শেষ হল বনমহোৎসব। ১৪ জুলাই থেকে ২০ জুলাই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মনোজ্ঞ পরিবেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বিশ্বকে দূষণ মুক্ত করার অঙ্গীকার করাহলো। রাজ্যের সমস্ত জেলায় মা মাটি মানুষের সরকার ‘চলো যাই সবুজের সন্ধানে’ স্লোগান সামনে রেখে এক সপ্তাহ ব্যাপী পালন করল অরণ্য সপ্তাহ। পরিবেশ বাঁচাতে সরকার বিভিন্ন রকম বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্ৰহণ করেছিল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে বনমহোৎসব পালনে রাজ্য জুড়ে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেল। সরকারের স্লোগান ‘অটুট থাকুক প্রাণের স্পন্দন, শান্ত পৃথিবীকে সবুজ অভিনন্দন’।

উল্লেখ্য, বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে ২০১১ থেকে ২০২১-এর মধ্যে মোট বনভূমি ও বৃক্ষ আচ্ছাদনের পরিমাণ ১৭. ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২১.৬১শতাংশ। সুন্দরবন সন্নিহিত তিনটি উপকূলীয় জেলায় ২০কোটি ম্যানগ্ৰোভ চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের ভৌগলিক এলাকার পরিমাপ অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০২৩ এর মধ্যে বন সংরক্ষিত এলাকার বিস্তার ৪.৫৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২৮ শতাংশ।

এদিকে হুগলি জেলা জুড়ে বনবিভাগের উদ্যোগে বনমহোৎসব পালিত হয়। হুগলি জেলা বিদায়ী সভাধিপতি সেখ আলহাজ্ব মেহবুব রহমান বলেন, জেলার ১৮ টি ব্লকে স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মেয়েদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্ৰহণ করা হয়েছিল। প্রায় ৫০ হাজার গোষ্ঠীকে গাছ লাগাতে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। সূত্রের খবর, এক একটি গোষ্ঠীকে ৫টি করে গাছ লাগাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী আড়াই লক্ষ চারাগাছ রোপণ করবে। এছাড়াও স্কুল- কলেজ, ক্লাব ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও পালন করে সপ্তাহ ব্যাপী বনমহোৎসব।

প্রসঙ্গত, হুগলির খানাকুলের রামনগর অতুল বিদ্যালয়ের উদ্যোগে সবুজ বাহিনী স্থানীয় এলাকায় প্রায় এক হাজার চারাগাছ রোপণ করে। প্রধান শিক্ষক অমিত আঢ্য জানান, আসলে গাছ লাগাতে রাজ্য সরকারের মহতী উদ্যোগ বনমহোৎসব পালিত হচ্ছে প্রতি বছর। পৃথিবীকে বাঁচাতে গাছ লাগাতে হবে। এজন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।