা না হলে রেলযাত্রীদের খাবার, জল সরবরাহ করবে না রেল। এর দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য সরকারগুলিকে। ১২ ঘণ্টার বেশি সফর হলে একবার যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করবে রেল।
কেন্দ্রীয় সরকারের এমন সিদ্ধান্ত প্রবলভাবে সমালোচিত হয়। প্রশ্ন ওঠে, যেখানে ভিনদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের বিমানে করে ফেরাচ্ছে কেন্দ্র, সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে কেন ভাড়া নেওয়া হবে? কেন পিএম কেয়ারসের টাকায় শ্রমিকদের ফেরানো হবে নি? একদিকে রেল গরিব, অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে এই কঠিন সময়ে ভাড়া নিতে পিছপা হচ্ছে না, আবার পিএম কেয়ারসে ১৫১ কোটি টাকা চাঁদা দিচ্ছে রেল!
সোনিয়া গান্ধী এই পরিস্থিতিতে জানিয়ে দেন, কংগ্রেসের প্রদেশ কমিটিগুলি পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনের ভাড়া মিটিয়ে দেবে। এরপর যারপরনাই বিব্রত হয়ে পড়ে বিজেপি। অস্বস্তি বাড়িয়ে বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কতটা ক্যাবলা হলে এরকম সিদ্ধান্ত নিতে পারে! বিরোধী দলগুলির বক্তব্যে সায় দিয়ে তিনিও বলেন, পিএম কেয়ারসের টাকা কাজে লাগানো হোক শ্রমিকদের ফেরাতে। এরপর আরেকটি টুইট করে তিনি জানান, রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে কথা হলো। তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ফেরাতে তাঁদের থেকে কোনও টাকা নেওয়া হবে না। ভাড়ার ৮৫ শতাংশ দেবে কেন্দ্র, ১৫ শতাংশ দেবে রাজ্য। খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি হতে চলেছে। অর্থাৎ চালাকির দ্বারা মহৎ কাজ যে সম্পন্ন হয় না তা বুঝল মোদী সরকার। বিরোধীদের চাপ পিছু হঠতে বাধ্য করল কেন্দ্রীয় সরকারকে।